সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

গল্প - অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ... - সুবর্ণা দাশ

 


গল্প -
অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ
- সুবর্ণা দাশ


আজ উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হলো। মণি সেরা দশজনের মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। দলে দলে লোকজন ভিড় করতে লাগলো মণিদের বাড়িতে। বাড়ি'তো নয়, একটুকরো খড়ের ছাউনির ছোট ঘর। সাংবাদিক আসলো টিভি চ্যানেল থেকে। মহা আনন্দের সমারোহ আজ মণির মা-বাবার কাছে। 

অভাবের সংসার রীতা ও জয়ের। অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করে রীতা, জয় ও তাদের আদরের একমাত্র কন্যাসন্তান মণি।বাবা জয় ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করে আর মা রীতা পরের বাড়িতে কাজ করে। মণির ছোট বেলা থেকে পড়া লেখার প্রতি বড় ঝোঁক ছিল। তাই মা-বাবা অনেক কষ্টে মণিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াচ্ছে। ঠিকঠাক কোন প্রাইভেট শিক্ষকও দিতে পারেনি মণিকে মণির মা-বাবা। 

স্কুলে শিক্ষকরা ক্লাসে যতটুকু পড়িয়েছেন সেটাই মনোযোগ দিয়ে বাড়িতে পড়তো মণি। দিন রাত শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো মণি। 

রীতা ও জয় মেয়ের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে পারতো না বলে,ওদের মনে অনেক দুঃখ ছিলো। মণির মা-বাবা কখনো বুঝতে পারেনি তাদের মেয়ে পড়াশোনায় এত ভালো। স্কুলের হেডমাস্টার এলো মণির মা-বাবার কাছে। আজ যেন মণিদের বাড়িতে খুশির ঢল নেমেছে। 

সাংবাদিক স্বাক্ষাৎকার নিচ্ছে মণির। পাড়া প্রতিবেশি এসে বলে 'ও মণির মা, মণিকে টিভিতে দেখাচ্ছে। মণির মা-বাবার এত আনন্দের মধ্যেও চোখে জল আসলো। রীতা ও জয় দুঃখ করে বলে,বাড়িতে আমাদের টিভি নেই যে ,মেয়েকে যে টিভিতে দেখাচ্ছে সেটা একটু দেখবো ! মণি এসে বলে, আমি বড় হয়ে চাকরি করে তোমাদের টিভি কিনে দেব। মণি সাংবাদিকদের বলে - 

"সে বড় হয়ে মানুষের ও দেশের সেবা করবে"

রীতা ও জয় আজকের দিনে মণিকে যে একটা কিছু দেবে সেই বাড়তি টাকা টুকুও নেই। তাই মনে মনে ওদের খুব দুঃখ! তবুও রীতা ও জয় খুশি। সুখের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তাদের হৃদয়ে। 

রীতা ও জয় বুঝে তাদের মেয়ে কি সাফল্য অর্জন করেছে। মেয়ে মণিকে জড়িয়ে ধরে বাবা-মা আবেগে আপ্লুত। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে গেছে ওরা ওদের নিত্য দিনের অভাবের যুদ্ধের কথা। মণিকে মিষ্টিমুখ করিয়ে জয় বলে -  

- আমি ও তোর মা পড়ালেখা করতে ভালোবাসতাম। 
কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূলে ছিলো বলে পড়ালেখা করতে পারিনি। 
আমাদের না'পারা গুলো তুই পূরণ করলি মা। 
তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি তুই আরো ভালো রেজাল্ট করবি ভবিষ্যতে। 
এই আশা থাকলো তোর কাছে। 

মণি বলে - 
- আশা আমি পূরণ করবো বাবা। 

বেলা গড়াতে ভ্যান নিয়ে জয় বেরিয়ে গেল নিজ কর্মে। জয়াও মেয়েকে চুমু খেয়ে কাজে বেরিয়ে গেল। 

মণি ভাবে - 
মা-বাবা, শিক্ষক সবাই আজ কত আনন্দ করলো আমার ভালো রেজাল্টের কারণে। 
আমি আরো ভালো করবো, নিজের পায়ে দাঁড়াবো। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করবো। 
দেশের কাজ করবো এই আমার অঙ্গিকার।




লেখিকা - সুবর্ণা দাশ


তুমি বিশ্বাস হারিয়েছ, তাই ! - বিপুল ব্যানার্জী

 
             

জ্ঞান সাগরে করতে চেয়েছ নিজেরে মহিমান্বিত,
হাসির আড়ালে করে গ্যালো ছলনা,
মুখে যা বলেছ করেছ তার যে উল্টো,
লাখো লাখো মানুষকে দিয়েছে যাতনা।

যতই আজ তুমি মহান বাক্য ঝাড়,
জীবন পলকে মানুষ চিনেছে তোমাকে,
ন্যায় সত্যের গলা টিপে তুমি মেরেছ,
ধ্বংস করে দিতে চেয়েছ মানব বিবেককে।

নাড়া কখনোই বারবার ফেল তলাতে না যায়,
জেনেও জানো না এমন অবোধ যে তুমি,
তোমাকে যারা একদিন করেছিল ব্যবহার,
স্যালুট করেছে তোমায়,ফিরে না পাবে আর ভুমি।

মানুষ কি হয় না ভালো,চন্ডাশোক হয়েছিলেন বুদ্ধ,
ইতিহাসে আছে স্বর্ণাক্ষরে লেখা যে তার,
নবপর্যায়ে তিল তিল করে গড়েছেন নিজেরে তিনি,
তোমার নেই তার পায়ের নখ যোগ্যতার সে ধার

মালিনী... - সালাম মালিতা

 


মালিনী
সালাম মালিতা 


মালিনী.....!
কেন কথা রাখলে না...?

তুমি যদি পাশে থাকতে
আমি খালি পায়ে হেঁটে যেতাম 
আ-সমুদ্রহিমাচল, 
ছুঁয়ে দিতে পারতাম গগনচুম্বী 
ঐ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ো। 
বলো, 
এমনতো কথা ছিল না...!

তুমি যাবার বেলায় বলেছিলে
বৃষ্টি আসার পূর্বেই চলে আসবে-
অথচ তুমি আর এলে না,
এদিকে কত ভরা আষাঢ় গেল
শ্রাবণ এল-
তৃষ্ণার্ত সাহারাকেও ভিজিয়ে দিল
কিন্তু তুমি....!

মালিনী তুমি কী জ্যোৎস্না দেখ?

আমাকে আজ 
নিশুতি রাতে দখল নেয়,
চামচিকে, আরশোলা, মশার দল
বন্ধু করে হাত মেলায়। 
যে রাতকে সাক্ষী করে
দু'জনাই এক হতে চেয়েছিলাম,
সেই রাত আজ অভিমান করে 
অমাবস্যা আনে।
খেপাটে মস্তিষ্কটা বুঝে উঠতে পারে না 
আসলে কে বেশি নিষ্ঠুর-
তুমি নাকি ঐ নিকষ কৃষ্ণ রাত...!

তোমার চলে যাওয়ায়
কোকিল আর বাতায়নে আসে না, 
দেরিতে ঘুম থেকে উঠলেও 
মোরগদের অট্টহাসি থেমে গেছে। 
জীবনটা কেমন একঘেয়েমি..
প্যানপ্যানির সুরে
বিষণ্নতায় বিরাজ করে,
গুরুচণ্ডালী স্বভাবে যন্ত্রমানবের ন্যায়-
হারিয়ে গেছি বহুদূরে,
নিঃসঙ্গ হয়েছি দলছুট পাখির মত-
জলীয়বাষ্পের মত উবে গেছি
অথৈ সাগরে ডুবে আছি,
বড্ড একা হয়েছি-
ওই পথভোলা পথিকের মত।

আর ফিরে এলে না.... তুমি!

মালিনী তুমি কী আর 
কোনো জন্মেই ফিরে আসবে না?
আমি তো দধীচির মত 
নিজের সর্বস্ব তোমায় লিখে দিয়েছি।
তুমি ফিরে এলে 
আম চাঁদ ছুঁয়ে দেখতাম...
মৃত্যুর শূলে চড়ে যেতাম হাসিমুখে..
শত জনমের ভালোবাসা 
এক মুহুর্তেই হাসিল করে নিতাম-
অমর প্রেমের মহাকাব্য লিখতাম 
আর;
যুগে যুগে প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ে
অমর হয়ে থাকতাম....!


লেখক - সালাম মালিতা 


পুষ্পহৃদয় দেবী বসন্ত... - তপন রায়



তুমি নিদাঘে জাত নিদাঘিনী
সবুজ খুশী আনা বর্ষা সৃজন 
বৃষ্টি মেঘ, 
ভাবনা প্রবাহের নিরন্তর 
চিরজিবী উত্তম হওয়া,
বয়ে যাওয়া অবিরত কাব্য স্রোত, 
সাহিত্য ফসল ফলানো ভাব উর্বর কাব্য পলিমাটি। 
উত্তাপ তাপে তুমি অটুট সবল,  
নিরলস উদ্যম, 
জন্ম তোমার রোদ্দুর তাপ উত্তাপে,
তাই তুমি বৃষ্টি দেওয়া মেঘ সৃষ্টি, 
পৃথিবীর জীর্ণ শীর্ণ বিনাশ শ্মশানে 
নব সৃষ্টির শতদল ।
তুমি পুষ্পহৃদয় দেবী বসন্ত সৌরভ জোয়ার।

"আত্মহারা" কবি - জয়নারায়ণ কোলে



ফেরারী মন পাখি হতে চায়।
ডানায় ভর করে আকাশটাকে ছুঁতে চায়।
খাঁচাবন্দী জীবনটা একেবারেই না পসন্দ।
একঘেয়ে বিরক্তিকর জীবনের বোঝা বইতে বইতে 
মন আজ বিবাগী।
বুকের মধ্যে হাজার কবিতার ঝড়।
অনন্ত,অসীমতার নাগাল পেতে মরিয়া।
যেখানে ডানা ঝাপটাবে কবিতার মনপাখি।
মনপাখি আজ বেকাবু।
কোনো বাধা নিষেধের তোয়াক্কা করে না।
পাখির চাই উদ্দামতা, আলোর সন্ধান।
যে আলো চোখে লাগলে বদলে যায় জীবন।
শান্ত, অলস জীবন বদলে ফেলে 
জীবনকে নতুন করে, নতুন সাজে উপভোগ।
মনপাখির গানে মাতোয়ারা হবে বিশ্বভুবন।
মনপাখি ডানা মেলে ওড়ার সুখে আত্মহারা।
আকাশের বুকে এঁকে দেবে আলো রঙের আল্পনা।।

বুঝবে কবে ? উজ্জ্বল কান্তি দাশ


লেখক - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 

বুঝবে কবে? 
✍️উজ্জ্বল কান্তি দাশ

কর্মজীবীরা দিনরাত খেটে
কষ্ট করে ফসল ফলায়, 
ধর্মজীবীরা আরামে থাকে
বিনাশ্রমে উদর ভরায়।
বাঁচার তাগিদে কর্মজীবীদের
জীবনব্যাপী হাজার কাজ, 
কর্ম বিমুখ ধর্মজীবীরা
সেজে থাকে মহারাজ। 
কর্মজীবীরা শ্রমের দামে
জীবনধারার মূল্য চুকায়,
ধর্মজীবীরা ধর্মের নামে
আপন কু-কর্ম লুকায়। 
কর্মজীবীরা কর্মের মাঝে
অমরত্বের মন্ত্র শেখায়, 
ধর্মজীবীরা লুটতে মজা
কথায় কথায় দোযখ দেখায়। 
মায়ের মতো ভালোবাসে
কর্মজীবীরা দেশকে বাঁচায়, 
ধর্মজীবীরা নিজের স্বার্থে
দেশে ধ্বংস যজ্ঞ চালায়।
কর্মজীবীরা দেশের তরে
নিজের প্রাণের মায়া ছাড়ে, 
ধর্মের নামে জাতের নামে
ধর্মজীবীরা মানুষ মারে। 
নতুন নতুন আবিষ্কারে
কর্মজীবীরা বিশ্ব গড়ে, 
ধর্মজীবীরা অগ্রগতিকে 
পেছন হতে খামচে ধরে। 
কর্মজীবীরা ধর্ম ভীরু
শেষ বিচারের ভয়ে মরে, 
ধর্মজীবীরা সেই সুযোগে
নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে। 
কর্মজীবীরা আর কত কাল
ধর্মজীবীদের মানবে গুরু! 
কবে হবে বিভেদ বিহীন
নতুন এক বিশ্ব শুরু? 
ধর্মজীবীরা জানবে কবে
মহাজাগতিক মর্ম? 
কর্মের মাঝে ধর্ম নিহিত
কর্মই হলো ধর্ম। 
কবে সবাই উঠবে জেগে
বলবে বিবেক কথা? 
বুঝবে কবে মানব জাতি
সর্বশ্রেষ্ঠ মানবতা।

গল্প - অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ... - সুবর্ণা দাশ

  গল্প - অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ - সুবর্ণা দাশ আজ উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হলো। মণি সেরা দশজনের মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। দলে দলে ...

জনপ্রিয় পোস্ট