সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

একা - সমর্পিতা রাহা


সমর্পিতা রাহা 



দুঃখে ভরা সাগর পারে
একা বসে আছি,
মাথার উপর ভনভনাচ্ছে
 চিন্তামনির মাছি।
যাব আমি পরপারে 
পিপীলিকা ডাকে,
লহর ঊর্মি পিছু টানে 
ছেড়ে যাব কাকে!
জগৎ জুড়ে কীটের বাসা 
  পতঙ্গরা হাসে,
এখন আমি নিরুপায় গো
  আছি ভীষণ ত্রাসে।
কুটুস করে কামড় দিচ্ছে
   চিন্তামনি মশা,
মনের মধ্যে রক্ত ঝরে
  আমার চরম দশা।
বিষের জ্বালায় দুঃখে মরি
  নানা  কথা শোনা
কুমিরাশ্রু হাস্যরসে
ভয়ে প্রমাদ গোনা

একুশে ✍️ উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 
উজ্জ্বল কান্তি দাশ



কেউ কি আমায় একটা কবিতা লিখে দেবে, বাংলা ভাষার কবিতা? 
যে কবিতায় লিখা থাকবে বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারির কথা, 
থাকবে বাঙালীর শিখরের কথা, বাঙালীর অস্তিত্বের কথা। 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় একটা গল্প লিখে দেবে,বাংলা ভাষার গল্প? 
যে গল্পে লিখা থাকবে আমার দুঃখিনী মায়ের কথা, 
তার ছেলে হারানোর কথা, 
আমার ভাই হারানোর কথা। 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় একটা গান লিখে দেবে, বাংলা ভাষার গান? 
যে গানে লিখা থাকবে মাথা নত না করার কথা, 
প্রতিবাদের কথা, বাংলার অহংকারের কথা, 
বাংলার গৌরবের কথা, 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় একটা নৃত্যগীত লিখে দেবে, বাংলা ভাষার নৃত্যগীত? 
যে নৃত্যগীত করে আমি তান্ডব করবো, 
জিন্নার স্তব্ধ কন্ঠের উপর প্রলয় নৃত্য করবো, 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় ফুল এনে দেবে, পলাশ শিমুল ফুল? 
আমি একুশের গান করে করে
প্রভাত ফেরিতে যাবো, 
এনে দেবে কেউ? 
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?

বর্ষার ভেজা গজল ✍🏻 সর্বানী দাস

এই বর্ষণমুখর সন্ধ্যা 
একটা অসমাপ্ত গজল,
যেখানে ওমর খৈয়ামের মদিরা ঝরে পড়ে
বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায়,
আর মির্জা গালিবের দীর্ঘশ্বাস
জড়িয়ে থাকে ভেজা স্ট্রিট ল্যাম্পের 
আলোর ওড়না গায়ে।
কামিনীর গন্ধ আজ
শুধু ফুলের নয়—
এ যেন গন্ধবিলাপ,
অপেক্ষার স্যাঁতসেঁতে শরীর,
যেখানে স্পর্শ মানেই অনুপস্থিতির দহন জ্বালা।
পাখির ডানা ঝাপটায়
ভেজা পাতার আদর মাখে,
ছিন্ন আকাশের ভেতর—
তখন প্রবল বিবাদ,
কথা কাটাকাটির রেশ 
চড়াম চড়াম শব্দে,
তীব্রতার লড়াই বিদ্যুৎ শিখায়।
পাখিরা উড়ে যায় 
ফিরে না আসার ঘোষণা দিয়ে,
তবু তারা উড়ে,
আপনজন ছেড়ে 
এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায়।
বৃষ্টি শেখায়—
ভেসে যেতেই হয়,
ঠিক যেমন আবেগ ভেসে যায়
চোখের নোনা জলে,
গভীর হয় প্রেম 
নিঃস্বাস উষ্ণ হয়
চায়ের কাপের ধোঁয়ায়,
শহরের প্রতিটি ভাঙা ছাদে
অলিখিত গল্প লেখে 
ছাদহীন কপোত দম্পতি,
ভালোবাসার আশ্রয় খোঁজে—
অস্থায়ী, অথচ অনন্ত।
পিপুলগাছের ছেঁড়া পাতা
ঝরে পড়ে নিঃশব্দ বিপ্লবের মতো,
আর কাগজের নৌকা—
ভাসতে ভাসতে ডুবে যায়
বোহেমিয়ান কবিতার খাতায়।
ড্রেনের জলে ভেসে যায়,
অসমাপ্ত ফুটপাত শৈশব।
এই শহর আজ স্যুররিয়াল—
নিয়ন আলো, 
ভেজা অ্যাসফল্ট,
ডিজিটাল নিঃসঙ্গতা আর
অ্যালগরিদমিক ভালোবাসার ভিড়ে
মানুষ শুধু চায় 
হাত ধরে থাকতে —
একটু সত্যিকারের স্পর্শের জন্য।
এক দীর্ঘ অপেক্ষা 
বর্ষণমুখর সন্ধ্যার প্রতীক্ষায় 
তুমি আজও আসো,
এই ভিজে সন্ধ্যার ভিতর—
গোপন অনুরাগে।
আমাদের গল্পটা
কোনো উপন্যাস নয়,
একটা আধুনিক গজল—
যেখানে প্রতিটি লাইন ভাঙে,
তবু শেষ হয় না,
প্রতি চুপছাপে থেকে যায়
তোমার আমার 
বিনি সুতোর অস্তিত্ব।

 

সর্বানী দাস 

 

মায়ের নীরব দস্তাবেজ (গল্প) - সালাম মালিতা

সকাল থেকেই আকাশের মুখটা ভারি করে আছে, মনে হচ্ছে অনেক ক্ষোভ জমে গেছে এবং যেকোনো মূহুর্তে ক্রোধের বিস্ফোরণ হতে পারে। খড়ের চালে গুঁজে রাখা টিয়াপাখির খাঁচাটি বাতাসের অবগাহনে নৃত্যশিল্পীর ন্যায় দুলছে মাঝে মাঝে। ঈশান কোণে জমা মেঘেরা আরও কৃষ্ণ বর্ণ ধারণ করে ঘনীভূত হতে থাকল৷ ছোট্ট টুনটুনি শাবক নিয়ে মা টুনটুনির বাসা ঠিক করার অর্থ বুঝি খুব শীঘ্রই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগত। দলেদলে ধুলো উড়িয়ে বলদের দল চোখে একরাশ ভীতি নিয়ে গোয়ালে ফিরছে। কলের পঁচা গর্তে বসবাসকারী কুনোব্যাঙেরা বৃষ্টির আবেদনে ধর্মঘট ডেকেছে। তাই অজ পাড়া গাঁয়ের প্রতিটি বাড়িতেই নিজের তল্পিতল্পা গুছিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান চলছে। 

হঠাৎ দমকা হাওয়া উঠল.....

গায়ের একদম শেষ প্রান্তে যেখানে নদীটা বাঁক নিয়েছে, ওখানেই থাকে প্রস্ফুটিত তুলোর মত শুভ্র চুল আর স্পষ্ট বলিরেখা যুক্ত অচল বৃদ্ধা সোহাগি দেবী। বয়স আশির ঘরে পা দিয়েছে। এগারো ভাইয়ের একমাত্র বোন হওয়ায় বড্ড আদর করে নামটা রাখে। কিন্তু ভাগ্যের কুদৃষ্টিতে জন্মের বছর চারেক পর বড় লরির ধাক্কায় বাবা-মায়ের অপমৃত্যু হয়। জীবনের সকল সোহাগ মুছে কাগজ কুড়ুনির জীবন শুরু হয়। লেখাপড়া বলতে ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার। ভাইদের বোঝা সোহাগির জন্য চিন্তার ভাঁজ মুছতে এগারো বছরেই ভ্যানচালক কাজলের সাথে বিয়ে হয়। পণ বাবদ একটা নতুন ভ্যান উপহার নিয়ে তবেই সোহাগিকে ঘরে তোলে। আর্থিক টানাপোড়েনের সংসারে গৃহকর্মের পাশাপাশি সোহাগিকে কচু শাঁক, ঢেঁকিশাক, হেলেঞ্চা শাক প্রভৃতি বিক্রি করে বাজার সদাই করতে হত। বড় বাজারে যাওয়ার পথটি আজও মেঠোপথ হওয়ায় বর্ষা ঋতুতে ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকে, তাই এই সময়ে সোহাগিকে এক হাতেই সংসার চালাতে হয়। তাছাড়াও স্বামীর দেশি মদের দাবি পূরণেও কিছু অর্থ ব্যয় হয়।

সে জনার অশেষ কৃপায় দশ বছরের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়েটা সবার ছোট ছিল। দু'বছর আগে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। ছেলে দুটোকে মানুষ করতে সোহাগি দেবীকে মাঠের কাজও করতে হয় ; এই যেমন, ধান রোপন করা, ধান কাটা, তুলো তোলা, লঙ্কা তোলা, গম কাটা, রজনীগন্ধা ফুল তোলা প্রভৃতি। প্যারালাইসিস হওয়ার দরুন আজকাল স্বামী কাজলের আর ভান টানার সামর্থ্য নেই, তাই দুই ছেলের লেখাপড়া আর সংসার চালানো পুরোটাই সোহাগির ঘাড়ে। পড়াশোনায় বেশ মেধাবী হওয়ায় দুই ছেলে সরকারি বৃত্তি পায়। এক বছরে ছোট-বড় হওয়ায় পড়াশোনার খরচ বেশ অনেকটাই। 

উচ্চমাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়ে ছেলে দুটো এখন শহরের কলেজে পড়ে। হাতখরচ বার করতে একজন টিউশনি করে আর একজন রেস্তোরাঁয় কাজ করে। একদিন সকালে মালিকের রজনীগন্ধা ফুল সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফিরে সোহাগি দেখল পিপড়েরা দলবেঁধে তাদের ঘরের মাচার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং কিছু মাছি উল্লাসের সুরে কাজলের শরীরের উপর নৃত্য করছে। অশ্রুসিক্ত নয়নে সোহাগি ছুটে গেল গাঁয়ের একমাত্র বদ্যি অলক রায়ের বাড়ি। তড়িঘড়ি তাকে ডেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেও কোনো লাভ হলো না, তিনি বললেন গতরাতে তিনি মারা গেছেন। সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং সামনে চাকরি পরীক্ষা থাকায় চিঠি লিখে ছেলেদের কাছে এই দুঃসংবাদ দিল না। গ্রামের কিছু প্রতিবেশীদের নিয়ে কাজলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করল।

সোহাগি দেবীর একমাত্র সম্বল তথা বেঁচে থাকার অবলম্বন ছেলে দুটো। চাকরির পরীক্ষা ভালো হল এবং একজন ছেলে হাইস্কুলের মাস্টার আর একজন বি.ডি.ও অফিসে চাকরি পেল। বেশ মোটা অঙ্কের বেতন পায় ছেলেরা, কাজের সুবাদে গাঁয়ের মাতব্বর শমিক মুখার্জি শহুরে গেলে নাকি ছেলেদের সাথে দেখা হয়। বড় খোকা আবার গোপনে বিয়েও করে নিয়েছে আর তার বৌ বিদ্যুৎহীন গ্রামে থাকতে চায় না, ছোট খোকার অফিসের এখন অনেক চাপ, তাই তাদের আর আসার সময় হয় না। শেষবার দুই ছেলে যখন কোচিং এ ভর্তির জন্য টাকা নিতে এসেছিল তখনই সোহাগি দেবীর একটি পা প্রায় অচল, সঞ্চয় ভাণ্ডার ভেঙে দুই ছেলেকে দেওয়ার পর একদম নিঃস্ব হয়ে যায়। আস্তে আস্তে দ্বিতীয় পায়ের ব্যামো বেড়ে যায় এবং সেও চলতে অক্ষম জানিয়ে দেয়। অচল হলেও ভিক্ষাবৃত্তিরও কোনো সুযোগ নেই, পাড়াগাঁয়ের বেশিরভাগ লোকেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তাই কে কে ভিক্ষা দেবে! শহরের স্টেশনের পাশে একটা লঙ্গরখানা আছে, আর ওনাকে দুস্থদের খেতে দেওয়া হয় কিন্তু যাওয়ার সামর্থ্য কোথায়?

গত চার বছর আগে, যেবার আকাশ একেবারে নির্জলা ছিল, আর মাঠ একদম ফসলশূন্য, সেবার দুই ছেলে আর বড় বৌমা এসেছিল গাঁয়ে। তাদের হাজার ব্যস্ততার কথা বলে কিছু টাকা দিয়ে চলে যায়। সোহাগিকে ভালো থাকতে বলে, আর তাদের এভাবে আসার সময় হবে না এটা স্পষ্ট জানায়। নিজের নাড়িছেঁড়া সন্তান দূরে রেখে নিঃস্ব হয়ে স্মৃতির গারদে বন্দী থেকে কিভাবে ভালো থাকবে সোহাগি। তবু সন্তানের মঙ্গল চেয়ে আজ শুধু যমদূতের পথ চেয়ে বসে থাকে।

সেদিন সন্ধ্যায় আবার ভীষণ আকাশ ডাকতে শুরু করল, কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়ায় চারিদিকে অন্ধকারে গিলে নিল৷ ভাঙা জানলায় দমকা বাতাস এসে জানান দিল, জোর বৃষ্টি আসছে। ছিদ্র খড়ের ঘরে জলবিন্দুর নিঃসরণ বুঝি, বিদায়ের বার্তা। উল্টোপাল্টা হাওয়া এসে মাচার নিচে জ্বালানো মোমবাতিটা নিভিয়ে দিল। স্মৃতির ভয়াল আর্তনাদে সোহাগির গলাটা শুকিয়ে এল। বিকট শব্দে পাড়াময় গভীর আতঙ্ক তৈরি হল৷ ঘরের পিছনে ছিল শতবর্ষী পুরানো এক শেওড়া গাছ। দুটো বজ্র ধেয়ে আসল গাছের উপর এবং নিজের তেজ দেখিয়ে পুরো গাছটিকে কবজা করে নিল, মুহুর্তে ঝলসে গেল গাছটি এবং নিজের অন্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। 

বৃষ্টি থেমে গেলে পাড়ার মধ্যে হৈ-চৈ পড়ে গেল। বৃদ্ধার বাড়িতে এক ছিন্নভিন্ন গাছের শোকের আবহে নিস্তব্ধতা বিরাজ করল!



সালাম মালিতা 






সুখের হাওয়া! (কবিতা) - রকিবুল ইসলাম

সুখের হাওয়া বহিছে আজি মোর গৃহের দক্ষিনা দ্বার দিয়া।
উত্তর মেরুর শীতল পবনে বিলিন হইয়াছিল যাহা।
কষ্ট-ক্লেশ যত করিয়াছি পার,সহিয়াছি যাতনা যত!
সুখ আসিল মোর আঙ্গিনায় ভুলিয়াছি দুঃখ আজি তাই তত।
তুমি আছ মম আত্মজ হইয়া আত্মার অতি সন্নিকটে,
ব্যথা যত ছিল মোর বক্ষ গহ্বরে,
কবর দিয়াছি তাহা হৃদয়ের তলদেশে।
বসন্ত পবন বহিছে আজি মোর গৃহের প্রতিটি কোণায়,
হাসির ফোঁয়ারা ছুটিছে তাই উঠানের সব ধূলিকণায়।
আমি আজ আর আমাতে নাহি,হারাইয়াছি তব মাঝে।
তুমি আমি মিলিয়া হইয়াছি এক অন্তঃপ্রাণ,
অতীব হরষে উদ্বেল হইয়া আজি হারাইয়াছি মোর মানস গভীরে।
ব্যথিত বেদন আজি শুনিব না ভাই,করিব আলোর খেলা।
রঙের মেলার রঙ্গীন আভাতে,উদ্ভাসিত হইবে যাহা।
নাচিবে ময়ূর পেখম মেলিয়া আঙ্গিনার এক কোণে,
দর্শিয়া সে নাচন নাচিব আমি আপ্লুত হইয়া আবেগে।
রবি হাসিছে,চাঁদ হাসিছে হাসিছে সন্ধ্যাতারা,
সেই হাসিতে হাসিছে আজি গগনের নীল চাঁদোয়া।
ভ্রমর আজি গুণগুণিয়া গাহিছে সুখের গান,
তাহারই সহিত গাহিছে ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও হইয়া গীতি শতদল।
কাঁটিল ভ্রম,ভগ্ন হইল স্বপন
ললাটে মোর কাহারো পরশ পাইয়া,
পালাইল সকল সুখের হাওয়া
দুঃখের আঁচড় দিয়া।
ডুবিল সকল হর্ষ-আমোদ
আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন যত আশাহত, 
ভগ্ন-মনোরথ মোরে করিয়া।


রকিবুল ইসলাম

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

হায় রে নারী... (কবিতা) - সুবর্ণা দাশ

 
সুবর্ণা দাশ





তুমি নারী, 
প্রকৃতির মতো শান্ত। 
নির্লিপ্ত, প্রাণবন্ত, চঞ্চল, 
প্রবাহমান নদীর মতো স্রোতস্বিনী। 
তোমাতে বপন হয় এই পৃথিবী, 
তোমার ছোট্ট জঠরে ধারণ করো মানুষ। 
তুমি মা, জায়া, প্রেমিকা, ভগ্নী, 
তোমাতে প্রেরণার উৎস হে নারী। 
ধরণীর মতো সহ্য ক্ষমতা তোমার, 
অন্যায় অবিচারও হয় তোমার প্রতি, 
অথচ নারী তুমি না হলে, 
জন্ম হতো না, 
তুমি আমি সে কারো, কেউ না! 
তবুও তোমাকে বলতে হয়, 
সমান অধিকার চাই! 
কেন চাইতে হবে এই অধিকার? 
তাহলে কি মান-হুশ এর জন্ম দিতে পারোনি? 
হে দুর্ভাগা নারী! 
পথে ঘাটে চলতে ফিরতে 
কেন চাইতে হয় নিরাপত্তা! 
কেন এখনো কপালে পড়ে চিন্তার বলিরেখা? 
রাত হয়েছে, কি করে বাড়ি ফিরবে এই নারী? 
কোথায় স্বার্থকতা নারী জন্মের? 
সমাজের লোলুপ চক্ষে দলিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত নারী। 
নারীর রোদনে সিক্ত হয় না এই সমাজের কিছু মানুষের হৃদপিণ্ড! 
কেন কাঁপে এখনো নারীর দুরুদুরু বুক! 
ট্রেনে বাসে যাত্রা পথে! 
নির্যাতিতা নারীর জন্য কাঁদে এখনো মা-বাবা! 
এখনো ঘটে হাড় হিম করা ঘটনা! 
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয় পৃথিবী! 
এই কী নারীর ভাগ্য! 
নিরুত্তর ধরণী!
নারী! হায় রে নারী! 
তোমাদের নারী!

একা - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা  দুঃখে ভরা সাগর পারে একা বসে আছি, মাথার উপর ভনভনাচ্ছে  চিন্তামনির মাছি। যাব আমি পরপারে  পিপীলিকা ডাকে, লহর ঊর্মি পিছু টানে  ছে...

জনপ্রিয় পোস্ট