সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

"আধুনিক চাষীর হাহাকার" কলমে: মুন্নাফ সেখ

 মুন্নাফ সেখ



আমি চাষা, রোদে পোড়া, ধুলার মানুষ ভাই,
হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি, পেটে ভাত নাই।
আগের দিনের কাঠের নাঙল, হারায় গেছে কই?
গরুর পাল্লা ছাইড়া এখন কলের পিছে সই।

অহন মাঠ চষে ঐ লোহার দানব ট্রাক্টর দিয়া,
ঘণ্টা গুনে টাকা দিই, বুকটা যায় রে ফাটা।
মেশিন দিয়া জল তুলি ভাই, মেশিন দিলে তেল,
পয়সা ছাড়া এই যুগে সব চাষবাসের খেল।

আকাশ থাইকা নামে না জল, মেশিনে সব কড়ি,
পকেটের টাকা শুষে নেয় ঐ জলের ঘড়ি।
ইউরিয়া আর বিষের দামে হাত দিও না বাপ,
চাষীর ঘাড়ের উপর যেন বিষাক্ত এক সাপ।

হাইব্রিড ঐ বিচের নামে কত টাকা যায়,
পুরান দিনের ধানের জাত আর দেখা না পায়।
নিজের হাতে কাম কাজ কি আর আগের মতো আছে?
সব জায়গায় টাকার গাছ, আমরা তার নিচে।

ধান কাটার সময় অহন লেবার পায় না কাজ,
আকাশ ছোঁয়া মজুরি তাদের, গায়ে লাগে না লাজ।
সবার পাওনা মিটাইতে মোর জানটা হয়ে শেষ,
ফসল যখন আসে ঘরে, কাঙ্গাল বেশেই বেশ।

ট্রাক্টরঅলার দেনা আছে, সারের দোকানেও বাকি,
নিজের কপাল পুইড়া কেবল নিজেরে দেই ফাঁকি।
সবাই যখন লাভ বুঝল, আমার পকেট ফাঁকা,
চাষীর চোখে জল ঝরে রে, ঘুরল না আর চাকা।

রক্ত পানি করা ধানে পেট ভরে না ভাই,
সব মিটাইয়া দিন শেষে মোর হাত খালি টাই।
চাষার ঘরে অভাব কেবল রাজত্বি যে করে,
সোনার ফসল ফলাইয়াও আমরা কেবল মরি রে।

বাঁচার লড়াই... কলমে- সুবর্ণা দাশ

 
সুবর্ণা দাশ


শুরু হলো তুমুল ঝড়, 
প্রকৃতির রুদ্র মুর্তি যেন, 
এক্ষুনি গ্রাস করে নেবে সব। 
প্রবল তান্ডব বাইরে! 
গাছপালা দুমড়ে মুচড়ে
ভেঙ্গে পড়ছে, 
পাখিরা হারালো তাদের
সুন্দর পরিপাটি থাকার ঘর খানা। 
ভিজে জবুথবু হয়ে-
জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। 
একটি পাখির ছানা মাটিতে পড়ে
আপ্রাণ ডেকে যাচ্ছে। 
সেই ডাকে ছিল তীব্র
বাঁচার আকুতি! 
মা পাখিটি নিরুপায়, 
অনেক কষ্টে ডানা দিয়ে
আগলে রাখার বৃথা চেষ্টা। 
থরথর করে কাঁপছে 
বাবা পাখিটিও।
হঠাৎ ঝড়ে উড়িয়ে নিলো
তাদের সাধের ঘর খানা! 
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে
পাখি দুটি! 
যে গাছে তাদের ঘর ছিলো, 
মড়মড় করে ভেঙ্গে গেলো
সেই গাছটাও!
অচেনা সুর বেরলো পাখি দুটির
কন্ঠ হতে! 
হয়তো কাঁদছে, ওদের তো চোখের
জল দেখা যাচ্ছে না!
ওদের দুঃখ আছে, 
ওদেরও স্বপ্ন ভাঙ্গে, 
ওরাও লড়াই করে বাঁচে।

তোমার মোহে! - রকিবুল ইসলাম।

 
রকিবুল ইসলাম



এই পৃথিবীর বুকে, 
লক্ষ কোটি জনমানবের ভিড়ে!
কেউ একজন করে মনে আমারে!
কষ্ট পায় সে,আমার কষ্টে,,,,।
ঠিক আমার মত করে।
আবার খুশি হয় সেও,, 
আমারই হাসি মাখা মুখ দেখে।
মন বলে চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখো,
কল্পনার জগতে খুঁজে পাবে তারে!!
খুঁজে চলেছি নিরন্তর,,,
এই নশ্বর ধরণীর অবিনশ্বর জীবাত্মা সমূহের ভীড়ে,,,,!
একজন তুমি যে আমারে অহর্নিশি কর মনে!
কষ্ট পাও আমার কষ্টে।
ফেটে পড় অট্টহাসিতে আমার খুশিতে।
তারে কোন কল্পলোকের আঁধার ভুবনে নয়,
খুঁজেছি স্বীয় সত্তার মাঝে।
পেয়েছি অবশেষে আমার অন্তর্মাঝের মানসপটের ক্যানভাসে।
এঁকেছি ছবি দিনমান ভরে মনের তুলিতে।
আলেয়ার আলো হয়ে এসে যে তুমি রাঙিয়ে দিয়েছ আমারে!
হয়েছ রঙিন,হয়েছ বিভোর!
স্বপ্নে দেখা সেই তুমিও,সেই রঙে।
হয়েছি বিভোর আমিও তোমার মোহে।

শরীর চর্চা... - সমর্পিতা রাহা

 
সমর্পিতা রাহা 


ফোকলা দাঁতে দাদামশায়
   চোষেন মাছের মুড়ো,
থু থু করেন চারিপাশে 
রাগেন বাবার খুড়ো।

খুড়ো বলে কি যে করো
নকল দাঁতে চোষো
সারাক্ষণ ই খাই খাই বাতিক
চুপটি করে বোসো।

বয়স হলে  ভীমরতি যে
   আমায় দেখে শেখো,
তোমার চেয়ে একটু ছোটো
ভালো আছি দেখো।

বাবার  খুড়ো শরীর চর্চা
প্রত্যহ দিন করে,
সর্বসময় আড্ডাবাজি 
চিন্তা নেই যে ঘরে।

দাদামশায় মাঠে ঘাটে 
   অধিক কষ্ট করে,
শেষ বয়সে বার্ধক্যতে
পক্ষাঘাতে লড়ে।

চলো বদলাই.... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



 চলো বদলাই রঙিন জামা ঠিক পেঁয়াজের মতো,
 আসবে যাবে খালা মামা দিয়ে যাবে ক্ষত।

পাড়ার মোড়ে হৈ হুল্লোড়ে বাজবে ডিজে জোরে,
 নাচবে নেতা মাখবে আবির শূন্য পকেট ওরে!

আমরা মানুষ বোকা ফানুস শিকার হয়েই রবো,
 রবিবারের  তরজা শুনে হুক্কহুয়া কবো। 

 মামা দেবে খালা দেবে, দেবে অনেক টাকা,
 তবু মোদের ভাঁড়ার শূন্য চলো বদলাই চাকা।

আসবে নিয়ম ভাঙবে নিয়ম লুট বাতাসা পাবো?
 মোটা ভাত আর মোটা কাপড়, কার গান বলো গাবো।

 সিংহাসনে বসবে রাজা অট্টালিকা গড়ে,
 আমরা আছি ঝান্ডাধারী ধর্মে লড়ার তরে।

 গুড় বাতাসা ছোলা মুড়ি পান্তাতে হাত চাটি,
 ভীষণ গরম চলো বদলাই বছর বছর ঘাঁটি।

 খাচ্ছে ওরা দিচ্ছি মোরা, জেনে শুনে বোকা,
 বিরিয়ানি আর ডিম আলুতে খাচ্ছি যে রোজ  ধোকা।  

 স্বাধীনতার স্লোগান তুলে অব্যক্ত সব কথা,
 বোধবিহীন বিবেকবোধে  কথার চড়ে ব্যথা।

 আমজনতা আমি তুমি আমটা খেতে চেয়ে,
 চলো বদলাই হক ছিনিয়ে জীবনের গান গেয়ে।

 এ তো কেবল কথার কথা মনের ভাষা মনে,
 যেমন ছিলাম থাকবো তেমন রাজা প্রজার সনে।

 পাঁচ বছরে নাম লিখিয়ে পড়বে যে জন জামা,
 শূন্য পথে হাঁটতে হবে নেই তো মোদের থামা।

BBSP কথা... - রেজাউল করিম

 
রেজাউল করিম 


অথ—
শুরু হোক শব্দের প্রদীপ জ্বেলে,
কালির ভেতর ডুবে থাকা
সহস্র উচ্চারণের জন্মকথা নিয়ে।

BBSP—
চারটি অক্ষর নয় শুধু,
চারটি দিগন্ত—
যেখানে কবিতা হাঁটে খালি পায়ে,
গল্প পরে রঙিন পাঞ্জাবি,
প্রবন্ধ চশমা মুছে দেখে
সময়ের ক্ষয়ে যাওয়া মুখ।

এখানে রবিবার মানেই
শব্দের হাট বসে—
কেউ বিকোয় স্বপ্ন,
কেউ কিনে নেয় বিষাদ;
কারও কণ্ঠে নজরুলের ঝড়,
কারও চোখে জীবনানন্দের ধানক্ষেত।

এখানে সংস্কৃতি
শুধু মঞ্চের আলো নয়—
মাটির গন্ধমাখা বাউলের গলা,
শিউলি-ঝরা ভোরে
রবীন্দ্রসংগীতের প্রথম সুর,
অথবা চায়ের কাপে ভাসতে থাকা
শহুরে আড্ডার অমলিন ধোঁয়া।

BBSP—
একটি অনলাইন জানালা,
যেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে
মানুষ এসে রাখে
নিজের বুকের ভাষা।

এখানে কেউ লেখে প্রেম,
কেউ লেখে প্রতিবাদ,
কেউ লেখে ভাঙা সময়ের
রক্তাক্ত ইতিহাস।

অথ—
এই প্ল্যাটফর্ম বেঁচে থাক
অক্ষরের আয়ু নিয়ে,
নদীর মতো বহুকাল বয়ে যাক
শিল্পের শিরা বেয়ে।

মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে
জ্বালিয়ে যাক প্রদীপ—
শব্দের, স্বপ্নের,
আর চিরন্তন সংস্কৃতির।

"আধুনিক চাষীর হাহাকার" কলমে: মুন্নাফ সেখ

 মুন্নাফ সেখ আমি চাষা, রোদে পোড়া, ধুলার মানুষ ভাই, হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি, পেটে ভাত নাই। আগের দিনের কাঠের নাঙল, হারায় গেছে কই? গরুর পাল্লা ছাইড়...

জনপ্রিয় পোস্ট