মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

অতীতের পোড়া গন্ধ... - মেফ্তাহুল জান্নাত

লেখিকা - মেফ্তাহুল জান্নাত


অতীতের পোড়া গন্ধ 
- মেফ্তাহুল জান্নাত 

এক দুর্বিষহ নগরীর গল্প লিখেছেন বিধাতা,
অথচ, তাকেই কীনা ভাবতে চাই আপন,
মন তখনই মুখ ফিরিয়ে নেয়, ছটফট করে। 
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে।
তার বক্রদৃষ্টি আমি সইতে পারিনা।
মনখানা তার মুখ ফেরালেই,
আমার বর্তমান, আমার অতীত—
বিধাতাকে ভাবতে থাক পর; ক্রমে—-ক্রমে! 
ওরা হাতড়ে খোঁজে মর্মান্তিক অভিসম্পাতের ব্যাখ্যা!
কোনটা ভুল? কোনটা ঠিক?
এ নিয়েই তুমুল বিরোধ চলে রক্তে-রন্ধ্রে। 
অতীত আজকাল ফিরে ফিরে আসে দুঃস্বপ্নের মতো।
পুরোনো কবর থেকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে সে—
অতৃপ্ত লাশ যেন!
অশরীরীর আক্রমণের মতোই;
রাতবিরেতে তার ক্রন্দন শোনা যায়।
পোড়া গন্ধ ভেসে আসে দূর থেকে। ঘুম হারায়। 
তারই ভয়াল দৃষ্টিতেই
ঘটে যেতে থাকে আমার ধ্বংসযজ্ঞ। 
ঘোরাফেরা করতে থাকে চারপাশে,
পোড়া দগ্ধ অতীত!
ভয়ানক সকল দৃশ্য! 
আমি—মুখ ফিরিয়ে নিই পরক্ষণে। ভাবতে থাকি।
পোড়া গন্ধ আসতে থাকে মস্তিষ্কের নাসরন্ধ্রে।
তবুও, সাঙ্গ হয় না বিধাতার লীলা। দাবার মার।
কী যে সেই পোড়া ভয়ানক অতীতের তীব্রতা….
কী যে তার সারমর্ম, তার অট্টহাসি!
কী যে….

বিধাতা শুধু আড়ালেই মুখ টিপে হাসে।
আর— বিভৎস দানবের মতো সেসব
অতৃপ্ত প্রেতাত্মার মতো অতীত—
খুবলে খেতে আসে বর্তমানের অস্থিমজ্জা।।

চিরন্তন পল্লীর ছবি.... - রামকৃষ্ণ পাল


চিরন্তন পল্লীর ছবি
- রামকৃষ্ণ পাল 


গ্রামের এই চিরন্তন ছবি 
সহজ সরল ধরন, 
সকাল থেকেই ছন্দে জীবন 
আজো করি স্মরণ।

পুব আকাশে রাঙিয়ে সূর্য 
কাঁধে লাঙ্গল কৃষকের,
চিরাচরিত চাষের কাজেই
নিত্য কাজটি আনন্দের।

রাখাল বালক চড়ায় মাঠে 
গরু ভেড়া বা ছাগল, 
সারাদিনটি কাটে বেশ সুন্দর 
মনকে বানায় পাগল।

সবুজ বাংলার পথটি ধরে 
চলছে জীবন নিরন্তর, 
সবুজ ধানে সোনার ফসল 
জ্বালানি ধোঁয়া প্রান্তর।

কেউ যাচ্ছে নদীতে ধরতে 
মাছ জালে ,বরশিতে,
প্রাণচঞ্চল গ্রামের এ জীবন 
সদাই হাস্য ধরিত্রীতে।


লেখক - রামকৃষ্ণ পাল 


ঘুম... ড. তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়



 ঘুম 
- ড. তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়


ঘুম কখন আসে কখন যায় 
খেয়াল রাখবে কে ?
কাছাকাছি থাকলে কেউ
হয়তো খোঁজ  রাখতো সে  !

ঘুম অতি দুর্লভ জিনিস 
সবার ভাগ্যে কি জোটে ?
ঔষধ খেয়েও আসে না যার
তার কপালে কি ঘটে  ?

ধনীদের যে ঘুম উধাও
পাহারা দেওয়ার জন্যে  ,
চোর ডাকাতের ঘুম নেই 
তারা সুযোগের আশায় হন্যে  !

পুলিশের ঘুম উড়েছে
চোর ডাকাতদের ধরতে ,
ভদ্র হয়ে করো না চুরি
তবে রাজনীতি হবে শিখতে  ।

প্রেমে যদি পড়েছে কেউ
ঘুমটা যাবে উবে ,
প্রেয়সী র কথা ভেবে ভেবেই
প্রেমিক হয়তো শোবে ।

তাতে কি আর আসবে ঘুম 
তার মুখটা উঠবে ভেসে ,
শেষ রাতে যদিও আসে ঘুম
সূয্যি উঠবে হেসে  ।

আমি অতি ভাগ্যবান 
হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ি ,
অল্প ডাকে ভাঙ্গলে ঘুম
মাধব কে স্মরণ করি  ।



- ড. তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়


শেষ যাওয়া... - রঞ্জিত কুমার রায়

লেখক - রঞ্জিত কুমার রায় 



 শেষ যাওয়া
- রঞ্জিত কুমার রায় 


যে যায় সে তো চলেই যায়,
সে যাওয়া না ফেরার দেশে -
 সেই যাওয়া সারা জীবনের মতো চলে যাওয়া,
আমার তাই মনে হয়।

যেদিন আমরা এসেছি এই ভবে এই দুনিয়ায়, 
সেদিনই আমরা জেনেই এসেছি একদিন চলে যেতেই হবে। 
তবু ও চলে কতো বাহাদুরি।

সেই যাওয়াই হবে শেষ যাওয়া, 
সেই যাওয়ার পর আর যাবে না ফেরা। 
এখন এটাই সবার মনে হয়।

অনেককেই দেখলাম খুব কাছ থেকে 
আমাদের খুব কাছের লোক চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

সবাইকে বলতে শুনেছি সবাই যান স্বর্গলোকে। 
জানিনা আমরা মৃত্যুর পরে আর ও কিছু আছে কিনা?

যা হবার এখানেই হবে 
ভালো কাজের মন্দ কাজের বিচার ফলাফল এখানেই দেখা যাবে 
তাইতো দেখছে জনগণ।

চোখের জলে হাতের স্পর্শে সবাই তাই দিয়েছেন বিদায়। 
দেখেছি সব সময়ে এই শেষ যাওয়া প্রতিটা মানুষের জীবনেই হবে একদিন। 

যেদিন আমরা থাকবো না এই দুনিয়ায় 
শুধু থাকবে আমার ভালো মন্দ কাজের বিচার। 
তোমার আমার ভালোবাসা আর আমার চলে যাওয়ার কথা। 

অদৃশ্য খাঁচা.... - রতন চক্রবর্তী

লেখক - রতন চক্রবর্তী 


 অদৃশ্য খাঁচা 
- রতন চক্রবর্তী 

অদৃশ্য এক খাঁচায় বন্দি সবাই- 
লোভ-মোহ কামনা-বাসনার খাঁচায়।
সুখ-সম্পদ,প্রাচুর্য্য,বিলাসের 
স্বর্ণ শলাকার বুননে এ এক জাদুকরি খাঁচা ।
অভ্যাসের শিকলে বাঁধা জীবন যাপন,
নিজের হাতে তৈরি স্নেহ প্রেম 
ভালোবাসার মায়াময় খাঁচা ।
সংসারের শলাকায় বিঁধে আছে ইচ্ছে ডানা,
বুকের ভেতর ধুলো জমা একাকীত্বের ঘরে 
মুক্তির বাসনা কাঁদে অবিরাম। 
মুক্ত আকাশ ,নীল সমুদ্র ,সবুজ পাহাড়-বনানী,
উদাস বাউল হাতছানি দেয় বার বার,
পা বাড়াতেই মন থমকে দাঁড়ায়। 
স্বপ্ন পাখি বুকের খাঁচায় ডানা ঝাপটায়।
ভয়,দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অদৃশ্য গণ্ডি রেখায় আবদ্ধ জীবন,
দরজা খোলা খাঁচার,তবুও নিজেই বন্দি থাকি 
গতানুগতিক জীবনের অভ্যাসের শিকলে।

স্বপ্ন নিলয়... - রত্না রায়


লেখিকা - রত্না রায়



 স্বপ্ন নিলয়
- রত্না রায় 


মন জানালা খুলে যেতেই শুরু হোলো দেখা,
নয়ন মনি আনলো বয়ে স্মৃতি পাতার লেখা।
সীমার মাঝে চলে ফিরে পাওয়া খুঁজে পাই,
আঁচল ভরে তৃপ্তি নেওয়া সেদিন ছিলো ঢাই।

নিষেধ শতেক বাধা ছিলো সাঁতরে গেছি কূল,
স্বপ্ন সেদিন সাজিয়ে দেখি , হয়ে ছিলো ভুল।
থমকে গেলো জীবন যাপন থমকে ছিলো সব,
স্বপ্ন দেখা রইলো বাকি ,মনে তৃষার রব।

ঝড় বৃষ্টির প্রকোপ যত মন জানালায় এলো,
বিজন পলে স্মৃতির ঝড়ে তনু ভেসে গেলো।
পূর্ণিমা চাঁদ জোৎস্না ঢেলে করলো কুপোকাত,
মদির আবেশ গৃহ কোণে ঝরলো সারা রাত।

ভাবনা সকল ডানা মেলে হিসেব নিকেষ করে,
অতীত মনের জয় পরাজয় জ্বালা দিয়ে ঝরে।
স্বপন দেখার ছন্দ পতন মনে করায় সব,
চিবুক বেয়ে গড়িয়ে পড়ে সুপ্ত বেদন স্তব।

পবন এসে ঢুকলো শেষে মন জানলা দিয়ে,
চেতন এলো এক লহমায় কাঁপিয়ে দিলো হিয়ে।
বন্ধ হোলো স্বপ্ন দেখা, স্মৃতি  গেলো চলে,
সূর্য এসে উঁকি দিলো,দায় বাড়লো গলে।

অতীতের পোড়া গন্ধ... - মেফ্তাহুল জান্নাত

লেখিকা - মেফ্তাহুল জান্নাত অতীতের পোড়া গন্ধ  - মেফ্তাহুল জান্নাত  এক দুর্বিষহ নগরীর গল্প লিখেছেন বিধাতা, অথচ, তাকেই কীনা ভাবতে চাই আপন, মন ত...

জনপ্রিয় পোস্ট