বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

প্রবন্ধ - শাশুড়িও বান্ধবী হয়... - মারিয়াম রামলা

 
মারিয়াম রামলা


একটি উঠোনের পা দুটো থাকে, কিন্তু সম্পর্কের ফাটল একটি আঙুল থেকেই শুরু হয়। ঘরে কন্যা সন্তান না জন্ম নিলে কত দোয়া, কত মিনতি করা হয়! কন্যা সন্তানের জন্ম হলে ঘরে লক্ষ্মী আসেন।

একটি মেয়ের শৈশব আর তার পরিচয় কতই না সুন্দর হয়। তার সব স্বপ্ন, সব প্রয়োজন একজন মা-বাবা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, পূরণ করেন। এই সব ছেড়ে একটি মেয়ে মনে কত আশা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যায়।

কারণ একটি মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই বলা হয় যে তার নিজের ঘর হলো তার শ্বশুরবাড়ি। মেয়ের বিয়ে হতেই একটি উঠোন শূন্য হয়ে যায়, তো অন্য উঠোন খুশিতে ভরে ওঠে। একটি মেয়েকেই তো একজন শাশুড়ি বউ-এর রূপে পান। এত বছর ধরে যিনি ঘর সাজিয়েছেন, প্রতিটি ছোট ছোট জিনিসের খেয়াল তিনি রাখেন।

ভোরের রুটি, সন্ধ্যার চা-এত ভিড়ের মধ্যেও একা সব কাজ সামলে নেন। জানালার সেই পর্দাটা সোফা কিংবা বিছানার চাদরের সঙ্গে মিলিয়ে ঘরকে হাজারো রঙে সাজানোর চেষ্টা করেন।

সব নিয়ম-কানুন একটি স্কুলের রুটিনের মতো করে সময় কেটে যায়। প্রতিদিন নতুন নতুন আওয়াজও শোনা যায়, যখন পুরো সংসারকে একটি নিয়ম, একটি বাঁধনে জুড়ে দিয়ে নিজের মুঠোয় বন্দি করেন। "সন্ধ্যায় আমার বাড়ি এসো, জিলিপি আর ফুচকা খাওয়াবো"-ভেবে প্রতিবেশীকে আমন্ত্রণ জানান।

ঠিক তখনই ঘরে আরও আনন্দ বাড়ানোর চেষ্টায় একটি মেয়ের রূপে বউ নিয়ে আসেন। আবার কিছু নিয়ম, কিছু পরিবর্তন দিয়ে শুরু হয়। কারণ প্রত্যেক নারীই নিজের মনমতো করে সংসারকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে চালান।

যখন একটি মেয়ে বিবাহিত হয়ে তার শ্বশুরবাড়িতে আসে, তখন প্রতিটি পদক্ষেপে তার মায়ের কথা মনে পড়ে। "আমার মা তো সবজিতে ঝাল বেশি দিতেন," "আমার করলা পছন্দ নয়," "আমার মা তো ভেন্ডিতেও আলু দিতেন"-কিন্তু শাশুড়িকে তো এই সব কথা জানা ছিল না! আর ওদিকে ননদও শ্বশুরবাড়িতে ঠিক মতো মানিয়ে নিতে পারছিল না। একই ঘরে দুটো পা আর দুটো আওয়াজ, কিন্তু অভিযোগ শুধু একটাই হচ্ছিল। দুই মাই নিজেদের মেয়ের জীবন গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন।

সারাদিন আমরা 'জান' 'জান' বলে স্বামীর কাছে শাশুড়ির হাজারটা নালিশ করি, কিন্তু এটা কেন ভুলে যাই যে, যেই 'জান' 'জান' ডাকার জন্য একটি ছেলে জন্ম দিয়েছেন, সেই শাশুড়িই তো আমাদের আসল মা হন!

এত বছর ধরে সব ছোট ছোট জিনিস-সেই পুরোনো গয়না, বিয়ের শাড়ি এবং আরও কত জিনিস কেবল নিজের বউকে দেওয়ার জন্যই সামলে রাখেন। সব ভালো জিনিস নিজের মেয়ের থেকেও লুকিয়ে রাখেন। তাহলে শাশুড়ি কেন বা কী জন্য শেষে দুর্নামের ভাগী হন?

চলো না আজ শাশুড়ির পছন্দের শাড়ি পরি। স্বামী তো প্রতিদিন ঘোরাতে নিয়ে যান। আজ শাশুড়ি-বউ একসঙ্গে পার্লারে যাই, কিছু কেনাকাটা সেরে আসার পথে ফুচকাও খাই।

কখনও শাশুড়ি রুটি বানালে, কেন না বউও খাবার পরিবেশন করুক? এতে আর এমন কী সময় লাগে!

স্বামী তো সকালে অফিসে চলে গেলে একজন শাশুড়ি আর বউ-ই তো ঘরে একা থাকেন। কখনও শাশুড়ি ছোট ছোট কথা দেখেও না দেখার ভান করলেন, আবার কখনও বউও না-শোনার ভান করল-তাতে আর কী-ই বা সমস্যা হবে! প্রতিটি চিন্তায় খারাপ দিক থাকে, তাহলে কেন না আমরা চিন্তাভাবনাটাই পাল্টে দিই!

এই রীতি তো যুগ যুগ ধরে তো শাশুড়িও কখনও বউ শাশুড়ির রূপেই পরিচিত হই। একটি উঠোনে পা দুটো থাকে চলে আসছে। আজ আমরা বউ, ছিলেন। আর একদিন আমরাও একটি মেয়ের কতই না রূপ হয়- কখনও মেয়ে, কখনও মা, কখনও শাশুড়ি।

কিন্তু এটা কি কখনও ভেবেছি যে, প্রত্যেকের পা কেবল দুটোই হয়, আর একটা পা না থাকলে আমরা পুরোপুরিভাবে অসহায় বা অসম্পূর্ণ থাকি। এই পা আমাদের হাজারো শিক্ষা, ভালো-মন্দের পরিচয় এবং ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায়।

চলো না, এক পা আমাদের তো এক পা শাশুড়ির সঙ্গে মিলিয়ে আঙুল ধরে হাঁটি। 'তুই-তুই আমি-আমি' হলেও এই উঠোনটা তো আমাদেরই। এতে সুগন্ধ প্রতিটি মেয়ে, প্রতিটি মা, প্রতিটি শাশুড়ির। সবার শরীরটা আলাদা নয়, শুধু রূপটাই আলাদা হয়। কারণ শাশুড়িও কখনও বউ ছিলেন আর শাশুড়িও বান্ধবী হন।

মুখোশের অন্তরালে.... কলমে- সুবর্ণা দাশ

 


বধির হয়ে গেলো উমা। কী অপরাধ ছিল উমার! ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে জানালার দিকে। কারো কোনো কথায় সাড়া দেয় না। ঘুম নেই, খাওয়া নেই, দিনরাত যেন এক হয়ে আছে। পাড়ার মানুষ কানাঘুষা করে বলে, মেয়েটা মনে হয় পাগল  হয়ে গেলো। সুন্দর জীবনটা একদম শেষ করে দিলো লম্পট বরটা। 

উপলকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো উমা। উপলের ভালো মানুষের অন্তরালে যে, এত নিষ্ঠুর মন, এত খারাপ! মুখোশ পরা একজন মানুষ। উমার ভালোবাসায় কোনো খামতি ছিল না। হৃদয় উজাড় করে ভালোবেসেছিল। দিনের পর দিন উপল উমাকে ঠকিয়েছে। উমা মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। রূপে গুনে অনন্যা উমা। বাবার ও ছিলো অঢেল সম্পত্তি। সম্পত্তির লোভে উপল উমাকে ভালোবাসার মিথ্যে নাটকে ফাঁসিয়েছে।

উমা সহজ সরল মেয়ে। উমার বাবা মারা যাওয়ার পরে উপলের কুৎসিত মুখ আস্তে আস্তে খুলতে থাকে। যখন প্রথম সন্তান সম্ভবা হলো, তখন উপল নানা অজুহাতে সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে উমাকে। এতে উমা খুব কষ্ট পায়। অনেক অনুনয় বিনয় করেও এ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত করতে পারলো না উপলকে। নার্সিংহোমে যেদিন খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উমার মাতৃ জঠর থেকে তার বুকের ধন বের করে নিচ্ছে ডাক্তার, উপল তখন হাসিতে মত্ত বাইরে দাঁড়িয়ে। 

এক একটি খোঁচায় যেন প্রাণ বেরিয়ে আস্তে চায় উমার। দুচোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে। এই দৃশ্য দেখে ডাক্তার বলে, আপনি নিজে থেকে কী এবরশন করতে চান না?তাহলে কেন করছেন এই নিষ্পাপ জীবনটাকে হত্যা? কিছু বলে না উমা চুপ থাকে। ডাক্তার যখন পরিষ্কার করা ঐ জিনিসটা দেখায় উমাকে, ধক্ করে উঠে উমার বুক। যেন হৃদপিণ্ডটা এক মুহুর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গেল! উপল আসলো উমার কাছে। একটু হেসে উমাকে বলে, ভেবো না এসব কিছু না। সব ঠিক হয়ে যাবে। উপলের এই নির্মমতা দেখে উমা আরো কষ্ট পেলো। পেটে একটু হাত বুলিয়ে দেখে উমা। না আর নেই আমার অস্তিত্বের মধ্যে বেড়ে উঠা জীবনটা, শেষ হয়ে গেলো। 

এর কিছু দিন পর উপল উমাকে বলে, উমার বাবার সম্পত্তি উপলের নামে লিখে দিতে। স্তব্ধ হয়ে গেল উমা। কি বলছে এসব উপল! ভালোবাসার কাছে হার মানে উমা। বাবার সম্পত্তি লিখে দিলো উপলের নামে। কী সর্বনাশ করলো উমা তখনো জানেনা। হঠাৎ একদিন উপল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর বাড়ি ফিরলো না। কোনো খবরও দিলো না। ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বলছে বার বার। ভেঙ্গে পড়ে উমা। দিন যায়, মাস যায় উপলের খোঁজ আর পেলো না উমা। কি করবে বুঝতে না পেরে লোকাল থানায় জানায় উপলের কথা। থানায় একটা হারানো ডায়েরি করে। উপলের ছবি দিয়ে আসে। 

রাত প্রায় দশটা বাজে লোকাল থানা থেকে ফোন আসে উমার কাছে। উমা খুশিতে থানায় যায়। থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে একি শুনলো উমা! নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। পরেরদিন সকালে খবরের কাগজে বড় বড় করে উপরের পাতায় লেখা, প্রতারক রোমেল পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে। 

বিভিন্ন নামে মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের সম্পত্তি নিজের নামে করে তারপর চম্পট দেয়। ছদ্মনামে উপল হয়ে শহরের কোটিপতির মেয়ে উমাকে বিয়ে করে তার সম্পত্তি নিজের করে নিয়ে আত্মসাৎ করার চেষ্টা। এই খবর চোখে পড়তেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠে উমা। সেই থেকে আজ অবধি উমা নিষ্প্রাণ অপলক হয়ে কঙ্কালসার হয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে। না জেনে না বুঝে, যে সর্বনাশ উমা করলো, তার তীব্র যন্ত্রনার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে আজও। এ

ই সমাজের আশেপাশে এমন অসংখ্য উপল ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভালো মানুষের মুখোশের অন্তরালে থাকে এক কুৎসিত মুখ।


সুবর্ণা দাশ


খাকি পোশাকের আড়ালে... কলমে: মুন্নাফ সেখ

 
মুন্নাফ সেখ


আমি তো বাইকার, গতির চাকা ঘোরে আমার হাতে,
রোদ পুড়ে আর বৃষ্টি ভিজে লড়াই করি ভাতে।
সেদিন ছিল অন্যরকম, রাইডটা ছিল চেনা,
গন্তব্যের শেষে ছিল কিছু পাওনা আর দেনা।

রাইড ছিল মানুষের, কিন্তু হাতে ছিল ব্যাগ,
খাবার পৌঁছে দেওয়ার আবদার, এক অদ্ভূত ট্যাগ।
ডেলিভারি নয় কাজ আমার, তবুও নিলাম মেনে,
মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে— এই কথাটি জেনে।

পিকআপে সেই আশ্বাস ছিল— "আসছি দু-মিনিটে",
রোদের তলে পুড়লাম আমি মরীচিকার ইটে।
দুই মিনিট যে চল্লিশ হলো, তবু আমি রইলাম খাড়া,
সময়ের কি দাম নেই আমার? কেউ দিল না তো সাড়া।

অবশেষে এলেন যখন— খাকি পোশাকের দাপট,
একশ পঞ্চাশ হাতে দিয়ে, দেখালেন কি কপট!
বিল ছিল একশ উনষাট, নয় টাকা তার বাকি,
পুলিশ পরিচয় দিলেন ঠিকই, দিলেন আমায় ফাঁকি।

ওহে ইন্সপেক্টর সাহেব! এ কেমন বিচার আপনার?
আইন রক্ষার নামে কেন শ্রমিকের ওপর এই ভার?
নয় টাকা তো বড় নয়, বড় আপনার ওই মন,
পোশাকের নিচে লুকিয়ে কেন এক ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী জন?

আমি খেটে খাই, ঘাম ঝরাই, কারো দয়া তো চাইনি,
ন্যায্য পাওনা কেড়ে নিয়ে কোন মহত্ত্ব আপনি নিলেন জানি?
নয় টাকা হয়তো আপনার কাছে এক চুটকি ধুলো,
আমার কাছে ওটাই শ্রমের শেষ সম্বলটুকু ছিল।

জেনে রাখুন, উর্দির জোর শুধু লাঠিতে নয় থাকে,
আসল মানুষ চেনা যায় সামান্য এই নয় টাকার খাঁজে।
আমি গরিব হতে পারি, কিন্তু মেরুদণ্ড আছে খাড়া,
আপনার মত বেইমানির চেয়ে, আমার সততাই লক্ষ গুণ সেরা।

বেশ্যাপতি - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ



 
বেশ্যা বাড়ি যাও হে ভদ্র
মুখ লুকিয়ে রাত্রি কালে, 
তবুও তুমি সমাজে মান্য
দুর্নাম কেবল বেশ্যার ভালে! 
একদিন তোমায় বেশ্যা বাড়িতে
দেখলো চেনা জনে, 
হাত পা তোমার শীতল হলো
ভয় ঢুকলো মনে! 
সেখান হতে মানে মানে
পালিয়ে যেই এলে, 
নিজেকে বাঁচাতে নোংরা এক
চাল তুমি খেলে গেলে। 
টাকা ছড়িয়ে লোভী লোকদের
তুললে অযথা ক্ষেপিয়ে, 
অপরাধ যত বেশ্যার কাঁধে
অবলীলায় দিলে চাপিয়ে। 
যুবকেরা সব নষ্ট হচ্ছে
হচ্ছে পথ ভ্রষ্ট, 
ভাবটা তোমার ওদের জন্য
হৃদয়ে কত না কষ্ট! 
কত রাত তুমি বেশ্যার বুকে
তৃপ্তিতে ছিলে ঘুমিয়ে, 
তাকেই আজকে মারতে এসেছো
সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে। 
কুকীর্তি সব ঢাকতে তোমার
সাজালে দাবার গুটি, 
প্রকাশ্যে তুমি ধরলে চেপে
বেশ্যার চুলের মুঠি। 
কানে কানে তাকে বললে তুমি
দিতে পারি তোকে ছেড়ে, 
আমার নামটা মুখে নিস যদি
জানে দেব তোকে মেরে। 
অসহায় নারীকে বেশ্যা বানিয়ে
সেজে আছো সমাজপতি! 
সবাই জানে সবাই বোঝে
আসলে তুমি বেশ্যাপতি।
এমনই করে কতকাল তুমি
ধামাচাপা দিয়ে সব যাবে? 
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে
সময়ে ঠের পাবে।
জনগণ ঠিক গর্জে উঠে
করবে তোমার গতি, 
ধর্ ধর্ মার্ বলবে সবাই
এ শালা বেশ্যা পতিত! 
ছিঃ! এ নাকি সমাজপতি!

নিয়তি কলমে- ঝরনা দত্ত

ঝরনা দত্ত 

 

 সবাই জানে পৃথিবীতে 
 ভাগ্যের নাম নিয়তি,
 সময় বিশেষে ভাবে মানুষ 
 বৃদ্ধ মরলে কি ক্ষতি?

 প্রথম জীবনে মা-বাবা 
 স্বর্গের চেয়েও বড়,
 ছেলে-মেয়ে মানুষ করতে 
 থাকেন তারা দঢ়।

 ধীরে ধীরে বয়স হলে 
 কাজও সম্পন্ন হয়,
 সন্তানরা প্রতিষ্ঠা পেলে 
 থাকেনা মা বাবার ভয়।

 কার্যক্ষেত্রে যাচ্ছে দেখা 
 বয়স বেড়ে গেলে,
 সবাই ছেড়ে যাচ্ছে চলে 
 মা-বাবাকে ফেলে।

 থাকছে কেউ বৃদ্ধাশ্রমে 
 কেউ বা ফুটপাতে,
 শীত, গ্রীষ্ম  মাথায় করে
 থাকছে কোনোমতে।

 সঙ্গীহীন হয়ে কেউবা 
 কাটায় রাস্তার ধারে,
 অসহায় মনে ভাবে তারা
 সন্তান বলবো কারে?

 জীবনে আজ নেমে এসেছে
 ঘোর অন্ধকার, 
 বড় হয়ে সন্তানেরা ভাবেনা 
 কথা মা বাবার।

 অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ 
 মিলেই মানব জীবন,
 একথা ভেবে জীবনে চলা 
 দরকার তাই ভীষণ।

 ভোগের আকাঙ্ক্ষায় ক্ষিপ্ত 
 মানুষ হারায় মানবিকতা,
 আজ বৃদ্ধ রয়েছে রাস্তায় পড়ে 
 নেই কোনো আন্তরিকতা।

 ছেলে বড় হয়ে বিদেশে গেছে
 নেইকো বাবার খোঁজ,
 অসহায় বাবা কাঁপছে শীতে 
  নিয়তির ভুরিভোজ

ওরা শিশু... - রুদ্র কিশোর দাস

 



ওরা শিশু 
ওদের পিঠে বস্তা কেন?
স্কুলের বই কোথায়?
ওরা বাসন মাজে চায়ের দোকানে -
ওরা লেদ কারখানায় কি করে?

তেল সাবান চিরুনি নেই বুঝি?
একটাই জামা? ছেঁড়া?

ওরা খায় না দুবেলা মা?
আমি লিখবো ওদের কথা?
ওদের কান্না -পেটে ব্যথা..
তুমি তো কত কিছু লেখো,
আমি লিখবো ওদের কথা,
শুনবো ওদের কথা পাশে বসে।


রুদ্র কিশোর দাস 


প্রবন্ধ - শাশুড়িও বান্ধবী হয়... - মারিয়াম রামলা

  মারিয়াম রামলা একটি উঠোনের পা দুটো থাকে, কিন্তু সম্পর্কের ফাটল একটি আঙুল থেকেই শুরু হয়। ঘরে কন্যা সন্তান না জন্ম নিলে কত দোয়া, কত মিনতি কর...

জনপ্রিয় পোস্ট