গল্প -
অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ
- সুবর্ণা দাশ
আজ উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হলো। মণি সেরা দশজনের মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। দলে দলে লোকজন ভিড় করতে লাগলো মণিদের বাড়িতে। বাড়ি'তো নয়, একটুকরো খড়ের ছাউনির ছোট ঘর। সাংবাদিক আসলো টিভি চ্যানেল থেকে। মহা আনন্দের সমারোহ আজ মণির মা-বাবার কাছে।
অভাবের সংসার রীতা ও জয়ের। অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করে রীতা, জয় ও তাদের আদরের একমাত্র কন্যাসন্তান মণি।বাবা জয় ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করে আর মা রীতা পরের বাড়িতে কাজ করে। মণির ছোট বেলা থেকে পড়া লেখার প্রতি বড় ঝোঁক ছিল। তাই মা-বাবা অনেক কষ্টে মণিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াচ্ছে। ঠিকঠাক কোন প্রাইভেট শিক্ষকও দিতে পারেনি মণিকে মণির মা-বাবা।
স্কুলে শিক্ষকরা ক্লাসে যতটুকু পড়িয়েছেন সেটাই মনোযোগ দিয়ে বাড়িতে পড়তো মণি। দিন রাত শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো মণি।
রীতা ও জয় মেয়ের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে পারতো না বলে,ওদের মনে অনেক দুঃখ ছিলো। মণির মা-বাবা কখনো বুঝতে পারেনি তাদের মেয়ে পড়াশোনায় এত ভালো। স্কুলের হেডমাস্টার এলো মণির মা-বাবার কাছে। আজ যেন মণিদের বাড়িতে খুশির ঢল নেমেছে।
সাংবাদিক স্বাক্ষাৎকার নিচ্ছে মণির। পাড়া প্রতিবেশি এসে বলে 'ও মণির মা, মণিকে টিভিতে দেখাচ্ছে। মণির মা-বাবার এত আনন্দের মধ্যেও চোখে জল আসলো। রীতা ও জয় দুঃখ করে বলে,বাড়িতে আমাদের টিভি নেই যে ,মেয়েকে যে টিভিতে দেখাচ্ছে সেটা একটু দেখবো ! মণি এসে বলে, আমি বড় হয়ে চাকরি করে তোমাদের টিভি কিনে দেব। মণি সাংবাদিকদের বলে -
"সে বড় হয়ে মানুষের ও দেশের সেবা করবে"
রীতা ও জয় আজকের দিনে মণিকে যে একটা কিছু দেবে সেই বাড়তি টাকা টুকুও নেই। তাই মনে মনে ওদের খুব দুঃখ! তবুও রীতা ও জয় খুশি। সুখের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তাদের হৃদয়ে।
রীতা ও জয় বুঝে তাদের মেয়ে কি সাফল্য অর্জন করেছে। মেয়ে মণিকে জড়িয়ে ধরে বাবা-মা আবেগে আপ্লুত। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে গেছে ওরা ওদের নিত্য দিনের অভাবের যুদ্ধের কথা। মণিকে মিষ্টিমুখ করিয়ে জয় বলে -
- আমি ও তোর মা পড়ালেখা করতে ভালোবাসতাম।
কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূলে ছিলো বলে পড়ালেখা করতে পারিনি।
আমাদের না'পারা গুলো তুই পূরণ করলি মা।
তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি তুই আরো ভালো রেজাল্ট করবি ভবিষ্যতে।
এই আশা থাকলো তোর কাছে।
মণি বলে -
- আশা আমি পূরণ করবো বাবা।
বেলা গড়াতে ভ্যান নিয়ে জয় বেরিয়ে গেল নিজ কর্মে। জয়াও মেয়েকে চুমু খেয়ে কাজে বেরিয়ে গেল।
মণি ভাবে -
মা-বাবা, শিক্ষক সবাই আজ কত আনন্দ করলো আমার ভালো রেজাল্টের কারণে।
আমি আরো ভালো করবো, নিজের পায়ে দাঁড়াবো। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করবো।
দেশের কাজ করবো এই আমার অঙ্গিকার।
![]() |
| লেখিকা - সুবর্ণা দাশ |




