বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

নিশীথ মায়া (কবিতা) - হাসিনা খাতুন


হাসিনা খাতুন



একদা রাতে আঁধার ঘোরে দেখিনি কোনো স্বপন,  
হঠাৎ দেখি দুয়ারে মোর দাঁড়িয়েছে মহাজন।  
শিয়রে তব প্রদীপখানি নিভিয়ে দিল বায়ু,  
ম্লান আলোতে থমকে আছে অলস মুহূর্ত-আয়ু।  

চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো—  
আকাশকোণে মেঘের মেলায় লুকায় শশধর,  
বনের ছায়া চাদর মেলে বিজন চরাচর।  
বাতাস যেন কানে কানে কইছে চুপি চুপি,  
ঝরা বকুল সাজিয়ে দিল ধরার স্বর্ণরূপী।  

চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো—  
অচিন দেশে পথ হারিয়েছে ক্লান্ত পসারী,  
সুরহারা সেই একতারাতে বাজিছে দরবারী।  
সব পাওয়া আর সব হারানো এক হয়েছে শেষে,  
ডুবেছে আজ সকল ধরা নিবিড় ভালোবেসে।  

চেয়ে দেখো, চেয়ে দেখো—  
বৈতরণীর শান্ত কূলে জাগে অলখ সুর,  
ছায়ায় ঘেরা কুঞ্জতলে দুঃখ হলো দূর।  
আঁধার ফুঁড়ে আলোর রেখা দিচ্ছে কি ওই ডাক?  
স্মৃতিরা সব পাখা মেলে স্বপন হয়ে থাক।

মৃত্যুকাতর (কবিতা) - সর্বানী দাস

  

সর্বানী দাস


জীবনডাঙায় হাট বসেছে 
আসা-যাওয়ার চলছে মেলা,
সাধের মাটির দেহখানায় 
নিঃশ্বাসে পার করবে ভেলা।

শ্বাসের বাঁশি নাভির টানে 
আটকে আগল খাঁচার পাখি,
দমের সুরে প্রাণের ঝাঁপি 
মৃত্যুকাতর অশ্রু আঁখি।

কামের ফাগুন জ্বলছে বুকে,
সুখের নেশায় "আমার আমি,"
ক্রোধের আগুন পোড়ায় দেহ 
লোভের লালায় পরাণ যামি।

মোহমায়ার ডুবসাগরে 
সত্য মিথ্যে যাচাই বিনে,
মদের নেশায় অহংকারে 
পাপের ঘড়া পূর্ণ ঋণে।

মাতসর্যের কালো বিষে 
অহর্নিশি  অন্তর দ্বন্দ্ব,
দেহপুরীর গুপ্ত ধনে 
চৌর্যবৃত্তি স্বভাব মন্দ।

উচ্চ-নীচে বর্ণ ভেদে 
জাতজুয়ারি আসছে ধেয়ে,
খুঁজিস যারে পরের দ্বারে 
দর্পণেতে দেখরে চেয়ে।

রাজপোশাকে বাহির সাজে 
মনের ঘরে ঘৃণা দম্ভ,
রক্তমাংসে মৃত্যুকাতর 
দুশো ছয়ে কঙ্কাল স্তম্ভ।

গয়নাগাটি টাকা মাটি 
স্বর্গ গড়া মায়ার সাজ্য,
শমণ এসে মুচকি হাসে 
মৃত্যুপুরীর অসীম রাজ্য।

সব কোলাহল হবে স্তব্ধ 
দেহের হাটে রইবে পড়ে,
মাটির মানুষ ছাই -কবরে 
দশদুয়ারে বিচার তরে।

মনের ভিতর মন যদি রয় 
চুপটি করে অচেনাতে,
মনের মানুষ মনমুকুরে 
মৃত্যুকাতর প্রার্থনাতে।

শেষের পথিক গান ধরেছে 
অনন্ত জ্ঞান  বাঁধে ছায়া 
মনবাউলে কইছে শোনো 
কায়া ভাঙা মিথ্যা মায়া।

বলছি আমি আউল বাউল 
দেহতত্ত্বের গোপন কথা,
অনুরাগের এতো পরব 
কিসের তরে মনের ব্যথা।

শূন্য চেয়ার - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা




বারান্দায় যে চেয়ারটা  আপন মনে দোদুল্যমান –
চেয়ারটার উপবিষ্ট মানুষ টার বেশ কিছু দিন দেখা নেই !
অজান্তে রোজ চোখ চলে যায় ওই শূন্য চেয়ারটার দিকে ,
যেতে আসতে বিনিময় হতো একটু মিষ্টি হাসি ।
হাত নেড়ে চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন ঠিকঠাক।
একদিন গল্পচ্ছলে 
জানলাম ওই চেয়ারে উপবিষ্ট মহিলার স্বামী মারা গেছেন।
কোনোদিন হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে হয়েছে কিছু আলাপ–
দুই ছেলে বড়ো হয়ে গেছে যে যার কাজে ব্যস্ত 
বড় ছেলের দুই মেয়ে নিয়ে বৌমা ব্যতিব্যস্ত 
বৌমার গুণকীর্তন নাতনীদের প্রশংসা ।
আবার একদিন মনে হলো ছোটছেলের কথা জানা হল না –
কথাচ্ছলে জানলাম ছোট ছেলেটা বহু দূরে চলে গেছে ,
আরো চমকালাম একাকিত্ব মাসিমার কথা শুনে 
বললেন ছোট ছেলেটা চলে গেছে আজ দু বছর হল–
বহু দূরে ওই তারাদের দেশে ওর বাবুর কাছে 
বুকটা বেশ ধড়পড় করে উঠলো।
রোজ দেখি বারান্দায় বসে চুপচাপ মশার কামড় খাচ্ছেন।
আমায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করতেন
কি গো কেমন আছো?
আমি কাছে গিয়ে বলতাম টিভি দেখুন
সময় কেটে যাবে।
দুই বাচ্চার অনেক পড়া দুই ঘরে পড়ছে
ডাইনিং এ টিভি চালালে ওদের পড়ার ক্ষতি হবে যে!
ফিসফিস করে বলে একাকিত্বের বড্ড জ্বালা  রে!
বেশ কিছুদিন চেয়ারটা ফাঁকা লাগছে 
হঠাৎ দেখি বাড়ির সামনে সাদা প্যান্ডেল
তাহলে মাসিমা নেই!
চেয়ারটা তাই একাকিত্বে কাঁদে।
কেউ জিজ্ঞেস করবেন না কি গো কেমন আছো!
রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কেমন একটা অভ্যাস হয়ে গেছিল 
অজান্তে চোখ চলে যায় ওই শুন্য চেয়ারের দিকে

কার দোষ ? - মেঘদূত


দিনটা হল পয়লা এপ্রিল 
এপ্রিল ফুল যে বলে,
কে কাহাকে বোকা বানায়
তাহার খেলা চলে।

এখন তো যুগ মুঠো ফোনের
হ্যালো হাই তে ঢলে,
দুই জনেতে কথা হলো
মিলবে শিমুল তলে।

সময় থাকতে সেজে গুজে
হাজির দুজন এসে,
মনকে নাড়ায় আকু পাকু
দখিন হাওয়া ভেসে।

এক বসেছে ঝিলের পুবে
অন্য পছিম পাড়ে,
সারা সন্ধ্যা উজাড় হলো
খুঁজতে ঝোপে ঝাড়ে।

অনেক খুঁজে যখন সবে
দুজন দেখা হলো,
পার্কের গার্ড আদেশ দিল,
'এবার বাড়ি চলো।'

প্রেমিক প্রবর বললো চটে
সব বলোনা খুলে,
জায়গাটা তো বললেই না আর
তাড়াহুড়োয় ভুলে!

আদর করে হাতটি ধরে
বললো প্রিয় শোনো,
আজকে ছিল পয়লা এপ্রিল 
"এপ্রিল ফুল" জেনো।

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

একা - সমর্পিতা রাহা


সমর্পিতা রাহা 



দুঃখে ভরা সাগর পারে
একা বসে আছি,
মাথার উপর ভনভনাচ্ছে
 চিন্তামনির মাছি।
যাব আমি পরপারে 
পিপীলিকা ডাকে,
লহর ঊর্মি পিছু টানে 
ছেড়ে যাব কাকে!
জগৎ জুড়ে কীটের বাসা 
  পতঙ্গরা হাসে,
এখন আমি নিরুপায় গো
  আছি ভীষণ ত্রাসে।
কুটুস করে কামড় দিচ্ছে
   চিন্তামনি মশা,
মনের মধ্যে রক্ত ঝরে
  আমার চরম দশা।
বিষের জ্বালায় দুঃখে মরি
  নানা  কথা শোনা
কুমিরাশ্রু হাস্যরসে
ভয়ে প্রমাদ গোনা

একুশে ✍️ উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 
উজ্জ্বল কান্তি দাশ



কেউ কি আমায় একটা কবিতা লিখে দেবে, বাংলা ভাষার কবিতা? 
যে কবিতায় লিখা থাকবে বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারির কথা, 
থাকবে বাঙালীর শিখরের কথা, বাঙালীর অস্তিত্বের কথা। 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় একটা গল্প লিখে দেবে,বাংলা ভাষার গল্প? 
যে গল্পে লিখা থাকবে আমার দুঃখিনী মায়ের কথা, 
তার ছেলে হারানোর কথা, 
আমার ভাই হারানোর কথা। 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় একটা গান লিখে দেবে, বাংলা ভাষার গান? 
যে গানে লিখা থাকবে মাথা নত না করার কথা, 
প্রতিবাদের কথা, বাংলার অহংকারের কথা, 
বাংলার গৌরবের কথা, 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় একটা নৃত্যগীত লিখে দেবে, বাংলা ভাষার নৃত্যগীত? 
যে নৃত্যগীত করে আমি তান্ডব করবো, 
জিন্নার স্তব্ধ কন্ঠের উপর প্রলয় নৃত্য করবো, 
লিখে দেবে কেউ? 
কেউ কি আমায় ফুল এনে দেবে, পলাশ শিমুল ফুল? 
আমি একুশের গান করে করে
প্রভাত ফেরিতে যাবো, 
এনে দেবে কেউ? 
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি?

নিশীথ মায়া (কবিতা) - হাসিনা খাতুন

হাসিনা খাতুন একদা রাতে আঁধার ঘোরে দেখিনি কোনো স্বপন,   হঠাৎ দেখি দুয়ারে মোর দাঁড়িয়েছে মহাজন।   শিয়রে তব প্রদীপখানি নিভিয়ে দিল বায়ু,   ম্লান ...

জনপ্রিয় পোস্ট