রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

"ধোঁয়া ওঠা রাত " - রত্না রায়

রত্না রায় 

 "ধোঁয়া ওঠা রাত "
     - রত্না রায় 

স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুকেশন স্কুলে অচিন আর তুলির প্রেম শিক্ষক মহলে শংকিত করেছিলো।তাই চারটে বাজলেই গেটে তালা পড়তো।

অন্য ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে ওদের দুজনকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করেন স্কুলের হেডমাস্টার জয়ন্ত ঘোষাল।

স্কুল ত্যাগ করতেই অচিন আর তুলির কেউ খোঁজ রাখেনি । অচিন আর তুলির নাম বেঞ্চে কম্পাস দিয়ে খোদাই করেছিলো অচিন।শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অনেক শাস্তিও পেয়েছিলো সেদিন ।

বহু বছর পরে সেই স্কুলেই বাংলার শিক্ষক হয়ে জয়েন করলো অচিন।

স্কুল অনেক বদলে গেছে নতুন ভাবে সেজেছে। ক্লাসঘর বেড়েছে।ছেলে মেয়েরা এখন স্বাধীন। স্কুলের গাছ তলায় বসে গল্প করে নিশ্চিন্তে।যা আগে ছিলো না।

- একদিন টিফিন টাইমে সুচরিতা অচিনকে তার জন্মদিনে নিমন্ত্রণ করে বসে। 
অচিন যায় ওদের বাড়িতে ।

- সুচরিতার বাবা এডভোকেট ।মা হাউস ওয়াইফ।

সুচরিতা স্যারকে দেখেই আনন্দে অস্থির।

বাবা সূর্য দস্তিদার বলে আপনার কথা আমার মেয়ে খুব গল্প করে ।আপনি এতো ভালো বাংলা পড়ান আমার মেয়ে সেইজন্যই বাংলায় কথা বলতে শিখে গেছে বুঝলেন ।কি যে গর্ব হয় আমার!

অচিনের ভালো লাগে উনার মন্তব্য।উনি চলে যেতেই 
সুচরিতার মা বেরিয়ে আসে।

- স্যার এই যে আমার মা ।
- আরে অচিন ! তুমিই আমার মেয়ের স্যার! ?
কতদিন হোলো আনন্দ নিকেতন স্কুলে চাকরি করছো? 

- দুমাস হোলো ।
- কাকু কাকিমা কেমন আছে গো ?
- তাঁরা বেঁচে নেই।
- ও সরি অচিন ।

সুচরিতা বেরিয়ে যেতেই অচিন বললো

- আমি আসি তুলি ।
- আমার উপর রাগ নেই তো অচিন !?
- না । তুমি এডভোকেটের স্ত্রী হয়েছো।রাগ করতে পারি?
- তবে.বিয়ের খবর টা জানালে আমার বাবা ,মা আমাদের কে নিয়ে বিয়ের স্বপ্নটা দেখতো না . বলেই বেরিয়ে গেলো দ্রুত ঘর ছেড়ে।

-  সেদিন সিগারেট মুখে সারারাত জেগে ছিলো অচিন।মাথার মধ্যে ঘুরছিল তুলির আচরণ। অসহ্য যন্ত্রণা বুকে নিয়েই...

- পরদিনই স্কুলে রিজাইন দিয়ে ব্যাঙ্গালুরু চলে গেলো সে।  

সুচরিতার মুখে অচিনের.চলে যাওয়ার কথা শুনে তুলির খারাপ লাগে ।যোগাযোগ করার চেষ্টাও করে তুলি, অচিন এড়িয়ে যায়......।।

খোলা চিঠি তোমার কাছে - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস


 খোলা চিঠি তোমার কাছে
- সর্বানী দাস

জানো, তুমি আমার কাছে-
সব পাওয়ার ভিড়ে,  এক না-পাওয়া আকাঙ্খা ।

তুমি সেই খোলা চিঠি-
যার  পংক্তিতে পংক্তিতে লেখা নীরবতার চন্দ্রশোক ।

তুমি সেই গোপন গান-
যার সুর হৃদয়ের খোলা চিঠি 
 নির্জন অলিন্দে চৈতি দুপুর আঁকে।

তুমি সেই উতল সমীরণ ,-
যার স্পর্শে বর্ষা রাখে ধরিত্রীর অধরে সৃষ্টি-কোলাজ।

তুমি সেই মনের মানুষ-
যাকে না দেখেও দেবতার স্থানে রেখেছি  অনন্ত বিশ্বাসে।

হয়তো বা, হয়তো বা কেন?কোনো একদিন নিশ্চিত তুমি-
পড়ে নেবে আমার খোলা চিঠির চুপ কথা।

খোকার মনে বিচিত্র ইচ্ছা... -শুভ্রা রায়

শুভ্রা রায়

 খোকার মনে বিচিত্র ইচ্ছা
-শুভ্রা রায়

খোকার ইচ্ছা হলো সে হবে সূর্য ওই পূব আকাশে,
তার কিরণে আলোকিত হবে
সারা বিশ্ব ভুবন।
কখোনো তার ইচ্ছা জাগে হবে সে ভোরের পাখি,
তার গানেতে উঠবে জেগে 
যতো জগৎবাসী।
পাখি হয়ে আকাশ মাঝে
হারিয়ে যাবে সে,
মা বলবে কোথায় গেলি 
খোকা আমার?
খোকা বললো আমি তোমার খোকা আছি,একটু হারিয়ে গেলাম।
মেঘের সাথে করে খেলা আবার আসবো তোমার কোলে।
আবার খোকার ইচ্ছা হলো
হবে সে পুকুর জলের মাছ,
সাঁতার কেটে পার হবে সে, পুকুরের এপার ওপার।
মাছের মতো থাকবে জলে দিবারাতি।
সেই খোকার ইচ্ছা হলো হবে সে গাছের ফুল,
বাগানের শোভা বাড়াবে সে
আনবে আনন্দ সবার মনে।
প্রজাপতি হবে খোকা মনেতে
হলো সাধ,
এদিক ওদিক ঘুরবে খোকা
হবে নাতো মন্দ।
ফুলে,ফুলে মধু খাবে সারাটা
দিন ধরে,
কখনো বা ইচ্ছা জাগে হবে 
রাতের তারা,
নিশিরাতে জ্বলবে সে আকাশ মাঝে।
কখনো হবে চাঁদ ওই পূর্ণিমা রাতে,
হঠাৎ করে মা বললো খোকা তুই আয় চলে,
তোর মনের ওই বিচিত্র সাধ কেবল ই থাক তোর স্বপ্ন হয়ে।
তুই কেবল আমার খোকা ,
এতেই আমার শান্তি মনে।

কুরবানি - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 কুরবানি
- উজ্জ্বল কান্তি দাশ


রহিম মিয়ার বেশ কিছুদিন
বুকে ভীষণ কষ্ট, 
ডাক্তার তাকে জানিয়ে দিল
হৃদয়ের ভালভ নষ্ট। 

সুস্থ তোমায় করতে হলে
অনেক টাকা দরকার, 
বুকের ভেতর বসাতে হবে
একটি পেসমেকার। 

রহিম মিয়া ভাবে বসে
কী হবে হায় উপায়? 
তার কাছে যে উপশমের
অত টাকা নাই! 

কেমন অসুখ হলো খোদা
কিসের পেলাম সাজা? 
কে আমাকে দেবে টাকা
সামনে ঈদুল আযহা! 

রহিমকে তার মেয়ে বলে 
শুনো আব্বাজান, 
আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন
মিলবে দয়াবান। 

কেউ যদি তার ঈদের টাকা
তোমায় করেন দান, 
আমাদের এই দুশ্চিন্তার
হবে অবসান। 

পথে যেতে রসূল মিয়া
ওদের কথা শুনে, 
বাড়ি গিয়ে বাক্স খুলে
টাকা নিয়ে গুনে। 

টাকা হাতে এসে বলে
শুনো রহিম ভাই, 
তোমার সুস্থ হওয়া নিয়ে
কোনো চিন্তা নাই। 

রহিম বলে তোমার টাকা
কি করে ভাই নেবো? 
পরে কি করে তোমার টাকা
ফেরত আমি দেবো? 

রসূল বলে চাই'না ফেরত
আল্লাহ'র মেহেরবানী, 
এই টাকাটা খোদার নামে
দিলাম যে কুরবানি।

তোমায় যেন সুস্থ করেন
আল্লাহ'র কাছে বলো, 
এই প্রথম কুরবানি মোর
সার্থক মনে হলো।

ফাইট - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা

ফাইট
- সমর্পিতা রাহা

বিনা মেঘে বজ্রপাত! 
বাড়িটার ভিত আচমকা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল, 
ফাঁটল ধরল বাড়ির মজবুত ছাদে, 
স্বার্থপর দুনিয়ায় যেন
বিষ্ময় হাহাকার! 
যুদ্ধে সাইরেন শুনে রমনী 
ব্যতিব্যস্ত! 
দমকা হাওয়ায় রমনীর নশ্বর দেহ কেঁপে ওঠে
চোখে ভাসছে চাপ চাপ রক্ত। 
রমনীর শরীরে ভর করল 
ঐশ্বরিক দানব শক্তি, 
ভালোবাসার বিস্ফোরিত চক্ষু কিছু বলতে চাইছে! 
রমনী স্তম্ভিত হয়ে চোখে বরফ ঝরায়
বীরের মতো বলে চলেছে
ফাইট ফাইট ফাইট। 
কিছুক্ষণের দৌড় ঝাঁপ! 
কিছুদিনের মানসিক যন্ত্রণা! 
ধীরে ধীরে যন্ত্রনার মলম, 
কষ্টগুলো কাউকে কিছু বলতে পারে না। 
ভবিষ্যৎ..... 
ফলস সিলিং এর তলে এসেছে! 
অতীত স্মৃতি  বড্ড ডাকতে থাকে। 
ওই সানাই এর সুর আকুলিত মন–
শুভক্ষণ ঘন্টা বাজিয়ে চলছে। 
মিষ্টি মুহুর্তর ভালো ভালো সব স্মৃতি। 
বহু সময় কেটে গেছে–
অসময়ে যুদ্ধের দামামা বেজে চলেছে–
গুমোট হাওয়ায় মনটা ছটফট–
রমনী হেঁটে চলেছে ধীরে ব্যথার সোপানে
আকাশের তারাগুলোর মাঝে
প্রিয়জনেরা বলছে কষ্ট হচ্ছে! 
এইতো জীবন! 
ফাইট ফাইট ফাইট।

হাত বাড়ালেই বন্ধু... - সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ

হাত বাড়ালেই বন্ধু
- সুবর্ণা দাশ


                    কিছুদিন ধরে রিমির মা লক্ষ্য করল, রিমির মধ্যে যেন আতঙ্ক কাজ করছে। সারাক্ষণ নিজের রুমের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকে। ডাকলে আঁতকে উঠে। স্কুলে যেতে ভয় পায়, কিন্তু কিছুই বলে না। রিমি পড়াশোনায় খুব একটা মেধাবী না হলেও একেবারে খারাপ ছাত্রী সে নয়। রিমির মা সোমা খুব চিন্তায় আছে মেয়ের এরকম হাব ভাবে। একদিন দুপুর বেলা স্কুল থেকে রিমি ফিরার পর সোমা রিমির ঘরে গিয়ে, রিমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করে, মা রিমি আজকে তুমি আমাকে তোমার পাশে একটু শুতে দেবে মা? রিমি অনেকক্ষণ কি যেন ভেবে মা'কে জড়িয়ে ধরে বলে কেন নয় মা! সোমাও মেয়েকে অনেক দিন পর এভাবে জড়িয়ে ধরতে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে যায়। 

                   মেয়ের সাথে নানা কথা বলার পর গল্পের ছলে জিজ্ঞাসা করে, তোর কি হয়েছে মা? আমায় খুলে বলবি? সন্তানের বন্ধু হচ্ছে 'মা'। তুই আমাকে সব বলতে পারিস। সব বলতে সবকিছু, এমনকি তুই যদি খারাপ কিছুও করে থাকিস তাও আমাকে বলতে পারিস। রিমি একটু যেন হতাশা থেকে আলোর মুখ দেখলো। রিমি মাকে বলে, জানো মা আমার ক্লাসের অর্ক আমাকে কি সব বলে। আমাকে নাকি সে ভালোবাসে, আমার খুব ভয় হয় মা। অর্ক আমার পিছু নেয়। এমনকি আমাদের বাড়ি অবধি চলে আসে। আমাকে ফুল দেয়। আমি নিতে অস্বীকার করলে, রেগে যায় অর্ক। আমি কি করবো মা? অর্ক'র জন্য আমার স্কুলে যেতে ভয় হয়। 

                        বোকা মেয়ে এ জন্য তুই এত কষ্ট পাচ্ছিস! গুমরে যাচ্ছিস ভেতরে ভেতরে! শোন মা অর্ক'র বয়স কম, সবে তোদের বয়স চৌদ্দ কি পনেরো। এ বয়সটা হলো একটা কৌতূহলের সময়। অর্ক তোর ক্লাসমেট, ওর আচরণে ভয় না পেয়ে বুঝিয়ে বলবি যে, তোদের এখন ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। দেখিস অর্ক ঠিক বুঝবে। 

পরের দিন রিমি স্কুলে গেলে, অর্ক আবারও রিমিকে ভালোবাসার কথা বলে। রিমি ভয় না পেয়ে অর্ককে বলে, আমার তো দুজন বন্ধু হতে পারি। ভালো বন্ধু, আমাদের ভালো করে পড়ালেখা করে মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। অযথা অন্য কথা ভেবে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না। অর্ক ভেবে চিন্তে রিমির কথাতে সায় দেয়। রিমি অর্ক দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো এবং দুজনে খুব খুশি। 

রিমি মাকে এসে সব কথা খুলে বলল। সোমা ও খুশি হয়ে মেয়েকে কপালে চুম্বন করলো। আর বলল, হাত বাড়ালেই যে মায়ের মতো বন্ধু পাবি, সেখানে তুই কিছু আমাকে না বলে নিজে নিজে এতটা কষ্ট পেলি। কখনো মা'র কাছে কোনো কথা লুকাবে না। মা পরম বন্ধু মনে রেখো।

"ধোঁয়া ওঠা রাত " - রত্না রায়

রত্না রায়   "ধোঁয়া ওঠা রাত "      - রত্না রায়  স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুক...

জনপ্রিয় পোস্ট