শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

পুরুষত্বের পরিচয়... কলমে - মারিয়াম রামলা

লেখিকা- মারিয়াম রামলা

 

স্বামী যদি স্ত্রীকে মারধর করে,
তবেই নাকি সে “পুরুষ” নামে পরিচিত হয়!
এটাই নাকি তার পুরুষত্বের প্রমাণ,
এটাই নাকি সমাজের চোখে “মর্দাঙ্গি”র পরিচয়।

কথায় কথায় মায়ের নাম নিয়ে গালি দেওয়া,
স্ত্রীকে খারাপ বংশের বলা,
“বাজারি মেয়ে” বলে অপমান করা,
“কোনো কাজেই আসে না” বলে তুচ্ছ করা,
প্রতিটি কথায় কটূক্তি,
প্রতিটি মুহূর্তে অসম্মান আর অত্যাচার—
এসব করলেই নাকি সে খানদানি নবাব!

স্ত্রীকে দমিয়ে না রাখলে
সমাজের চোখে নাকি সে পুরুষই নয়!

সমাজের সামনে মুখ দেখাবে কীভাবে?
স্বামীকে তো তখন সবাই “নামার্দ” বলবে!

এমন পুরুষত্বের অহংকারের চেয়ে
মানবতা নিয়ে বেঁচে থাকাই শ্রেয়।
কারও মেয়েকে অপমান করার আগে
একবার নিজের মা-বোনের কথাও ভাবো।

হৃদয় বীণা... - সমর্পিতা রাহা

লেখিকা - সমর্পিতা রাহা 


হৃদয় নাচে কবির গানে
   পেখম তুলে নাচি,
কবি আমার হৃদ মাঝারে 
   শ্বাস নিয়ে তাই বাঁচি।

কবি আমার পরম গুরু
  তাঁর আদর্শে চলি,
তিনি আমার সঙ্গে থাকেন
গাইছি গানের কলি।

হৃদয় আমার নেচে ওঠে 
  কবির লেখা পড়ে,
যেদিকে চাই রবির ছবি 
  আছে হৃদয় ঘরে।

রবির লেখা কবিতারা 
 আমার শরীর জুড়ে ,
এলোমেলো নানা গল্পে
   রবি আসে ঘুরে।

প্রেম পিরিতির নানা কথা 
  রবির গল্পে শেখা,
জোড়াসাঁকো গেলাম সেদিন 
হয়নি আমার দেখা।

এখন তিনি কেবল ছবি
  মন যে আমায় বলে,
সকাল থেকে রাত অবধি 
 চলছে যে গান কলে।

হৃদয় আমার নেচে ওঠে 
 ময়ূরের ন্যায় নাচে,
রবি ঠাকুর বিদায় নিলাম 
  অনেক কাজ যে আছে।

তোমারই প্রতীক্ষায়! - রকিবুল ইসলাম

 

যখন আমি এই ধরাতে আর থাকব না!
যখন সময়ে-অসময়ে আর তোমাকে বিরক্ত করব না,,,,,,,!
আমার দৃঢ় বিশ্বাস,,,,,,
তখন,তুমিও কাঁদবে,তুমিও পুড়বে।
পিছু ফিরে দেখবে,এই বুঝি কেউ এল।
অচেনা বাতাসে শুনবে,এই বুঝি সেই অনাহুত, অনাকাঙ্ক্ষিত কারো পায়ের আওয়াজ শোনা গেল,
এই বুঝি মোবাইলটা বেজে উঠল।
প্রকৃতির সকল সৃষ্টির ডাক শুনে মনে হবে,,,সেই চির উপেক্ষিত-সদা অবহেলিত কেউ বুঝি তোমাকে ডেকে গেল,, আর বলে গেল,,ফিরে আয়,,,ফিরে আয় আমার হৃদয়ে।
এখন, আমার উপস্থিতি তোমার বিরক্তির কারণ,আর তখন আমার অনুপস্থিতি হবে তোমার দুঃখের কারণ।
কাঁদবে তুমিও!তবে,আড়ালে, আত্মগোপনে।  
দগ্ধ হবে অন্তর্জ্বালায়,ভিতরটা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে,,।
কাউকে কিছুই বলতে পারবে না।
তোমার অদম্য মনোবলে তখন চিড় ধরবে।একাকী তুমি খুঁজে পাবে না কোন দিশা।ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াবে এদিক-সেদিক, একটু ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের সুশীতল আশ্রয়ের জন্য,একটু প্রবোধ ও প্রশ্রয়ের জন্য।
একটু শীতল পরশের জন্য,একটু রগরগে উঞ্চতার জন্য।
তখন,আমি হয়ত এই ধরণীর মায়া-মমতা ত্যাগ করে পাড়ি জমাব ওপারে।
তখন,কে তোমার খবর নেবে,,,,?
কালের পরিক্রমায় আবার হয়ত তোমার সুদিন ফিরবে,আসবে বসন্ত,,,।
আর আমি?আমি তখন নিমজ্জিত নিগুঢ়, গাঢ় কোন অন্ধকারের অতল গহ্বরে,,,,হাজারো বেদনাকে সঙ্গী করে নিয়ে থাকব হয়ত তোমারই প্রতীক্ষায়! 
ভাল থাকুক আমার মহারাণী,নির্বিঘ্ন হোক তার জীবন।

শূন্যে পূর্ণতা ... - সালাম মালিতা

লেখক - সালাম মালিতা 



তুমি যদি আমার কাছে অর্থ খোঁজো
তবে আমি শূন্য,
তুমি যদি আমার কাছে বিশ্বাস চাও
তবে আমি পূর্ণ।
তুমি যদি ব্যয়বহুল অট্টালিকা চাও
তবে আমি ব্যর্থ,
তুমি যদি সদাই মানসিক শান্তি চাও
তবে আমি সমর্থ। 

তুমি যদি চরিত্রহীন প্রতিষ্ঠিত খোঁজো
তবে আমি বিনে,
তুমি যদি দায়িত্ববান জীবনসঙ্গী চাও
আমায় নাও কিনে।
তুমি যদি কোনো স্মার্ট প্রতারক চাও
তবে আমি ছাড়া,
তুমি যদি বিশ্বাসী কাউকে পেতে চাও
আমি পাগল পারা।

তুমি যদি ভীষণ সুন্দর কাউকে খোঁজো
তবে আমি বাদে,
তুমি যদি ভালো চরিত্রের জীবনসঙ্গী চাও
দোয়ায় রেখ নাদে।
তুমি যদি এক উচ্চ শিক্ষিত দাম্ভিক চাও
তবে আমি মাফি,
তুমি যদি জীবনবোধের শিক্ষিত মানুষ চাও
তবে আমি কাফি।

তুমি যদি দামি বাহারি উপহার পেতে চাও
তবে আমি মিছে,
তুমি যত্নবান বন্ধুর মত মনের মানুষ খুঁজলে 
তবে রেখ পিছে।
তুমি যদি নেশাগ্রস্ত বিত্তবান দুশ্চরিত্র চাও
তবে আমি রেখে,
তুমি যদি পৃথিবীতেই স্বর্গীয় সুখটা চাও
তবে নিও ডেকে। 

তুমি যদি টাকায় সুখ খুঁজে সংসার চাও
তবে আমি ফেলে,
তুমি যদি প্রেম ভালোবাসার দাবী রাখো
দেব দু'হাত মেলে।
তুমি যদি একজনমের জন্য কাউকে চাও
তবে আমি ভুলে,
তুমি যদি সাতজনমের'ই সঙ্গী পেতে চাও
তবে নিও তুলে!

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

অচেনা ঠিকানায় শেষ বিকেলের চিঠি




গল্পধারা বুধবার 🔰

বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ ই-বুক বিভাগ কতৃক প্রকাশিত - 
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক গল্পের সংকলন 

সম্পাদক - আকাশ আহমেদ

প্রকাশঃ ১৩ই মে ২০২৬ (বুধবার)

প্রচ্ছদ ডিজাইনঃ সর্বানী দাশ



------------------------------------------------------------------------------------



 
ধারাবাহিক গল্প: 

অচেনা ঠিকানায় শেষ বিকেলের চিঠি

লেখিকা: সাদিয়া চৌধুরী রুনা 

পর্ব – ১


​ঢাকার ব্যস্ত শহরের এক কোণে ছোট একটা ঘর। শমসের সাহেব একাই থাকেন। দীর্ঘ পঁচিশ বছর ডাকবিভাগে চাকরি করার পর এখন তিনি অবসরপ্রাপ্ত। সারাজীবন মানুষের হাজারো সুখ-দুঃখের চিঠি বিলি করেছেন, কিন্তু তার নিজের ঠিকানায় কখনও কোনো চিঠি আসেনি। 

আজ বিকেলের আকাশটা একটু বেশিই মেঘলা। শমসের সাহেব বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলেন, হঠাৎ নিচতলার দারোয়ান এসে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে গেল।

​হলদেটে হয়ে যাওয়া খাম - 
ওপরের নামটা আবছা হয়ে গেছে - 
কিন্তু ঠিকানাটা স্পষ্ট - 
শমসের সাহেবেরই ঘর। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, প্রেরকের জায়গায় কোনো নাম নেই, শুধু লেখা আছে - 'সেই বিকেলের সাক্ষী।'

​কাঁপা হাতে খামটা খুললেন তিনি। ভেতরে কোনো কাগজ নেই, আছে শুধু একটা পুরনো মরচে ধরা চাবি আর একটা বকুল ফুলের শুকনো মালা। মালাটা হাতে নিতেই যেন পঁচিশ বছর আগের এক তীব্র ঘ্রাণ তার নাকে আছড়ে পড়ল। 

শমসের সাহেবের হাত কাঁপতে শুরু করল। 
তিনি বিড়বিড় করে বললেন -
"তবে কি ও ফিরে এসেছে? নাকি এটা কোনো দুঃস্বপ্ন?"

​ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। এই অসময়ে তো কেউ আসার কথা নয়। বুক ধড়ফড়ানি নিয়ে দরজা খুলতেই শমসের সাহেব দেখলেন, সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী। পরনে নীল শাড়ি, ঠিক যেমনটা পঁচিশ বছর আগে সেই মেয়েটি পরত।

​মেয়েটি শান্ত স্বরে বলল -
"চাবিটা কি পেয়েছেন? ওটা দিয়েই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় লুকানো দরজাটা খুলতে হবে।"

​শমসের সাহেব কথা হারিয়ে ফেললেন। 
কে এই মেয়ে? 
আর কোন দরজার কথা বলছে সে? 

যার কথা তিনি পৃথিবীর কাউকে জানাননি, এমনকি নিজের ছায়াকেও না!



চলবে.....


-----------------------------------------------------------------------------

লেখিকা: সাদিয়া চৌধুরী রুনা 

সাদিয়া চৌধুরী রুনা (পিতা: আবদুস সোবহান) একজন স্বপ্নবাজ লেখিকা। পড়াশোনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে। ফেসবুকের পরিচিত মুখ সাদিয়া নিয়মিত লেখালেখি করছেন এবং তাঁর কবিতা ইতিপূর্বেই বেশ কিছু যৌথ কাব্যগ্রন্থে স্থান করে নিয়েছে।

আমি একটা গল্প... কলমে -সন্দীপ সাঁতরা




চা খাবে? আজ একটু আগেই বসেছি
অবাক! কাজ ফেলে বসা তোমার স্বভাবে নেই তো।
আজ মে দিবস, তাই নিজেকেই একটু সময় দিলাম।
নিজের সাথে কথা বলছো?
হ্যাঁ, সারাদিন তো অন্যের স্বপ্ন গড়ি।
নিজের স্বপ্ন কেমন?
ধুলোমাখা, তবু ভাঙেনি এখনো।
ক্লান্তি লাগে না?
লাগে, কিন্তু থামলে যেন হার মেনে নেওয়া হয়।
কেউ কি শোনে তোমার কথা?
আজ তুমি শুনছো, এটুকুই বড় কথা।
 তাহলে আজকের দিনটা কেমন লাগছে?
 মনে হচ্ছে, আমি শুধু শ্রমিক নই....
আমি একটা গল্প।


লেখক -সন্দীপ সাঁতরা


পুরুষত্বের পরিচয়... কলমে - মারিয়াম রামলা

লেখিকা- মারিয়াম রামলা   স্বামী যদি স্ত্রীকে মারধর করে, তবেই নাকি সে “পুরুষ” নামে পরিচিত হয়! এটাই নাকি তার পুরুষত্বের প্রমাণ, এটাই নাকি সমা...

জনপ্রিয় পোস্ট