 |
| সুবর্ণা দাশ |
হাওয়ায় তনিমার চুল এলো মেলো করে দিল। আশিক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে তনিমার দিকে। কী অপূর্ব লাগছে তনিমাকে। আশিকের চোখে চোখ পড়তেই তনিমার কাছে গিয়ে হাত ধরে বলে আর অপেক্ষা করতে মন সায় দিচ্ছে না। এই বসন্ত বিকেলে তোমার আমার প্রাণ প্রিয় কখন আসবে? স্নেহের চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দেব তার কপোল। তনিমা হেসে বলে, আর তো কটা দিন।
তনিমা-আশিক এর ঘরে আসবে নতুন সদস্য, তাদের রাজপুত্র আসবে আগেই জেনে গিয়েছিল বিজ্ঞানের সুব্যবস্থার কারণে। উদাস দুপুরে কোকিলের ডাকে যেন তনিমার মন দোলে উঠে অজানা আনন্দে। বসন্ত তো চলেই এলো, তবুও যেন তনিমা-আশিকের জীবনে আসলো না এখনো বসন্ত! শুভক্ষণ ঠিক করলো তনিমা-আশিক। সেই দিনই হবে তনিমা-আশিকের বসন্ত উৎসব। অবশেষে সেই দিন আসলো। বসন্তের এক সকালে কোকিলের ডাকে, পুষ্পরাজের শোভায় শোভিত, মুখরিত চারদিক এই সময় ভুমিষ্ট হলো তনিমা-আশিকের বসন্ত। আগমন ঘটলো চিরচেনা পৃথিবীর মাঝে এক টুকরো বসন্ত। আনন্দের বন্যায় ভাসলো তনিমা-আশিক। এক ফোঁটা আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তনিমার গাল বেয়ে। সযত্নে অশ্রু মুছে দিল আশিক।
প্রকৃত বসন্তের আবেশে মোহিত হলো চারপাশ বসন্তের কান্নায়। লাল টকটকে আভায় ঠিকরে বেরুচ্ছে তনিমা-আশিকের বসন্ত উৎসব। কচি ঠোঁটে কাঁপা কাঁপা ওঁয়্যা ওঁয়্যা কান্না। এ যেন কান্না নয়, এক আর্তি আমি এসেছি তোমাদের কোলে, বসন্তের আবেশে, মুখরিত করতে বদনখানি তোমাদের।
আশিক মনে মনে উপলব্ধি করে সত্যি সত্যি আজ আমার জীবনে বসন্তের আগমন ঘটলো। নতুন পরিবেশে, নতুন করে মিলন ঘটলো মহা লগ্নে হৃদয়ের বন্ধনের মহা প্রাপ্তির। এই প্রাপ্তির ব্যখ্যা নেই আশিকের কাছে। তনিমার হাত ধরে অঙ্গিকার করে প্রতিটি বসন্ত হবে আমাদের পুত্রকে নিয়ে।