রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

আমার অতীত আমার ভবিষ্যত - নন্দিতা গাঙ্গুলী

 
নন্দিতা গাঙ্গুলী


আমার অতীত আমার ভবিষ্যত
  - নন্দিতা গাঙ্গুলী

আমার অতীত জানে আমার কান্নার রঙ,  
ভাঙা স্বপ্নের ধুলোয় মাখা কত শত ঢঙ।  
ছোট্ট ভুলের পাহাড়, না-পাওয়ার গল্প,  
তবু সে-ই শিখিয়েছে আমায় হতে অল্প অল্প।  

অতীত আমার শিক্ষক, কঠিন হাতে ধরে,  
শিখিয়েছে পথ চলতে আবার পড়ে পড়ে।  
যে হাত ছেড়ে গেছে, যে কথা রয়ে গেছে বাকি,  
সব নিয়েই আজ আমি—একটুখানি পাকা-পাকি।  

আর ভবিষ্যত? সে তো একরাশ সাদা পাতা,  
যেখানে রোজ লিখি আমি নতুন স্বপ্নের কথা।  
ভোরের আলোর মতো নরম তার আহ্বান,  
বলে, “ভয় কিসের? তুই তো পেরিয়ে এলি শ্মশান।”  

জানি না কাল কী হবে, ঝড় নাকি জোছনা,  
তবু হাঁটবো আমি, বুকে নিয়ে আজকের প্রেরণা।  
অতীত যদি হয় শিকড়, ভবিষ্যত তবে ডাল,  
আর আমি আজ—ফুল হয়ে ফোটার তাল।  

অতীতকে জড়িয়ে ধরি, ক্ষমা করি নিজেকে,  
ভবিষ্যতকে বলি, “আয়, বসি মুখোমুখি দেখে।”  
যা গেছে তা গেছে, যা আসবে তা আসুক,  
আমি আছি, এই আমি—এইটুকুই হোক সুখ।  

                        
                      

অসমাপ্ত পান্ডুলিপি... - ডা. তানভীর হাসান তানিম


ডা. তানভীর হাসান তানিম

অসমাপ্ত পান্ডুলিপি
ডা. তানভীর হাসান তানিম

বহুদিনের জমানো অজস্র লুকানো জমাট ব্যথা,
হাসি-কান্না, নীরবতার কথা,
বন্ধু— এত সহজে কি যায় মুছে?
চাইলেই কি সব কষ্ট দেওয়া যায় ঝেড়ে ফেলে—
অতীতের আস্তাকুঁড়ে।
বারবার স্মৃতি হয়ে তারা আসে ফিরে,
মেঘলা বিকেলের নীরব জানালায়,
অকারণে মন আজও তোমাকেই খোঁজে।
পুরোনো ডায়েরির ভাঁজে—
শুকিয়ে থাকা সেই গোলাপ ফুলে,
নিঃশব্দে কথা যায় বলে।
সময় বদলায়, বদলে যায় মানুষ,
কিছু সম্পর্ক স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়—
জীবনের ভিড়ে।

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নেরা - রামকৃষ্ণ পাল

রামকৃষ্ণ পাল 


কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নেরা
- রামকৃষ্ণ পাল 

 
অবশেষে এল স্বপ্নের সেই দিন 
বইছে বাতাস ছন্দে,
হাসছে পুবের আকাশ দিগন্তে 
গাইছে পাখি আনন্দে।

পুলকিত পুষ্পরাজি রাজকীয় 
বেশে ফুটছে বাগানে,
পাখি পতঙ্গ অলি ধাইছে সেথায় 
ধরতে রাগিনী গানে। 

স্বপ্নের সেই দিন জানি না ক'দিন 
রয় আপনার ঘরে, 
এলোমেলো বাতাস থেমেছে হঠাৎ 
শান্তি কুসুমের স্তরে।

তরুণ যৌবনের স্বপ্নের সাথীরা 
সুদিনের অপেক্ষায়, 
মুছে যাবে যত পাপ তাপ গ্লানি 
হাসবে মানবতায়। 

কেটে যাক সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব আশঙ্কা 
দেখুক স্বপ্ন ভোরেরা,
আসুক কাঙ্ক্ষিত সেই ভালোবাসা
দূর হোক ঐ ভয়েরা।

ঘুমপাড়ানি গান ✑ মেফ্তাহুল জান্নাত

মেফ্তাহুল জান্নাত


 ঘুমপাড়ানি গান
✑ মেফ্তাহুল জান্নাত 

চাঁদের সঙ্গে আজকাল আমার বড্ড আড়ি,
বহুদিন তার আলোয় অবগাহন করা হয়না,
জড়িয়ে থাকা হয়না তারই বিচ্ছুরিত স্বর্ণাভ শাখা-প্রশাখা!
ঘুমরাত যেন পাড়ি দিয়েছে কোনও এক অবিসম্ভাব্য স্বর্গের প্রতীক্ষায়।
চোখ বুজলেই দেখতে পাই কেবল–
একটা অন্ধকার ঘর, অদূর দুঃসহ এক অনিশ্চিত জীবন!
একদিন হঠাৎ…. 
হঠাৎ তুমি এলে, আর এসেই কী-না আবদার করে বসলে - 
তোমায় শোনাতে হবে ঘুমপাড়ানি গান!
“ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা…”

এমন এক অনিশ্চিত জীবনে যার বসবাস,
তোমায়— কী করে কথা দিই বলোতো?
আবার এও ভাবি,
ওই একটা কল্পনা করতে খুব বেশি বাঁধা নেই!
এই ক্লান্ত আমি'র এবং তুমি'র এইটুকু সাধ ক্ষান্ত হবে,
যদি দেখা হয়ে যায় নিমিষেই…
কোলের উপর তুমি এবং, তোমার মনের বাড়িঘর
একটুকু ছাদ, বৃষ্টি শহর। 
আমরা হারাই বেখবর।
পথ হতে পথ, পথেঘাটে; অনেক দূরের…
সমুদ্র আর অনেক চাঁদঝরা এক পাহাড়ের অসীমতায় মত্ত।
চাঁদে চাঁদে— তারায় তারায়—
আকাশের ও গানের সকল নক্ষত্রমণ্ডলী ছাপিয়ে। 

তোমায় ঘুম পাড়াব বলে, 
গানটুকু আজ কণ্ঠে আছে তোলা,
রাতের মিছিল যায় যে চলে ছুটে, 
আমার জীবন গুনছে জপের মালা।
চাঁদের এবং রাতের। স্বপ্ন এবং প্রাতের।
গান এবং ছন্নছাড়া বিষাদগ্রস্ত চাঁদের! 
আমার প্রহর ডাকছে দূরের চাঁদ, ওই….
সুরেরা ওই ঘুমের দেয়াল ভাঙন জুড়ে রাখছে খেয়াল।
ডাকছে তোমায়, 
ডাকছে আমায়– ঘুমপাড়ানি গান;
জীবনখানা শঙ্কিত তাই, 
চাঁদ হলো আজ স্নান?
চাঁদের বাড়ি– ঘুমের রাত; 
এবং তোমার আহ্বান। 

ডাকছে এসো– ঘুমপাড়ানির গান!

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

গল্পধারা বুধবার 🔰 রহস্যময় গল্প - পর্ব – ১ ( কালো দরজার ও পাশে )

 


গল্পধারা বুধবার 🔰

বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ ই-বুক বিভাগ কতৃক প্রকাশিত - 
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক গল্পের সংকলন 

সম্পাদক - আকাশ আহমেদ

প্রকাশঃ ২৭শে ই মে ২০২৬ (বুধবার)

প্রচ্ছদ ডিজাইনঃ সর্বানী দাশ



------------------------------------------------------------------------------------


 
ধারাবাহিক গল্প: 

রহস্যময় গল্প

লেখক তামিম আদনান

পর্ব – 
কালো দরজার ওপাশে )


রাত তখন ঠিক বারোটা ছুঁইছুঁই। আকাশজুড়ে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। দূরের বাঁশবাগানের মাথায় ঝুলে থাকা আধখাওয়া চাঁদটাকে দেখে মনে হচ্ছিল কেউ যেন ছুরি দিয়ে তার শরীর কেটে নিয়েছে। বাতাসে শীতের গন্ধ, অথচ ক্যালেন্ডারে তখন ভরা আষাঢ়।

ঢাকার ব্যস্ত জীবন ছেড়ে সাংবাদিক আরিব হঠাৎ করেই চলে এসেছিল “মরিচাপুর” নামের ছোট্ট এক গ্রামে। জায়গাটা মানচিত্রে থাকলেও মানুষের স্মৃতিতে খুব একটা নেই। কারণ এখানে কেউ বেশিদিন থাকতে চায় না।

গ্রামে ঢোকার আগেই বাসের বৃদ্ধ হেলপারটি তাকে বলেছিল—

— “ভাই, রাত হইলে ওই গ্রামের মানুষ জানালা খোলে না।”

আরিব হেসেছিল।

— “চোর-ডাকাতের ভয়?”

বৃদ্ধ লোকটা কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল।

— “চোর মানুষ হয়। কিন্তু সবকিছু মানুষ না।”

কথাটা শুনে আরিব মুচকি হাসলেও ভেতরে কোথাও একফোঁটা শীতলতা নেমে এসেছিল। সে মূলত এসেছে একটি পুরোনো ঘটনার অনুসন্ধানে। প্রায় বিশ বছর আগে মরিচাপুর জমিদারবাড়িতে একই রাতে পাঁচজন মানুষ নিখোঁজ হয়েছিল। কেউ তাদের লাশ খুঁজে পায়নি। পুলিশ কেস বন্ধ করে দেয়। গ্রামের মানুষ ঘটনাটিকে “কালো দরজার রাত” নামে ডাকে।

আরিবের সম্পাদক তাকে স্পষ্ট বলেছিল—

“যদি সত্যিটা বের করতে পারো, এটা হবে বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবেদন।”

কিন্তু আরিব জানত না, সে কেবল একটি গল্পের পেছনে নয়, বরং এমন এক অন্ধকারের দিকে হাঁটছে—যেখানে মানুষের চেয়ে স্মৃতিরা বেশি জীবিত।

গ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত হয়ে গেল। চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা। কুকুরের ডাক নেই, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ নেই, এমনকি বাতাসও যেন নিঃশ্বাস আটকে রেখেছে।

রাস্তার পাশে এক চায়ের দোকান খোলা ছিল। দোকানদার বৃদ্ধ লোকটি আরিবকে দেখেই চমকে উঠল।

— “আপনি বাইরের মানুষ ?”
— “জি। একটা রিপোর্টের কাজে এসেছি।”
— “জমিদারবাড়ির ব্যাপারে?”

আরিব অবাক হলো।

— “আপনি বুঝলেন কীভাবে ?”
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে চায়ের কাপ নামিয়ে বলল—

— “যে বাইরের মানুষ রাতের বেলা মরিচাপুরে আসে, তারা দুই কারণে আসে। কেউ ভুল করে আসে… আর কেউ জমিদারবাড়ির জন্য।”

লোকটার চোখে অদ্ভুত আতঙ্ক ছিল।

— “ওই বাড়িতে কেউ থাকে?”
— “মানুষ না।”

আরিব এবার একটু বিরক্ত হলো।

— “আপনারা সবাই এমন রহস্য করে কথা বলেন কেন?”
বৃদ্ধ কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল—

— “কারণ এই গ্রামে সত্যি কথা জোরে বলতে নেই।”
ঠিক তখনই দোকানের পেছন থেকে একটা বিকট শব্দ এল। যেন কোনো ভারী জিনিস পড়ে গেল। বৃদ্ধ হঠাৎ কেঁপে উঠল।

— “আপনি যান। এখনই যান!”
— “কিন্তু—”
— “আজ রাত ভালো না।”

লোকটার আচরণে অদ্ভুত কিছু ছিল। আরিব আর কথা বাড়াল না। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে এগিয়ে গেল গ্রামের একমাত্র অতিথিশালার দিকে।

অতিথিশালাটার নাম “নীলকমল ভিলা”। অথচ পুরো বাড়িটার রঙ ছিল ধূসর। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বারান্দার বাতিগুলো বারবার জ্বলছে আর নিভছে।

দরজা খুললেন মাঝবয়সী এক মহিলা।

— “রুম লাগবে?”
— “জি।”
মহিলাটি কোনো কথা না বলে তাকে একটি চাবি দিলেন।
— “দ্বিতীয় তলা। কিন্তু একটা কথা…”
— “জি?”
— “রাত তিনটার পর দরজা খুলবেন না।”
আরিব দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— “আপনারাও শুরু করলেন?”
মহিলা শান্ত গলায় বললেন—
— “আমি মজা করছি না।”

তার চোখদুটো দেখে মনে হলো তিনি সত্যিই ভয় পাচ্ছেন।
রুমে ঢুকে আরিব জানালা খুলতেই ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে এক অদ্ভুত গন্ধ এলো। যেন পুরোনো ভেজা কাপড় আর পোড়া কাঠের মিশ্রণ।

দূরে অন্ধকারের মধ্যে জমিদারবাড়িটা দেখা যাচ্ছিল। বিশাল কালো ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটার একটি জানালায় ক্ষীণ আলো জ্বলছিল।

আরিব থমকে গেল।
“ওখানে তো কেউ থাকে না!”

সে ক্যামেরা বের করে জুম করল। কিন্তু ঠিক তখনই আলোটা নিভে গেল।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।

টক… টক… টক…
আরিব দরজা খুলে দেখল কেউ নেই। শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটি পুরোনো চিঠি।

চিঠির ওপর কাঁপা হাতে লেখা—
“কালো দরজাটা খুলো না।”

তার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল।

সে দ্রুত করিডোরে তাকাল। কেউ নেই। শুধু লম্বা অন্ধকার পথ আর দেয়ালের পুরোনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ।

রুমে ফিরে এসে চিঠিটা খুলল।
ভেতরে মাত্র একটি লাইন—
“তারা এখনো বেঁচে আছে।”
রাত বাড়ছিল।

আরিব ঘুমাতে পারছিল না। সাংবাদিক হিসেবে সে বহু ভয়ংকর ঘটনা দেখেছে। কিন্তু আজকের পরিবেশটা অন্যরকম। যেন পুরো গ্রাম কোনো অদৃশ্য আতঙ্কের নিচে চাপা পড়ে আছে।

ঘড়িতে রাত ২:৪৭।

ঠিক তখনই নিচতলা থেকে ভেসে এলো পায়ের শব্দ।

ধুপ… ধুপ… ধুপ…

কেউ যেন ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে।
আরিব দরজার কাছে গিয়ে কান পাতল।
শব্দটা থেমে গেল তার দরজার সামনে।
তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।

এরপর খুব আস্তে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—
— “দরজা খোলো…”

কণ্ঠটা মানুষের মতো, অথচ পুরোপুরি মানুষ না। যেন অনেকগুলো কণ্ঠ একসঙ্গে কথা বলছে।

আরিব কিছু বলল না।

আবার কণ্ঠটা শোনা গেল—
— “আমরা ফিরে এসেছি…”

তার হাত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে কালো ধোঁয়ার মতো কিছু ঢুকতে শুরু করল।

আরিব আতঙ্কে পিছিয়ে গেল।
ধোঁয়াটা ধীরে ধীরে মানুষের আকার নিতে লাগল।
সে দ্রুত লাইট জ্বালাতে গেল। কিন্তু লাইট জ্বলল না।
পুরো রুম অন্ধকার।

এরপর সে স্পষ্ট শুনতে পেল—
কেউ তার কানের কাছে ফিসফিস করছে—

— “কালো দরজাটা খুলে গেছে…”
ভোর হওয়ার আগেই আরিব অজ্ঞান হয়ে যায়।

সকালবেলা যখন তার ঘুম ভাঙল, তখন সূর্যের আলো জানালা দিয়ে ঢুকছে। যেন রাতের সেই ভয়াবহতা কখনো ঘটেইনি।

কিন্তু মেঝেতে কালো পোড়া দাগ এখনো রয়েছে।
আরিব নিচে নেমে মহিলাকে জিজ্ঞেস করল—

— “গতরাতে কে আমার দরজায় এসেছিল?”
মহিলা চুপ।

— “আপনি শুনেছেন নিশ্চয়ই!”
তিনি ধীরে ধীরে বললেন—

— “আপনি দরজা খুলেননি, এটাই ভালো হয়েছে।”
— “কেন?”

মহিলার চোখ ভিজে উঠল।

— “তিন বছর আগে আমার ছেলে দরজা খুলেছিল।”
— “তারপর?”
 
— “সকালে শুধু তার জুতো পাওয়া গিয়েছিল।”
আরিবের শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল।

সেদিন দুপুরে সে জমিদারবাড়ির দিকে রওনা দিল।

গ্রামের মানুষ তাকে থামানোর চেষ্টা করল। কেউ সরাসরি কথা বলছে না, কিন্তু সবার চোখে একই আতঙ্ক।

জমিদারবাড়ির সামনে পৌঁছে সে থমকে দাঁড়াল।

বিশাল লোহার গেট। তার ওপরে মরিচা ধরা অদ্ভুত প্রতীক আঁকা। মনে হচ্ছিল কারো বিকৃত মুখ।
বাড়ির ভেতরটা নিস্তব্ধ। পাখিরাও যেন এড়িয়ে চলে জায়গাটা।

গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই সে অনুভব করল তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেছে।
চারপাশে ধুলো, ভাঙা দেয়াল, শুকনো গাছ।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো—বাড়ির মূল দরজাটা আধখোলা।
যেন কেউ একটু আগেই ভেতরে ঢুকেছে।

ভেতরে ঢুকতেই কড়া গন্ধ নাকে এলো। পুরোনো কাঠ, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল আর কোনো অচেনা কিছুর গন্ধ।

দেয়ালে ঝুলছে বিশাল সব ছবি। জমিদার পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু একটা ছবির সামনে গিয়ে আরিব থেমে গেল।

ছবিতে পাঁচজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
ছবির নিচে লেখা—

“শেষ রাত্রির অতিথিরা, ২০০৬”
এরা সেই পাঁচজন, যারা নিখোঁজ হয়েছিল।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—

ছবির এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের মুখ ঠিক আরিবের মতো।
একদম হুবহু।

তার বুকের ভেতর যেন বিস্ফোরণ হলো।
— “এটা কীভাবে সম্ভব?”

ঠিক তখনই ওপরতলা থেকে শব্দ এলো।

ধুপ…
ধুপ…
ধুপ…

কেউ হাঁটছে।

আরিব ক্যামেরা শক্ত করে ধরল। ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।
ওপরের করিডোরে পৌঁছে সে দেখল, শেষ প্রান্তে একটা কালো দরজা।
পুরো বাড়ির মধ্যে একমাত্র দরজাটা একদম নতুনের মতো।
কালো রঙ চকচক করছে।

দরজার সামনে মেঝেতে শুকনো রক্তের দাগ।

আর দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসছে খুব আস্তে ফিসফিস শব্দ—
— “ফিরে এসো…”

আরিবের হাত কাঁপছিল।
হঠাৎ তার পেছনে কারো নিঃশ্বাসের শব্দ।

সে ঘুরে দাঁড়াতেই দেখল—
একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে।

চোখদুটো সাদা। মুখ শুকনো। হাতে লণ্ঠন।
বৃদ্ধ ফিসফিস করে বলল—

— “অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
— “আপনি কে?”
— “আমি এই বাড়ির শেষ দারোয়ান।”
— “এই দরজার ওপাশে কী আছে?”

বৃদ্ধের ঠোঁট কাঁপতে লাগল।

— “ওপাশে মানুষ যা হারায়… তা আর ফিরে পায় না।”
— “পাঁচজন মানুষ কোথায় গেল?”

বৃদ্ধ ধীরে ধীরে কালো দরজার দিকে তাকাল।
তারপর বলল—

— “ওরা কোথাও যায়নি।”

ঠিক তখনই দরজার নিচ দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করল।
আরিব পেছাতে গেল।

কিন্তু বৃদ্ধ তার হাত শক্ত করে ধরে বলল—
— “আজ রাতেই দরজাটা আবার খুলবে…”
— “মানে?”

বৃদ্ধ আতঙ্কিত চোখে তাকাল—
— “আর এবার ওরা তোমাকে নিতে এসেছে।”

ঠিক তখনই কালো দরজার ভেতর থেকে ভেসে এলো এক বিকট শব্দ।
ধীরে ধীরে দরজাটা নিজে থেকেই খুলতে শুরু করল…

আরিব দেখল—

দরজার ওপাশে কোনো ঘর নেই।
শুধু অসীম অন্ধকার।

আর সেই অন্ধকারের ভেতর শত শত মানুষের চোখ জ্বলছে।



( চলবে…

---------------------------------------------



 তামিম আদনান

🔹 বয়সঃ ৪৫
🔹 জেলা / বর্তমান ঠিকানাঃ আহাদিপুর, কলাতিয়া,
      কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১৩। 

🔹 মোবাইল নম্বরঃ ০১৮৩১৬৮১৫৯৯
🔹 ইমেইলঃ adnansir599@gmail.com

🔹  তামিম আদনান, জন্ম ৩০/১২/৮০ পুরান ঢাকার ভাগালপুর এলাকায়। যদিও শৈশব, কৌশোর,যৌবন পড়াশুনা, বিয়ে সবকিছু পার হয়েছে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত নূর মোহাম্মদ মডেল স্কুল, কলাতিয়া, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

দিনকাল... - সুমি সাহা

- সুমি সাহা 

 দিনকাল 
- সুমি সাহা 


দিনকাল আজকাল 
    মোটে যেনো ভালো নয়,
পথে ঘাটে যেথা সেথা 
     বিপদ লুকিয়ে রয়‌।

মানুষের মত দেখতে তারা
   কিন্তু মানুষ তারা নয় ,
মুখোশ পড়া মুখোশধারী 
   মানুষের ভিড়ে রয়।।

সুযোগ বুঝে কোপ দেয় 
  সামলানো বড়ো দায়,
    প্রশাসন সব দেখেও
  চুপ করে থাকে ঠায়।।

নারীরা সদা থাকে তারা
    নিরাপত্তাহীনতায়,
      পথে ঘাটে চলতে    
     সদা তারা ভয় পায়।।

রাতে পথেঘাটে সদা যেনো
কোনই শান্তি নাই,
সদা বিপদ আড়ালে থাকে 
দেখা সদা  নাহি পাই।।

আমার অতীত আমার ভবিষ্যত - নন্দিতা গাঙ্গুলী

  নন্দিতা গাঙ্গুলী আমার অতীত আমার ভবিষ্যত   - নন্দিতা গাঙ্গুলী আমার অতীত জানে আমার কান্নার রঙ,   ভাঙা স্বপ্নের ধুলোয় মাখা কত শত ঢঙ।   ছোট্ট ...

জনপ্রিয় পোস্ট