বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

স্বাধীনতা! আমার স্বাধীনতা! ... (কবিতা) - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম



স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
দিয়েছ তুমি স্বাধীন ভূখণ্ড,
দিয়েছ স্বতন্ত্র ভাবে বাঁচার অধিকার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
উড়িয়েছ তুমি বিজয়ের কেতন,
ছিনিয়ে এনেছ সকল বাঙ্গালীর স্বাধীকার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
উজ্জিবীত করেছ দামাল ছেলেদের,
মুক্তিকামনায় হয়েছে তারা জাতির রাহাবার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
বঙ্গ ললনা হয়েছে বীরাঙ্গনা,
দেশের তরে বিলিয়েছে মান অকাতর।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
হয়েছে বলি লক্ষ প্রাণ,
আকাঙ্ক্ষা শুধুই উড়ানো পতাকা তোমার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
পরেছি তবুও পরাধীনতার শৃঙ্খল,
পেয়েছি আজো কি স্বাদ স্বাধীনতার!?

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
দূর হোক অকল্যাণ,যত পরাধীনতা।

মনের খুব কাছে তুমি... (কবিতা) - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 



ভালোবাসার উপঢৌকন দিতে
হয়তো এক আলোকবর্ষ দূর আছো,
ছবি ব্যতীত আর
তোমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় না-
তবু মনের খুব কাছে তুমি!

ছোট্ট জোনাকপোকার মত
তোমাকে চিরতরে পাওয়ার পিদিম জ্বেলে রাখি,
বিষাদের চাদরে আবৃত হয়ে 
নিজেকে পাহাড়ের মত শক্ত করেছি ঠিকই-
তবে তোমার প্রত্যাবর্তনে
আমি এক লহমায় কোমল হয়ে ছয়লাব করে দেব!

পথভ্রষ্ট হয়ে আজ আউল বাউল চলি
তোমার সঠিক গন্তব্য জানা নেই, 
বেহিসাবি মনটা তোমার বিরহকে আপন করে 
দলছুট হরিণ শাবকের মত লালন করতে শিখেছে, 
তোমার হৃদয়ের করিডরে নষ্ট নখের মত
হয়তো আমার স্থান-
শত যোজন পথের দূরত্ব তৈরি হলেও
মনের বড্ড কাছে তুমি!

আমার চোখের গভীরে প্রশান্ত মহাসাগরের জল
উত্তাল ঢেউ যখন-তখন আছড়ে পড়ে ঠিকই,
তবে তোমাকে একটি পলক দেখতে পেলে
অনন্তকালের প্রেমের আবেশ জড়িয়ে-
আমার মনের আঙিনায় বাহারি পুষ্প ফুটবে।
সদা নিঃসঙ্গ পাখির মত থাকলেও
তোমার স্মৃতির অ্যালব্যামটা-
হৃদয়ের এলগরিদমে সযত্নে রেখে দিয়েছি!

চুলদাড়িতে পূর্ণ আমাকে উন্মাদ মনে হয় 
তোমার খোঁজে পথে পথে ঘুরে আমি ভীষণ ক্লান্ত, 
বারমাসি মনের উঠোন জুড়ে 
কেমন একটা শৈতপ্রবাহ চলে-
হারানোর আশঙ্কায় হৃদয়টা তখন হিম হয়ে আসে! 
কেমন অশেষ পথে আমি হেঁটেই চলেছি
ঠিকানা বিহীন তোমার খোঁজে! 
হয়তো আর কখনোই 
তোমার কাছে পৌঁছাতে পারব না ঠিকই-
তবে এটা জেনো রেখ
পৃথিবীর কোনো এক কোণে, কোনো এক গাঁয়ের-
কোনো এক পাগল আজও তোমায় খুঁজে চলে।
তাই অবশ শরীরে অবচেতনেই 
শুধুই তোমার নাম ধরে ডেকে বলে-
মনের খুব কাছে তুমি!!

কষ্টের পাহাড়... (কবিতা) - সমর্পিতা রাহা

 
সমর্পিতা রাহা


গরম পানীয় খেলে জিহ্বা টা যেমন হয়
মনটাও তেমনি কষ্টের আগুনে পুড়ে বিষাদ লাগে 
জীবনে কত কী যে হারিয়েছি মনে শুধু হারাবার জ্বালা 
তবে উদ্যানে যে ফুটফুটে ফুল ফুটিয়েছি
তার সুগন্ধ চতুর্দিকে ছড়িয়ে আছে 
কষ্টের পাহাড়ে বসে কষ্টের কবর খুঁড়লে কষ্ট ছটফট করে 
কষ্টের ভিতরে নুড়ি পাথর ভড়া
বড্ড ভার লাগে তাই জন্য!
জগৎ ময় পিপীলিকা 
পাখা গজালেই শেষ
শব্দ চাষীদের টিপ্পনী কথা 
কলম কে তলোয়ার বানিয়ে মাস্তানি 
বুজরুকি লাগে বৈকি!
মনের আঙ্গিনায় ফুলের গন্ধ পেলে
চতুর্দিকে ছলচাতুরির খেলা শেষ।
চলো কষ্টের পাহাড় থেকে নেমে সুখ সাগরে 
মনকে  ঠাণ্ডা করে আসি

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

বিশ্বাসের মসনদ (গল্প) - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 


সেদিন আকাশটা ঘনকালো মেঘে ঢেকে ছিল, মনে হচ্ছিল কিছুক্ষণের মধ্যেই কালবৈশাখীর উদয় হয়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হবে৷ তমাল গুটিকতক পোশাক ব্যাগে ভরে আরশিয়াকে বিদায় দিতে এল। চোখ ভর্তি জল আর বুকে অদম্য সাহস নিয়ে আশার প্রদীপ জ্বেলে চলে গেল....দূর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। দিন, তারিখ, মাস, বছর বা সালকে প্রতীক্ষার ক্যালেণ্ডারে যুক্ত করে ঝুকঝুক করে ছুটে চলা ট্রেনে পাড়ি দিল। বাহ্যিক অবয়ব সাথে গেলেও ভালোবাসার চিরকুট আরশিয়াকে ছিঁড়ে দিল, আর শূন্য প্রেমকক্ষ নিয়ে অচীন পথে আবার ফিরে আসার অভঙ্গুর পণে বাস্তবতার কুহেলিকার অতলে হারিয়ে গেল।
 
তমাল যাওয়ার আগে আরশিয়ার পছন্দের শিউলি চারাটি মাটির ঘরের দক্ষিণ দিকের বাতায়নের পাশে রোপণ করে। বছরের পর বছর ফুলের সুবাস দিতে দিতে গাছটিও আজ ক্লান্ত। নিজের সকল পাতা ঝরিয়ে মাঝে মাঝে গভীর নিশীথে অস্ফুট বাক্যে বলে ওঠে - " ফুল দিতে দিতে আমি আজ বৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমাকে একটু মুক্তি দেওয়া হোক। আমি আজ অবসরে যেতে চায়! " গত দু'বছর হল গাছটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে, শুধুমাত্র পাড়াগাঁয়ের খড়ি কুড়ানোর বধূর দৃষ্টিপাত হয়নি বিধায় অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া বাকি। কাঁচাপাকা চুলে আরশিয়া উলের সোয়েটার বুনতে বুনতে অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, নিজের বুক দিয়ে আগলে রেখেও তমালের ভালোবাসার দুর্মূল্য অস্তিত্ব আজ নিশ্চিহ্নের পথে৷ অলিখিত চুক্তিপত্রের জবাবদিহিতা আরশিয়াকে অশনি সংকেতের দুর্গন্ধ কক্ষে কোণঠাসা করতে থাকে৷ 

খড়ের চালে রাখা টিয়াপাখির খাঁচাটি আজ ভগ্নপ্রায়৷ তমালের যাওয়ার কয়েক বছর পর পাখিটির মনঃকষ্টে অক্কা পাওয়ার উপক্রম হয়৷ নিজের জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়ে দু'জনের মেলানোর মহৎ উদ্যোগে, আরশিয়া খাঁচার আগল উন্মুক্ত করে দেয়, তারা জীবিত থাকলে হয়ত বড় পরিবার গঠন করে ফেলেছে। বাড়ির পাশের উত্তাল নদীটা আজ সংকীর্ণ, সভ্যতার করাল গ্রাসে দমবন্ধ হওয়ায় কোনোরকমে অন্তিম প্রহর গুনছে। ধূলোময়লা আঁকাবাঁকা মেঠোপথে আজ কংক্রিটের ঢালাই। ঘরের পিছনে থরে থরে পড়ে আছে গত হওয়া বছরের একাধিক ক্যালেণ্ডার। পুষ্টিহীনতায় আরশিয়া চোখে কম দেখতে পায়, চশমার সাহায্যে মানুষ চিনতে হয়। মুখের কিছু দাঁত ইতিমধ্যে সঙ্গ দিতে বিরোধ করে নিজে থেকে পড়ে গেছে। অপেক্ষার অনন্ত প্রহর গুণে চোখের জল শুকিয়ে একদম খটখটে হয়ে গেছে...!
 
সেবছর গাছে প্রচুর মকুল এসেছিল। প্রতিটি শাখায় শাখায় আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা একদম থোকায় থোকায় ধরেছিল। সরকারি আধিকারিক হাঠাৎ গাঁয়ের পথে মাইকে ঘোষণা ঘরে, আগামী তিনদিন পর বিশাল ঝড় আসছে, তাই যার যা কিছু আছে সেগুলো নিয়ে যেন সুরক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়। আরশিয়ার হারানোর মত অবশিষ্ট তেমন কিছুই ছিল। সম্পদ বলতে মাটির কিছু হাঁড়ি-পাতিল, পুরানো পোশাক আর কয়েকটা আধুলি। তল্পিতল্পা গুছিয়ে বড় রাস্তার পাশে আর কয়েকজনের সাথে অবস্থান নিল। শুনল হাতে মাত্র দু'দিন বাকি। 

পরেরদিন ঘুম ভেঙে আরশিয়া দেখল রাস্তার তেমাথায় বেশ ভিড় হয়েছে, বড় চুলদাড়ি নিয়ে একটা পাগল কাকে যেন খুঁজে চলেছে। নিজের ষাট বসন্তের জমা সুপ্ত আশা আজ এক লহমায় জীবন্ত আগ্নেয়গিরির মত জেগে উঠে...বিষাদের ভূমিকে ছয়লাপ করে দিল। লোকের ভীড় সরিয়ে চশমা ছাড়াই আরশিয়া দেখল সেই চল্লিশ বসন্ত আগের, তাকে কথা দেওয়া মানুষটি পাগলের মত দ্বারেদ্বারে ঘুরে আবার তার কাছে ফিরে এসেছে। এক দৌড়ে কাছে গিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চোখের জলে বলল - " তমাল দেখ আমি তোমার আরশু, জানো আজও তোমার জন্য আকাশের তারা গুনি, হারিকেনের আলোয় তোমার ছবির সাথে গল্প করি। তোমাকেই সাতজনমের সঙ্গী মেনেছি তাই অন্য কারো সাথে আর ঘর বাঁধিনি। "

খুকুর কষ্ট.. (কবিতা) - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



আনতো বামি দুধের বাটি দাদা পায়েস খাবে,
দাদা যাবে পাঠশালাতে সোনার পদক পাবে।

বামি বলে একটু পায়েস মা গো আমায় দেবে,
বাবা বললেন লোভ কেন মে ভাগ্য দাদার নেবে ?

ছোট্ট বামি শুনেই অবাক দাদার যত্ন চলে,
একটু কাজের ভুল হলে তো চাপড় কথা বলে।

মাছের মুড়ো খাচ্ছে দাদা ফুটছে হাসি মুখে,
ছেলে হলে বামি কিন্তু থাকতো মহা সুখে।

বাবা মায়ের সাথে দোসর  ঠাম্মা দাদু পিসি,
বামির জন্য গালি-গালাজ চলছে দিবা নিশি।

এইতো সেদিন পড়ার পাঠে ভুল করেছে দাদা,
দেখছে বামি চুপটি করে ছুঁড়লো দাদা চাঁদা।

দাদার আঘাত কপাল জুড়ে পড়লো ঝরে রক্ত,
বামি কেন শাস্তি পেল দুপুর ক্ষুধার অক্ত।

পাড়া-পড়শি দেখছে সবাই কেউ বলে না কিছু,
দুর্দশা যে এমন করেই নিচ্ছে খুকুর পিছু।

ঘরের থেকেই সমাজ সৃষ্টি অশিক্ষা তাই ঘরে,
সবার আগে ঘর বদলাও কন্যা ভ্রুণের তরে।

সুস্থ চিন্তা পাল্টে দেবে থাকবে কন্যা ভালো,
কন্যা হল মায়ের জাতি জগৎ করে আলো।

চাঁদের সেলাই করা উৎসব (কবিতা) - রেজাউল করীম

           রেজাউল করীম



ঈদ মুবারাক -
আজ আকাশ যেন নতুন পাঞ্জাবি পরে,
তারার বোতামগুলো ঝলমল করে ওঠে অজস্র নিঃশব্দে।

চাঁদটা- একটু লাজুক দর্জি,
সারারাত অন্ধকারের ছেঁড়া কাপড় সেলাই করে,
ভোর হলে মানুষের মুখে পরিয়ে দেয় আলো-জামা।

আমার ভেতরেও আজ এক নামাজের মাদুর বিছানো -
সেখানে দুঃখগুলো সিজদায় পড়ে আছে,
ক্ষমার হাত দুটো বাতাসের মতো নরম হয়ে যায়।

তুমি দূরে থেকেও -
আজ কেমন কাছে,
যেন সেমাইয়ের গন্ধে মিশে আছে তোমার অদৃশ্য হাত।

এই উৎসব -
কোনো ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়,
এ এক নরম শব্দ,
যা বুকের ভেতর আলগোছে ডেকে বলে -
“ভালোবাসো, আরও একটু ভালোবাসো।”

ঈদ মুবারাক -
আজ পৃথিবীটা
একটা মিষ্টি শিশুর মতো
হেসে ওঠে সবার ঘরে।

স্বাধীনতা! আমার স্বাধীনতা! ... (কবিতা) - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা! দিয়েছ তুমি স্বাধীন ভূখণ্ড, দিয়েছ স্বতন্ত্র ভাবে বাঁচার অধিকার। স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা! উড়িয়েছ ত...

জনপ্রিয় পোস্ট