শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

মধুবালা... (গল্প) - সালাম মালিতা


ছোট থেকেই আশিকের লেখালেখি করতে বেশ ভালো লাগে, বাবা-মা কেউই স্কুলের গণ্ডি পার না করলেও আশিকের সাহিত্যের প্রতি মারাত্মক টান কাজ করে। স্কুল জীবনে নবম শ্রেণিতে থাকাকালীন কয়েকটি পদ্য লিখলেও স্কুল ম্যাগাজিন বার হয়নি সেবার, আর যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে লেখাগুলোও হারিয়ে যায়। লেখক হওয়ার অদম্য ইচ্ছায় বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হয়েও বাংলা সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করতে চায়। তাই সময় সুযোগ মত ফুল, পাখি, লতাপাতা, প্রান্তিক মানুষ, প্রতিবন্ধী, স্বদেশপ্রেম, বঞ্চিত মানুষ এবং সামাজিক বিভিন্ন গোঁড়ামি লেখায় তুলে ধরে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঠাকুমার মুখে গল্প শুনে এবার আগ্রহ জন্মালো অন্য একটা বিষয় নিয়ে। কিন্তু লেখকের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা ব্যতীত সেই লেখায় আবার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় না। তাই আশিক ছুটল নিজের গন্তব্যে। 

বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে চলল শহর লাগোয়া সবচেয়ে বড় নিষিদ্ধ পল্লীর দিকে, যেখানে টাকার বিনিময়ে মনোরঞ্জনে শরীরের কেনাবেচা চলে। ইতিপূর্বে কখনো না আসায় সামাজিক উৎকণ্ঠা কাজ করছিল আশিকের। হুটোপাটা করে পৌঁছে গেল পল্লীর ভিতর। দেখল সেখানে শয়ে শয়ে মেয়ের অর্ধনগ্ন হয়ে খদ্দের ধরার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। মাসির নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই আশিককে নিয়ে তারা টানাহেঁচড়া করতে লাগল। কেউ কেউ বলল - ' এ ছোঁকরা আমার ঘরে আয়, অনেক মজা পাবি '। নিজের শক্তি সামর্থ্য দিয়ে কোনোমতে পাশ কাটিয়ে শেষমেশ পৌঁছে গেল মাসির কাছে। 

আশিক : মাসি আমি আজকে প্রথম, তোমার এখানকার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের ঘরে যেতে চাই। আমাকে কত টাকা দিতে হবে বল।

মাসি : কে বে ছোকড়া তুই? তোকে তো আগে কখনো দেখিনি। 

আশিক : আমি এই শহরের কাছাকাছি থাকি। বল আমাকে কত টাকা দিতে হবে। 

মাসি : তোর মনে হচ্ছে খুব জোর পেয়েছে। প্রথমবার নাকি? 

আশিক : সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ের কাছে যাব। কত লাগবে?

মাসি : গুনে গুনে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে, একদম খাসা মাল। পরে কিন্তু ফেরত চাইলে ফেরত পাবি নে, বলে দিলাম। 

আশিক : না না ফেরত চাইব না। কোন ঘরে আছে আমায় দিয়ে এসো। 

মাসি : তা ক*ণ্ডোম সাথে এনেছিস তো? ক*ণ্ডোম ছাড়া করলে আরও পাঁচশ বেশি লাগবে বলে দিলাম। 

আশিক : সব আছে আমার কাছে। আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে চল। 

মাসি : এর দেখি মাথায় উঠে গেছে। খা*নকির ছেলের খুব জলদি। 

মাসি তীব্র স্বরে ডেকে বলল, এই পাম্মি এই ছোকরাটাকে নিয়ে মধুবালার ঘরে দিয়ে আয়। দু'তলার আট নম্বর ঘরে আছে। খুব দামি মাল ওটা। এই ছোকরা এর পাছায় হাত বোলাতে বোলাতে চলে যা দু'তলায়, দেখগে তোর মাগি তোর জন্য অপেক্ষা করছে। আশিক সেই যৌনকর্মীর পিছু পিছু চলল মধুবালার ঘরের দিকে। ঘরের কাছাকাছি এসে পাম্মি বলল, দু'ঘন্টা ধরে খুব মজা কর, একদম খাসা। আমি গেলাম। আশিক দরজার কাছে গিয়ে দরজায় খটখট শব্দে আওয়াজ দিল। তারপর বলল;

আশিক : আমি কী ভিতরে আসতে পারি?

মধুবালা : কে রে তুই ন্যাকাচোদা? করতে এসে এত ভদ্র সাজছিস। 

আশিক : আমি আশিক। অনুমতি ছাড়া কী করে ঘরে ঢুকব।

মধুবালা : এটা কী তোর স্কুলের ক্লাসরুম পেয়েছিস নাকি। তাড়াতাড়ি আয়, কাজ সেরে কেটে পড়, আমার আরও নতুন খদ্দের ধরতে হবে। 

দরজাটা খুলে আশিক দেখল অসম্ভব সুন্দর একটা ত্রিশ বছরী মহিলা, পান চিবাচ্ছে আর হাতে জলন্ত সিগারেট নিয়ে শুধু অন্তর্বাস পরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। আশিককে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল;

মধুবালা : কী রে তোকে দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলে মনে হচ্ছে, তা গার্লফ্রেন্ড বাদ আমায় কেন করতে এসেছিস? 

আশিক : আমি কী বিছানায় বসতে পারি?

মধুবালা : শোন বেশি ভদ্র সাজতে যাবি না, তাহলে কিন্তু মুখ দিয়ে খুব খিস্তি বার হবে। আমার দিমাক খাস না বললাম, তাড়াতাড়ি করে এখান থেকে ফোট।

আশিক : আপনি আমাকে গালাগালি করবেন কেন, আমি কি আপনাকে খারাপ কিছু বলেছি?

মধুবালা : শোন এখানে যারা আসে সবাই ফূর্তি করতে আসে, তোর ভালো করে গোঁফদাড়ি গজায়নি অথচ তুই চাহিদা মেটাতে চলে এসেছিস। গার্লফ্রেন্ড মনে হয় দেয়নি। তাড়াতাড়ি জামা-প্যান্ট খোল, দু'ঘন্টা পার হয়ে গেলে তোর টাইম শেষ, তখন কিন্তু অন্য খদ্দের চলে আসবে। আমার চাহিদা তো দেখলি, সবচেয়ে হাইরেটের মাল, সব জিনিস দেখছিস না, জিভে জল ঝরবে, তাড়াতাড়ি আমার সাগরে ঝাপ দে, দেখ একদম তলিয়ে যাবি। 

আশিক : আমি আপনাকে আপনি করে বলছি দেখেছেন। আমি আসলে একজন ছোটখাটো লেখক। লেখায় বিভিন্ন মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরি। 

মধুবালা : তাহলে এখানে কী চুদাতে এসেছিস। এখানে সবাই হাসিখুশি থাকি, গতর বেঁচি আর পয়সা পেয়ে খুব আনন্দে থাকি। দিনে কতজন পুরুষের বিছানায় শুই তার ঠিকঠিকানা নেই। 

আশিক : না মানে, আমি আপনার কাছে এক সাক্ষাৎকার নিতে এসেছি। আপনি যদি আমাকে আপনার কথা খুলে বলেন। 

মধুবালা : শোন আমি সবকিছু খুলে দেখানোর জন্য পয়সা নিই, খুলে বলার জন্য নয়। মাথা গরম করাস না বলে দিলাম, তাড়াতাড়ি করে বিদায় হ।

আশিক : আপনি এত সুন্দর একজন মানুষ, আপনারও নিশ্চয়ই পরিবার ছিল, আপনি তো নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় এই পথে আসেননি?

কথাটা মধুবালার একদম হৃদয়ে আঘাত হানল, নিমিষেই দু-চোখ জলে ভরে গেল। বিছানার পাশে রাখা প্যান্ট-শার্ট পরে আশিককে বিছায় বসতে বলল। 

আশিক : দিদি প্লিজ আমাকে আপনার জীবনের কাহিনী একটু শেয়ার করুন। 

মধুবালা : ( জলে ভরা চোখে ) এই দশ বছরের যৌন পল্লীর জীবনে প্রথমবার কেউ আমাকে খানকি না বলে দিদি বলে ডাক দিল। আমারও একটা সুন্দর পরিবার ছিল ভাই। তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন ছিলাম আমি। কত আদর করে আমার বাড়ির লোক নাম রাখে বৃষ্টি, অথচ এই নর্দমায় আমি মধুবালা নামে আজ নিজের মধু বিক্রি করি। 

আশিক : দিদি, তারপর এত আদুরে বোন হওয়ায় সত্ত্বেও আপনি এমন নোংরা জগতে কীভাবে? 

মধুবালা : আমি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলাম। স্কুল জীবনে আমি এক ছেলেকে ভালোবাসি। বয়সে সে আমার থেকে অনেকটাই বড় ছিল। ভালোবাসার নাটক করে আমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে অনেকদূর পালিয়ে আসে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়৷ 

আশিক : তারপর কী হয়....?

মধুবালা : তারপর আর কী....! অভাগীর কপালে যা ছিল তাই হল, জীবনের একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে এক দালালের মারফত এই অন্ধকার জগতে বিক্রি করে দিল। 

আশিক : বাড়ির জন্য খারাপ লাগে না আপনার? 

মধুবালা : খুব খারাপ লাগে রে ভাই। যখন আমাকে ড্রাগ খাইয়ে এখানে নিয়ে আসে আমার দু'দিন হুঁশ ছিল না। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি এখানে। প্রথমবার যখন এক নেতার ঘরে পাঠায়, আমার সতীত্ব নষ্ট করা হলে আমি ভীষণ কান্না করি। বাবাগো মাগো বলে এই চার দেওয়ালের মধ্যেই আমার মিথ্যা প্রেমের দাফন হয়, আর আমি এক কলঙ্কিত বেঁশ্যার উপাধি পায়।

আশিক : বাড়ির লোকের কোনো সন্ধান হয়নি আর? 

মধুবালা : এই অন্ধকার জগতে এসে আমি আর কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। নিজের বাকিটা জীবন ভাগ্যের কাছে ছেড়ে দিয়েছি, যতদিন চামড়া শক্ত আছে দেহ বেঁচে যাব, তারপর যখন চামড়া ঝুলে যাবে কোনো নর্দমায় পড়ে থেকে শিয়ালে-কুকুরের কাছে দেহ বিলিয়ে দেব। 

আশিক : কখনো আর ঘরে ফিরতে ইচ্ছে হয় না? 

মধুবালা : বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। ছোটভাইটা আমাকে ছাড়া রাতে ঘুমাত না, ওর জন্য আজও মনটা খুব আনচান করে। জানি না ওরা সবাই কেমন আছে!

আশিক : এখান থেকে বার হওয়ার কোনো উপায় নেই? 

মধুবালা : এখান থেকে বার হওয়ার কোনো উপায় নেই, তবে কেউ যদি অনেক টাকা দিয়ে আমাকে কিনে নেয় তবে এরা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেবে। 

আশিক : কত টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবে আন্দাজ? 

মধুবালা : সঠিক হিসাব বলতে পারবো না, তবে আট-দশ লাখ টাকা হলে দিতে পারে। তুই কেন এসব শুনছিস?

আশিক : ( কাছে সরে এসে হাতটা শক্ত করে ধরে বলল ) দিদি আমি আবার আসব তোমার কাছে, তবে এবার খালি হাতে নয়, দশ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে তারপর আসব।

পাম্মি বাইরে থেকে আওয়াজ দিল আর কত সময় ধরে করবি, বেটার দম আছে মানতে হবে। তাড়াতাড়ি আই নতুন খদ্দের এসেছে, তাকেও তো সুযোগ দিতে হবে নাকি?

আশিক বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হল, দেখল মধুবালার চোখ ভর্তি জল চিবুক ছুঁয়ে বিছানায় টপটপ করে পড়ছে। আশিক তার বন্ধু, পরিচিত বা রক্তের কেউ নয় তবে অন্ধকার জীবনে এসে এই প্রথমবার তার শরীর ছুঁয়ে নয় বরং মনটা ছুঁয়ে দেখল সে। 

কোনো এক অলিখিত চুক্তিপত্র সই করে আবার ফিরে আসার শিলমোহর দিল, মধুবালা অশ্রুসিক্ত নয়নে বুঝি অদূরে মুক্তির আলো দেখতে পেল। আবার ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয়ে আশিক বেরিয়ে গেল... 

নতুন করে বাঁচার ক্ষীণ আশায় মধুবালা চাতক পাখির মত চেয়ে রইল....!


সালাম মালিতা 


বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

জানার আকাঙ্ক্ষা... (কবিতা) - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম




আচ্ছা! হঠাৎ যদি কোন কাল,কোন ক্ষণে, 
আবার তোমার সাথে দেখা হয়ে যায়, 
হৃদয়হীনা তুৃমি!তখনো কি মুখ ফিরিয়ে নিবে?
পাষাণী তুমি! 
তখনো কি মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবে 
আমার সাথে কথা না বলে?
বহুকাল পর তোমায় দেখে আমি হয়ত আনন্দে উদ্বেলিত হব,
আপ্লুত হব আবেগে।
কিন্তু, সুনয়না তুমি তোমার  নেত্র দিয়ে 
আমাকে দেখে হবে কি শিহরিত,
চরম পুলকিত?
উত্তরটা আমার জানা।
তোমার অনুভূতিটা আমার বিপরীত হবে এটাই স্বাভাবিক। 
কারণ, আমি যে তোমার যোগ্য নই,
তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার যোগ্যতা বা অধিকার 
কোনটা-ই আমার নেই।
তবে,- "আমারো হইয়াছে তোমাতে মরিবার সাধ।"-
আর তাইতো দুঃখের সাগর পাড়ি দিয়ে মনটা আমার 
তোমার কাছেই ছুটে যেতে চায় বারবার, বরাবর।
ভাল থেক তুমি আমার মন্দ থাকার বিনিময়ে,
সুখে থেক তুমি আমার সকল দুঃখের বিপরীতে।
প্রাপ্তিতে পরিপূর্ণ হও তুমি,
আমার সকল অপ্রাপ্তির বিনিময়ে।
- "তোমার স্বপ্নে দেখা দুঃস্বপ্ন।"

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

নিশীথ মায়া (কবিতা) - হাসিনা খাতুন


হাসিনা খাতুন



একদা রাতে আঁধার ঘোরে দেখিনি কোনো স্বপন,  
হঠাৎ দেখি দুয়ারে মোর দাঁড়িয়েছে মহাজন।  
শিয়রে তব প্রদীপখানি নিভিয়ে দিল বায়ু,  
ম্লান আলোতে থমকে আছে অলস মুহূর্ত-আয়ু।  

চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো—  
আকাশকোণে মেঘের মেলায় লুকায় শশধর,  
বনের ছায়া চাদর মেলে বিজন চরাচর।  
বাতাস যেন কানে কানে কইছে চুপি চুপি,  
ঝরা বকুল সাজিয়ে দিল ধরার স্বর্ণরূপী।  

চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো—  
অচিন দেশে পথ হারিয়েছে ক্লান্ত পসারী,  
সুরহারা সেই একতারাতে বাজিছে দরবারী।  
সব পাওয়া আর সব হারানো এক হয়েছে শেষে,  
ডুবেছে আজ সকল ধরা নিবিড় ভালোবেসে।  

চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো—  
বৈতরণীর শান্ত কূলে জাগে অলখ সুর,  
ছায়ায় ঘেরা কুঞ্জতলে দুঃখ হলো দূর।  
আঁধার ফুঁড়ে আলোর রেখা দিচ্ছে কি ওই ডাক?  
স্মৃতিরা সব পাখা মেলে স্বপন হয়ে থাক।

মৃত্যুকাতর (কবিতা) - সর্বানী দাস

  

সর্বানী দাস


জীবনডাঙায় হাট বসেছে 
আসা-যাওয়ার চলছে মেলা,
সাধের মাটির দেহখানায় 
নিঃশ্বাসে পার করবে ভেলা।

শ্বাসের বাঁশি নাভির টানে 
আটকে আগল খাঁচার পাখি,
দমের সুরে প্রাণের ঝাঁপি 
মৃত্যুকাতর অশ্রু আঁখি।

কামের ফাগুন জ্বলছে বুকে,
সুখের নেশায় "আমার আমি,"
ক্রোধের আগুন পোড়ায় দেহ 
লোভের লালায় পরাণ যামি।

মোহমায়ার ডুবসাগরে 
সত্য মিথ্যে যাচাই বিনে,
মদের নেশায় অহংকারে 
পাপের ঘড়া পূর্ণ ঋণে।

মাতসর্যের কালো বিষে 
অহর্নিশি  অন্তর দ্বন্দ্ব,
দেহপুরীর গুপ্ত ধনে 
চৌর্যবৃত্তি স্বভাব মন্দ।

উচ্চ-নীচে বর্ণ ভেদে 
জাতজুয়ারি আসছে ধেয়ে,
খুঁজিস যারে পরের দ্বারে 
দর্পণেতে দেখরে চেয়ে।

রাজপোশাকে বাহির সাজে 
মনের ঘরে ঘৃণা দম্ভ,
রক্তমাংসে মৃত্যুকাতর 
দুশো ছয়ে কঙ্কাল স্তম্ভ।

গয়নাগাটি টাকা মাটি 
স্বর্গ গড়া মায়ার সাজ্য,
শমণ এসে মুচকি হাসে 
মৃত্যুপুরীর অসীম রাজ্য।

সব কোলাহল হবে স্তব্ধ 
দেহের হাটে রইবে পড়ে,
মাটির মানুষ ছাই -কবরে 
দশদুয়ারে বিচার তরে।

মনের ভিতর মন যদি রয় 
চুপটি করে অচেনাতে,
মনের মানুষ মনমুকুরে 
মৃত্যুকাতর প্রার্থনাতে।

শেষের পথিক গান ধরেছে 
অনন্ত জ্ঞান  বাঁধে ছায়া 
মনবাউলে কইছে শোনো 
কায়া ভাঙা মিথ্যা মায়া।

বলছি আমি আউল বাউল 
দেহতত্ত্বের গোপন কথা,
অনুরাগের এতো পরব 
কিসের তরে মনের ব্যথা।

শূন্য চেয়ার - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা




বারান্দায় যে চেয়ারটা  আপন মনে দোদুল্যমান –
চেয়ারটার উপবিষ্ট মানুষ টার বেশ কিছু দিন দেখা নেই !
অজান্তে রোজ চোখ চলে যায় ওই শূন্য চেয়ারটার দিকে ,
যেতে আসতে বিনিময় হতো একটু মিষ্টি হাসি ।
হাত নেড়ে চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন ঠিকঠাক।
একদিন গল্পচ্ছলে 
জানলাম ওই চেয়ারে উপবিষ্ট মহিলার স্বামী মারা গেছেন।
কোনোদিন হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে হয়েছে কিছু আলাপ–
দুই ছেলে বড়ো হয়ে গেছে যে যার কাজে ব্যস্ত 
বড় ছেলের দুই মেয়ে নিয়ে বৌমা ব্যতিব্যস্ত 
বৌমার গুণকীর্তন নাতনীদের প্রশংসা ।
আবার একদিন মনে হলো ছোটছেলের কথা জানা হল না –
কথাচ্ছলে জানলাম ছোট ছেলেটা বহু দূরে চলে গেছে ,
আরো চমকালাম একাকিত্ব মাসিমার কথা শুনে 
বললেন ছোট ছেলেটা চলে গেছে আজ দু বছর হল–
বহু দূরে ওই তারাদের দেশে ওর বাবুর কাছে 
বুকটা বেশ ধড়পড় করে উঠলো।
রোজ দেখি বারান্দায় বসে চুপচাপ মশার কামড় খাচ্ছেন।
আমায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করতেন
কি গো কেমন আছো?
আমি কাছে গিয়ে বলতাম টিভি দেখুন
সময় কেটে যাবে।
দুই বাচ্চার অনেক পড়া দুই ঘরে পড়ছে
ডাইনিং এ টিভি চালালে ওদের পড়ার ক্ষতি হবে যে!
ফিসফিস করে বলে একাকিত্বের বড্ড জ্বালা  রে!
বেশ কিছুদিন চেয়ারটা ফাঁকা লাগছে 
হঠাৎ দেখি বাড়ির সামনে সাদা প্যান্ডেল
তাহলে মাসিমা নেই!
চেয়ারটা তাই একাকিত্বে কাঁদে।
কেউ জিজ্ঞেস করবেন না কি গো কেমন আছো!
রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কেমন একটা অভ্যাস হয়ে গেছিল 
অজান্তে চোখ চলে যায় ওই শুন্য চেয়ারের দিকে

কার দোষ ? - মেঘদূত


দিনটা হল পয়লা এপ্রিল 
এপ্রিল ফুল যে বলে,
কে কাহাকে বোকা বানায়
তাহার খেলা চলে।

এখন তো যুগ মুঠো ফোনের
হ্যালো হাই তে ঢলে,
দুই জনেতে কথা হলো
মিলবে শিমুল তলে।

সময় থাকতে সেজে গুজে
হাজির দুজন এসে,
মনকে নাড়ায় আকু পাকু
দখিন হাওয়া ভেসে।

এক বসেছে ঝিলের পুবে
অন্য পছিম পাড়ে,
সারা সন্ধ্যা উজাড় হলো
খুঁজতে ঝোপে ঝাড়ে।

অনেক খুঁজে যখন সবে
দুজন দেখা হলো,
পার্কের গার্ড আদেশ দিল,
'এবার বাড়ি চলো।'

প্রেমিক প্রবর বললো চটে
সব বলোনা খুলে,
জায়গাটা তো বললেই না আর
তাড়াহুড়োয় ভুলে!

আদর করে হাতটি ধরে
বললো প্রিয় শোনো,
আজকে ছিল পয়লা এপ্রিল 
"এপ্রিল ফুল" জেনো।

মধুবালা... (গল্প) - সালাম মালিতা

ছোট থেকেই আশিকের লেখালেখি করতে বেশ ভালো লাগে, বাবা-মা কেউই স্কুলের গণ্ডি পার না করলেও আশিকের সাহিত্যের প্রতি মারাত্মক টান কাজ করে। স্কুল জীব...

জনপ্রিয় পোস্ট