শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

ক্ষুদ্র লেখক... - সালাম মালিতা

 
সালাম মালিতা 



চশমখোর এই উলঙ্গ সমাজে
আমি শব্দের প্ল্যাকার্ড পুঁতি,
ছন্দের হুঙ্কার দিই
আর বাক্যের চাবুক মেরে-
নগ্নতা উন্মোচন করি,
আমি একজন-
ক্ষুদ্র লেখক!! 

মিথ্যার নোংরা প্রলেপ দেওয়া 
মেকি ভালোবাসার শহরে-
কাব্য-কথায়
প্রতিনিয়ত করাঘাত করি,
নাগিনীর নীলচে বিষ শনাক্ত করে 
গানের সুরে প্রতিবাদ করি,
আমি একজন-
ক্ষুদ্র লেখক!! 

স্বার্থের এই ঠুনকো রঙিন প্রাসাদে
আমি ভাষার বন্দুক তাক করি,
সুযোগ পেলেই পাঠকের হৃদয়ে 
স্মৃতির সাক্ষীতে-
গল্প, উপন্যাসের এজলাস বসাই,
আমি একজন-
ক্ষুদ্র লেখক!! 

দরিদ্র-নিপীড়িত-নিষ্পেষিত 
মানুষের অব্যক্ত কথার সাথে-
আমার সদাই দহরমমহরম,
গৃহবধূ থেকে রাজার ভৃত্য 
সবার বিক্ষুব্ধ বর্ণ জোগাড় করে-
কবিতা-ছড়ায় রূপ দিই,
আমি একজন-
ক্ষুদ্র লেখক!! 

শব্দ নিয়ে খেলা করা অভ্যাস
তাই শব্দের শৈল্পিক বুননের-
চেষ্টা করি মাত্র,
মনে যা আসে তাই লিখে ফেলি
নিজেকে কখনোই-
কবি ভাবার স্পর্ধা দেখাই না, 
অতি সাধারণ লেখায়
প্রান্তিক মানুষের কষ্টের ভাষ্য-
জীবন্ত করতে চেষ্টা করি, 
আমি একজন-
ক্ষুদ্র লেখক!!

সত্য বড় বিচিত্র... কলমে --মারিয়াম রামলা

মারিয়াম রামলা


আমি সত্য বলি,
আমি সত্য লিখি,
তবে যেখানে আমি ভুল—
সেখানে নীরব থাকি।

আমার আয়নাই আমার নীরবতা,
হাসিমুখে চিৎকার করেও
আমি সত্যের কথাই বলি।
ভুল হলে চুপ থেকে
নিজের আত্মাকে
সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাই।

আমি সত্য বলি,
আমি সত্য লিখি,
আমার খোদাকে যেমন ভয় করি,
তেমনি নিজেকেও ভয় পাই।

একটি মিথ্যা থেকে
জন্ম নেয় শত মিথ্যা,
আমি মানুষের নয়—
শুধু নিজের পরিচয়টাই তুলে ধরি।

ঘোমটায় ঢাকা কনে
ভীষণ সুন্দর লাগে,
যখন পর্দা সরে যায়—
পুরো পৃথিবী তাকে দেখে।

চাঁদের মতো সেই মুখ
তারার মতো জ্বলে ওঠে,
আর একটি মিথ্যায়
গর্জে ওঠে পুরো আকাশ।

আমার আত্মা, আমার বিবেক—
আজ আমাকে
সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

একটি সত্যই
একজন মানুষকে
সত্যিকারের মানুষ বানায়।

সেই শিক্ষাই আজ
হাজার মানুষকে শেখাতে চাই।

আমি সত্য বলি,
আমি সত্য লিখি...!!

বিষাদ বসন্ত... - সর্বানী দাস

 
সর্বানী দাস

বসন্ত
বিষাদ হাওয়া
 নরম ছোঁয়া প্ৰিয় 
অচেনা পথের গোপন মনে
পুরোনো দিনের স্মৃতি আজও ডাকে 
ভেজা জানালার কাচে স্বপ্ন ধীরে ভাঙে,
একলা বিকেল নীল আকাশ হঠাৎ তোমার নামে,
ঝরা পাতার শব্দে ভিজে থাকে নিঃশব্দ তারার রাত 
অবেলাতে তোমার কথা মনে পড়ে জমে বুকে নীরব ব্যথা,
অচেনা শহর ভেজা পথে জলের গল্পে অব্যক্ত কথা।
জোনাকি আলোয় হারিয়ে যায় ধরে রাখা দুটি হাত 
বাতাস ছুঁয়ে যায় ভাঙা মন নীলচে খামে 
অভিমান নীরব সুরে ফিরে আসে গাঙে 
স্মৃতি আকাশ পটে কাজল আঁকে 
অজানা কোন স্বপ্নীল ক্ষণে 
সোহাগ আদর নিও 
চাওয়া পাওয়া 
অনন্ত

মুক্তি দাও... কলমে --জয়দীপ বসু

জয়দীপ বসু 



হে সর্বশক্তিমান এবার আমায় দাও মুক্তি,
অনন্তের পথে এগিয়ে চলার দাও শক্তি।
পেরিয়ে এসেছি জীবনের অনেকগুলো দিন
জানি না কার কাছে করেছি কত ঋণ।

তবুও আজও চলেছি বাজিয়ে হৃদয় বীণ,
 অনেক স্বপ্ন চিরতরে হয়েছে বিলীন।
জীবন পথে পেরিয়েছি অনেক দুর্গম গিরি, কান্তার,
দুর্ভাগ্যের জলধির মাঝে দিতে চেষ্টা করেছি সাঁতার।

কুয়াশা ঘেরা বন্ধুর পথে হয়েছি দিশেহারা,
আজও তা মনের মধ্যে আছে স্মৃতিঘেরা।
নিদাঘ তপ্ত দিনে ঘন ঘন পড়ে দীর্ঘশ্বাস,
জীবনের বালুচরে হারিয়েছে অনেক আশ।

  মাঝে মাঝে নিজেকে লাগে বড় অসহায়,
 মনে হয় বাঁচার নেই কোনো আর উপায়।
 তবুও একমুখ হেসে এগিয়ে চলি।
নেচে, গেয়ে ওঠে হৃদয়ের কথাকলি।

লোকে ভাবে আমি কত শত সুখী,
কিন্তু জানে না তো আমি কত দুঃখী।
তাই এবার আমায় দাও চিরতরে মুক্তি,
অনন্ত পথে সন্ধান করতে চাই শুক্তি।

ফেলে আসা সেই সোনালী শৈশব... কলমে: মুন্নাফ সেখ

 
মুন্নাফ সেখ


এখন তো সব মুঠোফোনে বন্দি আবেগটুকু,
স্মৃতিরা সব ধুলো জমা এক পুরোনো সিন্দুক।
নদীপথের সেই যাত্রা দিয়ে শুরুর স্মৃতিগুলো,
যখন বাহন ছিল না কোনো, উড়ত না পথের ধুলো।

মায়ের সাথে লঞ্চে চড়ে নদীপথে দূরে যাওয়া,
নানীমার সেই আদুরে আঁচল, স্নিগ্ধ সুশীতল হাওয়া।
তখন ছিল জলপথের রাজত্ব আর ইঞ্জিনের ধুকপুক,
লঞ্চের শব্দে ডানা মেলত ছোট্ট মনের সুখ।

নদীতে সপরিবারে স্নান আর মায়েদের কাপড় কাচা,
সেই ভিজে কাপড় বয়ে নিয়ে আসার নির্মল আনন্দ বাঁচা।
মায়েদের সাথে কলাইয়ের ডাল ধুতে যাওয়ার সেই বেলা,
চিনির সাথে কাঁচা ডাল— সে যে অমৃতের মেলা।

সকালবেলা উঠোনের রোদে বড়ি দেওয়ার সেই ধুম,
পিটুলি বা নিম ডাল দিয়ে দাঁতন, ভাঙলে চোখের ঘুম।
তখন ছিল না টুথব্রাশ, ছিল না যান্ত্রিক কোনো টান,
প্রকৃতির কোলেই বেড়ে উঠত শৈশবের জয়গান।

মামার বাড়ির সেই দড়ির খাট, তালপাতার মিষ্টি হাওয়া,
দিদিদের সেই হারিকেন মোছা, পরম সুখে দিন পাওয়া।
মামার বাড়ি থেকে ফেরার বেলা কান্না আসত মনে,
নদীর ধার দিয়ে পালিয়ে যেতাম বিকেলের সেই ক্ষণে।

মামা আসতেন পিছু পিছু ছুটে, ধরার ব্যাকুলতা,
ছুটতে ছুটতে বাড়ির কাছে পৌঁছানোর সেই কথা।
নদীর পাড় আর সেই লুকোচুরি, মামার শাসন-স্নেহ,
এমন সোনার শৈশব কি আর ফিরে পাবে আজ কেহ?

মাটির উপরে দাগ কেটে সেই ষোল গুটি খেলা,
বত্রিশ গুটি আর এক বাগ মিলে কাটত সারাবেলা।
স্কুলের পথে কাঁটা খয়রা ফল, টক-মিষ্টির স্বাদ,
পরের বাগানে পেয়ারা চুরিতে ছিল না কোনো বিবাদ।

গভীর রাতে খেজুরের রস বন্ধুদের সাথে খাওয়া,
বাবার অগোচরে নারকেল পাড়া— এক অদ্ভুত পাওয়া।
রোজার মাসে রোজা না রেখেও বন্ধুদের সাথে মেলা,
মামার বাড়িতে ভোজ চলতো— এক অনন্য লুকোচুরি খেলা।

পান্তা ভাত আর আলুর চটকা, ভেজা ভাতের সেই ঘ্রাণ,
বিয়ের বাড়িতে দিদিরা সব হাসত দেখে আমার কাণ্ডজ্ঞান—
"গরম ভাতের দরকার নেই, দিও ওকে ভেজা ভাত মেখে!"
সেই ঠাট্টায় মায়া ছিল কত, স্মৃতির পাতায় থাকে।

ক্লাস নাইনে অনেক পরে প্রথম এলো সেই সাইকেল,
জীবনের মোড় যেন ঘুরে গেল, শুরু হলো অন্য লেভেল।
অবিরাম পথে বন্ধুদের নিয়ে সেই সাইকেলে ছোটা,
হৃদয় জুড়ে হাসি-আনন্দের স্বপ্নগুলো গাঁথা।

স্কুলেতে গিয়ে বন্ধুদের তরে বেঞ্চটা রাখা ধরে,
চিঠি লিখে আজ মন হালকা করার দিন গেছে কবে মরে!
চায়ের দোকানে সিডি-ভিসিডি, ভিড় করে দেখা ছবি,
ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নামা মোরা, হতে চেয়েছি কি সবি?

কোথায় হারালো সেই সব হাসি, মেঠো পথের সেই ধুলো?
বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নেওয়া আনন্দ-উচ্ছ্বলগুলো।
এখন তো শুধু স্ক্রিনের আলোয় কাটে সবার দিন,
শৈশব আজ ঘরবন্দি, চার দেওয়ালে বিলীন।

মাটির গন্ধ পাওয়া যায় না তো, সবখানে কংক্রিট,
মনটা আজও খুঁজে ফেরে সেই পুরোনো দিনের গীত।
হেঁটে চলি আজ একাকী পথে, যন্ত্রের এই ভীড়ে,
ইচ্ছে করে আবার একবার সেই শৈশবে যাই ফিরে।

উড়ন্ত সেই দিনগুলো আজ হৃদয়ে দেয় যে নাড়া,
স্মৃতিরা কেবল জীবন্ত রয়, আমরাই বাঁধনহারা।
ফিরে কি আসবে হারানো রোদ্দুর, সেই সে সোনালী দিন?
শৈশব আজ শুধুই গল্প, এক অবাস্তব রঙিন স্বপ্ন বিলীন।

বেলা শেষের ডাক!.... - রকিবুল ইসলাম

 
রকিবুল ইসলাম


বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!
এখনো এলোনা সে,খুঁজে-ফিরেছি যারে সকাল-সাঁঝে।
বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!
প্রতীক্ষা করেছিনু যার তরে সারা জীবন ভরে,
অবজ্ঞা আর অবহেলায় পড়ে রইল সে,এখনো এলোনা ফিরে। 
বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!
এখনো পেলাম না তবু চির আরাধ্য সেই তাকে আমাতে আপন করে।
পারব কি করে!ভাবেনি কখনো সে আমাকে তার নিজের মত করে।
বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!
সুখ খুঁজতে গিয়ে তবু দুঃখকে নিয়েছি আপন করে,
সয়েছি যাতনা যত,দিয়েছে সে যা অতীব যতন করে।
বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!
আসল কি নকল,খাঁটি কি মেকি করিনি যাচাই, 
রয়েছি পড়ে তার মোহের আবেশে।
বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!
তার চলার পথ মসৃণ করতে গিয়ে
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,আশা-নিরাশার দোলাচালে
লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে বেমালুম গিয়েছি ভুলে। 
ভাঙল ঘুম আমার অবশেষে বেলা শেষের ডাকে।
বেলা শেষের ডাক আমার কানে বাজে!

ক্ষুদ্র লেখক... - সালাম মালিতা

  সালাম মালিতা  চশমখোর এই উলঙ্গ সমাজে আমি শব্দের প্ল্যাকার্ড পুঁতি, ছন্দের হুঙ্কার দিই আর বাক্যের চাবুক মেরে- নগ্নতা উন্মোচন করি, আমি একজন- ...

জনপ্রিয় পোস্ট