মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

ফরাসডাঙা... - অরবিন্দ সরকার

 
লেখক -  অরবিন্দ সরকার

 

ফরাসডাঙা
   -  অরবিন্দ সরকার 
           

ফরাসীদের উপনিবেশ ভাগীরথীর তীরে,
ব্যবসা বানিজ্য রমরমা মুর্শিদাবাদ ঘিরে,
            ফ্রান্স পর্তুগাল ব্রিটেন 
            সওদাগড়ির লেনদেন 
বহরমপুর সদর ঘাটবন্দরে নৌকা ভিড়ে।

ফরাসডাঙা ফেরীঘাটে যোগাযোগ রাঢ়ে, 
পূর্বদিকে বাগড়ি থেকে ব্যবসা পারাবারে,
          হারিয়ে লণ্ঠন হ্যারিকেন
          বিদ্যুৎ বাতি হ্যালোজেন
শহরের মস্তিষ্ক ঐতিহ্যবাহী প্রান্তটি উত্তুরে।

হাজারদুয়ারী খোসবাগ সামান্য কিছু দূরে,
সিরাজ মীরজাফরের সোনার তাজে হীরে,
         ভাগীরথীর দুই পাড়ে ট্রেন 
         যাতায়াতে তিন সেতু মেন
ভিটে খাগড়া কাশিমবাজার গোরাবাজারে।

ফরাসডাঙার নদীর পাড়ে ভীমেশ্বর মন্দিরে,
দর্শনার্থীদের পূজা পার্বণে জমে ওঠে ভীড়ে,
        যাতায়াতের রাস্তা চার লেন
       সুনাম অর্জনে রামদাস সেন
ফরাসডাঙা শহরের গ্রাম্য চেহারা বুক চিরে।

বয়সের দূরত্ব... - মারিয়াম রামলা

লেখিকা - মারিয়াম রামলা



 বয়সের দূরত্ব
- মারিয়াম রামলা

বয়স হওয়ার আগেই কেন যেন বয়স হয়ে যায়,
মন তো আজও তরুণ,
তবু শরীর কেন বদলে যায়?
যে শিশু, সে দ্রুত বড় হতে চায়,
আর যে বড় হয়েছে,
সে কেন ব্যাকুল হয়ে শৈশবকে ডাকে?
এ কেমন বয়সের ব্যবধান,
কে জানে কীভাবে ভাগ্য বদলে যায়!
মানুষ তো শুধু অন্যকে কথা শোনাতেই জানে,
অথচ একদিন নিজেকেও এই মোড়ে দাঁড়াতে হয়;
তবুও কেন নিজেকে ভুলে
লোকে অন্যের পেছনে ছুটে বেড়ায়?
বয়স হওয়ার আগেই কেন যেন বয়স হয়ে যায়...!!

ছড়া - অবুঝ নাতনী - নূরুল ইসলাম

 লেখক - নূরুল ইসলাম

 


ছড়া - অবুঝ নাতনী
    - নূরুল ইসলাম
    

  ফোনটি আমার পড়ে আছে,
      ভিতরে কী সব গন্ডগোল।
  আসন্ন ঈদের কেনাকাটায়, 
       আজ যেতে হবে শপিং মল।

  অবুঝ নাতনি লিস্টি বানায়, 
      কিনতে হবে কাপড় জামা।
  নাতনী এবার কিনবে নাকি ,
      লেহেঙ্গা, দামে নয় তা কমা।

  বিকাল বেলা বাসস্ট্যান্ড নেমে,
      গেলাম এক ফোনের দোকান।
  ফোনটি দেখে দোকানি হেসে, 
       বলে, চলবে না দাদু পুরাতন!

  দোকানের পাশে শপিং মল,
       ঢুকে পড়ি সব সদল বলে।
  সাজানো আছে থরে থরে,
       কিনে ফিরতে হবে বিকেলে!

  সকলের জন্যই কিনা হলো,
      সাজানো হলো সব ট্রলিতে।
  নাতনীর লেহেঙ্গা পছন্দ নয়,
       আজ কিনবে না সে কিছুতে।

  অবুঝ নাতনির এ কি হলো, 
      ভারী কেন তার মেজাজ টা?
  পীড়াপীড়িতে বললো  শেষে,
       কিনো তবে স্মার্ট ফোন টা।

  সকলে মিলে বুঝাই তাকে, 
      তুমি যে এখন ছোট্ট মেয়ে!
  বড় হয়ে স্মার্ট ফোন কিনো,
      ভালো কোনো এটার চেয়ে।

  বুঝলো না সে  কোনো কিছু ,
       স্মার্ট ফোনটি নিলো হাতে।
   আমার পকেটে গুঁজে বলে,
       চায় না আজ সে কিছু নিতে।

ফিরে আসার পথ ! - রকিবুল ইসলাম

লেখক - রকিবুল ইসলাম


 ফিরে আসার পথ !
- রকিবুল ইসলাম

সুখের লাগি যে ঘর বাঁধে,
ভাঙে তা প্রবল দুঃখ স্রোতে।
দুজনার দুটি পথ গেছে বেঁকে,
মিলেনা ফেরারী মানস কোন মোহনাতে।
উজান গাঙে নাও পাল তুলে,
নীরবধি চলে কোন বাধাহীনে।
তেমনি তব মায়া উড়ে চলে,
অন্য কোন নয়া বৃক্ষ শাখে।
যতন করে পুষলাম যে জনারে,
সে তো এলোনা আপনার হয়ে।
আসবে আবার সে কেমন করে!
ফেরার রাস্তাটা গেছে আঁধারে ডুবে।
তবুও আছি আমি ঠাঁই দাঁড়িয়ে,
একলা একা সে আঁধার পথে।
যদি তুমি আবার আসো ফিরে!
মান অভিমান সব বেমালুম ভুলে।
থাকব সতত সেই পথপানে চেয়ে,
যেই পথে‌তুমি গিয়েছো ফিরে।

গরম রুটির গন্ধ... - সর্বানী দাস

 
লেখিকা- সর্বানী দাস 


গরম রুটির গন্ধ
- সর্বানী দাস 

 আদিম চেনা সুবাসে-
বাতাস ম ম করছে,
রান্নাঘরে আটা মাখার শব্দ
 আর চুড়ির জলসা -
চেনা বিষাদ  - চেনা খিদে
 আঙুলের দলায় নরম,
হিসেবী প্ৰেম থমকে দাঁড়ায়
 জাগতিক জটিলতা।

ধিমিধিমি আঁচে চনমনে মন
 কৃত্রিম বিলাসিতা,
বেলন চাকি আর 
গোল রুটির দলা
 নেই বৃত্ত সমীকরণে -
মাতাল বাতাস পূর্ণানন্দে
 লুকিয়ে দ্যাখে প্ৰেম... 
লোহার তাওয়ায় ফুলছে রুটি - 
পিরিতির ধোঁয়া।

বাঁচার চরম লিপ্সা 
গরম রুটির গন্ধ -
ঠোঁটে ঠোঁট মিশে যায়,
 অলৌকিক খিদে...
একটুকরো গরম রুটি আর-
 আধখানা পেঁয়াজ-মরিচ,
ফোস্কা পড়া রুটির ভেতর
 জমা বাষ্প -খিদের ক্ষত। 

প্রশ্ন রাখে ডাইনি পেট,
জীবন কি সত্যিই ধাঁধা?
একটুকরো গরম রুটিতে
 যাপনের সার সত্য,
ক্ষুধার শান্তি- ক্ষুধার্তের ওম,
 চিরকালের পরম প্রাপ্তি...
গরম সেঁকা রুটির গন্ধ
 এইটুকু তো চাওয়া।

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

গল্প - অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ... - সুবর্ণা দাশ

 


গল্প -
অভাবের সংসারে এক চিলতে সুখ
- সুবর্ণা দাশ


আজ উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হলো। মণি সেরা দশজনের মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। দলে দলে লোকজন ভিড় করতে লাগলো মণিদের বাড়িতে। বাড়ি'তো নয়, একটুকরো খড়ের ছাউনির ছোট ঘর। সাংবাদিক আসলো টিভি চ্যানেল থেকে। মহা আনন্দের সমারোহ আজ মণির মা-বাবার কাছে। 

অভাবের সংসার রীতা ও জয়ের। অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করে রীতা, জয় ও তাদের আদরের একমাত্র কন্যাসন্তান মণি।বাবা জয় ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করে আর মা রীতা পরের বাড়িতে কাজ করে। মণির ছোট বেলা থেকে পড়া লেখার প্রতি বড় ঝোঁক ছিল। তাই মা-বাবা অনেক কষ্টে মণিকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াচ্ছে। ঠিকঠাক কোন প্রাইভেট শিক্ষকও দিতে পারেনি মণিকে মণির মা-বাবা। 

স্কুলে শিক্ষকরা ক্লাসে যতটুকু পড়িয়েছেন সেটাই মনোযোগ দিয়ে বাড়িতে পড়তো মণি। দিন রাত শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো মণি। 

রীতা ও জয় মেয়ের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে পারতো না বলে,ওদের মনে অনেক দুঃখ ছিলো। মণির মা-বাবা কখনো বুঝতে পারেনি তাদের মেয়ে পড়াশোনায় এত ভালো। স্কুলের হেডমাস্টার এলো মণির মা-বাবার কাছে। আজ যেন মণিদের বাড়িতে খুশির ঢল নেমেছে। 

সাংবাদিক স্বাক্ষাৎকার নিচ্ছে মণির। পাড়া প্রতিবেশি এসে বলে 'ও মণির মা, মণিকে টিভিতে দেখাচ্ছে। মণির মা-বাবার এত আনন্দের মধ্যেও চোখে জল আসলো। রীতা ও জয় দুঃখ করে বলে,বাড়িতে আমাদের টিভি নেই যে ,মেয়েকে যে টিভিতে দেখাচ্ছে সেটা একটু দেখবো ! মণি এসে বলে, আমি বড় হয়ে চাকরি করে তোমাদের টিভি কিনে দেব। মণি সাংবাদিকদের বলে - 

"সে বড় হয়ে মানুষের ও দেশের সেবা করবে"

রীতা ও জয় আজকের দিনে মণিকে যে একটা কিছু দেবে সেই বাড়তি টাকা টুকুও নেই। তাই মনে মনে ওদের খুব দুঃখ! তবুও রীতা ও জয় খুশি। সুখের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তাদের হৃদয়ে। 

রীতা ও জয় বুঝে তাদের মেয়ে কি সাফল্য অর্জন করেছে। মেয়ে মণিকে জড়িয়ে ধরে বাবা-মা আবেগে আপ্লুত। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে গেছে ওরা ওদের নিত্য দিনের অভাবের যুদ্ধের কথা। মণিকে মিষ্টিমুখ করিয়ে জয় বলে -  

- আমি ও তোর মা পড়ালেখা করতে ভালোবাসতাম। 
কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদের প্রতিকূলে ছিলো বলে পড়ালেখা করতে পারিনি। 
আমাদের না'পারা গুলো তুই পূরণ করলি মা। 
তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি তুই আরো ভালো রেজাল্ট করবি ভবিষ্যতে। 
এই আশা থাকলো তোর কাছে। 

মণি বলে - 
- আশা আমি পূরণ করবো বাবা। 

বেলা গড়াতে ভ্যান নিয়ে জয় বেরিয়ে গেল নিজ কর্মে। জয়াও মেয়েকে চুমু খেয়ে কাজে বেরিয়ে গেল। 

মণি ভাবে - 
মা-বাবা, শিক্ষক সবাই আজ কত আনন্দ করলো আমার ভালো রেজাল্টের কারণে। 
আমি আরো ভালো করবো, নিজের পায়ে দাঁড়াবো। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করবো। 
দেশের কাজ করবো এই আমার অঙ্গিকার।




লেখিকা - সুবর্ণা দাশ


ফরাসডাঙা... - অরবিন্দ সরকার

  লেখক -  অরবিন্দ সরকার   ফরাসডাঙা    -  অরবিন্দ সরকার              ফরাসীদের উপনিবেশ ভাগীরথীর তীরে, ব্যবসা বানিজ্য রমরমা মুর্শিদাবাদ ঘিরে, ...

জনপ্রিয় পোস্ট