বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

ভাগ্য রজনী! - রকিবুল ইসলাম

 


ভাগ্য রজনী এলো ধরাতে,
সৃষ্টি কূলের তরে।
পাপী-তাপি মিলে সবে,
গগনে রবে চেয়ে।
আয়ু-বায়ু জীবন চারিতে,
তালিকা নবায়ন হবে।
হিসাব নিকাশের হালখাতা করে
পঙ্কিলতা যাবে ভুলে।
মুক্তি কামনায় রোনাজারির রবে,
রিক্ত হাত ভরাবে।
বেলার ডাকে ওঠরে জেগে,
সৃষ্টি কুল সবে।
কর্ম স্মরে অনুতাপে ভুগে,
নীরব কান্না করে।
জানিনা আজ কি'যে হবে,
ভাগ্য লিখনীর রাতে।
আলোর ছোঁয়ায় নশ্বর ভূমে,
আঁধার রবে দূরে।
মুক্তি চাই এসো সবে,
এমন বরকতের রাতে।

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

নারী যখন অত্যাচারী - সর্বানী দাস

 


ধরার মাঝে নারী জাতির দেখি ভিন্ন রূপ,
অত্যাচারী নারীর কাছে স্বয়ং ঈশ্বর চুপ।
 
স্নেহময়ী হলে নারী সংসার রক্ষা হয়,
অত্যাচারীর বদমেজাজে পুরুষ জাতির ভয়।
 
নারী যখন অন্নপূর্ণা দেয় দুমুঠো ভাত,
অত্যাচারী নারীর থেকে দূরত্ব দশ হাত।
 
নারী যখন সত্যবাদী নাইকো মনে দ্বেষ,
অত্যাচারীর লকলকে জিভ কটু কথার শ্লেষ।
 
ভদ্রনারী বুদ্ধিমতী চুপটি করে সয়,
মূর্খনারী মনে করে অপমানেই জয়।
 
সুশিক্ষায় যে বড় হবে রাখবে সবার মান,
মুখ মুখোশে অত্যাচারী দেখায় প্রীতির টান।
 
ভালো বংশ হলেই তবে মানবতায় বাস,
নিম্নমনা নারীর হৃদে ঘৃণা হিংসার চাষ।
 
মানিয়ে নেবে যে নারী পরবে সুখের তাজ,
অল্পবিদ্যা ভয়ংকরীর অহংকারের রাজ।
 
সংস্কার যাদের রক্তে আছে তাদের কাছেই সুখ,
অকৃতজ্ঞ নারী নাগিন, পাপীর দুটি মুখ।

শব্দের থাপ্পড় - সালাম মালিতা

 


জানেন বাবু....

আমরা সবাই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ

মাঝেমধ্যেই খাবারের পাত শূন্য থাকে,

দু'বেলা দুমুঠো অন্নের দাবি

সমাজের চোখে বড্ড স্পর্ধা মনে হয়।

লিকলিকে আঙুল নড়িয়ে মৃত্যুকাতর বললেও

পদপিষ্ট করতে ভুল হয় না,

সভ্য সমাজের উচ্ছিষ্ট মনে করে

আমাদের কঙ্কাল দিয়েই অট্টালিকা নির্মাণ হয়!

 

বিশাল আকাশের কার্নিশে

বুভুক্ষু অবস্থায় আমাদের নিত্য রাত কাটে,

ড্রেনের দুর্গন্ধ বড্ড আত্মিক হয়ে গেছে

তাই পেটের গুদামে আগুন লাগলেও-

মোটেও গন্ধটা বাইরে বার হয় না!

ঘুমহীন নিশিযাপন করতে করতে আজকাল

যমদূতের সাথে সখ্যতা হয়েছে বেশ,

বারবার দ্বারপ্রান্তে হাজিরা দিলেও

একেবারে সঙ্গে নেয় না তাই!

 

দিনের পর দিন নিরন্ন থাকায়

পুষ্টিহীনতায় কথা এলোমেলো হয়ে যায় সব,

গুছিয়ে বলতে পারি না!

ডাস্টবিনের পাশে পোড়া ইটের টুকরো নিয়ে

রেললাইনের গার্ডওয়ালে-

কাঁপা কাঁপা হাতে ঘষে ঘষে আমরা

মন খারাপের কথা লিখি।

পুঁজিবাদী সমাজের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য

আমাদের কাছে আধুনিক কোনো যন্ত্র নেই,

কৃপণ ধনীদের খুনের প্রমাণ দিতে তাই

একমাত্র হাতিয়ার হিসাবে শব্দকেই বেছে নিয়েছি!

মা - মারিয়াম রামলা

 


মা কিভাবে কাটাবে এই বাকিটা জীবন..?

বাবা তো মাকে একটা পুতুলের মতো আগলে ধরে রেখেছিলেন।


প্রতিটা কোলাহলে লুকিয়ে থাকতো কতো ভালোবাসা

আজ শুধু বাবার কথা রয়ে গেছে সবকিছু সত্ত্বেও,

আমার মা মাথা নিচু করে বসে থাকে...

যেমনটি ওড়নায় বধূ সেজে এসেছিল,

এত অল্প বয়সে সে বিধবা হয়ে গেল

যদিও মা এতটা বছরে বাবাকে কখনও একা রাখেননি,

 

প্রতিদিন চিৎকার করত,

পরিষ্কার কর আজ রাত জেগে সে পরিচ্ছন্নতায় সেই প্রেম খোঁজে,

সবকিছু থাকা সত্ত্বেও আমার মা কেন একা...?

 

দুই মুহূর্ত জীবনে সময় বা কত থাকে...?

আজ রাগ কাল হাসি কিছু মুহূর্ত সহজ হয়ে যায়,

কিন্তু জীবন কি এভাবেই কেটে যায়?

 

সেই গহনা সেই শাড়ি,

চুড়ির ঝিঙে সেই প্রেম খোঁজে।

 

প্রতি নিঃশ্বাসে সে বেদনা বুনে,

হ্যাঁ আজ মাকে ঘুমোতে দেখেছি

কিন্তু সে আগের মত অজ্ঞ নয় মাঝরাতে বসে থাকতে দেখেছি।

 

মা কিভাবে কাটাবে এই বাকিটা জীবন..?

বাবা তো একটা পুতুলের মত মাকে আগলে ধরে রেখেছিল আমি দেখেছি...!!

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

জীবনের অবসান! - রকিবুল ইসলাম

 


আমি চেয়েছি হতে নিরুদ্দেশ,

নিতে চেয়েছি ছুটি।

চেয়েছি পালাতে জীবন থেকে,

চেয়েছি অনন্তর-নিরন্তর মুক্তি।

মিশতে চেয়েছি আকাশ-জমিনের মিলনস্হলে,

ডুবতে চেয়েছি সাগর-নদীর মোহনায়।

মিলিত হতে চেয়েছি ভূ-ত্বকের ধূলিকণায়,

হারাতে চেয়েছি গগণের নীলিমায়।

ঘণ-গাঢ় সবুজ বনানী ডাকে আমায়,

দর্শণার্থে তার নিঝুম সৌন্দর্য!

ভীতসন্ত্রস্ত অসহায় আমার মননকে

অনুপ্রেরণা যোগাতে অগ্রসর হয়ে আসে

লক্ষ-কোটি জোনাকির সংঘ।

অগণিত তারকারাজির মেলা অভ্যর্থনা জানায়

আমাকে তার নীলাভ আলোর ঈষৎ আভায় স্নাত হতে,

দখিনা হাওয়াও আমাকে মৃদু তৃপ্তি দিতে

যোগ দেয় সেই সভাতে।

ক্ষণিক আমাদে উদ্বেলিত করতে আমায়

ডানা ঝাপটে উড়ে আসে প্রজাপতির দল!

সহস্র ঝি ঝি পোকা গেয়ে উঠে,

হয়ে যায় গীতি শতদল।

সবুজ দূর্বাঘাস বিছিয়ে দেয় গালিচা,

হতে আমার চলার পথের সহায়িকা।

স্বাগত জানাতে অবিরাম গতিতে

ছুটে চলে অনাবিল ঝর্ণাধারা,

আমার নেত্রের অশ্রু মোচনে

নয়নযুগলে মিশে যায় মোর

গগণের নীহারিকা।

দুঃখ ধুয়ে দিতে বর্ষিত হয়

অবারিত বারিধারা।

স্বাগত জানাতে ছুটে আসে আমায় গোটা বসুন্ধরা!

যে আমাকে নিয়ে মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত প্রকৃতির 

এত আয়োজন!

পারলে না করতে তুমি তারে তোমার প্রিয়জন।

শত অবহেলা,অতৃপ্তি আর আক্ষেপ নিয়ে

জমাব পাড়ি ওপারে না ফেরার দেশে,

থাকব হয়ে তাই শঙ্খচিল শালিকের বেশে।

এভাবেই কেঁটে যাবে মোর জীবনকাল,

মত্যু এসে অবশেষে করে দিয়ে যাবে

মোর জীবনের অবসান!!

উড়াল মন - পিউ পাহাড়ী

 


তোমাকে হঠাৎ মনে পড়লে আকাশ দেখি,

দেখি বাসার পথে পাখিদের উড়ে যাওয়া,

সন্ধ্যাতারা কেমন করে চাঁদের আলোয় ফিকে হয়ে আসে,

কেমন করে জোৎস্না ধুয়ে দেয় দগ্ধ,

ক্লান্ত নিশাচর শরীর,

কেমন করে রাতপাখিটা ডানার আদর মাখতে মাখতে…

তার সঙ্গীর ইচ্ছেতে তলিয়ে যেতে থাকে।

আস্তে আস্তে কমতে থাকে তারাদের ভিড়,

এবার একলা হওয়ার পালা।

অবশেষে চোখের পাতা এক হয়।

দেখি আমার অপেক্ষায় জেগে থাকা তোমার ব্যাকুল দুটো চোখ।

ভাগ্য রজনী! - রকিবুল ইসলাম

  ভাগ্য রজনী এলো ধরাতে, সৃষ্টি কূলের তরে। পাপী-তাপি মিলে সবে, গগনে রবে চেয়ে। আয়ু-বায়ু জীবন চারিতে, তালিকা নবায়ন হবে। হিসাব নিকাশের হালখা...

জনপ্রিয় পোস্ট