রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

সংবিধান... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



 নিয়ম নীতি শৃঙ্খলাবোধ সুস্থ জীবন গড়ে,
 সাহিত্য হোক সৃষ্টির তরে সংবিধানটা পড়ে।

 কলম যখন কবির অস্ত্র  সমাজ দর্পণ জানি,
 হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে লিখবো সত্য বাণী।

   দিনের শেষে রেখে যাব  সাহিত্যিকের কথা,
  সুস্থচর্চার সাহিত্যতে আসবে অনেক ব্যথা।

  সংবিধানের উপধারা মন দিয়ে আজ পড়ে, 
কথা দিচ্ছি সাহিত্যতে দেব উজাড় করে।
 
 যে প্রকল্প নেওয়া হবে ভাষা মায়ের জন্য,
  বিক্ষুব্ধেরই ছায়াতলে হয়েছি আজ ধন্য।

প্রান্তিক কবি পাবে আলো  খুলবে মনের শব্দ, 
 মনকলমে বন্যা হবে করবে না কেউ জব্দ।

 গণতান্ত্রিক অধিকারে নির্বাচনও হবে,
 আয়-ব্যায়ের সব হিসাব নিকাশ নথিপত্রে রবে।

সভার মাঝে মত বিনিময় আলোচনা চলে,
অনলাইনের কর্মসূচি সংবিধানের বলে।

 স্বচ্ছতার  এই অঙ্গীকারে থাকবে প্রানের ভাষা,
 বই প্রকাশের সুযোগটুকু প্রান্তিক কবির আশা।

 শৃঙ্খলার এই ভিত্তিপ্রস্তর অটুট রাখবো সবে,
 নীতির আলোয় নব্য সৃষ্টি যুগান্তকারী তবে।

 দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ সংবিধানের টানে,
 নৈতিকতার আলোক পথে রাখবে নজির প্রাণে।

সংবিধানের ছত্রছায়ায় মানবতার সুরে, 
লেখনী হোক ভবিষ্যতে অধিকারের নূরে।

বিক্ষুব্ধের এই পথচলাতে সকল কবির মেলা,
সুস্থ পথে সাহিত্যতে অক্ষর ছন্দের খেলা।

সংগঠনের সভাপতি পথিক আলোর পথে,
সবাইকে চায় সৃষ্টিধারায় সঙ্গী জীবন রথে।

এসো সবাই মিলেমিশে একসাথে কাজ করি,
বিশ্বমাঝে বাংলা ভাষা মাধুর্যতে ভরি।

বাংলার ছেলে... ✍️উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ



এপার ওপার দুই বাংলা মিলে,
আমি বাংলার ছেলে, 
বাঙাল বাঙালি যা'ই তুমি বলো 
ভেবো নাকো এলেবেলে। 
চলনে বলনে জমিদারি ভাব
মেজাজটাই নবাবের, 
মুখে'যে বাবু বাদশাহী রুচি
খাবার চাই মোগলের। 
তেহারি আখনি কাচ্চি বিরিয়ানি
চিংড়ির মালাইকারি, 
মাছ মাংস ডিম একসাথে খাই
ইলিশে নেই ছাড়াছাড়ি। 
কৈ চিতল পমফ্রেট কষা
লটে মাছের ঝুরঝুরি, 
ফ্যাসা চেলা আর শুটকি ভর্তা
ভেটকির পাতুরি।
পারশে গুড়জালি ভোলা ভালো লাগে
কাচকি মোড়লা ভাজা, 
কাতলা বোয়াল আড় খেতে পারি
মাছ যদি হয় তাজা। 
রাজভোগ সন্দেশ চাটনি পাপড়
টকদই চাই পাতে, 
তারপরে গিয়ে আইসক্রিম খাবো
পান চাই শেষটাতে।।

বাঁচার লড়াই... কলমে- সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ



শুরু হলো তুমুল ঝড়, 
প্রকৃতির রুদ্র মুর্তি যেন, 
এক্ষুনি গ্রাস করে নেবে সব। 
প্রবল তান্ডব বাইরে! 
গাছপালা দুমড়ে মুচড়ে
ভেঙ্গে পড়ছে, 
পাখিরা হারালো তাদের
সুন্দর পরিপাটি থাকার ঘর খানা। 
ভিজে জবুথবু হয়ে-
জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। 
একটি পাখির ছানা মাটিতে পড়ে
আপ্রাণ ডেকে যাচ্ছে। 
সেই ডাকে ছিল তীব্র
বাঁচার আকুতি! 
মা পাখিটি নিরুপায়, 
অনেক কষ্টে ডানা দিয়ে
আগলে রাখার বৃথা চেষ্টা। 
থরথর করে কাঁপছে 
বাবা পাখিটিও।
হঠাৎ ঝড়ে উড়িয়ে নিলো
তাদের সাধের ঘর খানা! 
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে
পাখি দুটি! 
যে গাছে তাদের ঘর ছিলো, 
মড়মড় করে ভেঙ্গে গেলো
সেই গাছটাও!
অচেনা সুর বেরলো পাখি দুটির
কন্ঠ হতে! 
হয়তো কাঁদছে, ওদের তো চোখের
জল দেখা যাচ্ছে না!
ওদের দুঃখ আছে, 
ওদেরও স্বপ্ন ভাঙ্গে, 
ওরাও লড়াই করে বাঁচে।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা... কলমে - হাসিনা খাতুন

হাসিনা খাতুন 



নিঝুম রাতের আঁধার চিরে আসে এক ফেরিওয়ালা,
ঝুলিতে তার জমানো আছে সহস্র স্বপ্নের মালা।
রাস্তার মোড়ে একলা দাঁড়িয়ে হাঁক দিয়ে সে যায়,
ইচ্ছে হলেই স্বপ্ন কিনুন অতি অল্প দায়।

কেউ কি চাও আকাশ ছোঁয়ার নীলচে রঙের আশা?
কারো কি চাই এক চিমটি নিখাদ ভালোবাসা?
দুঃখ ভোলার মলম আছে, আছে হাসির ঝিলিক,
ব্যর্থ মনে স্বপ্ন ছোঁয়ায় কাটবে চোখের পলক।

পাহাড় সমান সাহস দেবো, দেবো মেঘের ভেলা,
রাত্রি শেষে সাজিয়ে দেবো নতুন ভোরের মেলা।
শিশুর চোখে রঙিন ঘুড়ি, বৃদ্ধের চোখে স্মৃতি,
সবাইকে সে বিলিয়ে বেড়ায় বাঁচার মহানীতি।

পয়সা কড়ি চায় না সে তো, চায় না সোনাদানা,
মনের কোণে স্বপ্ন পুষতে নেই যে কোনো মানা।
ক্লান্ত চোখে ঘুম নামালে সে আসে চুপি চুপি,
মাথার শিয়রে রেখে যায় এক রূপকথার টুপি।

ফেরিওয়ালার ঝুলিটি আজ বড়ই বৈচিত্র্যময়,
সেখানেতে হারানো সব দিনের খোঁজ পাওয়া যায়।
বুকের ভেতর লালন করা সুপ্ত যত সাধ,
মিটিয়ে দিতে পারে সে সব ঘুচিয়ে অবসাদ।

ফেরিওয়ালা চলে গেলে রয় শুধু তার সুর,
স্বপ্নগুলো সত্যি হতে নেই যে বেশি দূর।
আসবে আবার কালকে রাতে যখন নামবে আঁধার,
নতুন কোনো স্বপ্ন নিয়ে খুলবে সে তার ভাণ্ডার।

তুমি কার ... সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



কোঁকে ঢোকা বুভুক্ষু পেট
নালিশ ঠুকলো স্রষ্টা তরে -
 সরাসরি প্রশ্ন রাখে -
 কোটরে ঢোকা ঝাপসা  চোখে 
বলো প্রভু বলো বলো 
খিদে আমার 
 আর তুমি কার?

  যে শিশুটার গুনতি পাঁজর-
 ঝোড়ো হাওয়ায় জলতরঙ্গ 
 ভাতের গন্ধে হাত পা কাঁপে 
সেই শিশুটির প্রশ্ন শোনো -
ভোগের থালায় নেই অধিকার 
খিদে তোমার নাকি আমার 
এবার বলো 
আজ তুমি কার?

 ওই যে মেয়ে 
উলঙ্গ গায় 
 বাপ বেচেছে খিদের হাটে 
যৌবন তার ছুঁই ছুঁই প্রায় 
নিত্য মরে রক্তপাতে -
তার চোখেতে ঘৃণা প্রচূর 
নোনা জলে স্বপ্ন নুড়ি 
প্রশ্ন রাখে প্রদীপ হাতে 
বলো  তো এবার 
ঠিক তুমি কার?

আস্তাকুঁড়ে ভাগ্য খুঁড়ে 
ঘাঁটছে এঁটো চচ্চড়িটা 
বৃদ্ধ নাকি ভিটে হারা 
বৃদ্ধা অবাক ব্রত পারা 
সন্তান তার ডাকাত খুনি 
বিশ্বাস কে গুম করেছে 
আসবাব শুধু বাঁশের খেটো 
প্রশ্ন রাখে স্রষ্টা খাতে -
বলো দেখি সৃষ্টিকর্তা 
আজকে জবাব দিতেই হবে 
অন্যায় আর ন্যায়ের লড়াই 
 সত্যি বলো
আজ তুমি কার?

ভাঙা আয়নায় ভাগ্য লিখন 
সিঁদুর বিহীন সীমন্তিনী 
সোহাগ নিলাম উঠলো যখন 
ঠান্ডা ঘরের সন্ধি বিচার 
অবজ্ঞাতে শিরায় বরফ 
পেটের খিদে কোথায় টাকা 
সৃষ্টি কর্তা ভাবছো কেন 
সত্যি বলো আজ তুমি কার?

কোলের ছেলের মরণব্যাধি 
অকালে তার কাড়লে জীবন 
মায়ের প্রশ্ন তোমার কাছে 
কী দোষ তার ছেলেটার 
সত্যিই তুমি আছো কি নেই 
সত্যি বলো আজ তুমি কার?

ধর্ম নিয়ে অধর্মতে 
ঝগড়া বিবাদ মাইক কাঁপে 
আমজনতা আতঙ্কে আজ 
দেশপ্রেমী হলেই বিপদ
 দরজা জুড়ে দাপুটে ভয়
 অহংকারে মারছে লাথি 
দলিত পেটে তখন খিদে 
স্রষ্টা ব্যস্ত পরীক্ষাতে 
ভুল বানানে খিদে হাসে 
বলেই ফেলে ঘুমিয়ে থাকো,
স্রষ্টা তুমি নয় গো আমার।

মন মানে না.... কলমে- সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা 



মন মানে না খুঁজে বেড়াই
  অতল দিঘির জলে,
বুকের ভেতর উথাল পাথাল 
বিভীষিকা পলে।

ডুব সাঁতারে মাঝে মাঝে 
   অতীত খুঁজে আনি,
মনের মধ্যে জমা কষ্ট
সজোরে তা টানি।

খুঁজতে খুঁজতে চোরাগলি 
   দেখতে পেলাম তারে,
অতীত  স্বপ্ন কেমন আছো
আমাকে আর ছাড়ে!

মনের কথা তরল হলো
  নরম হলো আঁখি,
মনটা যেন উদাস হয়ে
বলল এবার রাখি।

মাঝে মধ্যে মন মানে না 
  অতীত খোঁজা চলে, 
আমি নাকি পাগল প্রেমিক 
  অনেকেই যে বলে।

সংবিধান... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস   নিয়ম নীতি শৃঙ্খলাবোধ সুস্থ জীবন গড়ে,  সাহিত্য হোক সৃষ্টির তরে সংবিধানটা পড়ে।  কলম যখন কবির অস্ত্র  সমাজ দর্পণ জানি,  হিংসা-...

জনপ্রিয় পোস্ট