রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

মা... - সালাম মালিতা





" মা "
শুধু একটি শব্দ নয়
বরং আত্মত্যাগের নিখাঁদ উৎস, 
যে দশমাস দশদিন কষ্ট সহ্য করে 
নিজের জীবনের বিনিময়েও-
সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তান চেয়ে নেয়!

" মা "
শুধু একটা সম্পর্ক নয়
বরং অপরিবর্তিত এক নাম,
যে পৃথিবীর যেকোনো মূল্যে
সন্তানের মঙ্গলের জন্য-
সকল কষ্ট হাসিমুখে মেনে নেয়!

" মা "
শুধু একটা মানুষ নয়
বরং সাহসের এক আকর,
যে বাতাসের মত পাশে থেকে 
মমতার আঁচলে বেঁধে রেখে বলে-
' ভয় পাসনে..আমি তো আছি!'

" মা "
শুধু একটা প্রাণী নয়
বরং পৃথিবীর আবাদকারী,
যে সুজলা-সুফলা ধরণীতে 
কৃষক, ডাক্তার, বিজ্ঞানী জন্ম দিয়ে 
সভ্য পৃথিবী গড়েছে! 

" মা " 
শুধু একজনের নাম নয়
বরং মানুষ গড়ার কারিগর,
যে নিজে অশিক্ষিত হয়েও
সন্তানের জীবনবোধের
সঠিক শিক্ষা দেয় প্রতি মুহূর্তে !

" মা " 
শুধু একজনকে বোঝায় না
বরং বিশ্বাসের অপর নাম,
যে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে
নিজের জীবনের বিনিময়েও-
সন্তানের সুখ চেয়ে নেয়!

" মা " 
শুধু একটা গর্ভধারিণী নয়
বরং অমৃত আশীষের ভাণ্ডার, 
যে মৃত্যুর পরও-
সবসময়ই পাশে থাকে। 

" মা " 
শুধু একটা মামুলি ইনসান নয়
বরং সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ নিয়ামত, 
যে প্রতিটা বিশ্বাসে...
প্রতিটা সুকর্মে...
প্রতিটা বিপদের সময়...
প্রতিটা সৃজনশীলতায়...
এমনকি-
প্রতিটা ভাবনায় মিশে থাকে!

" মা " 
সারাক্ষণ বলা এমন এক মধুর ডাক
যাকে সবকিছু বলার পরেও-
মনের খিদে শতভাগই থেকে যায়...!


সালাম মালিতা 


হে কবি! - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



শোনো কবি!
ভোরের প্রথম আলো 
 ধানের শিসের ডগায়-
শিশিরবিন্দু হয়ে যখন 
 টলমল করে ওঠে,
আমি তখন তোমার অপেক্ষায়
 বারান্দার রেলিং ঘেষে দাঁড়াই।
তুমি  না বলেছিলে—
প্রকৃতির নিজস্ব এক ভাষা থাকে,
আজ সেই ভাষায়
 আমি তোমাকে চিঠি লিখছি।

আমার এই বাগানে, 
আমার ‘নন্দন কাননে’—
আজ এক-ঝাঁক প্রজাপতি এসেছে।
ওদের রঙিন পাখার ডানায়
 আমি তোমার কবিতার ছন্দ খুঁজি কবি।
ওরা ওড়ে,
ঠিক যেমন তোমার সুর... আমার মনের আকাশে গুনগুন উড়ে বেড়ায়।
কিন্তু আমি তো স্থবির,
আমি তো মাটির মমতা মেখে পড়ে থাকা এক তরুলতা —
যে কেবল তোমার ছায়ার জন্য তৃষ্ণার্ত।

জানো কবি,
মাঝে মাঝে ভাবি, 
এই যে আমাদের বয়সের দূরত্ব,
এই যে সমাজের সহস্র চোখ—
এসব কি সত্যিই বড়?
নাকি তোমার চোখের সেই গভীর অতলতা ,
যেখানে আমি অনায়াসে... হারিয়ে যেতে পারি!
তুমি আমায় অবজ্ঞা করোনি কোনোদিন, 
আমি জানি—
তবু এই একাকিত্বের দহন-- কেন এত তীব্র?

শোনো কবি,
জ্যোৎস্নারাতে আমি আজও মালা গাঁথি।
ফুলের সুবাসে যখন চারপাশ ম ম করে,
আমি চোখ বুজে অনুভব করি তোমার অস্তিত্ব।
তুমি তো আমার ভোরের সূর্য,
আমার অন্ধকার জীবনের একমাত্র ধ্রুবতারা।
লোকে তোমায় দার্শনিক বলে, জ্ঞানী বলে—
আর আমি জানি, 
তুমি কেবল আমার সেই  ‘ঠাকুরপো’.... রবি!

সবাই তোমার গান শোনে,
আর আমি..
তোমার সেই গানের আড়ালে দীর্ঘশ্বাসটা শুনি।
আমার গোপন ব্যথা,
 আমার গভীর আনন্দ—
সবটুকুর ভাগীদার তুমি।
তুমি ছাড়া আর কে বুঝবে এই বিরহী হৃদয়ের কম্পন?
ফিরে এসো 
ফিরে এসো কবি,
আকাশের বরুণ রঙে, স্ফটিকের স্বচ্ছতায়—
আমি তোমাকেই দেখি।
শিউলি ঝরা ভোরে যখন পায়ের পাতায় শিশির লাগে,
আমি শিউরে উঠি 
তোমার ছোঁয়ায়।
আমি তোমার কাদম্বরী,
আমি তোমার নতুন বৌঠান—
এই পরিচয়টুকুই......

আমার বিশ্বাস অটুট,
তুমি আছ,  তুমি থাকবে কবি —
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, আমার নন্দন কাননের প্রতিটি ফুলে।
ইতি,
তোমার আধুনিকা নতুন বৌঠান।
------------------------------

আমার তুমি গুরুদেব... - ঝরনা দত্ত

 



সবার রবিঠাকুর আমার তুমি গুরুদেব 
 ভুলেও ভুলিনা কখনো তোমাকে,
 যখন যেখানে যেভাবেই থাকি না কেনো 
 তোমার বাণী আমার সঙ্গে থাকে।

 তোমার রাজ্যের অধিবাসী আমি
 সদা সর্বদাই ভাবি মনে মনে,
তোমার আত্মিক বন্ধন আমাকে 
নাড়া দিয়ে চলে প্রতিক্ষণে।

তোমার শুভ জন্মদিন বলেই
ছুটে চলেছি তোমার কাছে,
অবাক বিস্ময়ে ভেবে চলেছি 
তোমা সম আপন কে আছে?

একশো পঁয়ষট্টিতম জন্মদিনে 
হয়েছে মনোরম আয়োজন,
গঙ্গা জলেই হবে তো গঙ্গা পূজা 
 চিন্তার নেই কোন প্রয়োজন।

ছাত্রীরা সব বায়না ধরেছে এবার 
 খাবে তারা পনির পায়েস,
 বিভাগীয় অধ্যক্ষ হেসে বলেছেন -
 আইটেম হয়েছে তো বেশ!

 গানের নেতৃত্ব দেবে অদ্বিতীয়া 
 রবীন্দ্র সংগীতে বেশ দক্ষ,
 আবৃত্তিতে থাকবে সৌদামিনী
দেখি সেও চূড়ান্ত নিরপেক্ষ।

আসছি আমি বাড়ির  পথেই 
ভাবছি অনুষ্ঠানের কথা,
মন রয়েছে চরণপদ্মে তোমার 
তাই ভরতি আছে মাথা।

বিভিন্ন জায়গার অনুষ্ঠানে গিয়ে
কাটবে আমার সরাদিন,
মনের ভাঁড়ার পূর্ণ রেখো গুরুদেব 
কালকে তোমার জন্মদিন।


ঝরনা দত্ত


সঞ্চয়িতা স্মরণ... - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা 

 

বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর 
   বর্ষার দিনে খেলা,
সোনার তরী ভেসে চলে 
   প্রশ্ন জাগে মেলা।

বসুন্ধরা বঙ্গমাতা 
  পূজারিনী বেশে,
কৃষ্ণকলির হোরিখেলা 
খিলখিলিয়ে হেসে।

সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় স্মৃতি 
 হৃদয় আসন জুড়ে,
খেয়া চড়ে ঝড়ের দিনে 
নৌকাযাত্রা দূরে।

কুয়ার ধারে লুকোচুরি 
 প্রণয় প্রশ্ন কত,
ভগ্ন মন্দির একাকী প্রাণ
মরিচীকা যত।

বেলাশেষে সহযাত্রী 
   হঠাৎ দেখা মেলে,
সাগরিকা ও মৃত্যুঞ্জয়
   পরশমনি পেলে।

যেতে হবে বহুদূর! - রকিবুল ইসলাম

 


হয়নি যা সূচনা লগনে,
হয়তো হবে না আর
যাবার আজ বড্ড অবেলা!
সোনার রথে চড়ে এবার 
আসবে ঊষা,হাসবে ধরা।
আশার ভেলার যাত্রী হয়ে
এঁকেছিনু স্বপন দু'চোখে,
ছেড়েছিনু তরী,ভাসিয়েছিনু ভেলা।
খুলেনি হাল,তোলেনি পাল
ডুবিছে তরী,ডুবিছে ভেলা।
ভুলেছে মাঝি,হারিয়েছে দিশা।
লন্ঠন হস্তে দর্শাইনি কেউ,
দেখায়নি পিদিম আলোর পথ।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি হতবিহ্বল,অস্থির!
গন্তব্য!সে তো তমসাবৃত সমস্যা সঙ্কুল!
তবু যেতে হবে বহুদূর!!



রকিবুল ইসলাম


ধর্ষিতা... - সালাম মালিতা


 

আমাকে আজ তোমরা ধর্ষিতা বল
প্রতিটা পদে পদে অবজ্ঞা কর,
তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে-
কলঙ্কিত উপাধিও দাও,
আমি কী সত্যিই দোষী?

আমি তো তোমাদের কাছে 
বেশি কিছুই চায়নি, 
শুধু একটু স্বাধীনতা 
আর একটু শিক্ষার অধিকার 
এটাই কি আমার দোষ? 

নরখাদকদের লালসার শিকার হয়ে 
এই বারো-তেরো বছরেই-
সতিত্ব নষ্ট হল,
যোনি দিয়ে রক্তপাত 
আর ছিন্নভিন্ন পোশাকে 
শকুনে খাওয়া গবাদি পশুর মত-
আধুনিক সভ্যতার ভাগাড়ে!

আমার জন্য যে মেয়েদের 
রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথা,
তারাই আজ ভ্রু কুঁচকে বলে-
' ছিঃ ছিঃ! 
 দ্যাখ দ্যাখ ধর্ষিতা যাচ্ছে! '
অথচ তার বাড়িতে
নয়তো পাশের বাড়িতে 
নিত্যদিন কেউ না কেউ 
স্বেচ্ছায় ধর্ষিতা হচ্ছে, 
শুধু প্রকাশের অভাবে 
তারা নিষ্পাপ হলেও-
অবলা হওয়ার দরুন 
আমিই ধর্ষিতা! 

ডিগ্রিধারী আধুনিক উলঙ্গ সমাজে
ইজ্জত ঘন্টা-মিনিটে বিক্রি হয়,
অথচ বিবাহের ক্ষেত্রে 
সবাই ভার্জিন মেয়ে খোঁজে। 
অঘোষিত বলে
পার্ক, লজ, স্কুল, অফিস
এমনকি আবাদি জমিতে
সদাই ধর্ষণ হচ্ছে-
অথচ তারাই নাকি সব ভার্জিন!
আর অসহায়ত্বের জন্য 
আমিই শুধু...
সমাজে ধর্ষিতার তকমা পেলাম।

নারীদের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে 
এই সমাজ কী ধর্ষক নয়?
অন্যের মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট দেখে
স্বাভাবিক মানুষের বিবেক জাগে না
বলো তার বিবেক কী ধর্ষক নয়?
আইনের দ্বারস্থ হয়েও
টাকার অভাবে
ন্যায়বিচার মেলে না,
তাহলে সেই আইন কী ধর্ষক নয়?
অসাম্যের এই সমাজ, দেশ, জাতি
পুরো বিশ্ব আজ ধর্ষক,
অথচ নিষ্পাপ এই আমি
হায়েনার কবলে পড়ে-
স্বঘোষিত অস্পৃশ্য ধর্ষিতা।
সমাজের সকল অশুভর জন্য 
এই আমার মত যারা ধর্ষিতা-
সবকিছুর জন্যই নাকি
শুধু আমাদেরই দোষ...!

সালাম মালিতা


মা... - সালাম মালিতা

" মা " শুধু একটি শব্দ নয় বরং আত্মত্যাগের নিখাঁদ উৎস,  যে দশমাস দশদিন কষ্ট সহ্য করে  নিজের জীবনের বিনিময়েও- সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তা...

জনপ্রিয় পোস্ট