বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

ভাগ্যের ইশতেহার - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

 
ভাগ্যের ইশতেহার 
- সালাম মালিতা 

চাঁদিফাটা হাঁসফাঁস গরম
কৃষকের দৃঢ় প্রত্যয় অপেক্ষা ভঙ্গুর,  
জৈষ্ঠ্য মাসের সূর্য
কৃষাণীর পরিশ্রমের কাছে পরাজিত। 
বোরো ধানের আঁটি 
ড্রামের উপর শপাং শপাং শব্দ,
মুক্তো ঝরা হাসিতে 
গোলায় ওঠে।

শুষ্ক বাতাস 
মুখের চামড়া পোড়াতে দ্বিধাবোধ করে না,
নবযৌবনে বেড়ে ওঠা পাটগাছ 
খেটে-খাওয়া মানুষের উপর ভর করে। 
পান্তায় একটু লঙ্কা হলেই যথেষ্ট 
কপালের নোনাজল-
বাসি ভাতে পড়তে সদাই ব্যস্ত। 

রজনী ফুলের আগাছারা
নিজের সৈন্য-সামন্ত বৃদ্ধি করে নেয়,
খোঁয়াড়ে বেঁধে রাখা গাভীর 
বাছুরের জন্য প্রাণপনে হাম্বা-হাম্বা ডাক।
দীঘির জলে পাতিহাঁসের জলকেলি 
মাছরাঙার মাছের প্রতীক্ষা,
কাকের কা-কা-কা তীক্ষ্ণ চিৎকার 
কুকুরের লালাক্ষরণ-সবই বেড়ে যায়। 

দলবদ্ধ মহিষের জলে ডুবে থাকা 
শালিকের কিচিরমিচির, 
আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল 
পাকার বড্ড তোড়জোড়। 
জলীয়বাষ্পহীন খণ্ড মেঘ
হঠাৎ থমথমে পরিবেশ, 
তীব্র ঝড়ের ফলে ছিন্নভিন্ন জনজীবন-
মুষলধারে বৃষ্টিতে জলাশয় পূর্ণ, 
বিদ্যুৎ বিভ্রাট...বিনিদ্র নিশিযাপন! 

বিধির বিধান সংরক্ষিত ললাটে 
ঘোষনা বিহীন সাইরেন, 
ভাগ্যের ইশতেহার পূর্ব নির্ধারিত 
সুকর্মে প্রাপ্তি ঘটে...!

লুকানো পাপের ঘ্রাণ... - মুন্নাফ সেখ

- মুন্নাফ সেখ




 লুকানো পাপের ঘ্রাণ
- মুন্নাফ সেখ


স্রষ্টার দয়া অন্যায়ের কোনো গন্ধ ছড়ায় না,
নইলে এ ধরায় কেউ তো বাঁচতে পারত না।
চারিদিকে শুধু পচা দুর্গন্ধে ভরে যেত বাতাস,
লুকিয়ে থাকত না মানুষের কোনো কালো ইতিহাস।

যে জন সেজেছে সমাজে আজ পরম সাধু সাধক,
তার গা থেকেও বের হতো তীব্র বিষাক্ত মাদক।
বিচারালয়ে জজের আসনে বসা যে বিচারক,
ঘুষের গন্ধে সেও হয়ে যেত নরকের এক কীটক।

নেতার মঞ্চে সুবাসের বদলে ছুটত তীব্র ঘেন্না,
মুখোশধারী ভালো মানুষদের চিনে নিত সর্বজনা।
উচ্চ অট্টালিকা থেকে আসত যে দুর্গন্ধের ঢেউ,
লজ্জায় তখন মুখ দেখাতে পারত না তো কেউ।

মিথ্যা কথার দুর্গন্ধ যদি ছড়াত বাতাসে তীব্র,
চেনা চেনা সব আপন মানুষ হয়ে যেত অতি ক্ষিপ্র।
পাপের ভারেতে বাতাস হতো যে ভীষণ ভারী,
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতো রে দুনিয়াতে সবারই।

লোভ আর হিংসার কুৎসিত সেই উৎকট বাসে,
মানুষ পালাত মানুষ দেখলেই আতঙ্কে ত্রাসে।
প্রেমের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যে স্বার্থের বিষ,
গন্ধ পেলেই চমকে উঠত মনের চাতক দীশ।

বিধাতা তাই তো দয়া করে মোদের ঢেকেছেন লজ্জায়,
অন্যায়ের কোনো গন্ধ দেননি মানুষের মজ্জায়।
নইলে এ বিশ্ব এক নিমেষেই হয়ে যেত শ্মশান,
বাস অযোগ্য হতো ধরণী, হারাতে হতো প্রাণ।

তাই তো মানুষ বুক ফুলিয়ে আজও হাঁটে এ পথে,
পাপের গন্ধ লুকিয়ে রেখে চলে মিথ্যার রথে।
যদি কোনোদিন প্রকাশ পেত সেই লুকানো ঘ্রাণ,
মানুষের থেকে দূরে পালাত মানুষেরই পরান।

স্রষ্টার দয়া অন্যায়ের কোনো দূরগন্ধ নেই,
নইলে পৃথিবী থমকে যেত আজ এই খানেতেই।
লজ্জাহীন এই মানবজাতি পেত না কোনো ঠাঁই,
মানুষের মাঝে মানুষের আর অস্তিত্ব থাকত নাই।

ছুটি... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

- উজ্জ্বল কান্তি দাশ



 ছুটি
- উজ্জ্বল কান্তি দাশ


এই কোলাহল নিত্য পাঁচালী, 
এসব আর ভালো লাগে না। 
কোন কিছুতেই নেই মনোযোগ, 
কারো প্রতি নেই কোনো অভিযোগ। 
প্রতি দিন বাড়ি ফিরে
নিজেই ঘরের তালা খুলে, 
আপন মনে বকতে থাকা। 
সবই যেন বেকার খাটা, 
এটা ওটা সাজিয়ে রাখা! 
চমকে গিয়ে হঠাৎ ভাবি
কত দিন আর
হয় না কবিতা লেখা, 
যেটুকু লিখেছি হয়নি কখনো
উল্টে পাল্টে দেখা। 
কি হবে লিখে? 
পড়বে বলো কে তা? 
যা কিছু লিখেছি 
সবই মনে হয় বৃথা! 
খাতা কলম কোথায় কোথায়
গেছে হারিয়ে? 
প্রিয় বইগুলো এখানে 
ওখানে ছড়িয়ে! 
পড়া হবে না, 
পড়বো না হয়তো আর, 
কোনো আগ্রহ,নেই কিছুতে বাকী, 
বুঝে গেছি সব শুভঙ্করের ফাঁকি। 
একঘেয়েমি ছন্নছাড়া জীবন, 
একটু দূরে মুচকি হাসে মরণ, 
সব বুঝি এসে 
মিশেছে শেষের পথে, 
এবার বুঝি চড়তে হবে
স্বর্গ পাড়ির রথে! 
কোনো ব্যথা নেই, 
দুঃখ নেই আমার, 
যা কিছু ভাঙ্গার 
তা ভেঙ্গে যাক এবার। 
সব থমকে গেলেও
কিচ্ছু যায় আসে না আর-
আলোর মাঝে থেকেও দেখি
ভীষণ অন্ধকার। 
চেনা কন্ঠের সুর 
একলা দুপুর, বৃষ্টির নূপুর, 
দিগন্তের হাতছানি, 
টানে না তো আর, 
ডাকে না আমায়! 
বলে না তো ছুটে আয়! 
ইট পাথরের শহর, 
নানান গাড়ির বহর, 
হৃদয় হীন ভালোবাসা, 
প্রেয়সীর ছুঁয়ে থাকা, 
মিথ্যে স্বপ্ন আঁকা, 
কোন কিছুতেই নেই কোনো তৃষা,
পেতেও চাই না , 
নতুন কোনো দিশা। 
এখন শুধু বাকি আমার
পঞ্চভূতে মিশা। 
ধীরে ধীরে একটু একটু করে
সবকিছুই গেছে আমার টুটি,
এবার আমি বিদায় নেবো, 
নিয়েই নেবো জীবন হতে 
চিরস্থায়ী ছুটি।

হরষের প্রণয় ! - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম


 হরষের প্রণয় !
- রকিবুল ইসলাম


যদি মোর অন্তর চিৎকার করে বলে
ভালবাসি,ভালবাসি অহর্নিশি!
সে নৈঃশব্দের বীণার গীত ঝংকার,
সে তাল,লয়,সুর লহরীর মূর্ছনা
ধ্বণিত হবে কি তব কর্ণমূলে?
পাব কি চির আরাধ্য সান্নিধ্য তোমার?
না কি হারাবে পুনরায় সবকিছু যথারীতি!
তবে,কই তোমারে সখি!
শোন হৃদয়ের কর্ণে!
পুনশ্চ:,পুনশ্চ: আসব ফিরে
ব্যথার বাঁশরী হাতে,
তোমার হৃদয় দ্বারে।
জ্যোৎস্নারা নামত নীরব স্বপ্নের তীরে,
হৃদয় ভাসত সুখের অমৃত নীড়ে,
বেদনারা হারাত গোপন আলোর ভাঁজে,
তোমারে লয়ে বাঁচিতাম অনন্ত সাজে।
কতই না মধুর হত!
ব্যথায় জর্জর অনুভূতিগুলো
মুছে দিয়ে যদি সহসাই
হরষের প্রণয়ে আলিঙ্গণাবদ্ধ হতে!

বিশ্বজুড়ে খিদের জ্বালা... - সর্বানী দাস




 বিশ্বজুড়ে খিদের জ্বালা 
- সর্বানী দাস

ওরা ভাতের গান গায়,
আদুল গায়ে ঘোরে ওরা মাঠে ঘাটে—
নিঃস্ব কাঙাল সর্বহারা বাঁচে ধুঁকে,
পথের ধারে কুড়ায় অন্ন ডাইনি উদর।

বিশ্বজুড়ে খিদের মেলা রঙ্গলিলায়,
লাইন দিয়ে কঙ্কালরা খিদের ত্রাসে;
দু-মুঠো ভাতের প্রতিশ্রুতি বড্ড চাপে,
স্বপ্ন দেখে ফ্যান গড়িয়ে মাখছে হাঁড়ি।

পেটের ভেতর দুষ্টু ছুঁচো মারছে লাথি,
খিদে রাক্ষস গিলছে ওদের, শিশুরা কাঁদে;
বস্ত্র ছাড়া কিশোরীটির পেটের জ্বালা,
খিদের সাথে আপোষ করে যায় কি বাঁচা?

বাঁচুক ওরা আজন্মকাল লড়ুক খিদেয়,
তুলবে তুফান একটি দিনেই কলম কালি -
হাততালি দিয়ে দেখছে ওরা অবাক দৃষ্টি -
ঘৃণায় বেঁচে সারাবছর আজকে রাজা

অন্য নদী... - ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়  


 অন্য নদী
ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়   

 আজ সাত ঘণ্টার উপর
এই পথ দিয়ে যাওনি ,
তোমাকে একবার দেখার তরে
ঠায় বসে জানালার ধারে ,
কি শরীর খারাপ নয় তো ?
বাড়ির কারোর কিছু হয়েছে ?
না আমার জন্যে 
পথটাই পাল্টে ফেললে ?
তুমি বিশ্বাস করো
আজ সারাদিন শুধু চা
আর সিগারেটেই কাটলো  ,
না, কিছু খাওয়া হয় নি ,
শুধু তোমাকে একবার দেখবো বলে  ।

আমি মানুষ টা
খুব খারাপ বলে মনে হয় তোমার ?
একে একে মা বাবা সবাইকে
হারিয়ে বসে আছি ,
দিদিটারও বিয়ে হয়েছে কোন ছোটবেলায় ,
মাঝেমধ্যে বড় একা লাগে  ।
আজ আমার অফিসের ছুটি ,
একা বাড়িতে ভালো  লাগছে না ।
সকালে একবার তোমায় দেখলে
মনটা বেশ ভালো লাগে ,
নাই বা হল কথা ,
ওই  মিষ্টি হাসিটাই যথেষ্ট যে  !

হঠাৎ কলিং বেলের শব্দ ,
দরজা খুলতে দেখি তুমি !
বললে ভিতরে আসতে বলবে না ,
বলি হ্যাঁ এসো ,
ঘরের ভিতরে চেয়ারে বসলে তুমি ,
আমরা সবাই চলে যাচ্ছি ।
বাবার বদলির চাকরি ,
এবারে জামশেদপুর  ।
বললে তোমাদের অফিসের ব্রাঞ্চ 
জামশেদপুরে আছে না ?
তুমি ওখানে বদলি নাও ।
বলি কেন ?
তুমি বললে জানি না যাও ,
বদলি অবশ্যই নিও কিন্তু  ,
শুধু আমার জন্যে  ।

ভাগ্যের ইশতেহার - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা    ভাগ্যের ইশতেহার  - সালাম মালিতা  চাঁদিফাটা হাঁসফাঁস গরম কৃষকের দৃঢ় প্রত্যয় অপেক্ষা ভঙ্গুর,   জৈষ্ঠ্য মাসের সূর্য কৃষাণীর পরি...

জনপ্রিয় পোস্ট