মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

অম্বুদ উঠিল রেগে... - সুকুমার সাউ

সুকুমার সাউ


অম্বুদ উঠিল রেগে 
- সুকুমার সাউ

অম্বুদ ফুঁসিয়া ওঠে আকাশের মাঝে 
নামিবে ধরার মাঝে রণ দেহ তার ,
দামামা বাজিছে সদা সাজিয়াছে সাজে
হুঙ্কার দিতেছে সদা রক্ষা নাহি আর।

চাষিরা ভাবিছে মনে কিবা দশা হবে
বিজলী ঝিলিক মারে শুধু বারে বারে,
কালের বৈশাখী নৃত্য কত কিছু লবে , 
প্রাণীকূল ভেবে মরে যম বুঝি দ্বারে ।

আঁধার ঘনায়ে আসে ঈশানের কোনে
ধরণী চৌচির আজ তীব্র তাপদাহে,
যাচিছে অম্বুদ পানে এসো মোর সনে
জুড়াও সকল জ্বালা তপ্ত এই গায়ে।

নামিল অম্বুদ বেগে ভাসিলো ধরণী
ফসল ভাসিল জলে মাথা নিচু করে,
বরুণ রাগিয়া নিজে ভাঙিল তরণী
কান্নার উঠিল রোল কত শত ঘরে ।

ধংসের মাঝেও তবু জীবন ও আছে
বৃক্ষ লতা ফিরে পায় আপনার প্রাণ , 
সবুজের সমারোহ নদী নালা বাঁচে
ভুলিব কেমনে ইহা প্রভুর যে দান ।

বাগান মালিক... - নূরুল ইসলাম

নূরুল ইসলাম 

 বাগান মালিক
  - নূরুল ইসলাম 
      

    সেদিন একা আম বাগানে,
    গেছি দুপুর বেলা।
    কেউ কাছে নেই একা একা,
    আম কুড়াতে মেলা।

    কোথা থেকে দমকা হাওয়া,
    আজগুবি নিঃশ্বাস।
    ঘাড়ের কাছে মুখটা এনে,
    বলে খাবো তাল শাঁস।

    বুঝতে পারি অশরীরী,
    হয়তো বা ডাইনি বুড়ি।
    বললো হেসে নাকি সুরে,
    তার বয়স একশ কুড়ি।

    বুড়ির দাবি বাগান মালিক,
    ভুত হয়ে সে আছে।
    তোর দাদুতো আমাকে নিয়ে,
    ঘর করেছিল মিছে।

    আমাকে নিয়ে ঘরে থাকবে,
    সংসারে দিবে মন।
    ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেলো,
    আমার হলো মরণ।

    বলে সে যতো গাছগাছালি,
    আম কাঁঠাল ও জাম।
    বৃথাই লাগানো লিচু পেয়ারা,
    পেলাম না কোনো দাম।

    ওই খানে তোর দাদুর কবর,
     সেকাল থেকেই আছি।
    তোকে দেখেই এলাম ফিরে,
    থাকবো কাছাকাছি।

দূরের নক্ষত্র... - ড. তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

 
ড. তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়


দূরের নক্ষত্র 
- ড. তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

জেদ ভালো ,
কিন্তু মেয়েদের এত জেদ ভালো নয় তো ,
তাছাড়া এমন কিছু হয়নি
যাতে একেবারে কথা বন্ধ করতে হয় ,
মান অভিমান হোক ক্ষতি নাই  ,
বাড়ির গাড়িটা কি দোষ করল  ?
বাইরে প্রোগ্রামে যাচ্ছ সরকারি বাসে ।
                                জুন মাস থেকে না হয়                               
সরকারি বাসে ভাড়া লাগবে না ,
এখন তো গাড়িটা ব্যবহার করো ।
তাছাড়া তোমার কথা ভেবেই
গাড়িখানা কেনা যে !
গাড়িটা শুধু ই তোমার  ।

এই গরমে চলো 
একবার দার্জিলিং থেকে ঘুরে আসি ,
একবার বলেই দেখো তো ,
রাতারাতি রিসর্ট বুক হয়ে যাবে,
আর দুটো বিমানের টিকিট  , 
দমদম টু বাগডোগরা ।
কি রাগ কমল এবার ?
শুনছো আমার কথা ,
নীরব কেন  ?

এবারে গ্রীষ্মের ছুটি টা 
না হয় দার্জিলিঙের মনোমত  স্থানে কাটালে ,
শুধু দেহ নয় ,
মনটাও  ঠাণ্ডা হোক একটু ,
মাথাটা ঠাণ্ডা হলে তো কথাই নাই  !
কেন যে আমার সংস্পর্শে থেকেও
মাথা এত গরম  !

দার্জিলিঙে নামী রিসর্টে 
খোলা বারান্দায় 
নির্জন গভীর  রাতে
হয়তো একাকী দাঁড়িয়ে আমি ,
আর আমার সঙ্গী হবে
দূরের ওই নক্ষত্র  !

তোরা নিন্দুক তোরা ধর্ষক... - শিশির হুদা

শিশির হুদা 

 তোরা নিন্দুক তোরা ধর্ষক
- শিশির হুদা 


তোরা দাবি করিস 
তোরা মানুষ, 
তবে কেন উড়াস ঐ আকাশে
ঘৃ*ণার ফানুশ?

তোরা দাবি করিস 
তোদের আছে ক্ষমতা 
তবে কেন তোদের 
ধিক্কার দেয় জনতা?

তোরা বলিস তোদের গায়ে
মানুষের র*ক্ত,
তবে কেন দিন দিন
বাড়ছে তোদের মধ্যে প*শু ভক্ত?

মা বোন মেয়ের বয়সী
কাউকে না তোরা ছাড়িস,
মানুষ ভক্ষক প*শু তোরা
জানো*য়ারের মতো মারিস।

পরের ঘরে বলার আগে
নিজের ঘর দেখ
তোর কাছে তোর মা বোন মেয়ে 
সবার কাছে এক।

তোদের মধ্যে নেই মানুষ 
তবুও ভাবিস একবার 
তোদের মতো সবার আছে 
পরিবার সংসার। 

কবে তোরা হবি মানুষ
তোদের কাজ লোম হর্ষ*ক,
ওরে তোরা মানুষ না
তোরা নি*ন্দুক তোরা ধ*র্ষক।

অনুক্তাশ্রু... - নাহিদ খান

নাহিদ খান


 অনুক্তাশ্রু  
- নাহিদ খান

তুমি এসো, হে অনুক্তাশ্রু-
যার নাম উচ্চারণ করিনি কখনো, 
তবুও যার অপেক্ষায় ভিজে যাচ্ছে প্রতিটি শ্বাস।  

মুষলধার বৃষ্টির তলায় দাঁড়িয়ে আছি আমি,  
হাতে একগুচ্ছ কদম-সিক্ত, নত, তবু অটল। 
 
এই ভিজে যাওয়া কেবল জলের নয়,  
এই ধরে রাখা কেবল ফুলের নয়,  
এই তো তোমার জন্য জমে থাকা - 
সমস্ত নীরবতার ব্যাকরণ।  

তুমি এসো,  
কারণ তোমার আগমনের সংবাদ পেয়েই 
জারুল আবার নতুন রূপে সেজেছে।  

বেগুনি পাপড়ির ভাঁজে ভাঁজে... 
লুকিয়ে রেখেছে সময়ের দীর্ঘশ্বাস,  
আর প্রতিটি ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে গেছে,
তোমার নামের প্রতিধ্বনি।  

এসো,  
এই বর্ষা, এই কদম, এই জারুল -
সবই অর্থ পায় কেবল তোমার উপস্থিতিতে।  

তুমি না এলে, 
প্রকৃতি থেকে যায় অলিখিত কবিতা।

বেঁধেছি হৃদয় ... - মোঃ সোহরাব হোসেন খান (অনন্ত মৈত্রী)

মোঃ সোহরাব হোসেন খান (অনন্ত মৈত্রী)



 বেঁধেছি হৃদয়
- মোঃ সোহরাব হোসেন খান (অনন্ত মৈত্রী)

বেঁধেছি হৃদয়
তোমার প্রেমের সুতোয়,
ছিড়বে ?কভুও নয়
দৃঢ়ভাবেই বলছি তাই।।

ঐশী সুতো তাহা
ছিড়বে কি বা?
প্রভাব ফেলতে অসমর্থ আছে যতো মোহ মায়া 
সেই কারণে তৃপ্ততাই অনুভূত হয় সর্বদা।।

হৃদয় আজ উদ্ভাসিত 
তোমাতে যে হয়েছি সংযুক্ত,
হচ্ছে পর্দা হীন অনুভূত 
পূর্ণতার আবেশে সর্বদাই থাকি আনন্দিত।।

বেঁধেছি হৃদয়
সেই কারণেই তোমার স্থিতি আমাতে সর্বদাই অনুভূত হয়,
তোমাতে যে অসীমত্ব স্থিত
তাহা আমাতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে প্রবাহিত।।

বেঁধেছি হৃদয় 
তাই তো পেয়েছি দুজনারই পরিচয়,
প্রেমের সুতোয় বাঁধায় 
আয়নায় দাঁড়ালে মোদের এক দেখায়........

অম্বুদ উঠিল রেগে... - সুকুমার সাউ

সুকুমার সাউ অম্বুদ উঠিল রেগে   - সুকুমার সাউ অম্বুদ ফুঁসিয়া ওঠে আকাশের মাঝে  নামিবে ধরার মাঝে রণ দেহ তার , দামামা বাজিছে সদা সাজিয়াছে সাজে...

জনপ্রিয় পোস্ট