সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

কবিতা! - রকিবুল ইসলাম


 

 রকিবুল ইসলাম

কবিতা!
কতদিন দেখিনি তোমায়!লিখিনি তোমায়!
ঝরে যাওয়া পত্র পল্লব এখন বেঁচে উঠেছে নিশ্চয়!
নিরব, নিথর, মৌন আবহাওয়ায় অথবা মন খারাপের মেঘলা দিনে লিখতাম তোমায় ওই ঝরা পাতার উপর। 
 
জড় পদার্থ বেচারা শারীরিক ও মনো:কষ্টে কুঁকড়ে যেত আর দুমড়ে মুষড়ে ভেঙে পড়ত মর্মর ধ্বনিতে।
 
আমার কবিতা!
তুমি তো আমার দু:খের উপাখ্যান।
রক্ত মাংসের গড়া মানবী যেখানে ব্যর্থ আমার বেদনার ভার বইতে সেখানে শুকনো পাতার আর কি দোষ দিই বলতো?
 
কবিতা! ও কবিতা! ও আমার আত্মার আকুতি!
সিদ্ধান্ত নিলাম শুকনো পাতার কষ্টের কারণ না হয়ে আমার মানস পটের ক্যানভাসে হৃদয়ের তুলিতে রক্তের কালি দিয়ে লিখব তোমায়।
 
কবিতা!
আজ যখন বৃষ্টি নামল,দেখলাম: একগুচ্ছ শুভ্র মেঘের দল একসাথে জমাট বেঁধে ঘন গাঢ় হয়ে কালো বর্ণ ধারণ করেছে,কাঁদছে অঝোর ধারায় আর সংহতি জানাচ্ছে আমার সাথে।
 
কবিতা! ও আমার আত্মার ব্যাকুলতা! ও আমার হৃদয়ের ক্রন্দন!
হারাতে দেব না কভু তোমায়,
রেখে দেবো আমার অন্তরের অন্তঃস্থলে অথবা হৃদয় ভূমির মানস পটের অন্তরালে।
পড়লে মনে পড়ব তোমায় প্রভাত সাঁঝে।
 
কবিতা!
একদিন তোমায় ছুটি দিয়ে ভাসিয়ে দেব আশার পালকে মেঘের ভেলায়।
পথ চলতে চলতে তখন তোমার যদি আমার তরে একটু মন খারাপের আবহ তৈরি হয়!
 
প্রবল অভিমান মেশানো কান্নার গীত গেয়ে রিমঝিম রবে বারি হয়ে নেমে এসো ধরায়!
হিমশীতল সেই বর্ষা গায়ে মেখে জুড়াবে আমার তপ্ত বক্ষ,অতৃপ্ত আত্মা।
 
কবিতা!
অতঃপর,হয়ত একদিন আমারও মিলবে ছুটি!
আমিও তখন ওপারে গিয়ে মিলব তোমার সাথে।
হয়ত তখন লেখা হবে না নতুন কোন দুঃখের কবিতা।
সুখের সাগরে ভেসে যেতে যেতে লিখব মোরা শুধুই সুখের কবিতা।

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

খেয়াপার... - সালাম মালিতা


সালাম মালিতা 


বিচিত্র এই জীবন বন্দরে,কষ্টের নোনাজল 
যখন-তখন আছড়ে পড়ে! 

ভয় হয়... 

তূল্যমূল্য বিষাদের দিনলিপি অদৃশ্য ব্যথার কলমে
স্বয়ং আমাকেই লিখতে হয়।

কষ্ট হয় তখন...ভীষণ কষ্ট লাগে..! 

মন খারাপের কথাগুলো একদিন সময় করে 
আমার সাগরের কাছেই জমা করি,
কাউকে ফেরায় না বলে মনসমুদ্রটা
কষ্টের পাহাড় গলা সব জল ধারণ করে নেয়,
তারপর থেকে আমাকেই পুরোটা বহন করতে হয়।

ভীষণ ক্লান্ত...

প্রিয় মানুষের আকস্মিক পরিবর্তনের জলোচ্ছ্বাস 
সমুদ্র ঝড় উদয় করে প্রেমের তরীটাকে-
নিমিষেই লণ্ডভণ্ড করে দেয়!
তাই অকূল দরিয়ায় আশার কাঁচামালগুলো ডুবে
একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। 

বড্ড নিরুপায় আমি...

বাস্তবতার এই বিশাল সাগরে আমি যেন
দিশাহীন এক নাবিক,
যে নিজের সকল অতীতের সম্পদ হারিয়ে আজ
নোঙর ফেলতে ভয় পায়।
তথাকথিত ঘনিষ্ঠের কটুক্তি, জলদস্যুর মত 
সাহসের ডাকাতি করে,
আর ডুবন্ত জাহাজের অন্তিম পিদিম নিভিয়ে দিয়ে 
সম্পূর্ণ গ্রাস করতে চায়।

বড়ই স্বার্থপর....

বিশ্বস্ত এক সঙ্গীর মজবুত বৈঠার আশায় আছি 
যে আমাকে কষ্টের সাগর পাড়ি দিতে
মসীহ হবে!
শুধুই আমার হয়ে সুখে-দুঃখে অপরিবর্তিত থেকে 
জীবনযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হয়ে থাকবে, 
রণতরীটাকে টগবগিয়ে ছুটিয়ে নিয়ে 
সগৌরবে আমার খেয়াপার করবে,
আর চিরতরের জন্য বিজয় সুনিশ্চিত করতে 
বিজয় পতাকাটি উত্তোলন করবে।

বড় সাধ জাগে...!!

যৌতুক... - মারিয়াম রামলা




মারিয়াম রামলা



আমি স্বার্থপর। 
হ্যাঁ... হ্যাঁ, আমি স্বার্থপর হয়ে গেছি। 
তুমিই তো যৌতুক চেয়েছিলে, 
তাই এখন আমি নিজে রোজগার করতে শুরু করেছি।
নিজের মেয়েকেও তো একদিন অন্যের ঘরে দিতে হবে, 
তাদেরও কিছু কড়া ইঙ্গিত থাকবে, 
অকারণে ঝগড়া হবে, 
তোমার আর আমার কিছু নিন্দিত নাম হবে।
কিন্তু মেয়ে আমাদের থেকে যন্ত্রণা লুকাবে... 
আর না জানি তখন কেমন কেমন পরিস্থিতি হবে! 
দূর থেকে সেই মিষ্টতা, 
কিন্তু ভেতরে না জানি কত বিষ আর কী কী দাবি থাকবে।
কীভাবে করবে তখন তুমি তাদের চাহিদা পূরণ? 
তুমি কি কখনও কিছু রোজগার করেছ? 
কারও মেয়ের কাছ থেকে তুমিও তো যৌতুক নিয়েছিলে, 
সেই যৌতুক কি তুমি কখনও তোমার মেয়েকে দিতে পারবে...?
তোমার অভ্যাস ছিল শুধু নেওয়ার, 
কিন্তু খোদা তো অন্য হাতটিও দিয়েছেন। 
কীভাবে ভুলে যাও যে তোমার ঘরেও একটি মেয়ে হয়েছে! 
তুমিই তো যৌতুকের এই প্রথা তৈরি করেছ, 
এখন সেই পাপের দেনা আমি নিজে রোজগার করে পূরণ করছি।
তোমার জামাইয়ের টাকার খিদে আমার পরিবার নয়, 
এখন আমি মেটাচ্ছি। 
হ্যাঁ... হ্যাঁ, আমি স্বার্থপর হয়ে গেছি... 
আমার মেয়েকে বাঁচাতে!

 

আত্মসম্মান - সমর্পিতা রাহা



সমর্পিতা রাহা 


কশেরুকা সোজা রেখে 
   দুই চাকাতে চলো,
আত্মসম্মান বজায় রেখে 
    মানুষ তবে বলো।
আত্মবিশ্বাস লাঠির ভরে
     হাঁটো সঠিক পথে,
দুর্নীতির পথ মুখ ঘুরিয়ে 
    চলো সোনার রথে।
মনুষ্যত্ব সযতনে
  যত্ন করে রেখো,
মানুষ কিন্তু উন্নত জীব
জীবন দিয়ে শেখো।
আত্মসম্মান অমূল্য ধন
   হয়না যেন নষ্ট,
লম্বা জীবন ঝড়ের দাপট 
আসবে অনেক কষ্ট।
মানবতা তাজা থাকলে 
    কদর পাবে ভবে,
মেরুদণ্ড ভেঙে গেলে 
    ভূপতিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

তোর সান্নিধ্যে! - রকিবুল ইসলাম

 
রকিবুল ইসলাম


থাকি মম তোকে ঘিরে,
দিবা-নিশি পবন রুপে।
তুই থাকিস তোর মত,
ব্যথা দিয়ে যাস অবিরত।
যদি কভু হুঁশ ফিরে,
কোন কাল কোন ক্ষণে!
খুঁজে নিস তুই মোরে,
রইব শুধু তোর অপেক্ষাতে।
প্রহর গুণে বাঁচব ভূমে,
দাড়িয়ে সেই মেঠো পথে।
তুই সখি মনের হরষে,
নিবি ধুলি পায়ে মেখে।
এভাবেই ধামে তোর সান্নিধ্যে,
জীবনটা মোর যাবে কেঁটে।
রাখব তোরে চোখের কোণে,
নিভৃতে গাঁথা স্বপ্ন রবে।
নিশিথ রাতে ডাকব তোরে,
নীরবতায় মোড়ানো মৃদু রবে।
তবুও না এলে ফিরে, 
ভাসাব আশা নয়ন জলে।

বসন্তের আগমন - সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ

হাওয়ায় তনিমার চুল এলো মেলো করে দিল। আশিক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে তনিমার দিকে। কী অপূর্ব লাগছে তনিমাকে। আশিকের চোখে চোখ পড়তেই তনিমার কাছে গিয়ে হাত ধরে বলে আর অপেক্ষা করতে মন সায় দিচ্ছে না। এই বসন্ত বিকেলে তোমার আমার প্রাণ প্রিয় কখন আসবে? স্নেহের চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দেব তার কপোল। তনিমা হেসে বলে, আর তো কটা দিন। 

তনিমা-আশিক এর ঘরে আসবে নতুন সদস্য, তাদের রাজপুত্র আসবে আগেই জেনে গিয়েছিল বিজ্ঞানের সুব্যবস্থার কারণে। উদাস দুপুরে কোকিলের ডাকে যেন তনিমার মন দোলে উঠে অজানা আনন্দে। বসন্ত তো চলেই এলো, তবুও যেন তনিমা-আশিকের জীবনে আসলো না এখনো বসন্ত! শুভক্ষণ ঠিক করলো তনিমা-আশিক। সেই দিনই হবে তনিমা-আশিকের বসন্ত উৎসব। অবশেষে সেই দিন আসলো। বসন্তের এক সকালে কোকিলের ডাকে, পুষ্পরাজের শোভায়  শোভিত, মুখরিত চারদিক এই সময় ভুমিষ্ট হলো তনিমা-আশিকের বসন্ত। আগমন ঘটলো চিরচেনা পৃথিবীর মাঝে এক টুকরো বসন্ত। আনন্দের বন্যায় ভাসলো তনিমা-আশিক। এক ফোঁটা আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তনিমার গাল বেয়ে। সযত্নে অশ্রু মুছে দিল আশিক। 

প্রকৃত বসন্তের আবেশে মোহিত হলো চারপাশ বসন্তের কান্নায়। লাল টকটকে আভায় ঠিকরে বেরুচ্ছে তনিমা-আশিকের বসন্ত উৎসব। কচি ঠোঁটে কাঁপা কাঁপা ওঁয়্যা ওঁয়্যা কান্না। এ যেন কান্না নয়, এক আর্তি আমি এসেছি তোমাদের কোলে, বসন্তের আবেশে, মুখরিত করতে বদনখানি তোমাদের। 

আশিক মনে মনে উপলব্ধি করে সত্যি সত্যি আজ আমার জীবনে বসন্তের আগমন ঘটলো। নতুন পরিবেশে, নতুন করে মিলন ঘটলো মহা লগ্নে হৃদয়ের বন্ধনের মহা প্রাপ্তির। এই প্রাপ্তির ব্যখ্যা নেই আশিকের কাছে। তনিমার হাত ধরে অঙ্গিকার করে প্রতিটি বসন্ত হবে আমাদের পুত্রকে নিয়ে।

কবিতা! - রকিবুল ইসলাম

   রকিবুল ইসলাম কবিতা! কতদিন দেখিনি তোমায়!লিখিনি তোমায়! ঝরে যাওয়া পত্র পল্লব এখন বেঁচে উঠেছে নিশ্চয়! নিরব, নিথর, মৌন আবহাওয়ায় অথবা মন ...

জনপ্রিয় পোস্ট