শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

ভালোবাসাহীন হৃদয়ের দিনলিপি (চতুর্থ পর্ব)




ভালোবাসাহীন হৃদয়ের দিনলিপি
লেখক - আকাশ আহমেদ

চতুর্থ পর্ব: 
নীরবতার কান্না


রাত যত গভীর হয়, মানুষের ভেতরের সত্যগুলো তত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দিনের ব্যস্ততা মানুষকে অনেক কিছু ভুলিয়ে রাখে - কাজ, দায়িত্ব, মানুষের ভিড়, ফোনের শব্দ - সব মিলিয়ে মানুষ নিজেকেই হারিয়ে ফেলে। কিন্তু রাত ?

রাত কাউকে লুকাতে দেয় না।
রাত মানুষকে তার নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
আকাশ এখন প্রতিটা রাতেই নিজের সামনে দাঁড়ায়।
আর প্রতিটা রাতেই সে একটু একটু করে ভেঙে পড়ে।
সেদিন রাতেও সে ঘুমাতে পারেনি।
ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় তিনটা ছুঁইছুঁই।

ঘরের সব আলো নিভানো, শুধু জানালার পাশে রাখা ছোট্ট ল্যাম্পটা জ্বলছে। সেই ম্লান আলোয় আকাশ চুপচাপ বসে ছিল।

বাইরে হালকা বাতাস বইছে।
দূরে কোথাও কুকুর ডাকছে।
পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে।
কিন্তু তার ভেতরে যেন ঝড় চলছে।
সে ধীরে ধীরে ফোনটা হাতে নিল।
কনট্যাক্ট লিস্ট খুলল।
অসংখ্য নাম।
ব্যবসার পার্টনার।
কর্মচারী।
সংগঠনের মানুষ।
পরিচিত।
বন্ধু।

কিন্তু সে হঠাৎ বুঝতে পারল - এই এত মানুষের ভিড়েও তার একজন মানুষ নেই।
এমন একজন নেই, যাকে সে এখন ফোন করে বলতে পারে -

“আমার খুব একা লাগছে।”

এই উপলব্ধিটা তার বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধল।
সে ফোনটা নামিয়ে রাখল।
তারপর ধীরে ধীরে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল।
অনেকক্ষণ।

কোনো শব্দ নেই।
শুধু নিঃশ্বাসের ভারী শব্দ।
হঠাৎ তার মনে হলো - সে ক্লান্ত।
খুব ক্লান্ত।
শরীর নয়।
হৃদয় ক্লান্ত।

বছরের পর বছর নিজের অনুভূতিগুলোকে চাপা দিতে দিতে, নিজেকে শক্ত দেখাতে দেখাতে, সব দায়িত্ব একা কাঁধে নিতে নিতে - সে ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে গেছে।

তার মনে পড়ল একটা কথা।
একবার তার মা বলেছিলেন -

“মানুষ যত বড়ই হোক, তার জীবনে একটা মানুষ দরকার, যার কাছে সে ছোট হয়ে থাকতে পারবে।”

তখন আকাশ কথাটার গুরুত্ব বুঝতে পারেনি।

আজ বুঝছে।
আজ তার মনে হচ্ছে - সে কোনোদিন কারও কাছে ছোট হতে পারেনি।
কোনোদিন মাথা রেখে বলতে পারেনি -

“আজ খুব কষ্ট হচ্ছে।”

তার চোখ ভিজে উঠল।
সে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিল।
যেন কেউ দেখে ফেলবে।
অথচ ঘরে সে একা।

এই একাকীত্বটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
যেখানে মানুষ কাঁদলেও কেউ দেখে না।
চুপ থাকলেও কেউ বোঝে না।
সে ধীরে ধীরে ডায়েরিটা খুলল।

অনেকক্ষণ কলম হাতে নিয়ে বসে থাকল।
তারপর লিখতে শুরু করল -

“আজ হঠাৎ মনে হলো, আমি হয়তো কোনোদিন সত্যিকারের বাঁচিনি।”
“আমি শুধু দায়িত্ব পালন করেছি।”
“মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, কাজ করেছি, সফল হয়েছি।”
“কিন্তু নিজের হৃদয়ের পাশে কোনোদিন দাঁড়াইনি।”

কলম থেমে গেল।
তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।
সে আবার লিখল -

“আমি জানি না ভালোবাসা কেমন।”
“কেউ কোনোদিন আমার হাত ধরে বলেনি -‘আমি আছি।’”
“আমিও কাউকে বলিনি -‘থেকে যাও।’”
“হয়তো এটাই আমার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।”

একফোঁটা জল ডায়েরির পাতায় পড়ে দাগ হয়ে গেল।
আকাশ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল সেই দাগটার দিকে।
তার মনে হলো - এই দাগটা যেন তার পুরো জীবনের প্রতিচ্ছবি।

অস্পষ্ট।
নিঃশব্দ।
অপূর্ণ।

সেদিন রাতে সে প্রথমবার নিজের ভেতরের শূন্যতাকে ভয় পেল।
কারণ আজ সে বুঝতে পারছে - এই শূন্যতা শুধু একা থাকার নয়।
এই শূন্যতা অনুভূতি হারিয়ে ফেলার।

পরদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের চোখের নিচের কালো দাগ দেখল।
ক্লান্ত মুখ।
অবসন্ন চোখ।
সে নিজেকে দেখে মনে মনে বলল -

“মানুষ আমাকে শক্ত ভাবে।”
“কিন্তু আমি ভেতরে ভেতরে কতটা ভাঙা, সেটা কেউ জানে না।”

সেদিন তার অনেক কাজ ছিল।
একটার পর একটা মিটিং।
ফোন কল।
লেনদেন।
সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।

কিন্তু সে লক্ষ্য করল - আজ তার হাসিটা আরও বেশি কৃত্রিম লাগছে।
সে কথা বলছে, কিন্তু মন নেই।
মানুষের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু অনুভব করছে না।
একসময় দুপুরে সে নিজের কেবিনে একা বসেছিল।
হঠাৎ বাইরে একটা ছোট্ট বাচ্চার হাসির শব্দ শুনতে পেল।
তার এক কর্মচারী তার মেয়েকে নিয়ে এসেছে।
ছোট্ট মেয়েটা বাবার হাত ধরে হাসছে।
বাবাও হাসছে।

সেই দৃশ্যটা দেখে আকাশের বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।
সে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিল।
কারণ তার মনে হচ্ছিল - সে এমন একটা জীবনের দিকে তাকিয়ে আছে, যেটা তার কোনোদিন হবে না।

সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে সে অনেকক্ষণ অন্ধকার ঘরে বসে ছিল।
কোনো আলো জ্বালায়নি।
অন্ধকারের ভেতরে বসে থাকতে তার ভালো লাগছিল।
কারণ তার মনে হচ্ছিল - এই অন্ধকারটাই তার সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
হঠাৎ সে খুব গভীর একটা সত্য অনুভব করল।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার একা থাকা নয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর হলো -
কারও অভ্যাস না হয়ে ওঠা।
সে কখনো কারও প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারেনি।
কেউ তার অপেক্ষায় ঘুম হারায়নি।
কেউ তার কষ্ট বুঝে নীরবে পাশে বসেনি।
কেউ তার অনুপস্থিতিতে শূন্যতা অনুভব করেনি।
এই উপলব্ধিটা তাকে ভিতর থেকে ভেঙে দিল।
সে আবার ডায়েরি খুলল।
এইবার তার হাত কাঁপছিল।
সে লিখল -

“আমি আজ বুঝলাম, ভালোবাসাহীন হৃদয় শুধু নিঃসঙ্গ হয় না - একসময় অনুভূতিহীনও হয়ে যায়।”
“আমি হাসি, কথা বলি, মানুষের পাশে দাঁড়াই।”
“কিন্তু আমার ভেতরে যেন কিছুই আর নড়ে না।”
“আমি কি সত্যিই বেঁচে আছি ?”

প্রশ্নটা লিখেই সে থেমে গেল।
তার মনে হলো - এই প্রশ্নের উত্তর সে জানে না।
রাত আরও গভীর হলো।
বাইরে বাতাস বইছে।
জানালার পর্দা দুলছে।

আকাশ ধীরে ধীরে মাথাটা দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করল।
তার মনে হচ্ছিল- তার পুরো জীবনটা যেন একটা দীর্ঘ করিডোর।
যেখানে অনেক মানুষ এসেছে, গেছে, কথা বলেছে -
কিন্তু কেউ থেমে থাকেনি।

আর সেই করিডোরের একেবারে শেষে দাঁড়িয়ে আছে সে নিজে।
একটা ভালোবাসাহীন হৃদয় নিয়ে।

যে হৃদয় আজ প্রথমবার নিজের কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছে।
সেই রাতের শেষে ডায়েরির শেষ পাতায় সে শুধু একটা লাইন লিখল -

“আমি কখনো কাউকে বলিনি আমাকে ভালোবাসতে… হয়তো এ কারণেই কেউ থাকেনি।”

বাইরে তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে।
কিন্তু আকাশের ভেতরে এখনো গভীর রাত।


(চলবে - পঞ্চম ও শেষ পর্বে আকাশ নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যের মুখোমুখি হবে, যেখানে সে বুঝবে - সব ভালোবাসা পাওয়া যায় না, কিছু ভালোবাসা শুধু অনুভব করেই বেঁচে থাকতে হয়…)

কফিনের বিচার চাই ... - সালাম মালিতা

 
লেখক - সালাম মালিতা 



কফিনের বিচার চাই 
- সালাম মালিতা 


ছিন্ন মস্তক, কব্জি দু’ভাগ 
কাটাছেঁড়া শরীর, 
নাসারন্ধ্র চিরতরে বন্ধ করতে 
তুলোর পুঁটলি-
লাশ ঘরে কেন আমি...?

আমি তো স্কুলে যেতে চেয়েছিলাম 
পড়তে চেয়েছিলাম-
মানুষের মত মানুষ হতে চেয়েছিলাম
তাহলে আমার এমন দশা কেন?
আট বছর বয়সে
যোনি দিয়ে রক্তপাত-
পায়ুপথের তীব্র যন্ত্রণায় বেহুঁশ, 
গলাটিপে শেষ আকুতি 
চিরতরের জন্য বন্ধ করা হল।
আমার অপরাধ কী ছিল?

একজন মা যিনি সন্তান জন্ম দেন
তার কাছেও আজ সন্তান সুরক্ষিত নয়,
আমি অবলা, আমি নিষ্পাপ 
আমি কার কাছে আশ্রয় খুঁজবো? 
পিতামাতার কনিষ্ঠ সন্তান হয়েও
সবার আগে দুনিয়া ছাড়া করা হল,
ভালো করে পৃথিবী দেখার আগেই 
কলঙ্ক দিয়ে চিরবিদায় করল..!
এই আধুনিক সভ্যতা....!
এই শিক্ষিত সমাজ...!
এই মানুষের বিবেক...!
এই শান্তিপ্রিয় মানবিকতা? 

সহপাঠীদের সঙ্গে কোমল শরীরে 
খেলাধুলা করছিলাম-
স্কুলে পড়াশোনা করছিলাম, 
সেই দেহ হায়নার শিকারের কবলে
পিঁপড়ে আর মাছিতে দখল নিয়েছে। 
আমার স্তনবৃন্ত পরিস্ফুটের আগেই
তাকে ভোগ করা হল,
পৃথিবীর আবাদ করতে না দিয়ে 
মাতৃত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়া হল।
ধিক্কার এমন সমাজের...!
ধিক্কার এমন বিচারের...!
ধিক্কার এমন আইনের....!
ধিক্কার এমন বিবেকের....!
যেখানে নির্মম যৌনাচারে হত্যার পরেও
মানুষ দোষীর পক্ষ নেয়,
টাকায় বিক্রি হয়ে 
তার অপরাধকে ধামাচাপা দিতে চায়!

আমার শক্তিসামর্থ্য মত
চিৎকার করে আমি হেরে গেছি,
আমার দুর্বল কণ্ঠস্বর 
বাবা-মায়ের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
দূর গগনে তারা হয়ে
তাদের আহাজারি দেখছি আজ,
তাদের চোখের জলে 
শুকনো মাটি ভিজে যাচ্ছে!

শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বিবেকবান মানুষের কাছে 
একটাই দাবি-
আমার শৈশব, আমার হাসি, আমার শিক্ষা
আমার স্বপ্ন, আমার ভবিষ্যৎ-
শেষমেশ আমার জীবন কেড়ে নিয়ে 
বিনিময়ে শুধু সাদা কফিন দেওয়ার জন্য-
আমি আজ বিচার চাই!
আমার বিচার দেওয়া হোক....!

আমার চোখে নজরুল... - নন্দিতা গাঙ্গুলী

 
লেখিকা - নন্দিতা গাঙ্গুলী



আমার চোখে নজরুল  
- নন্দিতা গাঙ্গুলী

আমার চোখে নজরুল মানে শিকল ভাঙার গান,  
রক্তে লেখা দ্রোহের অক্ষর, বুকে বিদ্রোহী প্রাণ।  
তিনি শুধু কবি নন, তিনি ঝড়, তিনি প্রলয়-নাচন,  
আঁধার রাতের বুক চিরে আনা নতুন দিনের প্লাবন।  

আমার চোখে নজরুল মানে ধূলির ধূসর মাঠে  
একলা এক ফুল হয়ে ফোটা, কাঁটার সাথে হেঁটে।  
যে ফুলের গন্ধে ঘুম ভাঙে কুলি-মজুরের,  
যে সুরে জেগে ওঠে হার না মানা মন জমিদারের।  

তাঁর কলমে আগুন জ্বলে, আবার জোছনাও ঝরে,  
‘বিদ্রোহী’তে বাজ পড়ে, ‘বুলবুল’ এসে ঘর করে।  
এক হাতে তাঁর বিষের বাঁশি, অন্য হাতে প্রেমের,  
মসজিদের ওই আজান আর মন্দিরের ঘণ্টা যেন একের।  

আমার চোখে নজরুল মানে না-মানা পাখির ডানা,  
শাসন-ত্রাসন ভেঙে যার আকাশ ছোঁয়ার মানা।  
দারিদ্র্যকে বুকে টেনে বলা, “আমি কবি, আমি রাজা”,  
ভাতের থালায় কান্না লুকিয়ে লেখা “চল্ চল্ চল্” সাজা।  

তিনি প্রেমিক, তিনি দরবেশ, তিনি সৈনিক, তিনি গাজী,  
শ্যামা-সংগীতের সুরে কাঁদেন, গজলে হাসেন কাজী।  
হিন্দু-মুসলিম দুই চোখে তাঁর একই মায়ের ছবি,  
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, এই ছিল তাঁর হবি।  

আজও যখন নিয়মের দেয়াল চাপা দেয় নিঃশ্বাস,  
যখন ধর্মের নামে চলে বিভেদের চাষ,  
আমার চোখে নজরুল এসে কানে কানে বলেন,  
“মাথা উঁচু করে বাঁচ রে, তুই কারো দাস নোস”।  

তিনি মরেননি, তিনি আছেন মিছিলের ওই ভিড়ে,  
আছেন প্রতিবাদী স্লোগানে, আছেন প্রেমের নীড়ে।  
আমার চোখে নজরুল মানে হার না মানা এক আশা,  
শিকল পরা এই পৃথিবীর মুক্তির ভালোবাসা।  

আমার চোখে নজরুল মানে দ্রোহ আর প্রেমের একসাথে বাস। 
তিনি শুধু কবি নন, আমার সাহস।

" তারতম্য" - অরবিন্দ সরকার

লেখক - অরবিন্দ সরকার 


  " তারতম্য"   
- অরবিন্দ সরকার     

পাঁঠার মাংস সুস্বাদু,পাঁঠির মাংসে না,
মানুষের ক্ষেত্রে এগুলো কেন হয়না?
মায়ের স্তন পানে মানুষ হওয়া যায় না,
স্তন নিয়ে ছেঁড়াছেড়ি ধর্ষকেরা হায়না!

মায়ের জঠর থেকে জরায়ুর পথে সৃষ্টি,
সেই স্থানে খোঁচাখুঁচি -দূর্বৃত্তদের কুদৃষ্টি,
ফসল উৎপাদনে দরকার মেঘেরই বৃষ্টি,
একই মায়ের উদরে সহোদর পৃষ্ঠাপৃষ্ঠি!

যে বাঁচায় তার মরণ কর্মক্ষেত্রে অভয়া,
কামদুনির বিচার নাই সে নাকি অপয়া?
মহিলা মন্ত্রীর তার কালো হাতের ছায়া,
সবই তার অনুপ্রেরণায় নেই দয়া মায়া!

আইনে পুরুষ মহিলার সমান অধিকার,
সন্ধ্যা নামলেই মেয়েদের কেন বন্ধ দ্বার?
মন্ত্রী বলে বাইরে বের হওয়া কি দরকার?
উত্তর ধর্ষকের জন্য খাঁচা ধর্ষিতার বিচার।
            -------------------------------

এই অবেলায় ! - রকিবুল ইসলাম

 
লেখক - রকিবুল ইসলাম



এই অবেলায় !
- রকিবুল ইসলাম


এই অবেলায়!
বড্ড বেশি অবহেলাতে,
মানস মাঝারে'র কার্নিশ ঘেঁষে,
দাঁড়িয়ে আছি সদা একা!
ভাবছি আসো যদি বেলা শেষে!!

এই অবেলায়!
বড্ড বেশি অনাদরে,
ধূলোপড়া যত স্মৃতি রোমন্থনে,
চিত্ত মোর ব্যস্ত সদা,
আঁকতে ছবি হৃদয়ের ক্যানভাসে।

এই অবেলায়!
খুব বেশি তাচ্ছিল্যে,
হৃদয় যে আর নাচে নারে, 
আগের মতো সতত সহসা।
এত যাতনা সয়না আর পরাণে।

এই অবেলায়!
অবজ্ঞারা এসে,
মনোকষ্টে'র আভাস যায় দিয়ে,
অহর্নিশি ভাবছি যে তা কিসের অনটন?
করেছি তা বরণ আপন করে।

এই অবেলায়!
চাতক পাখি হয়ে,
বদ্ধ মনের দুয়ার খুলে,
প্রতীক্ষায় বসে থাকি সদা,
এই তুমি এলে বলে!

এই অবেলায়!
প্রতীক্ষার প্রহর শেষে ,
পেলাম না আজো ভবে,
আপন করে চেয়েছিলাম যা,
রইল বেলা'কে অ'বেলা করে।

বিবেক তুমি জাগো... - সঞ্জয় নন্দী

লেখক - সঞ্জয় নন্দী



 বিবেক তুমি জাগো
   - সঞ্জয় নন্দী 

বিবেক তুমি একবার জাগো, 
অন্যায়ের বিরুদ্ধে শাণিত হও।
বিবেক তুমি কথা বলো, 
সকলকে রুখে দাঁড়াতে।  
বিবেক তুমি হুংকার দাও,
মানুষকে প্রতিবাদী হতে। 
বিবেক তুমি সাহসী হও, 
সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। 
বিবেক তুমি সোচ্চার হও, 
নারী ও শিশু ধর্ষণ রুখতে। 
বিবেক তুমি গর্জে ওঠো, 
অন্যায়ের চাকা থামাতে। 
বিবেক তুমি রাজপথে নামো, 
হত্যা যোগ্য থামিয়ে দিতে। 
বিবেক তুমি আর ঘুমায়ো না, 
মায়ের ইজ্জত বাঁচাতে হবে। 
সকল বিবেক এক হও, 
দেশ মাতৃকার রক্ষায়। 
বিবেক তুমি একবার ভাবো, 
এ দেশ তোমার আমার সকলের।

ভালোবাসাহীন হৃদয়ের দিনলিপি (চতুর্থ পর্ব)

ভালোবাসাহীন হৃদয়ের দিনলিপি লেখক - আকাশ আহমেদ চতুর্থ পর্ব:  নীরবতার কান্না রাত যত গভীর হয়, মানুষের ভেতরের সত্যগুলো তত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিনের ব...

জনপ্রিয় পোস্ট