![]() |
| সমর্পিতা রাহা |
বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ
আমাদের কথা বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ একটি স্বাধীন সাহিত্যচর্চাভিত্তিক সংগঠন। আমাদের উদ্দেশ্য হলো—কবি, সাহিত্যিক ও নবীন লেখকদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও সম্মানজনক প্রকাশমাধ্যম গড়ে তোলা। আমরা নিয়মিত ই–বুক, সাহিত্য সংকলন, কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশ করি। এই প্ল্যাটফর্মে নতুন লেখকদের লেখা যেমন জায়গা পায়, তেমনি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের সৃষ্টিও পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। আমাদের বিশ্বাস— সাহিত্য শুধু আবেগ নয়, সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
একা - সমর্পিতা রাহা
একুশে ✍️ উজ্জ্বল কান্তি দাশ
যে কবিতায় লিখা থাকবে বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারির কথা,
থাকবে বাঙালীর শিখরের কথা, বাঙালীর অস্তিত্বের কথা।
লিখে দেবে কেউ?
কেউ কি আমায় একটা গল্প লিখে দেবে,বাংলা ভাষার গল্প?
যে গল্পে লিখা থাকবে আমার দুঃখিনী মায়ের কথা,
তার ছেলে হারানোর কথা,
আমার ভাই হারানোর কথা।
লিখে দেবে কেউ?
কেউ কি আমায় একটা গান লিখে দেবে, বাংলা ভাষার গান?
যে গানে লিখা থাকবে মাথা নত না করার কথা,
প্রতিবাদের কথা, বাংলার অহংকারের কথা,
বাংলার গৌরবের কথা,
লিখে দেবে কেউ?
কেউ কি আমায় একটা নৃত্যগীত লিখে দেবে, বাংলা ভাষার নৃত্যগীত?
যে নৃত্যগীত করে আমি তান্ডব করবো,
জিন্নার স্তব্ধ কন্ঠের উপর প্রলয় নৃত্য করবো,
লিখে দেবে কেউ?
কেউ কি আমায় ফুল এনে দেবে, পলাশ শিমুল ফুল?
আমি একুশের গান করে করে
প্রভাত ফেরিতে যাবো,
এনে দেবে কেউ?
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?
বর্ষার ভেজা গজল ✍🏻 সর্বানী দাস
এই বর্ষণমুখর সন্ধ্যাএকটা অসমাপ্ত গজল,যেখানে ওমর খৈয়ামের মদিরা ঝরে পড়েবৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায়,আর মির্জা গালিবের দীর্ঘশ্বাসজড়িয়ে থাকে ভেজা স্ট্রিট ল্যাম্পেরআলোর ওড়না গায়ে।কামিনীর গন্ধ আজশুধু ফুলের নয়—এ যেন গন্ধবিলাপ,অপেক্ষার স্যাঁতসেঁতে শরীর,যেখানে স্পর্শ মানেই অনুপস্থিতির দহন জ্বালা।পাখির ডানা ঝাপটায়ভেজা পাতার আদর মাখে,ছিন্ন আকাশের ভেতর—তখন প্রবল বিবাদ,কথা কাটাকাটির রেশচড়াম চড়াম শব্দে,তীব্রতার লড়াই বিদ্যুৎ শিখায়।পাখিরা উড়ে যায়ফিরে না আসার ঘোষণা দিয়ে,তবু তারা উড়ে,আপনজন ছেড়েএক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায়।বৃষ্টি শেখায়—ভেসে যেতেই হয়,ঠিক যেমন আবেগ ভেসে যায়চোখের নোনা জলে,গভীর হয় প্রেমনিঃস্বাস উষ্ণ হয়চায়ের কাপের ধোঁয়ায়,শহরের প্রতিটি ভাঙা ছাদেঅলিখিত গল্প লেখেছাদহীন কপোত দম্পতি,ভালোবাসার আশ্রয় খোঁজে—অস্থায়ী, অথচ অনন্ত।পিপুলগাছের ছেঁড়া পাতাঝরে পড়ে নিঃশব্দ বিপ্লবের মতো,আর কাগজের নৌকা—ভাসতে ভাসতে ডুবে যায়বোহেমিয়ান কবিতার খাতায়।ড্রেনের জলে ভেসে যায়,অসমাপ্ত ফুটপাত শৈশব।এই শহর আজ স্যুররিয়াল—নিয়ন আলো,ভেজা অ্যাসফল্ট,ডিজিটাল নিঃসঙ্গতা আরঅ্যালগরিদমিক ভালোবাসার ভিড়েমানুষ শুধু চায়হাত ধরে থাকতে —একটু সত্যিকারের স্পর্শের জন্য।এক দীর্ঘ অপেক্ষাবর্ষণমুখর সন্ধ্যার প্রতীক্ষায়তুমি আজও আসো,এই ভিজে সন্ধ্যার ভিতর—গোপন অনুরাগে।আমাদের গল্পটাকোনো উপন্যাস নয়,একটা আধুনিক গজল—যেখানে প্রতিটি লাইন ভাঙে,তবু শেষ হয় না,প্রতি চুপছাপে থেকে যায়তোমার আমারবিনি সুতোর অস্তিত্ব।
![]() |
| সর্বানী দাস |
মায়ের নীরব দস্তাবেজ (গল্প) - সালাম মালিতা
হঠাৎ দমকা হাওয়া উঠল.....
সে জনার অশেষ কৃপায় দশ বছরের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়েটা সবার ছোট ছিল। দু'বছর আগে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। ছেলে দুটোকে মানুষ করতে সোহাগি দেবীকে মাঠের কাজও করতে হয় ; এই যেমন, ধান রোপন করা, ধান কাটা, তুলো তোলা, লঙ্কা তোলা, গম কাটা, রজনীগন্ধা ফুল তোলা প্রভৃতি। প্যারালাইসিস হওয়ার দরুন আজকাল স্বামী কাজলের আর ভান টানার সামর্থ্য নেই, তাই দুই ছেলের লেখাপড়া আর সংসার চালানো পুরোটাই সোহাগির ঘাড়ে। পড়াশোনায় বেশ মেধাবী হওয়ায় দুই ছেলে সরকারি বৃত্তি পায়। এক বছরে ছোট-বড় হওয়ায় পড়াশোনার খরচ বেশ অনেকটাই।
![]() |
| সালাম মালিতা |
সুখের হাওয়া! (কবিতা) - রকিবুল ইসলাম
কষ্ট-ক্লেশ যত করিয়াছি পার,সহিয়াছি যাতনা যত!
সুখ আসিল মোর আঙ্গিনায় ভুলিয়াছি দুঃখ আজি তাই তত।
তুমি আছ মম আত্মজ হইয়া আত্মার অতি সন্নিকটে,
ব্যথা যত ছিল মোর বক্ষ গহ্বরে,
বসন্ত পবন বহিছে আজি মোর গৃহের প্রতিটি কোণায়,
হাসির ফোঁয়ারা ছুটিছে তাই উঠানের সব ধূলিকণায়।
আমি আজ আর আমাতে নাহি,হারাইয়াছি তব মাঝে।
তুমি আমি মিলিয়া হইয়াছি এক অন্তঃপ্রাণ,
অতীব হরষে উদ্বেল হইয়া আজি হারাইয়াছি মোর মানস গভীরে।
ব্যথিত বেদন আজি শুনিব না ভাই,করিব আলোর খেলা।
রঙের মেলার রঙ্গীন আভাতে,উদ্ভাসিত হইবে যাহা।
নাচিবে ময়ূর পেখম মেলিয়া আঙ্গিনার এক কোণে,
দর্শিয়া সে নাচন নাচিব আমি আপ্লুত হইয়া আবেগে।
রবি হাসিছে,চাঁদ হাসিছে হাসিছে সন্ধ্যাতারা,
সেই হাসিতে হাসিছে আজি গগনের নীল চাঁদোয়া।
ভ্রমর আজি গুণগুণিয়া গাহিছে সুখের গান,
তাহারই সহিত গাহিছে ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও হইয়া গীতি শতদল।
কাঁটিল ভ্রম,ভগ্ন হইল স্বপন
ললাটে মোর কাহারো পরশ পাইয়া,
পালাইল সকল সুখের হাওয়া
দুঃখের আঁচড় দিয়া।
ডুবিল সকল হর্ষ-আমোদ
![]() |
| রকিবুল ইসলাম |
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
হায় রে নারী... (কবিতা) - সুবর্ণা দাশ
তুমি নারী,প্রকৃতির মতো শান্ত।নির্লিপ্ত, প্রাণবন্ত, চঞ্চল,প্রবাহমান নদীর মতো স্রোতস্বিনী।তোমাতে বপন হয় এই পৃথিবী,তোমার ছোট্ট জঠরে ধারণ করো মানুষ।তুমি মা, জায়া, প্রেমিকা, ভগ্নী,তোমাতে প্রেরণার উৎস হে নারী।ধরণীর মতো সহ্য ক্ষমতা তোমার,অন্যায় অবিচারও হয় তোমার প্রতি,অথচ নারী তুমি না হলে,জন্ম হতো না,তুমি আমি সে কারো, কেউ না!তবুও তোমাকে বলতে হয়,সমান অধিকার চাই!কেন চাইতে হবে এই অধিকার?তাহলে কি মান-হুশ এর জন্ম দিতে পারোনি?হে দুর্ভাগা নারী!পথে ঘাটে চলতে ফিরতেকেন চাইতে হয় নিরাপত্তা!কেন এখনো কপালে পড়ে চিন্তার বলিরেখা?রাত হয়েছে, কি করে বাড়ি ফিরবে এই নারী?কোথায় স্বার্থকতা নারী জন্মের?সমাজের লোলুপ চক্ষে দলিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত নারী।নারীর রোদনে সিক্ত হয় না এই সমাজের কিছু মানুষের হৃদপিণ্ড!কেন কাঁপে এখনো নারীর দুরুদুরু বুক!ট্রেনে বাসে যাত্রা পথে!নির্যাতিতা নারীর জন্য কাঁদে এখনো মা-বাবা!এখনো ঘটে হাড় হিম করা ঘটনা!অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয় পৃথিবী!এই কী নারীর ভাগ্য!নিরুত্তর ধরণী!নারী! হায় রে নারী!তোমাদের নারী!
একা - সমর্পিতা রাহা
সমর্পিতা রাহা দুঃখে ভরা সাগর পারে একা বসে আছি, মাথার উপর ভনভনাচ্ছে চিন্তামনির মাছি। যাব আমি পরপারে পিপীলিকা ডাকে, লহর ঊর্মি পিছু টানে ছে...





