সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার
- সর্বানী দাস 

লাশ হয়ে যাইনি এখনো মা'গো,
 আমি এখনো ছটফট করছি ব্যথায়-
ভাঙা হাড়ের টুকরোগুলো
 বিঁধছে মজ্জায়,
বিঁধছে শিরায়-উপশিরায়...

উপড়ে নেওয়া চোখের কোটর
 গলগল করে নামছে রক্ত-
লোহার রডে ফালাফালা হওয়া যোনি— 
ভীষণ যন্ত্রণা মা'গো -
পারছি না.. আর সহ্য করতেপারছি না..

আজ এই নরকের শেষ তখতো রক্তাক্ত...
বুকের ভেতরে বাতাস ফুরিয়ে আসছে..
জিভটা জড়িয়ে যাচ্ছে মা..
পশুগুলো ভীষণ জোরে কামড় দিচ্ছিল-
আমার ছটফটানি দেখে 
ওরা উল্লাস করেছে মা..

আমার গোঙানি শুনে ওরা হাসছিল, 
বলছিল— "উচ্ছন্নে যাক মেয়েমানুষ!
এরা করবে দেশের সেবা দশের সেবা...
"আজ ওদের ঘরেও তো বোন আছে , 
তবে কেন..
কেন ওরা এত  জানোয়ার ?

ধিক্কার দিই এই নপুংসক সমাজকে...
 ঘৃণা করি এই কাগজের চাটুকারিতাকে..
যে দেশে মেয়েরা বাঁচে কুকুরের মতো, 
আর মরে অসুরের হাতে 
 বিচার আটকা পড়ে ফাইলে-বিয়ানে!
সেই দেশে নারীর যোনি চেরা আর্তনাদ শোনা যায় কি?

আইন নাকি অন্ধ? 
ওরে শোন! 
আইন অন্ধ নয়, 
আইন আসলে পঙ্গু আর ভীরু,
যেখানে ধর্ষক বুক ফুলিয়ে ঘোরে, 
আর মরে যায় আমার মতো সব জেনে ফেলা মেয়েরা বা -
কোনো ছোট্ট আট বছরের বাচ্চা...

কোনো মায়ের কোল খালি করার আগে, 
এবার হাত কাঁপবে তোদের- শকুনের দল!
তোদের বীরত্ব শুধু নারীর দেহে?
 তোদের পুরুষত্বে বিষাক্ত গরল?
 আজ মরার আগে 
এই ফালাফালা যোনি থেকে এক অভিশাপ ছুঁড়ে দিয়ে গেলাম—
তোদের যেন চরম শাস্তি হয় -
তোদের জীবনে যেন নামে চিরকালের নিকষ অন্ধকার -
যদি সমাজ পাল্টাতে চাও,
 তবে মোমবাতির নাটক এবার বন্ধ করো,
আদালতের নেতার আড়ালে ন্যায়ের ভিক্ষা নয়, 
ধর্ষকের গলা টিপে ধরো!
ফাঁসি দিয়ে হবে না রেহাই, 
তবু বিশ্বাস আজ জন্মেছে মা -
 সংবিধানের আবার সঠিক ব্যবহার হবে -
আমার শেষ স্বপ্ন অধরাই রইলো 
মা'গো... 

ওই তো! ওই তো তোমার হাত...
 তোমার আঁচলের গন্ধ পাচ্ছি বাতাসে,
আর কয়েকটা সেকেন্ড মাত্র...
 তারপর আমি হারিয়ে যাবো 
ওই দূর আকাশে।
আমি চলে যাচ্ছি মা, 
কিন্তু এই বন্ধ চোখে 
আমি এক নতুন আগুন জ্বেলে গেলাম,
এই নড়বড়ে নরক সমাজকে এক নারীর আর্তনাদ শোনালাম !
আমি মরছি না মা! 
আমি প্রতিটা ঘাতকের রাতের ঘুম কাড়তে আসবো,
সমাজের ওই অন্ধ আইনের মুখে নরকের রক্তমাখা হাতে।

নীরবতার সৌন্দর্য (একটি মননশীল নিবন্ধ) - জয়দীপ বসু

জয়দীপ বসু

নীরবতার সৌন্দর্য (একটি মননশীল নিবন্ধ)
- জয়দীপ বসু

আমাদের এই স্বপ্ন সুধাময়  স্বর্ণদ্যুতি সুবলিত পৃথিবীতে যারা সাফল্যের সুউচ্চ চূড়ায় আরোহণ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নীরবে, নিভৃতে কাজ করেছেন।তাদের এই নিঃশব্দ সাধনাই  তাদের কাজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। জীবনের অমৃতরসে অভিসিঞ্চিত করে। সাফল্যের জন্য সর্বাগ্ৰে প্রয়োজন মনঃ সংযোগ, একাগ্ৰ সাধনা, নীরবতা ও সঠিক কর্ম পরিকল্পনা। আগেই ঢাক ঢোল পিটিয়ে, লোকজনকে জানিয়ে অধিকাংশ কাজেই চূড়ান্ত সফল হওয়া যায় না। কিছু দূর এগিয়ে থেমে যেতে হয়।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে দেখেছি যারা জীবনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছেন তাঁরা নীরবে সাধনা করে একের পর এক কঠিন ধাপ অতিক্রম করে গিয়েছেন। তারপর সাফল্যের সুউচ্চ শৃঙ্গ স্পর্শ করেছেন। আর যারা সামান্য পথ অতিক্রম করেই তা নিয়ে ঢাকঢোল পেটাতে থাকেন তাদের চূড়ান্ত সাফল্য অধরাই থেকে যায়। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই সাফল্যের অভিমন্ত্র হলো সঠিক পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে নীরবতা। নীরবতাই সৌন্দর্য।
জীবনে সাফল্য লাভের সব ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।

সভ্যতার ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করলে দেখি শ্রেষ্ঠ  সঙ্গীত সাধকরা নীরবে, নিভৃতে সুরের সাধনা করে গিয়েছেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জেগে সাধনা করেই তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। বড় খেলোয়াড়রা নীরবে নিরলসভাবে অনুশীলন করে যান। একইভাবে বড় শিল্পী কিন্তু নিভৃতে কঠিন শিল্প সাধনায় ডুবে যান। বড় চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ, স্থাপত্য বিশারদ, কবি, লেখক সকলেই কিন্তু নীরবে সুকঠিন সাধনায় নিজেকে নিমজ্জিত রাখেন। আসলে ফুল নীরবে ফোটে, তার ঐশ্বর্য, সৌরভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এবার আসি প্রকৃতির জগতে। সুপ্রাচীন কাল থেকে হিমালয় পর্বত নীরবে ভারতকে রক্ষা করে চলেছে। তাই ভারতকে হিমালয়ের দান বলা হয়। তার অপার্থিব সৌন্দর্যের ইন্দ্রজাল মানুষকে মোহসিক্ত করে চলেছে। অনেক নদীই খুব ধীর ছন্দে বয়ে চলে। কিন্তু তাদের অপার ঐশ্বর্য। আর শ্যাম বনানী তো একেবারেই নীরবে সৌন্দর্য সুধা পান করায়।
তাদের রূপের অনাবিল মায়াদ্যুতি, সবুজ রাগ মূর্ছনা মানুষকে  অপরূপতার অবগাহন করায়। চিন্তা চেতনায় অস্ফুট মায়াবী চিত্রধ্বনি তৈরি করে।

আমরা দেখেছি সৃষ্টির সেই অনাদি লগ্ন থেকে আধ্যাত্মিক জগতে যারা সিদ্ধিলাভ করেছেন তাঁরা কি কঠিন সাধনা নীরবে করে গিয়েছেন। তবেই তাঁরা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী / অধিকারিণী হয়েছেন। এই অলৌকিক ক্ষমতা জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নীরব সাধনাই অলৌকিক ক্ষমতার জন্ম দেয়। তার সাফল্যের মধু কিরণ সকল হৃদয়কে প্লাবিত করে যায়।

অতএব জীবনে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে গেলে নীরবে সাধনা করে যেতে হবে। যার সাধনা যত বেশি তার সিদ্ধিলাভ তত বেশি।

রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

প্রবন্ধ : একটি গাছ একটি প্রাণ - সর্বানী দাস


 প্রবন্ধ :
 একটি গাছ একটি প্রাণ 

- সর্বানী দাস 


"পৃথিবী আমরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাইনি; 
আমরা এটি আমাদের সন্তানদের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।”
- নেটিভ আমেরিকান প্রবাদ

ভূমিকা 🌴

একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী অভূতপূর্ব পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি। যে প্রকৃতি একদিন মানুষকে দিয়েছিল নির্মল বাতাস, শীতল ছায়া, উর্বর মাটি ও জীবনের অফুরন্ত সম্ভার, আজ সেই প্রকৃতিই মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডে বিপন্ন। বনভূমি উজাড় হচ্ছে, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বায়ু দূষিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক উন্নয়নের নামে আমরা প্রকৃতির বুক থেকে সবুজ কেড়ে নিচ্ছি, অথচ ভুলে যাচ্ছি—প্রকৃতি ধ্বংস মানেই মানবসভ্যতার ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া।

এই বাস্তবতায় বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।


সবুজ হারানোর করুণ বাস্তবতা 🌴

একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট, মাঠ, বনভূমি এবং নদীতীর সবুজে আচ্ছাদিত ছিল। শাল, তমাল, বট, অশ্বত্থ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় মানুষ যেমন আশ্রয় পেত, তেমনি অসংখ্য পাখি ও প্রাণী খুঁজে পেত নিরাপদ আবাস। কিন্তু আজ নগরায়নের বিস্তার, অবাধ বৃক্ষচ্ছেদন এবং শিল্পায়নের ফলে সেই সবুজ পৃথিবী দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

ইট-পাথরের অট্টালিকা বাড়ছে, কিন্তু কমছে বৃক্ষের সংখ্যা। ফলে শহরগুলো ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মানুষের তৈরি কংক্রিটের জঙ্গল প্রকৃতির স্বাভাবিক শীতলতাকে গ্রাস করছে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশেই নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও পড়ছে।


গ্রিনহাউস গ্যাস ও উষ্ণায়নের বিপদসংকেত 🌴

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। শিল্পকারখানা, যানবাহন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এই গ্যাসগুলো সূর্যের তাপকে পৃথিবীর চারপাশে আটকে রাখে এবং ধীরে ধীরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

ফলস্বরূপ মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা এবং দাবানলের মতো দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে এক অজানা বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।


আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও বাস্তবতার ফারাক 🌴

পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রিও সম্মেলন, কিয়োটো প্রোটোকল এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পরিবেশ দূষণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় অনেক দেশ এখনও পরিবেশগত অঙ্গীকার যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো অনেক সময় কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এই পরিস্থিতিতে কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন 🌴

বৃক্ষ কেবল অক্সিজেনের উৎস নয়; কৃষি ও জীববৈচিত্র্যেরও প্রধান সহায়ক। বনভূমি বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং ভূগর্ভস্থ জলের ভারসাম্য বজায় রাখে। যখন বনভূমি ধ্বংস হয়, তখন প্রকৃতির এই স্বাভাবিক চক্রও ব্যাহত হয়।

ফলে কৃষক খরার কবলে পড়েন, ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি অসংখ্য পাখি, প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের আবাসস্থল হারায়। জীববৈচিত্র্যের এই ক্ষয় ভবিষ্যতের পৃথিবীকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।


দাবানল ও মরুকরণের আশঙ্কা 🌴

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। লক্ষ লক্ষ গাছপালা এবং প্রাণীর জীবন বিনষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে বহু উর্বর অঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে, জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।


বৃক্ষরোপণ : আশার সবুজ দিশা 🌴

পরিবেশ সংকটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ প্রতিরোধ হলো বৃক্ষরোপণ। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না; এটি বাতাসকে বিশুদ্ধ করে, কার্বন শোষণ করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং পরিবেশকে পুনরুজ্জীবিত করে।

বিদ্যালয়, কলেজ, গ্রাম, শহর, রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির আঙিনায়—যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই বৃক্ষরোপণ করা উচিত। পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একটি চারাগাছকে বড় করে তোলার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে রক্ষা করার সম্ভাবনা।


উপসংহার 🌴

আজ পৃথিবী আমাদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছে—আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাব, নাকি সবুজের পথে ফিরে আসব? উত্তরটি আমাদের হাতেই। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্মকে একটি উষ্ণ, দূষিত ও বিপর্যস্ত পৃথিবী উপহার দিতে হবে। কিন্তু যদি আমরা বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারি, তবে এখনও সময় আছে পরিস্থিতি বদলানোর।

তাই আসুন, অঙ্গীকার করি—একটি গাছ কাটা হলে অন্তত কয়েকটি গাছ লাগাব। প্রকৃতিকে ভালোবাসব, বনভূমি রক্ষা করব এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করব। কারণ একটি চারাগাছের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের নির্মল বাতাস, শান্ত ছায়া এবং মানবসভ্যতার নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

🌴----------------------------------------------🌴

- সর্বানী দাস 


নীরব দর্শক - ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

নীরব দর্শক 
- ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

তোমার নিঃশব্দ আঘাতে
শুধু কষ্ট পেয়েছি তাই নয় ,
হৃদয়ে রক্ত  ঝরেছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ,
নির্বাক মৌন করেছে মোরে ,
তাই তো নিঃসঙ্গ একাকী হয়ে
চুপচাপ থাকা ।

বাইরে কত হই হুল্লোড়  ,
কত আনন্দ  ,
তবু মানুষগুলো ভিতরে ভিতরে
কত নিঃসঙ্গ কত একা ,
ঠিক যেন আমার মতো  !

এই রকম তো হবার কথা ছিল না ,
আমার জীবন টা আমাদের জীবন টা
পাল্টে যেতে তো পারতো ,
পারতো পাল তোলা নৌকার মতো
নিস্তরঙ্গ  নদীতে বয়ে যেতে ,
শীতল সমীরণে হৃদয় মন তো
শান্ত হতে পারতো  !

কিন্তু তা তো হোল না ,
নদীর দুই পাড়ে দুই জন ,
ওপারের ঝড় এপাড়ে আলোড়ন তোলে ,
এপাড়ের ঢেউ ধীর গতিতে
ওপারে ধাক্কা মারে  হয়তো ,
নিঃসঙ্গ একাকী চুপচাপ থেকে
দুই জনের দুই পাড়ে থাকা
নীরব দর্শক হয়ে  ।

কালো দুধের দেশ - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

কালো দুধের দেশ 
- সালাম মালিতা 

কেমন একটা উল্টো রাজার দেশে
উল্টো দিকে মুখ করে হেঁটে চলেছি,
না না-নাক,কান, মুখ সবই আছে 
কিন্তু সবগুলোই উল্টো। 
আর বিবেকের কথা বলছেন 
সে-তো বহু আগেই মারা গিয়েছে-
এতদিনে সেটা ফসিল। 

দামি দামি শার্ট-প্যান্ট, কোট পরি
সাথে লম্বা টাই ঝোলায়,
তবে সবকিছুই উল্টো থাকে..!
দিনে নিয়ম করে তিনবেলা খায়
শুধু পার্থক্য হল-
খাবারের পরিবর্তে-গরীবের হক,
রাতে যথারীতি ঘুমায় 
কারো না কারো চোখের ঘুম কেড়ে। 

ডিগ্রির কোনো অভাব নেই 
শুধু নেতানো বিবেক,
লেবাসধারী ধার্মিক আমরা
মানুষকে কষ্ট দিয়ে-
উল্টো পথে আয় করি।
তৃষ্ণা পেলে তরল পান করি
তবে জলের পরিবর্তে-
শোষনের কালো দুধ,
লেখালেখির বেশ শখ আছে
সাধুর বেশ ধরে তোয়াজ করে-
দোষীর গায়ে হাত বুলিয়ে চলি।

আমাদের দেশে চাঁদ, তারা, সূর্য 
ফুল-ফল, পাখি,নদী-সবই আছে
শুধু আকাশটা কালো মেঘে ঢাকা, 
চারদিকে ধোঁয়াশা, কুয়াশা 
আর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। 
এখানে আইন-কানুন, পুলিশ-কোর্ট
সবই আছে....
সবকিছুই আছে, 
তবে সবার চোখে কালো পটি-
আর আইন নিজেই লালসায় কারাবন্দি!

বিপ্লবী কথা - রত্না রায়


 বিপ্লবী কথা
 - রত্না রায় 

বিপ্লবী গণ প্রাণ দিয়েছে দেশকে স্বাধীন করতে।
ব্রিটিশ দল ফাঁসি দিলো শাসন শোষণ চালাতে।
ক্ষুদিরাম বসু,সূর্যসেন ( মাস্টার দা), 
কানাই লাল দত্ত,তারকেশ্বর দস্তিদার ... 
ফাঁসির যন্ত্রণা সইলো,
ইংরেজদের বিচার এড়াতে প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করলো।

স্বাধীনতা যাঁরা ছিনিয়ে এনেছে, তাঁরা আছে , থাকবে অন্তরে,
ভারত মাতার সন্তান ত্যাগের শোক, ব্যথা আজও ওড়ে প্রান্তরে।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর বিপ্লবী সংগ্রাম দেখেছে বিশ্ব নিখিল,
রণবীর শৌর্য,ইতিহাসে অলংকৃত  করেছে অখিল।
ভগৎ সিং,উধাম সিং আরও বহু শ্রদ্ধেয় প্রাণ ,
জীবন করেছে উৎসর্গ ,চায়নি দেশের অপমান।

বিপ্লবীদের বিপ্লবে পেয়েছি মোরা স্বাধীনতার জয়,
ভুলিনি সে নিঠুর কথা,,
পাঠ্য বইতে হোক উদয়।
উল্লাস কর দত্তের সাহসী কর্ম যজ্ঞ ভীত করেছে ব্রিটিশ দলকে,
কাবু করতে অপারগ ব্রিটিশ  পাগল বানিয়ে মেরেছে পলকে।

বিপ্লবীদের বিপ্লব কান্তি দিয়েছে স্বাধীকার,
পাঠ্য বইতে শোভিত হোক বিপ্লবী যোদ্ধাদের কীর্তি ,অগ্রাধিকার।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাতঙ্গিনী হাজরা আরও আছে বহু শ্রদ্ধেয়া গুণী,
ইতিহাসের পাতায় ভরা জীবন যন্ত্রণা পড়েছি, হৃদয়ে রেখেছি বুনি।

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস  সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার - সর্বানী দাস  লাশ হয়ে যাইনি এখনো মা'গো,  আমি এখনো ছটফট করছি ব্যথায়- ভাঙা হাড়ের টুকরোগুলো  বিঁধছে ...

জনপ্রিয় পোস্ট