![]() |
| মুন্নাফ সেখ |
আমি চাষা, রোদে পোড়া, ধুলার মানুষ ভাই,
হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি, পেটে ভাত নাই।
আগের দিনের কাঠের নাঙল, হারায় গেছে কই?
গরুর পাল্লা ছাইড়া এখন কলের পিছে সই।
অহন মাঠ চষে ঐ লোহার দানব ট্রাক্টর দিয়া,
ঘণ্টা গুনে টাকা দিই, বুকটা যায় রে ফাটা।
মেশিন দিয়া জল তুলি ভাই, মেশিন দিলে তেল,
পয়সা ছাড়া এই যুগে সব চাষবাসের খেল।
আকাশ থাইকা নামে না জল, মেশিনে সব কড়ি,
পকেটের টাকা শুষে নেয় ঐ জলের ঘড়ি।
ইউরিয়া আর বিষের দামে হাত দিও না বাপ,
চাষীর ঘাড়ের উপর যেন বিষাক্ত এক সাপ।
হাইব্রিড ঐ বিচের নামে কত টাকা যায়,
পুরান দিনের ধানের জাত আর দেখা না পায়।
নিজের হাতে কাম কাজ কি আর আগের মতো আছে?
সব জায়গায় টাকার গাছ, আমরা তার নিচে।
ধান কাটার সময় অহন লেবার পায় না কাজ,
আকাশ ছোঁয়া মজুরি তাদের, গায়ে লাগে না লাজ।
সবার পাওনা মিটাইতে মোর জানটা হয়ে শেষ,
ফসল যখন আসে ঘরে, কাঙ্গাল বেশেই বেশ।
ট্রাক্টরঅলার দেনা আছে, সারের দোকানেও বাকি,
নিজের কপাল পুইড়া কেবল নিজেরে দেই ফাঁকি।
সবাই যখন লাভ বুঝল, আমার পকেট ফাঁকা,
চাষীর চোখে জল ঝরে রে, ঘুরল না আর চাকা।
রক্ত পানি করা ধানে পেট ভরে না ভাই,
সব মিটাইয়া দিন শেষে মোর হাত খালি টাই।
চাষার ঘরে অভাব কেবল রাজত্বি যে করে,
সোনার ফসল ফলাইয়াও আমরা কেবল মরি রে।





