শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

লাভের কড়ি - দীপ্তি নন্দন

- দীপ্তি নন্দন 

লাভের কড়ি
- দীপ্তি নন্দন 


সেদিন সন্ধেবেলা তার ঘরের  দাওয়ায় হরিশ খুব মনমরা হয়ে বসেছিল। একটু আগেই  সুকুলের ঠেক-এ গিয়ে কয়েক গেলাস ধেনো চড়িয়ে এসে তারই নেশায় নিজের পোড়া কপালের কথা ভাবছিল বসে বসে।সেই দুপুরে এক মুঠো ভাত খেয়েছিল সে তারপর আর পেটে কিছু পড়েনি। উপরন্তু বৌ -এর লুকোনো টাকা থেকে পয়সা নিয়ে সে মনের দুঃখে ধেনোর ঠেক -এ গিয়েছিল।

খালি পেটে নেশাটা যেন ভীষণ জোরদার হয়েছে মনে হচ্ছে তার।
এখন ভরা বর্ষায় মাছ ধরার মরশুম চলছে, কিন্তু তার নৌকোর তলাটা ফেঁসে অকেজো হয়ে পড়ে আছে বেশ কিছুদিন ধরে। হাতে এমন  পয়সা নেই যে সারাবে। এসময় কেউ চট করে নৌকো ব্যবহার করতে দিতেও চাইবেনা।এখন তার নৌকো নেই ,টাকাও নেই তাই এবার নদীতে মাছ ধরার পারমিটও নেওয়া হয়নি। তাই সে এখন বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে আর দুবেলা বৌ - এর মুখ ঝামটা শুনছে। কারণ বৌ এখন অন্যের বাড়ির ধান, চিঁড়ে কুটে, মুড়ি ভেজে সংসার চালাচ্ছে।

মনের দুঃখে একপেট ধেনো খেয়ে সে দাওয়ায়  বসে থেকে থেকে একসময় শুয়েই পড়ে ছিল। এমন সময়,শোনে একটা চাপা গলা --

" এ্যাই হরিশ আজ একটু বেশি রাতে যাবি নাকি মাছ ধরতে? "

এটা কালুর গলা না! 'হরিশ লাফিয়ে উঠল। 

সাগ্রহে বলল," কোথায় রে?"

  কালু বলে, " কেন, নদীতে ! অনেক মাছ  পাওয়া যাবে এখন গেলে । যাবি তো বল্!
---   "সে কি রে? ওখানে রাতে পাহারা থাকে না?"

---" হ্যাঁ থাকে তো। কিন্তু আমার কাছে খবর আছে, জল পুলিশের পাহারার লঞ্চ আজ এদিকে থাকবে না,  অন্য দিকে থাকবে।কাল সকালের আগে ফিরবে না। "

 ---"  তাই নাকি? আচ্ছা তবে চল্ ! "হরিশ চুপিচুপি দাওয়ার একধারে রাখা মাছ ধরার সরঞ্জামের ঝোলা আর খেপলা জালটা নিয়ে বলে,-- 

" চল এবার দেখি কটা মাছ নিয়ে আসতে পারি। "

কালু, হরিশের মাছ ধরার নানা কৌশলের কথা জানতো। জানতো তার অব্যর্থ কোঁচ দিয়ে গেঁথে মাছ ধরার দক্ষতার কথা। তাই আজকের এই পাহারাহীন নদীতে মাছ ধরে কিছু বেশি লাভের কড়ি গোনবার জন্যই তো তার হরিশকে সঙ্গে নেওয়া! 

একটুক্ষণ পরেই অন্ধকারে দুটি ছায়া মূর্তি সকলের অগোচরে নদীর দিকে রওয়ানা হয়।একটা নিরিবিলি অন্ধকার ঘাটে কালুর নৌকোটা বাঁধা ছিল। দুজনে নিঃশব্দে নৌকোয় গিয়ে ওঠে। ঘাটের ধারের বড় গাছটায় বাঁধা রশি খুলে ঠেলে জলে নামিয়ে দিতেই নৌকোটা নদীর স্রোতে তরতরিয়ে চলতে থাকে।একটু পরে ঘন অন্ধকারের মধ্যে বিশাল বড়ো নদীর অথৈ কালো জলে নিঃশব্দে কালু তার নৌকো বাইতে থাকে আর হরিশ তার খেপলা জালটা ফেলে মাছ ধরার তোড়জোড় করতে গিয়ে দ্যাখে ,ঠিক নৌকোর পাশেই বড়ো বড়ো মাছ খলবল করছে ।  

সে বুঝল,এত কাছ থেকে মাছ ধরতে এই জালে কোনো কাজ হবে না।সে তার জাল গুটিয়ে রেখে মোক্ষম অস্ত্র  কোঁচটি বের করে  হাতে কোঁচ চালিয়ে  মাছ গেঁথে  তোলার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু ধেনোর নেশায় হাত ঠিক মতো না চালাতে পেরে  খুব একটা বেশি মাছ গেঁথে তুলতে পারলনা। কালু ,হরিশের এই  বিশেষ গুণের কথা জানত বলেই, তাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু নেশার ঘোরে এই হঠাৎ পাহারাহীন নদী থেকে ফায়দা তুলতে সে অপারগ হচ্ছে দেখে রেগে গিয়ে বলল, --  

" তুই যে নেশা করে আছিস আগে আমাকে বললি না কেন?   আজকের দিনটাই তো মাটি করে দিলি একেবারে। আমার তো সবটাই ক্ষতি।এতক্ষণ ধরে  নৌকো চালিয়ে লাভ কি হলো! ঐ দুএকটা মাছ বিক্রি করে ক'টা টাকা পাওয়া যাবে ? এর চেয়ে আমি একা এলে তবুও লাভ থাকত কিছু! "

রাগে সে গজগজ করতে লাগল। হরিশ অনেকক্ষণ ধরে  কালুর কথাগুলো শুনছিল।  তারও তো পরিশ্রম হয়েছে যথেষ্ট। ক্লান্ত হয়ে সে নৌকোর গলুই- এ বসে হাঁফাচ্ছিল। একেই কদিন তার কোনো আয় নেই। তেমন খাওয়াও জুটছে না, তার ওপরে রয়েছে ধেনোর নেশার প্রভাব।তাই ক্লান্তির মাত্রাটা একটু বেশিই ছিল হরিশের।

কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করার পর কালু নৌকোর একেবারে ধারে বসে ঢুলতে লাগল ঘুমে। তার আগেই সে পাড়ের কাছাকাছি একটা খুঁটিতে তার নৌকোটা বেঁধে রেখেছিল।

হরিশ ক্লান্তির ভারে নুয়ে পড়ে শুতেই যাচ্ছিল। তখনি হঠাৎ একটু আগে বলা কালুর কথাগুলো ভেবে তার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল।

তখন হঠাৎই হরিশের মনে হলো, আচ্ছা আর তো কেউ জানে না, আজ কালুর আর তার রাতের অভিযানের কথা !এখন যদি সে কালুকে তার রাস্তা থেকে হটিয়ে দেয়, তাহলে কেউই তো  কিছু জানতে পারবে না।খোলের মধ্যে যে পরিমাণ মাছ আছে , কাল সকালে নদীর ঘাটে কিংবা হাটে বিক্রি করতে পারলে, কিছু তো পাওয়া যাবে! 

সে নৌকোর পাশে বসে ঘুমে ঢুলতে থাকা  কালুর গলায় পেছন থেকে তার হাতের কোঁচটা চালিয়ে দিয়ে, ঠেলে ফেলে দিল তাকে জলের মধ্যে। হরিশ দেখল তার কোঁচের ঘায়ে, কালুর গলাটা প্রায় পুরোটাই কেটে দুই টুকরো হয়ে গেছে। এবার সে খুব নিশ্চিন্ত হয়ে নৌকোর মধ্যে শুয়ে  পড়ল, আর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়েও পড়ল। 

অল্পক্ষণ পরেই তার মনে হলো যেন নৌকোর পাশেই একটা বড়ো মাছের খলবলানির শব্দ আসছে। সে উঁকি মেরে দেখে একটা বিশাল মাছ নৌকোর ঠিক পাশেই খলবল করছে। সে হাতের কোঁচটা চালিয়ে দিয়ে সেটাকে একবারেই গেঁথে , অনেক কষ্টে সেই বৃহৎ মাছকে নৌকোর খোলে তুলে রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। 

ভোরের আলো ফুটে গেলেও তার সেই ঘুম ভাঙলো না। এদিকে উপকূল রক্ষী বাহিনীর লঞ্চ এদিকে ততক্ষনে চলে এসেছিলো। তারা কালুর নৌকায় হরিশকে অঘোরে ঘুমোতে দেখে তাকে ওঠাতে গেলো।

জল পুলিশের লোকের লাঠির খোঁচা  খেয়ে  ঘুম ভাঙল হরিশের। বেআইনি ভাবে পারমিট ছাড়া মাছ ধরার অপরাধে তাকে ধরতে গেলে, সে তাড়াতাড়ি বলে ওঠে ,-- 

" হুজুর যে মাছ ধরেছি তার  থেকে কটি মাছ আপনার বাড়িতে পাঠিয়ে দিই! " 

পুলিশের লোক কিছু বলার আগেই ঝামেলা থেকে ছাড় পেয়ে যাবার আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সে নৌকোর খোল থেকে মাছ বের করতে গেল। 

পাশ থেকে পুলিশ ইন্সপেক্টর  উঁকি মেরে দেখতে গেলেন কত মাছ রয়েছে সেখানে , কিন্তু  তাঁরা অনেক মাছের বদলে দেখলেন, নৌকোর খোলের মধ্যে কালু, তার প্রায়  দু ফাঁক করা গলা নিয়ে সেখানে শুয়ে আছে!


বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মা যখন লাশ - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

মা যখন লাশ 
- সালাম মালিতা 

শরীর জুড়ে ভীষণ দুর্গন্ধ 
পচা-গলা মাংসপেশিগুলো খুলে খুলে পড়ছে,
ঈদের আনন্দে পুরো দেশ যখন 
সেমাই-পায়েস, মাংস-পোলাও খেতে ব্যস্ত-
মাছি,পিঁপড়ে,আরশোলা, মাইটেরা তখন
মহাতাণ্ডব চালিয়ে আমার শরীর দখল নিয়েছে।
মানুষের ঘরে ঘরে যখন
আতর-পারফিউমের সুগন্ধে ম-ম করছে,
তখন আমার ঘরটা লাশ পঁচার বিটকেল গন্ধে
নাসারন্ধ্রকে উত্যক্ত করতে শুরু করেছে।

দশমাস উদরে সযত্নে রেখে
যে সন্তানদের লালন-পালন করলাম, 
তাদের উচ্চ শিক্ষার কাছে 
আমার সেই প্রাচীন মমত্ব বড্ড অসহায়। 
শিক্ষক, প্রফেসর, প্রবাসী 
নামকরা মানুষ হলেও শিকড় ভুলে গেলো ,  
ইয়াব্বড় বড় ডিগ্রি আর নামি-দামি কোর্ট-প্যান্ট 
তারা সব মেকি জেন্টলম্যান...!

জীবনের পঁচাত্তরটা বসন্ত কেটেছে
সন্তানদের নিয়ে একটু সুখের আশায়, 
সন্তানেরা বড় হল, বড় চাকরি পেল
অনেক অর্থ উপার্জন করল-
কিন্তু এক টুকরো সুখ আর মাকে দিতে পারলো কই...!
ঘরের ব্যয়বহুল আসবাবপত্রের মাঝে 
মৃতপ্রায় বুড়িটাই ছিল সর্বনিম্ন পণ্য, 
তাই গৃহবন্দি করে জীবনের অন্তিম মুহুর্ত কাটল
নির্জলা হয়ে। 
জল পিপাসায় বুকের পাঁজর 
দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও 
আর্তনাদ শোনার মত কেউ ছিল না,
তথাকথিত শিক্ষিত সভ্যতার ভাগাড়ে
কুসন্তান শকুনেরা শেষ বয়সে আর খুবলে ছিঁড়ে খেল!

সন্তানের জন্য সকল খুশির জলাঞ্জলি দিয়ে 
সকল চাওয়ার বলিদান দিয়ে..
আবেগ-অনুভূতি সব বিসর্জন দিয়ে...
তাহলে এই ছিল আমার কপালে..! 
পৃথিবীর আবাদকারী একজন মায়ের ভালে
সৃষ্টিকর্তা এই বিধান লিখেছিলেন..? 

যমদূতের অনাগ্রহ সত্ত্বেও 
পৃথিবীর বুকে সন্তানরূপী যমদূতরা-
টেনে-হিঁচড়ে দমটা বার করে নিল,
এই তাদের শিক্ষিত বিবেক...!
এই তাদের আধুনিকতা...!
এই তাদের সভ্যতা...!
এই তারা আধুনিক মানুষ..? 

যে মায়ের পায়ের নিচে সৃষ্টিকর্তা 
এক টুকরো স্বর্গ রেখেছেন, 
হায়! সেই মায়ের শেষ পরিণতি হল এতটাই নির্মম...!
নিজের পুরো জীবনটা সন্তানের জন্য উৎসর্গ করেও
নিজের দুধের ঋণ পরিশোধে-
রক্তমাখা কলিজা খেয় নিল ঐ নরখাদকেরা-
আর জনমদুখিনী মা হল এক লাশ....!!

চেতনার ভাঙা আয়নায়.... - মুন্নাফ সেখ


চেতনার ভাঙা আয়নায়
- মুন্নাফ সেখ

যে মাটির বুকে মিশে আছে আজও বীর শহীদের রক্ত,
সে মাটি ভুলেছে আপন ইতিহাস, আজ শুধু ধর্মের ভক্ত।
হিন্দু-মুসলিমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল সেই রণে,
দেশমাতা ছিল সবার উপরে, ভেদ ছিল না কো মনে।
তিতুমীর আর মঙ্গল পাণ্ডে গড়েছিল একই ধারা,
ক্ষুদিরাম, আশফাকুল্লাহ দেশের জন্য হয়েছিল আত্মহারা।
নেতাজির ডাক, আজাদের জেদ কাঁপিয়েছিল ব্রিটিশের ঘর,
এক থালায় খেয়ে এক সাথে সবে তাড়ালো বিদেশী পর।
সেই স্বাধীনতা আজ ধুলোয় মেশে একাকী কাঁদে এক কোণে,
দেশপ্রেমের সেই খাঁটি আগুন আর জ্বলে না কারো মনে।

সেই ভারত আজ টুকরো হয়েছে রাজনীতির বিষাক্ত চালে,
ক্ষমতার লোভের বিষ ঢালা হচ্ছে ভাইয়ে-ভাইয়ের গালে।
ব্রিটিশ আমলে শত্রু ছিল শুধু ওই শ্বেতাঙ্গ দল,
আজ ঘরে ঘরে শত্রু বানায় নেতার স্বার্থের বল।
তখন সাধারণ মানুষ লড়েছে দেশের স্বাধীনতার তরে,
আর আজ তারা লড়ছে কেবল রুটি আর রুজির ঘরে।
সাধারণের পেটে ভাত নেই আজ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য শেষ,
তবু ধর্মের নামে জল্লাদ সেজে পুড়ছে স্বাধীন দেশ।
নেতার লোভের অনলে পুড়ছে আজ মানুষের বিশ্বাস,
স্বাধীন দেশের বাতাস কেড়েছে সাধারণের দীর্ঘশ্বাস।

সবচেয়ে বড় আজব তামাশা আজকের এই মিডিয়া,
সত্য বিকিয়ে ক্ষমতার পায়ে ধরেছে চামচাগিরি বাছিয়া।
যে চাটুকার দল গদি মিডিয়া নামে পরিচিত আজ ভুবনে,
তারা বিষ ঢেলে যায় দিন আর রাত মানুষের কানে কানে।
বেকারের কান্না, কৃষকের ফাঁসি দেখায় না টিভির পর্দায়,
শুধু হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধিয়ে টিআরপি বাড়ে সস্তায়।
ভোটব্যাংকের নোংরা খেলায় মেতেছে শাসক দল,
আর মূর্খ মিডিয়া ঢাক-ডোল পিটিয়ে বাড়ায় তাদের বল।
কলম বিক্রি, বিবেক বন্ধক, সত্য আজ নির্বাসিত,
মিডিয়ার ঘরে টাকার পাহাড়ে সমাজ আজ কলঙ্কিত।

একটা সময় হিন্দু-মুসলিম ছিল যে প্রাণের মিতা,
আজ মিডিয়ার বিষে একজন অন্যজনের চিতা।
প্রতিবেশীর ঘরে উৎসব হলে আসত যে আনন্দের বান,
আজ সেখানে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় ধর্ম আর স্থান।
ধিক্কার জানাই সেই সরকারকে, ধিক্কার সেই রাজে,
যে রাজা নিজের আসন বাঁচাতে ধর্মের ফায়দা খোঁজে।
মানুষের রক্তে গদি রাঙানো এ কেমন রাজনীতি?
মানবতার চেয়ে বড় হতে পারে না কোনো দিন কোনো নীতি।
ধর্মের নামে ক্ষমতার লোভ ডেকে আনে শুধু ধ্বংস,
এই কুৎসিত নোংরা খেলায় মরে যে সাধারণের অংশ।

পিয়নের চাকরিতেও দেশে লাগে ডিগ্রির সংশাপত্র,
অথচ মূর্খ-অশিক্ষিতে ভরে গেছে আজ রাজতন্ত্র!
চোর-ডাকাত আর মূর্খের হাতে সোনার দেশের চাবি,
যোগ্যতাহীন নেতা-মন্ত্রী তাড়াতে আজ উঠেছে দাবি।
পাস করতে হবে নতুন আইন, আনতে হবে সংস্কার,
উচ্চ ডিগ্রি ছাড়া মিলবে না ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার।
যে নিজে বোঝে না শিক্ষার আলো, বোঝে না সংবিধান,
তার হাতে কেন সঁপে দেওয়া হবে কোটি মানুষের জান?
মূর্খ নেতা-মন্ত্রীর চাটুকারিতায় দেশ আজ তলিয়ে যায়,
শিক্ষিত যুব সমাজ আজ তাই যোগ্য নেতার হাত বাড়ায়।

যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন-পারসিক-মুসলমান-খ্রিস্টানি,
এক হয়ে সুর মেলাবে শুনে দেশমাতার সেই উদার বাণী।
সেই বাণীতে মিশে আছে ত্যাগের আর একতার মহান গান,
যার ছায়াতলে এক হয়ে যায় কোটি মানুষের জাতি ও প্রাণ।
কিন্তু আজকের রাজারা করেছে সেই সুরকে খণ্ড খণ্ড,
সিংহাসনে বসে চালায় শুধু ভেদাভেদের খেলা ভণ্ড।
আমরা আবার এক করব সেই হারিয়ে যাওয়া সুরের মেলা,
ভেঙে চুরমার করে দেব নেতার এই স্বার্থের নোংরা খেলা।
একতাই হবে আমাদের মন্ত্র, একতাই হবে আমাদের বল,
এক সাথে লড়বে দেশের যুব শক্তি আর শ্রমিক দল।

ওগো সাধারণ মানুষ, তোমরা এবার চোখ দুটো মেলে চাও,
নেতার মুখের মিছে প্রতিশ্রুতি ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দাও।
কেন বলির পাঁঠা হচ্ছ তোমরা অন্যের স্বার্থের তরে?
যে নেতা দাঙ্গার উস্কানি দেয়, সে তো এসি রুমে মরে।
রক্ত তো সবার লাল রঙের হয়, ধর্ম তো শুধু মনে,
তবে কেন ভাই ভাইয়ের বুকে ছুরি মারো খামোখা খনে?
ভাঙতে হবে এই মিডিয়ার মিথ্যে কথার জাল,
রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের, বদলাতে হবে হাল।
জেগে ওঠো আজ শোষিত মানুষ, ভাঙো এই মোহের ঘুম,
নেতাদের ঘরে যেন নেমে আসে প্রতিবাদের চণ্ডীধুম।

আমাদের ভবিষ্যৎ এমন হোক, যেখানে থাকবে না কোনো ভয়,
মন্দিরে জপ আর মসজিদে আজান একসাথে শান্তিময়।
ভবিষ্যৎ হোক শিক্ষার, ভবিষ্যৎ হোক কাজের,
দূর হয়ে যাক সব কলঙ্ক এই ভণ্ড ধূর্ত রাজের।
তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠুক আবার নতুন আলোর খোঁজে,
যে আলোয় মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে মন বুঝে।
আবার ফিরুক সেই সম্প্রীতি, আবার জাগুক দেশ,
ধর্মের নামে রাজনীতি যেন চিরতরে হয় শেষ।
ভারত হোক সেই ভারতের মতো, যা চেয়েছিলেন শহীদেরা,
একতাই হোক আমাদের বল, ভেঙে যাক সব ধর্মের বেড়া।

ধর্ম রক্ষার্থে যুদ্ধ..... - রামকৃষ্ণ পাল

রামকৃষ্ণ পাল

ধর্ম রক্ষার্থে যুদ্ধ
- রামকৃষ্ণ পাল
 
পরিবর্তনের ঝড়ে সুনামি বিশাল,
ভাঙছে তীর ভাঙছে ছুটে গেছে হাল।
সুর অসুরের যুদ্ধে কাঁপছে প্রকৃতি, 
অস্ত্রশস্ত্রে ঝনঝনি রোষে গায় গীতি।

সাধারণ জনার্দন শিক্ষা দেবে বলে,
ভীম সেনের মতন উঠেছিল জ্বলে।
মুহুর্মুহু বজ্রাঘাতে মরে পাপীগণ,
ধর্ম রক্ষার্থে সমরে চলছে নিধন।

জাগরন জনগণে অধিকার বলে, 
প্রতারণা বঞ্চনার বাঁধা যাঁতাকলে।
মেঘমল্লা আগমনে কম্পিত কৌরবে,
বধিবে অসুরে যত জাগিয়া গৌরবে।

ত্রাহি ত্রাহি রবে সদা নিষ্পাপ জনতা, 
দ্রৌপদী বস্ত্রহরণ অশোভন কথা।
শেষকালেতে পাল্টালে রক্ষার্থে স্বধর্ম,
শুভ বুদ্ধির উদয়ে যাচনা সুকর্ম।

সমাজের দরদাম - শিশির হুদা

শিশির হুদা 

সমাজের দরদাম 
- শিশির হুদা 

মরলে পা যাবে কবরে 
মানুষ বাঁচে দুনিয়াতে
 কথার ফাঁপড়ে,
সত্য মিথ্যা করে না যাচাই 
আপন রাস্তা মাপে
সমাজের বাড়ছে দরদাম
 বিরোধিতার চাপে।

দরদামে আছে শুধু 
মিথ্যার হালখাতা,
সত্য কিছু বলতে গেলে 
সমাজ বলে যাতা।

অপরাধী করে অপরাধ 
বুক ফুলিয়ে হাটে,
নিরোপোরাধ মায়ের আর্তনাদে
আধারে বুক ফাঁটে।

বাবার রক্ত ঘামে
 ভেজে সন্তানের জন্য, 
বৃদ্ধকালে মা হয়
বৃদ্ধাশ্রমের পন্য।

কর্মযোগ্যে চায় মালিক 
শ্রম আর কাজ
শ্রমের পাওনা চাইতে গেলে
কপালে চিন্তার ভাঁজ।

সমাজের দরদামে হিসাবকারী আছে 
জবাবদিহি করতে হবে যবে মরে- বাঁচে,
দিনশেষে পৃথিবী থেকে যাবে না সরঞ্জাম 
বাজার নয়, তবেই কেন এতো সমাজের দরদাম?

ব্যস্ত শহরের ক্লান্ত রাত - সঞ্জয় নন্দী

 সঞ্জয় নন্দী 

 ব্যস্ত শহরের ক্লান্ত রাত
  - সঞ্জয় নন্দী 

দিনে শহরটা বড্ড ব্যস্ত, 
হাজারও মানুষের ভিড় 
হাজারও গাড়িঘোড়া। 
চেনা অচেনা মানুষ শহর জুড়ে, 
কোলাহলে কান ঝালাপালা  
তবুও মিলেমিশে পথচলা। 
রাতের শহরটা নির্জীব নিস্তব্ধ, 
মশার কামড়, কনকনে ঠান্ডা, বৃষ্টিতে ভিজে অনাহারে, 
ফুটপাত জুড়ে পড়ে আছে কতো মানুষ! 
জনমানবশূন্য রাস্তা, 
জেগে থাকে-
ঠিকানা বিহীন অচেনা অজানা কতো চিত্র।
ওরা বলতে পারে না আপন ঠিকানা, 
জানেনা কোথা থেকে এসেছে যাবে কেথায়। 
ডাস্টবিনের পরিত্যক্ত খাবার নিয়ে চলছে, 
মানুষ আর কুকুরের লড়াই। 
ওরা সবাই ক্ষুধার্ত-
তাইবলে মানুষের সাথে কুকুরের! 
ক্ষিদে মেটাতে ডাষ্টবিনের পচা খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি, 
হায়রে মানবতা!  
কখনো নিস্তব্ধ রাতে ফায়ার সার্ভিসের সাইরেনের শব্দ-
মানুষ ও মানুষের সহায়সম্বল রক্ষা করতে, 
অতন্দ্র প্রহরী হয়ে জেগে আছে 
শক্তি, সাহস, ত্যাগী জনেরা।   
আবার এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ-
ছুটছে দূরন্ত গতিতে হসপিটালের দিকে। 
হসপিটালের দরজা চব্বিশ ঘণ্টা খোলা-
কেউ ঢুকছে আবার কেউ বেরিয়ে যাচ্ছে, 
সাথে আপন হারানোর আর্তনাদ! 
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনক্রিটের চার দেওয়ালে মধ্যে, 
নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে দিনের ব্যস্ত শহরের মানুষ। 
কেউ খবর রাখে না-
নিশুতি নিস্তব্ধ রাতের ক্লান্ত শহরের কথা!

লাভের কড়ি - দীপ্তি নন্দন

- দীপ্তি নন্দন  লাভের কড়ি - দীপ্তি নন্দন  সেদিন সন্ধেবেলা তার ঘরের  দাওয়ায় হরিশ খুব মনমরা হয়ে বসেছিল। একটু আগেই  সুকুলের ঠেক-এ গিয়ে কয়ে...

জনপ্রিয় পোস্ট