বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

দায়িত্ব ও কর্তব্য

 
----------------------------------------------------------

ই-বুক কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য

সভাপতি  
আকাশ আহমেদ
  • ই-বুক কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা প্রদান। 
  • সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ। 
  • গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। 
  • কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করা। 
  • ই-বুক প্রকাশের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান।


সাধারণ সম্পাদক
উজ্জ্বল কান্তি দাশ
  • কমিটির সকল কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনা করা।
  • সভা আহ্বান, কার্যবিবরণী সংরক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তদারকি করা।
  • বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা।
  • সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা।


সাহিত্য সম্পাদক
সমর্পিতা দে রাহা
  • লেখক নির্বাচন ও লেখা সংগ্রহের তদারকি করা।
  • জমাকৃত লেখা যাচাই, সম্পাদনা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
  • সাহিত্যিক মান বজায় রেখে ই-বুকের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা।
  • লেখকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা।


প্রচার সম্পাদক
সন্দীপ সাঁতরা
  • ই-বুকের প্রচার ও প্রসারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারণা পরিচালনা করা।
  • প্রকাশনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, পোস্টার ও প্রচারমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করা।
  • নতুন পাঠক ও লেখক সংযুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।



অর্থ সম্পাদক
সুবর্ণা দাশ

  • ই-বুক প্রকাশনা সংক্রান্ত আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ করা।
  • প্রয়োজনীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত ও উপস্থাপন করা।
  • অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নে সহযোগিতা করা।
  • আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।


সদস্য
জয়দীপ বসু

  • কমিটির সকল কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করা।
  • বিভিন্ন সাংগঠনিক ও সম্পাদকীয় কাজে অংশগ্রহণ করা।
  • প্রয়োজনে বিশেষ দায়িত্ব পালন করা।
  • ই-বুক প্রকাশনার উন্নয়নে গঠনমূলক মতামত প্রদান করা।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রয়োজনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনক্রমে কমিটির সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে।



ধারাবাহিক গল্প: রহস্যময় গল্প - লেখক : তামিম আদনান, পর্ব – ২ ( অন্ধকারের ভেতরের মানুষগুলো )

 




গল্পধারা বুধবার 🔰

বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ ই-বুক বিভাগ কতৃক প্রকাশিত - 
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক গল্পের সংকলন 

সম্পাদক - আকাশ আহমেদ

প্রকাশঃ ০৩ জু ২০২৬ (বুধবার)

প্রচ্ছদ ডিজাইনঃ সর্বানী দাশ



------------------------------------------------------------------------------------


 
ধারাবাহিক গল্প: 

রহস্যময় গল্প

লেখক : তামিম আদনান

পর্ব – 
অন্ধকারের ভেতরের মানুষগুলো )



কালো দরজাটা ধীরে ধীরে খুলছিল।

ক্যাঁচ… ক্যাঁচ…
শব্দটা যেন পুরো জমিদারবাড়ির দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছিল। আরিব অনুভব করল, তার বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে গেছে। সামনে যে অন্ধকার দাঁড়িয়ে আছে, সেটা সাধারণ কোনো অন্ধকার নয়। যেন বহু শতাব্দীর জমে থাকা ভয় সেখানে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।

দরজার ওপাশে অসংখ্য চোখ জ্বলছে।
লাল… নীল… ধূসর…
মানুষের চোখের মতো, অথচ মানুষের নয়।
বৃদ্ধ দারোয়ান কাঁপা গলায় বলল—

“পিছিয়ে যাও… ওদের দিকে তাকিয়ো না!”

কিন্তু আরিব তাকিয়েই রইল।
হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা হাত বের হয়ে এলো।
হাতটা মানুষের, কিন্তু অস্বাভাবিক লম্বা। চামড়া পচে কালো হয়ে গেছে। আঙুলগুলো সরু আর ধারালো।

আরিব পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু তার পা যেন জমে গেছে।
তারপর সে শুনতে পেল—

— “আরিব…”

অন্ধকার তাকে নাম ধরে ডাকছে।
তার শরীরের রক্ত যেন বরফ হয়ে গেল।

— “কে?”

দরজার ওপাশ থেকে আবার কণ্ঠ ভেসে এলো—

— “তুমি ফিরে এসেছ…”

কণ্ঠটা এবার পরিষ্কার। আরিব নিশ্চিত—সে এই কণ্ঠ আগে কোথাও শুনেছে।
হঠাৎ তার মাথার ভেতর ঝড়ের মতো কিছু স্মৃতি ভেসে উঠল।

একটা ছোট্ট ছেলে…
বৃষ্টিভেজা রাত…
কারো চিৎকার…
আর সেই কালো দরজা।

সে দু’হাতে মাথা চেপে ধরল।

— “না… না… এটা অসম্ভব…”

বৃদ্ধ দারোয়ান আতঙ্কে বলল—

— “ওরা তোমার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে! চোখ বন্ধ করো!”

ঠিক তখনই কালো ধোঁয়ার মতো কিছু দরজার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে পুরো করিডোর ঢেকে ফেলল।

বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
দেয়ালের ছবিগুলো কাঁপতে লাগল।
আরিব দেখতে পেল—ছবির ভেতরের মানুষগুলো নড়ছে।
তারা ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকাচ্ছে।
একজন নারী ছবির ভেতর থেকে ঠোঁট নাড়িয়ে বলল—

— “বাঁচাও…”

আরেকজন হঠাৎ ছবির কাঁচে জোরে আঘাত করল।
ধাম!
কাঁচ ভেঙে গেল।
রক্তমাখা একটা হাত ছবির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো।
আরিব আতঙ্কে পেছনে হোঁচট খেল।
বৃদ্ধ চিৎকার করে উঠল—

— “দৌড়াও!”

দু’জনে দৌড়ে করিডোর পার হতে লাগল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার—করিডোরটা যেন লম্বা হতে লাগল। যতই তারা দৌড়াচ্ছে, সিঁড়ি কাছে আসছে না।
পেছন থেকে অসংখ্য পায়ের শব্দ।

ধুপ… ধুপ… ধুপ…

মনে হচ্ছিল শত শত মানুষ একসঙ্গে হাঁটছে।
আর তাদের ফিসফিসানি—

— “ফিরে এসো…”
— “দরজাটা খুলে দাও…”
— “তুমি আমাদেরই একজন…”

হঠাৎ সবকিছু থেমে গেল।
আরিব বুঝতে পারল সে জমিদারবাড়িতে নেই।
সে দাঁড়িয়ে আছে এক অচেনা জায়গায়।
চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা।
মাটিতে পানি জমে আছে।
দূরে একটা পুরোনো রেললাইন।
আকাশে চাঁদ নেই।
শুধু অদ্ভুত লাল আলো।

— “আমি এখানে কীভাবে এলাম?”

তার পাশে বৃদ্ধ দারোয়ানও দাঁড়িয়ে।
বৃদ্ধের মুখ ফ্যাকাসে।

— “ওরা আমাদের ভেতরে টেনে এনেছে…”
— “কোথায়?”

বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বলল—

— “মধ্যরাত্রির স্তরে।”
— “মানে?”
— “দুই জগতের মাঝখানে একটা জায়গা। এখানে যারা আসে, তারা খুব কমই ফিরে যেতে পারে।”

ঠিক তখন দূরে একটা ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।
কিন্তু রেললাইনে কোনো ট্রেন নেই।
শুধু কুয়াশার ভেতর অদ্ভুত ছায়াগুলো হাঁটছে।
আরিব ভালো করে তাকিয়ে দেখল—

ওরা মানুষ।
কিন্তু সবার মুখ নেই।
শুধু কালো ফাঁকা জায়গা।
তারা ধীরে ধীরে হাঁটছে।
একই দিকে।

যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তাদের ডাকছে।
হঠাৎ একজন থেমে গেল।
ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে আরিবের দিকে তাকাল।
তার মুখের জায়গায় অন্ধকার।
কিন্তু সেই অন্ধকারের ভেতর দুটি চোখ জ্বলছে।
তারপর সে বলল—

— “তুমি দেরি করে ফেলেছ…”

হঠাৎ চারপাশ কেঁপে উঠল।
মাটির নিচ থেকে যেন কেউ ধাক্কা দিচ্ছে।
বৃদ্ধ আতঙ্কে বলল—

“ওরা জেগে উঠছে!”
— “কারা?”

বৃদ্ধ উত্তর দিল না।
ঠিক তখন কুয়াশার ভেতর থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে এলো।
বয়স কুড়ি-একুশ।
সাদা পোশাক।
চুল ভেজা।
তার চোখে ভয়।

— “আপনি এখানে কেন এসেছেন?”

আরিব অবাক হলো।

— “তুমি কে?”
— “আমার নাম মেহরিন।”
— “তুমি মানুষ?”

মেয়েটি তিক্ত হেসে বলল—

— “এই জায়গায় কেউ পুরোপুরি মানুষ না।”

বৃদ্ধ হঠাৎ পিছিয়ে গেল।

— “না… এটা হতে পারে না…”
— “আপনি ওকে চেনেন?”

বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে বলল—

— “এই মেয়েটা… বিশ বছর আগে মারা গেছে।”

আরিবের বুক ধক করে উঠল।
মেহরিন শান্ত গলায় বলল—

— “মৃতরা সবসময় মরে না।”

মেহরিন তাদের একটা ভাঙা স্টেশনের দিকে নিয়ে গেল।
স্টেশনের নামফলকে লেখা—

“মরিচাপুর মধ্যরাত্রি স্টেশন”

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো—এই নামে কোনো স্টেশন বাংলাদেশে নেই।
স্টেশনের ঘড়িতে সময় আটকে আছে—৩:০৩।
মেহরিন ধীরে বলল—

— “প্রতি রাত তিনটা তিন মিনিটে দরজাটা খোলে।”
— “কেন?”
— “কারণ সেই সময়টাই ছিল অভিশাপের শুরু।”

আরিব জিজ্ঞেস করল—

— “কী হয়েছিল সেদিন?”

মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—

— “জমিদার রাশেদ চৌধুরী অমর হতে চেয়েছিল।”

বাতাস হঠাৎ ঠাণ্ডা হয়ে গেল।

— “সে এক কালো সাধকের কাছে যায়। সেই সাধক তাকে বলে—একটা দরজা আছে, যেটা জীবিত আর মৃতদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। যদি দরজাটা খোলা যায়, তবে মৃত্যু আর তাকে ছুঁতে পারবে না।”

— “তারপর?”
— “এক রাতে তারা দরজা খুলেছিল।”

দূরে কোথাও শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে এলো।
মেহরিন থেমে গেল।
তার চোখ ভয়ে বড় হয়ে উঠেছে।

— “ওরা আসছে…”

ঠিক তখন কুয়াশার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে কিছু মানুষ বেরিয়ে এলো।

না… মানুষ না।

তাদের শরীর মানুষের মতো, কিন্তু মুখগুলো গলে গেছে। কারো চোখ নেই। কারো মুখ ছেঁড়া। কারো বুক ফাঁকা।

তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
বৃদ্ধ ফিসফিস করে বলল—

— “হারিয়ে যাওয়া মানুষ…”

একটা বিকৃত মুখওয়ালা লোক সামনে এসে দাঁড়াল।
তার গলা থেকে গরগর শব্দ বের হচ্ছে।
সে আরিবের দিকে তাকিয়ে বলল—

“তুমি দরজা খুলেছিলে…”
— “আমি?”
— “তুমি ভুলে গেছ…”

আরিব চিৎকার করে উঠল—

— “আমি কখনো এখানে আসিনি!”

হঠাৎ তার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো।
তার চোখের সামনে স্মৃতি ভেসে উঠল।
সে দেখল—

একটি ছোট ছেলে জমিদারবাড়ির করিডোরে দাঁড়িয়ে।
তার সামনে কালো দরজা।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে একজন নারী কাঁদছে।
আর সেই ছেলেটা…
সে নিজেই।
আরিব হাঁপাতে লাগল।

— “না… এটা মিথ্যে…”

মেহরিন তার হাত ধরল।

— “তোমাকে সত্যিটা মনে করতে হবে।”

হঠাৎ স্টেশনের ওপরে থাকা লাইটগুলো একসঙ্গে জ্বলে উঠল।
লাল আলো।

তারপর একটা ট্রেনের শব্দ শোনা গেল।
গর্জন করতে করতে কুয়াশা ভেদ করে একটা কালো ট্রেন এগিয়ে আসছে।
ট্রেনটার জানালায় অসংখ্য মুখ।
সবাই চিৎকার করছে।
কিন্তু কোনো শব্দ নেই।
শুধু নিঃশব্দ আতঙ্ক।
ট্রেনটা স্টেশনে থামতেই দরজাগুলো ধীরে ধীরে খুলল।
ভেতর থেকে ঠাণ্ডা বাতাস বেরিয়ে এলো।
মেহরিন আতঙ্কে বলল—

— “ওরা যাত্রী খুঁজছে!”
— “মানে?”
— “প্রতি রাতে ট্রেনটা নতুন আত্মা নিয়ে যায়।”

ঠিক তখন ট্রেনের ভেতর থেকে একটা লম্বা ছায়ামূর্তি বেরিয়ে এলো।
কালো কোট।
মাথায় টুপি।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
তার হাতে একটা পুরোনো ঘড়ি।

টিক… টিক… টিক…

সে ধীরে ধীরে বলল—

— “সময় শেষ…”

বৃদ্ধ দারোয়ান কাঁপতে লাগল।

— “টিকিট কালেক্টর…”

ছায়ামূর্তিটা আরিবের সামনে এসে দাঁড়াল।
তারপর পকেট থেকে একটা পুরোনো কাগজ বের করল।
সেখানে লেখা—

“আরিব চৌধুরী
যাত্রার সময় : ৩:০৩”

আরিব স্তব্ধ।

— “এটা কী?”

ছায়ামূর্তিটি ধীরে মাথা তুলল।
অন্ধকারের ভেতর থেকে দুটো আগুনের মতো চোখ জ্বলে উঠল।

— “তুমি অনেক বছর আগে মারা গেছ।”

চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
আরিব অনুভব করল, তার পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।

— “না… এটা অসম্ভব…”

ঠিক তখন তার পেছনে কেউ ফিসফিস করে বলল—

— “সত্যি সবসময় অসম্ভবের মতো শোনায়…”

সে ঘুরে দাঁড়াল।
দেখল—

তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন আরিব।
একই মুখ।
একই চোখ।
কিন্তু ঠোঁটে ভয়ংকর হাসি।


চলবে…

-----------------------------------------------------------------
----------------------------------------
------------------------


তামিম আদনান

🔹 বয়সঃ ৪৫
🔹 জেলা / বর্তমান ঠিকানাঃ আহাদিপুর, কলাতিয়া,
      কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১৩। 

🔹 মোবাইল নম্বরঃ ০১৮৩১৬৮১৫৯৯
🔹 ইমেইলঃ adnansir599@gmail.com

🔹  তামিম আদনান, জন্ম ৩০/১২/৮০ পুরান ঢাকার ভাগালপুর এলাকায়। যদিও শৈশব, কৌশোর,যৌবন পড়াশুনা, বিয়ে সবকিছু পার হয়েছে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত নূর মোহাম্মদ মডেল স্কুল, কলাতিয়া, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

দূর থেকে প্রেম হয়... - সালাম মালিতা


দূর থেকে প্রেম হয়
- সালাম মালিতা 


দূর থেকে প্রেম হয়...!
কাছে আসতে হয়
শিয়রের পাশে বসতে হয়,
হাতের সাথে হাত
আর ঠোঁটের সাথে ঠোঁটের-
উষ্ণ স্পর্শ নিতে হয়। 

দূর থেকে প্রেম হয়....!
মিষ্টি মিষ্টি প্রেমালাপ করতে হয়
কোমল নাভিকে ছুঁয়ে দিতে হয়,
শারীরিক ঈপ্সা বৃদ্ধি করে 
একে অপরের বুকের-
দ্রুত হৃৎস্পন্দন অনুভব করতে হয়।

দূর থেকে প্রেম হয়....!
স্বর্গীয় সুখ নিতে
মধুর আলিঙ্গন করতে হয়, 
স্তনযুগল, নিতম্ব
সবকিছুতেই কামুক ভাবনায় 
পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিতে হয়।

দূর থেকে প্রেম হয়.....!
অপার্থিব আরাম পেতে
যৌনমিলন করতে হয়,
শুক্রানু-ডিম্বাণুর নিষেক ঘটিয়ে 
ভালোবাসার অস্তিত্বকে-
জীবিত রাখতে হয়।

দূর থেকে প্রেম হয়....!
কানের লতি, ঠোঁট 
বুক, পিঠ, স্তন, তলপেট
উরু, যোনি-
সবখানেই সমান সমান 
অংশীদারিত্ব করতে হয়। 

দূর থেকে প্রেম হয় না...!
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে হয়
শারীরিক মিলন করতে হয়, 
এমনভাবে ছুঁতে হয় 
যাতে ভালোবাসায় কোনো-
ঘাটতি না থাকে। 
সকাল-দুপুর, দিনে-রাতে 
যখন-তখন উড়াধুড়া সম্পর্কে 
দু'জনার তরে দু'জনে-
মিলেমিশে এক হতে হয়...!



সালাম মালিতা



একান্তই আমার হয়ে ! - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম

 
একান্তই আমার হয়ে !
- রকিবুল ইসলাম


কভু যদি আসো ফিরে অভিমানের দেয়াল ভেঙে।
থাকব সদা অপেক্ষাতে তোমার ঠোঁটের পরশ পেতে।
জমাট বাঁধা তুষারসম শুভ্র মেঘের ভেলায় ভেসে,
আসো গো যদি বারি হয়ে!
সিক্ত হবে মোর গাত্রখানি,জুড়াবে মোর মানসখানি।
টুটবে যত অন্তর্জ্বালা,মুছবে সকল দু:খ-গ্লানি,
তব অঙ্গের উঞ্চ কোন সুগভীর এক আলিঙ্গণে।
ধৌত করব তদ অঙ্গখানা,বাহুডোরে মোর পড়বে বাঁধা।
আঁকব চুমু তব রাঙা ঠোঁটে,মাতব কোন আদিম খেলায়।
বিভোর হব তোমার গাত্রের মাদকতাময় কোন ঘ্রাণের নেশায়।
খোঁপা করা তোমার দীর্ঘ কেশ,মুক্ত হয়ে তা লাগবে বেশ।
দুলতে থাকা তোমার চুলের নাচনে,মূর্ছা যাব স্বর্গ সুখে।
দুলবে বিছা তব কোমর খানায়।
তব ভেজা পরিচ্ছদ,ভেজা অঙ্গ দর্শে হব আমি ক্লান্ত।
ভারসাম্যটুকুও মোর আর রইবে না  কোনমতে।
পরাজিত হব অবশেষে।
নিয়ন্ত্রণহীন আমি প্রবল বেগে মিশতে যাব যখন তোমার সনে,
তুমিও তখন গভীর আবেগে মিটাবে ব্যথা জড়িয়ে মোরে।
জাগতিক সব ব্যথা-বেদনা,দু:খ ভুলে
থাকবে শুধু "একান্তই আমার হয়ে!"

মধুচন্দ্রিমা... - জয়দীপ বসু

জয়দীপ বসু

 মধুচন্দ্রিমা
- জয়দীপ বসু

আমার পিয়াসী হৃদয়ে আজও মধুচন্দ্রিমা,
অত শত বুঝি না অভিনয়, ভঙ্গিমা।
 জীবন সুরে উচ্ছ্বসিত,তরঙ্গিত,
আবেগের নীলিমায় কম্পিত।

ভালোবাসার আবির রঙে নাওয়া,
   সে যে অনেক কিছু পাওয়া।
আল্পনা এঁকে দিয়ে যায় মনের কোণে,
    হিল্লোল তৈরি করে হৃদয় বনে।

পিয়াসী হৃদয় আমার অনুভূতির রসে সিক্ত,
  যতই হই আমি অবুঝ,নয়কো তা রিক্ত।
অন্তরের মৌবনে শুনি মধুকরের গুনগুন,
চেতনার সুরে হয়ে যায় আবেগের মুনমুন।

নতুন আশা, নতুন স্বপন,
খুঁজে পাওয়া নতুন রতন।
পাল তুলে যাত্রা করে মনমাঝি,
হৃদয় সুর বেজে উঠেছে আজি।

ঐ মাঝি, মাল্লার গানে,
কি অপূর্ব সুর তানে।
আমার পিয়াসী হৃদয় মধু চন্দ্রিমার টানে,
জানি সে পল্লবিত হৃদয়ের কথা শোনে।

ওগো আমার পিয়াসী প্রতিমা,
তুমি যে ভরা যৌবনের সুষমা।
আমার জীবনের অরূপ লাবণী,
বেজে ওঠে তোমার রাগিনী।

হারিয়ে যেতে চাই তোমার কুসুম বনে,
গোপন কথাটা গোপন রবে না মনে।
আমার পিয়াসী হৃদয়ে আজও মধুচন্দ্রিমার অনুভূতি,
হারায় নি ভরা যৌবনের সেই স্বপ্ন বিলসিত সুমধুর স্মৃতি।

প্রবহমান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি : শিকড় সন্ধান ও আধুনিকতার দিগন্ত - বিধান চন্দ্র সান্যাল

বিধান চন্দ্র সান্যাল



প্রবহমান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি :
শিকড় সন্ধান ও আধুনিকতার দিগন্ত

- বিধান চন্দ্র সান্যাল

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবহমান এক নদীর মতো, যা বঙ্গীয় জনমানসের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়। লোকায়ত বিশ্বাস, ধর্মীয় সমন্বয়, এবং আধুনিক মনন—এই তিনে মিলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এক সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।

আনুমানিক খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার সূত্রপাত ঘটে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হলো বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত 'চর্যাপদ'। এই পদাবলিগুলোতে একদিকে যেমন বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব নিহিত ছিল, অন্যদিকে তেমনি ফুটে উঠেছিল তৎকালীন বাংলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, নদীমাতৃক    ভূদৃশ্য  এবং সমাজচিত্র। চর্যাপদের মাধ্যমেই প্রথম বাংলা ভাষার নিজস্ব স্বকীয়তা ও কাব্যরূপ প্রকাশিত হয়। 


চর্যাপদের পরবর্তী সময়কাল, অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমাংশকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অন্ধকার যুগ' হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, এই সময়টি ছিল মূলত রূপান্তরের। ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল ধর্ম। তবে ধর্মকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও, মঙ্গলকাব্যগুলোতে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক নিখুঁত দর্পণ প্রতিফলিত হয়েছে। চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল কিংবা ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্রগুলোর মধ্যে বাঙালি জীবনের চিরন্তন সংগ্রাম ও লৌকিক বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে।

মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো বৈষ্ণব পদাবলি। চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা রূপান্তরিত হয়েছে মানবাত্মার চিরন্তন বিরহ ও মিলনের আকুলতায়। এছাড়া, সুলতানি ও নবাব আমলে রামায়ণ ও মহাভারতের মতো মহাকাব্যগুলোর অনুবাদ সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করে। আরাকান রাজসভার কবি আলাওল বা দৌলত কাজীর রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বাংলা সাহিত্যকে এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত করে।

উনশ শতকের ঊষালগ্নে ব্রিটিশ শাসন ও ইউরোপীয় শিক্ষার সংস্পর্শে বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হাত ধরে বাংলা গদ্যের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। বঙ্কিমচন্দ্রের 'দুর্গেশনন্দিনী' বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক উপন্যাস এবং তাঁর রচিত 'বন্দেমাতরম' সংগীতটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে এক মহা প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

এই নবজাগরণের মধ্যগগনে আবির্ভূত হন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর প্রতিভার স্পর্শে বাংলা সাহিত্য বিশ্বমঞ্চে এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, চিত্রশিল্প—সব শাখাতেই তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। তাঁর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাঙালি পাঠককুলের মন জয় করেন।

রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহের সুর নিয়ে আসেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর 'অগ্নিবীণা' ও 'বিষের বাঁশি' তৎকালীন পরাধীন ভারতে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মনে মুক্তির আগুন জ্বালিয়ে দেয়। নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত অসাম্প্রদায়িক বাঙালি সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।

একই সময়ে বাংলা কাব্যে 'কল্লোল' ও 'সবুজপত্র' গোষ্ঠীর মাধ্যমে নতুন আধুনিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু এবং বিষ্ণু দে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার মূল ভিত্তি স্থাপন করেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বাংলার প্রকৃতি এবং নিঃসঙ্গ মানুষের মনস্তত্ত্ব এক অসামান্য কাব্যরূপ লাভ করে।


বাংলা সংস্কৃতি কেবল লিখিত সাহিত্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, এর শিকড় প্রোথিত বাংলার লোকসমাজে। লোকসংস্কৃতি হলো বাঙালির জীবনযাত্রার অকৃত্রিম অভিব্যক্তি। বাউল গান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, গম্ভীরা, ছৌ নাচ, এবং যাত্রা পালা—এই সব কিছুই বঙ্গীয় সংস্কৃতির প্রাণ।

বাউলদের 'মনের মানুষ' খোঁজার দর্শন ও রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবতার বোধ মিলে বাংলা সংস্কৃতিকে এক অনন্য উদারতা দান করেছে। আবহমান কাল ধরে পালিত বিভিন্ন পার্বণ, যেমন—দুর্গাপূজা, পৌষমেলা, চড়ক উৎসব, এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন (পহেলা বৈশাখ) বাঙালিকে একটি অখণ্ড সাংস্কৃতিক পরিচয়ে আবদ্ধ করেছে।


১৯৪৭ সালের দেশভাগ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এক গভীর ক্ষত এবং একই সঙ্গে নতুন চেতনার জন্ম দেয়। দেশভাগের বেদনা, উদ্বাস্তু সমস্যা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন সাহিত্যে এক নতুন মোড় আনে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, এবং পরবর্তী সময়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার প্রমুখ সাহিত্যিকদের লেখায় সমাজবাস্তবতা ও মানুষের অস্তিত্বের সংকট অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস প্রমুখ লেখকের সৃষ্টি বাংলা কথাসাহিত্য ও কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ভাষা আন্দোলন থেকেই মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে, যা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সকল ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে একটি ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক রূপ দান করে।

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি এক নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার সম্মুখীন হয়েছে। প্রযুক্তির বিস্তার ও ইন্টারনেটের কল্যাণে বাংলা সাহিত্য আজ বিশ্বদরবারে আরও সহজলভ্য। সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রকাশনার যুগে নতুন প্রজন্মের লেখকরা পরীক্ষামূলক লেখালেখিতে মনোনিবেশ করছেন। তবে বিশ্বায়নের স্রোতে নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতি ও ভাষার ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্য শুধুমাত্র আঞ্চলিক গণ্ডির মাঝে আটকে নেই। বিশ্বসাহিত্যের নানান আঙ্গিক ও তত্ত্ব আজ বাংলা ভাষায় অনূদিত হচ্ছে, যা বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করছে। অপরদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে বাঙালি লেখকদের অংশগ্রহণ বাংলা সাহিত্যের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে।

সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হলো মানব কল্যাণ ও জীবনবোধের জাগরণ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মানুষের প্রতি যে গভীর ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তা আজও বহমান। প্রাচীন চর্যাপদ থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক ডিজিটাল সাহিত্য—প্রতিটি যুগেই বাংলা সাহিত্য সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

বাংলা সংস্কৃতি তার অসাম্প্রদায়িকতা, উদারতা এবং মানবিক মূল্যবোধের জন্য বিশ্বে অনন্য। প্রবহমান এই সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাকে বাঁচিয়ে রাখা এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করা বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের দায়িত্ব। সাহিত্যের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ, এবং সংস্কৃতির চর্চায় বিকশিত হোক মানুষের মনন—এই হোক আমাদের বিষয় ভাবনা ও সাধনা।

দায়িত্ব ও কর্তব্য

  ---------------------------------------------------------- ই-বুক কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সভাপতি    আকাশ আহমেদ ই-বুক কার্যক...

জনপ্রিয় পোস্ট