শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

খেয়াপার... - সালাম মালিতা


সালাম মালিতা 


বিচিত্র এই জীবন বন্দরে,কষ্টের নোনাজল 
যখন-তখন আছড়ে পড়ে! 

ভয় হয়... 

তূল্যমূল্য বিষাদের দিনলিপি অদৃশ্য ব্যথার কলমে
স্বয়ং আমাকেই লিখতে হয়।

কষ্ট হয় তখন...ভীষণ কষ্ট লাগে..! 

মন খারাপের কথাগুলো একদিন সময় করে 
আমার সাগরের কাছেই জমা করি,
কাউকে ফেরায় না বলে মনসমুদ্রটা
কষ্টের পাহাড় গলা সব জল ধারণ করে নেয়,
তারপর থেকে আমাকেই পুরোটা বহন করতে হয়।

ভীষণ ক্লান্ত...

প্রিয় মানুষের আকস্মিক পরিবর্তনের জলোচ্ছ্বাস 
সমুদ্র ঝড় উদয় করে প্রেমের তরীটাকে-
নিমিষেই লণ্ডভণ্ড করে দেয়!
তাই অকূল দরিয়ায় আশার কাঁচামালগুলো ডুবে
একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। 

বড্ড নিরুপায় আমি...

বাস্তবতার এই বিশাল সাগরে আমি যেন
দিশাহীন এক নাবিক,
যে নিজের সকল অতীতের সম্পদ হারিয়ে আজ
নোঙর ফেলতে ভয় পায়।
তথাকথিত ঘনিষ্ঠের কটুক্তি, জলদস্যুর মত 
সাহসের ডাকাতি করে,
আর ডুবন্ত জাহাজের অন্তিম পিদিম নিভিয়ে দিয়ে 
সম্পূর্ণ গ্রাস করতে চায়।

বড়ই স্বার্থপর....

বিশ্বস্ত এক সঙ্গীর মজবুত বৈঠার আশায় আছি 
যে আমাকে কষ্টের সাগর পাড়ি দিতে
মসীহ হবে!
শুধুই আমার হয়ে সুখে-দুঃখে অপরিবর্তিত থেকে 
জীবনযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হয়ে থাকবে, 
রণতরীটাকে টগবগিয়ে ছুটিয়ে নিয়ে 
সগৌরবে আমার খেয়াপার করবে,
আর চিরতরের জন্য বিজয় সুনিশ্চিত করতে 
বিজয় পতাকাটি উত্তোলন করবে।

বড় সাধ জাগে...!!

যৌতুক... - মারিয়াম রামলা




মারিয়াম রামলা



আমি স্বার্থপর। 
হ্যাঁ... হ্যাঁ, আমি স্বার্থপর হয়ে গেছি। 
তুমিই তো যৌতুক চেয়েছিলে, 
তাই এখন আমি নিজে রোজগার করতে শুরু করেছি।
নিজের মেয়েকেও তো একদিন অন্যের ঘরে দিতে হবে, 
তাদেরও কিছু কড়া ইঙ্গিত থাকবে, 
অকারণে ঝগড়া হবে, 
তোমার আর আমার কিছু নিন্দিত নাম হবে।
কিন্তু মেয়ে আমাদের থেকে যন্ত্রণা লুকাবে... 
আর না জানি তখন কেমন কেমন পরিস্থিতি হবে! 
দূর থেকে সেই মিষ্টতা, 
কিন্তু ভেতরে না জানি কত বিষ আর কী কী দাবি থাকবে।
কীভাবে করবে তখন তুমি তাদের চাহিদা পূরণ? 
তুমি কি কখনও কিছু রোজগার করেছ? 
কারও মেয়ের কাছ থেকে তুমিও তো যৌতুক নিয়েছিলে, 
সেই যৌতুক কি তুমি কখনও তোমার মেয়েকে দিতে পারবে...?
তোমার অভ্যাস ছিল শুধু নেওয়ার, 
কিন্তু খোদা তো অন্য হাতটিও দিয়েছেন। 
কীভাবে ভুলে যাও যে তোমার ঘরেও একটি মেয়ে হয়েছে! 
তুমিই তো যৌতুকের এই প্রথা তৈরি করেছ, 
এখন সেই পাপের দেনা আমি নিজে রোজগার করে পূরণ করছি।
তোমার জামাইয়ের টাকার খিদে আমার পরিবার নয়, 
এখন আমি মেটাচ্ছি। 
হ্যাঁ... হ্যাঁ, আমি স্বার্থপর হয়ে গেছি... 
আমার মেয়েকে বাঁচাতে!

 

আত্মসম্মান - সমর্পিতা রাহা



সমর্পিতা রাহা 


কশেরুকা সোজা রেখে 
   দুই চাকাতে চলো,
আত্মসম্মান বজায় রেখে 
    মানুষ তবে বলো।
আত্মবিশ্বাস লাঠির ভরে
     হাঁটো সঠিক পথে,
দুর্নীতির পথ মুখ ঘুরিয়ে 
    চলো সোনার রথে।
মনুষ্যত্ব সযতনে
  যত্ন করে রেখো,
মানুষ কিন্তু উন্নত জীব
জীবন দিয়ে শেখো।
আত্মসম্মান অমূল্য ধন
   হয়না যেন নষ্ট,
লম্বা জীবন ঝড়ের দাপট 
আসবে অনেক কষ্ট।
মানবতা তাজা থাকলে 
    কদর পাবে ভবে,
মেরুদণ্ড ভেঙে গেলে 
    ভূপতিত হবে।

ইতিহাসে বিপ্লববাদ - সমাজ, সাহিত্য ইত্যাদিতে তার প্রভাব... - জয়দীপ বসু

জয়দীপ বসু


প্রাক্ কথন
বিপ্লববাদ (Revolutionism) কেবল রক্ত-রঞ্জিত অভ্যুত্থান নয়; এটি একটি ধারাবাহিক চিন্তা-প্রবাহ, যার কেন্দ্রে থাকে পুরোনো শৃঙ্খল ভেঙে নতুন সামাজিক চুক্তি গড়ার ইচ্ছা। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এই ইচ্ছা কিভাবে প্রকাশ পেয়েছে, কিভাবে সাফল্য, ব্যর্থতা এসেছে এবং বাংলার বিপ্লববাদ প্রসঙ্গে এর প্রতিধ্বনি কি -এগুলো অনুসন্ধান করাই এখানে লক্ষ্য।


ধারণার ভিত্তি : 
বিপ্লববাদ তিনটি মূল প্রশ্নের ওপর দাঁড়ায়:  
1. কে শাসন করে? ( শাসকের বৈধতা সংকট, প্রশ্ন )  
2. কাদের জন্য শাসন? (শ্রেণি বা জাতি )  
3. কীভাবে পরিবর্তন? (হিংসা বা অহিংসা, দ্রুত বা ধীর)।   

এই প্রশ্নগুলো উত্তর দেওয়ার পথে উদারনৈতিকতাবাদ, মার্কসবাদ, জাতীয়তাবাদ, নারীবাদ, মনস্তাত্ত্বিক চিন্তন ইত্যাদি বিভিন্ন আদর্শের জন্ম দেয়; যেগুলো প্রত্যেকটি আলাদা, আলাদা নিজস্ব ‘বিপ্লববাদ’।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রূপরেখা:  
প্রাচীন গ্ৰীস স্টেসিস বা নগর রাষ্ট্র-- নগর-রাষ্ট্রে ধনী-গরিবের সংঘাত; তবে লক্ষ্য ছিল নীতি-সংশোধন, শাসন-ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো বদল নয়। ইংল্যান্ডের গৌরবময় (১৬৮৮): রক্তপাতহীন, তবে সংবিধানিক রাজতন্ত্রের মাধ্যমে ‘রাজা পার্লামেন্টের অধীন’ ধারণা প্রতিষ্ঠাবিপ্লববাদের শান্তিপূর্ণ মডেল।

আধুনিক বিপ্লবের জন্ম-ত্রয়ী : 
1. আমেরিকান বিপ্লব (১৭৭৬): প্রাকৃতিক অধিকার ভিত্তিক, বুর্জোয়া প্রধান। ফল—সংবিধান, ফেডারেল গণতন্ত্র।  
2. ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯): সাম্য-ভিত্তিক, জনতা-কেন্দ্রিক; পরে নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যে রূপান্তর, যা দেখায় বিপ্লব-পরবর্তী ক্ষমতার শোষণ-ঝুঁকি।  
3. হাইতিয়ান বিপ্লব (১৭৯১-১৮০৪): প্রথম সফল দাস বিপ্লব; জাতি,দাসত্ব বিলোপের মডেল, তবে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজমান।

আদর্শ-বিপ্লবের শতক (১৯-২০শতক ):  
  • মার্কস-এঙ্গেলস: উৎপাদন-সম্পর্কের বৈপরীত্য থেকে সর্বহারার বিপ্লবের তত্ত্ব।  
  • রুশ বিপ্লব (১৯১৭): প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র; ভূমি জাতীয়করণ, পরিকল্পিত অর্থনীতি, তবে একদলীয় দমন যন্ত্রের জন্ম।  
  • উপনিবেশ-বিরোধী ঢেউ: ভারত (১৯৪৭), আলজেরিয়া (১৯৬২), ভিয়েতনাম (১৯৭৫)। এখানে জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র মিলে মিশে মুক্তি-বিপ্লবী আদর্শের জন্ম দেয়।
বাংলার ভূখণ্ডে বিপ্লববাদের রূপচিত্র:

  • সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ (১৭৬০-৭০): প্রাক্-ঔপনিবেশিক কর-বিরোধী, ধর্ম-অর্থনীতির সংমিশ্রণ স্বদেশী ও বিপ্লবী দল (১৯০৫-১৯৩০): অরবিন্দ, সূর্য সেনের সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন; ব্রিটিশ-বিরোধী জাতীয়তাবাদ।  
  • নকশাল আন্দোলন (১৯৬৭-৭১): চীন-মার্কসবাদী প্রভাব, কৃষক-শ্রমিকের সশস্ত্র সংগ্রাম; মহাশ্বেতা দেবীর 'হাজার চুরাশির মা' তে পরিবারিক বিপ্লবের টানাপোড়েন স্পষ্ট।  
  • সাহিত্যের প্রতিফলন: মহাশ্বেতা দেবীর আদিবাসী বিপ্লব, নবনীতা দেব সেনের নকশাল প্রেক্ষাপট, হাসান আজিজুল হকের গ্রামীণ বিদ্রোহ—সবই বিপ্লববাদকে মানবিক প্রশ্নে রূপ দেন 
 বিপ্লববাদের দ্বিমুখী উত্তরাধিকার:  
  • মুক্তি-দৃষ্টান্ত: দাস প্রথার অবলুপ্তি, নারীর ভোটাধিকার, কল্যাণ রাষ্ট্র।  
  • দমন-চক্র:    ফ্রান্সে রোবসপিয়রের গিলোটিন, স্টালিনের শুদ্ধি অভিযান, রেড গার্ডের বিশৃঙ্খলা দেখায় যে বিপ্লব নিজেই নতুন অভিজাত শ্রেণী তৈরি করতে পারে।  

সমকালীন প্রতিধ্বনি
আজকের জলবায়ু বিপ্লব, ডিজিটাল গণতন্ত্রের দাবি, বর্ণ-ন্যায়বিচার আন্দোলন সবই একই প্রশ্ন করে, বর্তমান ব্যবস্থা কি ন্যায়সঙ্গত? হিংসা,অহিংসা, সাম্য, অসাম্য, বিশ্বায়নে তার প্রভাব ইত্যাদি নিয়ে বিতর্ক এখনও চলমান, তবে লক্ষ্য একটাই ক্ষমতার পুনঃবণ্টন। বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে সমতার আদর্শ বাস্তবায়িত করা।

শেষ বক্তব্য
ইতিহাসে বিপ্লববাদ কোনো একক ঘটনা নয়, এটি মানবজাতির অবিচার-বিরুদ্ধ অবিরাম  অধিকারের প্রশ্ন- প্রতিটি বিপ্লব পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন সম্ভাবনার ঊষার দুয়ার খুলে দেয়, কিন্তু সফলতা নির্ভর করে বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিষ্ঠান-গঠন ও নৈতিক সততার উপর। বাংলার সমাজ, সাহিত্য, অর্থনীতি, রাজনীতিতে এর প্রভাব দেখা যায়।বিপ্লববাদ শুধু রাস্তায় নয়, ঘরে, কলমে, স্মৃতিতে বাস করে এবং তাই ইতিহাসের পাতায় তার পদধ্বনি বারে বারে শোনা যায়। তাই বিপ্লববাদ মানুষের অন্তরাত্মার শোণিত স্পন্দন।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

তোর সান্নিধ্যে! - রকিবুল ইসলাম

 
রকিবুল ইসলাম


থাকি মম তোকে ঘিরে,
দিবা-নিশি পবন রুপে।
তুই থাকিস তোর মত,
ব্যথা দিয়ে যাস অবিরত।
যদি কভু হুঁশ ফিরে,
কোন কাল কোন ক্ষণে!
খুঁজে নিস তুই মোরে,
রইব শুধু তোর অপেক্ষাতে।
প্রহর গুণে বাঁচব ভূমে,
দাড়িয়ে সেই মেঠো পথে।
তুই সখি মনের হরষে,
নিবি ধুলি পায়ে মেখে।
এভাবেই ধামে তোর সান্নিধ্যে,
জীবনটা মোর যাবে কেঁটে।
রাখব তোরে চোখের কোণে,
নিভৃতে গাঁথা স্বপ্ন রবে।
নিশিথ রাতে ডাকব তোরে,
নীরবতায় মোড়ানো মৃদু রবে।
তবুও না এলে ফিরে, 
ভাসাব আশা নয়ন জলে।

বসন্তের আগমন - সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ

হাওয়ায় তনিমার চুল এলো মেলো করে দিল। আশিক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে তনিমার দিকে। কী অপূর্ব লাগছে তনিমাকে। আশিকের চোখে চোখ পড়তেই তনিমার কাছে গিয়ে হাত ধরে বলে আর অপেক্ষা করতে মন সায় দিচ্ছে না। এই বসন্ত বিকেলে তোমার আমার প্রাণ প্রিয় কখন আসবে? স্নেহের চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দেব তার কপোল। তনিমা হেসে বলে, আর তো কটা দিন। 

তনিমা-আশিক এর ঘরে আসবে নতুন সদস্য, তাদের রাজপুত্র আসবে আগেই জেনে গিয়েছিল বিজ্ঞানের সুব্যবস্থার কারণে। উদাস দুপুরে কোকিলের ডাকে যেন তনিমার মন দোলে উঠে অজানা আনন্দে। বসন্ত তো চলেই এলো, তবুও যেন তনিমা-আশিকের জীবনে আসলো না এখনো বসন্ত! শুভক্ষণ ঠিক করলো তনিমা-আশিক। সেই দিনই হবে তনিমা-আশিকের বসন্ত উৎসব। অবশেষে সেই দিন আসলো। বসন্তের এক সকালে কোকিলের ডাকে, পুষ্পরাজের শোভায়  শোভিত, মুখরিত চারদিক এই সময় ভুমিষ্ট হলো তনিমা-আশিকের বসন্ত। আগমন ঘটলো চিরচেনা পৃথিবীর মাঝে এক টুকরো বসন্ত। আনন্দের বন্যায় ভাসলো তনিমা-আশিক। এক ফোঁটা আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তনিমার গাল বেয়ে। সযত্নে অশ্রু মুছে দিল আশিক। 

প্রকৃত বসন্তের আবেশে মোহিত হলো চারপাশ বসন্তের কান্নায়। লাল টকটকে আভায় ঠিকরে বেরুচ্ছে তনিমা-আশিকের বসন্ত উৎসব। কচি ঠোঁটে কাঁপা কাঁপা ওঁয়্যা ওঁয়্যা কান্না। এ যেন কান্না নয়, এক আর্তি আমি এসেছি তোমাদের কোলে, বসন্তের আবেশে, মুখরিত করতে বদনখানি তোমাদের। 

আশিক মনে মনে উপলব্ধি করে সত্যি সত্যি আজ আমার জীবনে বসন্তের আগমন ঘটলো। নতুন পরিবেশে, নতুন করে মিলন ঘটলো মহা লগ্নে হৃদয়ের বন্ধনের মহা প্রাপ্তির। এই প্রাপ্তির ব্যখ্যা নেই আশিকের কাছে। তনিমার হাত ধরে অঙ্গিকার করে প্রতিটি বসন্ত হবে আমাদের পুত্রকে নিয়ে।

খেয়াপার... - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা   বিচিত্র এই জীবন বন্দরে,কষ্টের নোনাজল  যখন-তখন আছড়ে পড়ে!  ভয় হয়...  তূল্যমূল্য বিষাদের দিনলিপি অদৃশ্য ব্যথার কলমে স্বয়ং আমাকেই...

জনপ্রিয় পোস্ট