রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

প্রবন্ধ : একটি গাছ একটি প্রাণ - সর্বানী দাস


 প্রবন্ধ :
 একটি গাছ একটি প্রাণ 

- সর্বানী দাস 


"পৃথিবী আমরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাইনি; 
আমরা এটি আমাদের সন্তানদের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।”
- নেটিভ আমেরিকান প্রবাদ

ভূমিকা 🌴

একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী অভূতপূর্ব পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি। যে প্রকৃতি একদিন মানুষকে দিয়েছিল নির্মল বাতাস, শীতল ছায়া, উর্বর মাটি ও জীবনের অফুরন্ত সম্ভার, আজ সেই প্রকৃতিই মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডে বিপন্ন। বনভূমি উজাড় হচ্ছে, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বায়ু দূষিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক উন্নয়নের নামে আমরা প্রকৃতির বুক থেকে সবুজ কেড়ে নিচ্ছি, অথচ ভুলে যাচ্ছি—প্রকৃতি ধ্বংস মানেই মানবসভ্যতার ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া।

এই বাস্তবতায় বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।


সবুজ হারানোর করুণ বাস্তবতা 🌴

একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট, মাঠ, বনভূমি এবং নদীতীর সবুজে আচ্ছাদিত ছিল। শাল, তমাল, বট, অশ্বত্থ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় মানুষ যেমন আশ্রয় পেত, তেমনি অসংখ্য পাখি ও প্রাণী খুঁজে পেত নিরাপদ আবাস। কিন্তু আজ নগরায়নের বিস্তার, অবাধ বৃক্ষচ্ছেদন এবং শিল্পায়নের ফলে সেই সবুজ পৃথিবী দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

ইট-পাথরের অট্টালিকা বাড়ছে, কিন্তু কমছে বৃক্ষের সংখ্যা। ফলে শহরগুলো ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মানুষের তৈরি কংক্রিটের জঙ্গল প্রকৃতির স্বাভাবিক শীতলতাকে গ্রাস করছে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশেই নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও পড়ছে।


গ্রিনহাউস গ্যাস ও উষ্ণায়নের বিপদসংকেত 🌴

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। শিল্পকারখানা, যানবাহন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এই গ্যাসগুলো সূর্যের তাপকে পৃথিবীর চারপাশে আটকে রাখে এবং ধীরে ধীরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

ফলস্বরূপ মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা এবং দাবানলের মতো দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে এক অজানা বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।


আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও বাস্তবতার ফারাক 🌴

পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রিও সম্মেলন, কিয়োটো প্রোটোকল এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পরিবেশ দূষণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় অনেক দেশ এখনও পরিবেশগত অঙ্গীকার যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো অনেক সময় কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এই পরিস্থিতিতে কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন 🌴

বৃক্ষ কেবল অক্সিজেনের উৎস নয়; কৃষি ও জীববৈচিত্র্যেরও প্রধান সহায়ক। বনভূমি বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং ভূগর্ভস্থ জলের ভারসাম্য বজায় রাখে। যখন বনভূমি ধ্বংস হয়, তখন প্রকৃতির এই স্বাভাবিক চক্রও ব্যাহত হয়।

ফলে কৃষক খরার কবলে পড়েন, ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি অসংখ্য পাখি, প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের আবাসস্থল হারায়। জীববৈচিত্র্যের এই ক্ষয় ভবিষ্যতের পৃথিবীকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।


দাবানল ও মরুকরণের আশঙ্কা 🌴

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। লক্ষ লক্ষ গাছপালা এবং প্রাণীর জীবন বিনষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে বহু উর্বর অঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে, জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।


বৃক্ষরোপণ : আশার সবুজ দিশা 🌴

পরিবেশ সংকটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ প্রতিরোধ হলো বৃক্ষরোপণ। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না; এটি বাতাসকে বিশুদ্ধ করে, কার্বন শোষণ করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং পরিবেশকে পুনরুজ্জীবিত করে।

বিদ্যালয়, কলেজ, গ্রাম, শহর, রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির আঙিনায়—যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই বৃক্ষরোপণ করা উচিত। পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একটি চারাগাছকে বড় করে তোলার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে রক্ষা করার সম্ভাবনা।


উপসংহার 🌴

আজ পৃথিবী আমাদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছে—আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাব, নাকি সবুজের পথে ফিরে আসব? উত্তরটি আমাদের হাতেই। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্মকে একটি উষ্ণ, দূষিত ও বিপর্যস্ত পৃথিবী উপহার দিতে হবে। কিন্তু যদি আমরা বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারি, তবে এখনও সময় আছে পরিস্থিতি বদলানোর।

তাই আসুন, অঙ্গীকার করি—একটি গাছ কাটা হলে অন্তত কয়েকটি গাছ লাগাব। প্রকৃতিকে ভালোবাসব, বনভূমি রক্ষা করব এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করব। কারণ একটি চারাগাছের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের নির্মল বাতাস, শান্ত ছায়া এবং মানবসভ্যতার নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

🌴----------------------------------------------🌴

- সর্বানী দাস 


নীরব দর্শক - ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

নীরব দর্শক 
- ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

তোমার নিঃশব্দ আঘাতে
শুধু কষ্ট পেয়েছি তাই নয় ,
হৃদয়ে রক্ত  ঝরেছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ,
নির্বাক মৌন করেছে মোরে ,
তাই তো নিঃসঙ্গ একাকী হয়ে
চুপচাপ থাকা ।

বাইরে কত হই হুল্লোড়  ,
কত আনন্দ  ,
তবু মানুষগুলো ভিতরে ভিতরে
কত নিঃসঙ্গ কত একা ,
ঠিক যেন আমার মতো  !

এই রকম তো হবার কথা ছিল না ,
আমার জীবন টা আমাদের জীবন টা
পাল্টে যেতে তো পারতো ,
পারতো পাল তোলা নৌকার মতো
নিস্তরঙ্গ  নদীতে বয়ে যেতে ,
শীতল সমীরণে হৃদয় মন তো
শান্ত হতে পারতো  !

কিন্তু তা তো হোল না ,
নদীর দুই পাড়ে দুই জন ,
ওপারের ঝড় এপাড়ে আলোড়ন তোলে ,
এপাড়ের ঢেউ ধীর গতিতে
ওপারে ধাক্কা মারে  হয়তো ,
নিঃসঙ্গ একাকী চুপচাপ থেকে
দুই জনের দুই পাড়ে থাকা
নীরব দর্শক হয়ে  ।

কালো দুধের দেশ - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

কালো দুধের দেশ 
- সালাম মালিতা 

কেমন একটা উল্টো রাজার দেশে
উল্টো দিকে মুখ করে হেঁটে চলেছি,
না না-নাক,কান, মুখ সবই আছে 
কিন্তু সবগুলোই উল্টো। 
আর বিবেকের কথা বলছেন 
সে-তো বহু আগেই মারা গিয়েছে-
এতদিনে সেটা ফসিল। 

দামি দামি শার্ট-প্যান্ট, কোট পরি
সাথে লম্বা টাই ঝোলায়,
তবে সবকিছুই উল্টো থাকে..!
দিনে নিয়ম করে তিনবেলা খায়
শুধু পার্থক্য হল-
খাবারের পরিবর্তে-গরীবের হক,
রাতে যথারীতি ঘুমায় 
কারো না কারো চোখের ঘুম কেড়ে। 

ডিগ্রির কোনো অভাব নেই 
শুধু নেতানো বিবেক,
লেবাসধারী ধার্মিক আমরা
মানুষকে কষ্ট দিয়ে-
উল্টো পথে আয় করি।
তৃষ্ণা পেলে তরল পান করি
তবে জলের পরিবর্তে-
শোষনের কালো দুধ,
লেখালেখির বেশ শখ আছে
সাধুর বেশ ধরে তোয়াজ করে-
দোষীর গায়ে হাত বুলিয়ে চলি।

আমাদের দেশে চাঁদ, তারা, সূর্য 
ফুল-ফল, পাখি,নদী-সবই আছে
শুধু আকাশটা কালো মেঘে ঢাকা, 
চারদিকে ধোঁয়াশা, কুয়াশা 
আর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। 
এখানে আইন-কানুন, পুলিশ-কোর্ট
সবই আছে....
সবকিছুই আছে, 
তবে সবার চোখে কালো পটি-
আর আইন নিজেই লালসায় কারাবন্দি!

বিপ্লবী কথা - রত্না রায়


 বিপ্লবী কথা
 - রত্না রায় 

বিপ্লবী গণ প্রাণ দিয়েছে দেশকে স্বাধীন করতে।
ব্রিটিশ দল ফাঁসি দিলো শাসন শোষণ চালাতে।
ক্ষুদিরাম বসু,সূর্যসেন ( মাস্টার দা), 
কানাই লাল দত্ত,তারকেশ্বর দস্তিদার ... 
ফাঁসির যন্ত্রণা সইলো,
ইংরেজদের বিচার এড়াতে প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করলো।

স্বাধীনতা যাঁরা ছিনিয়ে এনেছে, তাঁরা আছে , থাকবে অন্তরে,
ভারত মাতার সন্তান ত্যাগের শোক, ব্যথা আজও ওড়ে প্রান্তরে।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর বিপ্লবী সংগ্রাম দেখেছে বিশ্ব নিখিল,
রণবীর শৌর্য,ইতিহাসে অলংকৃত  করেছে অখিল।
ভগৎ সিং,উধাম সিং আরও বহু শ্রদ্ধেয় প্রাণ ,
জীবন করেছে উৎসর্গ ,চায়নি দেশের অপমান।

বিপ্লবীদের বিপ্লবে পেয়েছি মোরা স্বাধীনতার জয়,
ভুলিনি সে নিঠুর কথা,,
পাঠ্য বইতে হোক উদয়।
উল্লাস কর দত্তের সাহসী কর্ম যজ্ঞ ভীত করেছে ব্রিটিশ দলকে,
কাবু করতে অপারগ ব্রিটিশ  পাগল বানিয়ে মেরেছে পলকে।

বিপ্লবীদের বিপ্লব কান্তি দিয়েছে স্বাধীকার,
পাঠ্য বইতে শোভিত হোক বিপ্লবী যোদ্ধাদের কীর্তি ,অগ্রাধিকার।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাতঙ্গিনী হাজরা আরও আছে বহু শ্রদ্ধেয়া গুণী,
ইতিহাসের পাতায় ভরা জীবন যন্ত্রণা পড়েছি, হৃদয়ে রেখেছি বুনি।

ভেঙো না মেঘ ! - মেফ্তাহুল জান্নাত


 ভেঙো না মেঘ ! 
- মেফ্তাহুল জান্নাত 

তোমায় আমি ভাঙতে চাইনা মেঘ!
জানি এমন বাঁধন জুড়ে, দু’খানা মন আটকে পড়ে—
আমিই তোমায় মুক্ত করার করেছিলাম পণ?
সেই কথাতে রাত পোহালো, আবেগ নদী কুল হারালো;
মেঘ-বৃষ্টির এবার পালা ভীষণ বিসর্জন!
তাই তো ভয়, এ সংশয়– ভীষণতর কষ্ট হয়!
তোমার বুকে বিঁধবে কী-না আমার ভুলের ক্ষয়?
আমার বুকের ব্যথায় এখন কীসের অবক্ষয়! 
মেঘ— যেও না দূরে, মেঘ? বৃষ্টি এমনই হয়?

ওই যে জল ঝর্ণা হতে, যায় যে ঝরে মুক্ত হতেই
দেখায় অমন অক্লেশে সে; 
আনন্দতেই বয়—
তাও কি বলো পাহাড়-ছোঁড়া’র;
এই বেগতিক অশ্রুধারার— হয়েছে অপচয়?
হয়তো প্রেম এমনই অন্ধ,
হয়তো রাতের জীবন কারাবন্ধ!
তাও তো হাতের কড়ায় গোনা অগণন স্বপ্ন বয়?
জানি হঠাৎ প্রস্থান ভয়, আছে যে তা–নিঃসংশয়!
মুষড়ে পড়বে হাজার স্মৃতির দালান-কোঠার দেহ, 
ভিত্তি গড়া এসব রাত, আগ্নেয়গিরি ও শীতকাল!
অনিঃসীম প্রলয়!
প্রলয়… প্রলয়…

তোমায় আমি ভাঙতে চাইনা মেঘ, চাইনি জানো!
তবুও এমন কাছে টেনে, বৃষ্টি মেঘের রাগভাঙানো,
বিষাদ ও প্রেম গাল মেলালো— দুঃখমনে স্বপ্ন এলো,
এইযে এমন সুতোয় বাঁধা,
শাড়িতে– আঁচলে অনেক কথা— হারায় বেখবর!
বৈরাগ্যতার অনেক ব্যথা—- প্রেমও স্বার্থপর?

দুঃখ জেনেই ভালোবাসে, মেঘ-বৃষ্টি অবিনাশে,
কষ্টগুলো মেঘলা রাতের ঝড়ের মতো ওই আকাশে…
ছেঁড়া ফুলের গন্ধ মাখা, চাঁদের রাতের আলোকপাতে
ভুলিয়ে মারে সকল ভয়, যুক্তিরা সব হারিয়ে লয়—
বোকাপ্রেমে বোকা সাজে কবিতারই ছন্দতে!

তোমার ভাঙন, আমার মরণ–মৃত্যু আনে এসব স্মরণ!
রক্তক্ষরণ, অন্তীমতা— বুকে বিঁধে বিদায়কাঁটা।
কষ্ট তোমার মুছে দিতেই তটস্থ খুব হই…
তাও যদি ওই শমন আসে, এই ব্যপ্তির বলয় নাশে?
তখন আমার শুনবে বারণ? করবে জীবন অনুসরণ? 

জীবন কেনও এমনতর?
ভাগ্যবিধির ভয়ের চাদর, জোড়াতালির সুতোয় আদর?
আসে আবার ভয় ও ভাঙ্গন, খণ্ডবিখণ্ডন…

তবুও এসো কোলটি ঘেঁষে, এই আবহ ভালোবাসে;
কাছে এসে— কাছে এসে—
জুড়াও ততক্ষণ।

ভাঙন তোমার আসলে পরে, মুদবো নয়ন দূরে সরে,
তোমার ভাঙন ভয়ের তোড়ে, এই জানলা আছড়ে পড়ে!
ভুলের মাশুল না-কী সুখের? ভয়ের নাকি এই অসুখের? 
কীসের মাশুল তোমায় ডাকে? মৃত্যু আপোষের?

তোমায় আমি ভাঙতে চাইনা আজও,
তুমি বাঁচো..  তুমি বাঁচো… শুধুই বাঁচো!! 
জীবনে বাঁচো, প্রেমে বাঁচো
আঁচে বাঁচো, ওমে বাঁচো, সকল ভুলে আবার বাঁচো.. 

আছি কাছে। আছি আজও।
ভেঙোনা মেঘ, ভাঙনে বড় ভয়।

💢-----------------------------💢

মেফ্তাহুল জান্নাত 


আমার শপথ - শিশির হুদা



আমার শপথ 
- শিশির হুদা 

আমি ফিরবো বলে শপথ নিয়েছি
ঘুরে দাড়ানোর জন্য আত্নসম্মান আকড়ে ধরেছি, 
যারা বলছে আমার মনে নেই জোর
ফিরব আমি আলো হাতে পাবো কোন এক ভোর।

আমি জিতবো বলে শপথ নিয়েছি 
ময়দানে লড়বো চোখে রেখে চোখ বলে রেখেছি
সবাই হয়তো বলবে সামনে ঘোর অন্ধকার 
আমার কাছে  আছে বিশ্বাস যা হবে অঙ্গীকার।

আমি হাসবো বলে শপথ নিয়েছি 
যা আমাকে দেবে ভরে দু:হাত যা আমি পেয়েছি
বলবে সবাই করিনি আশা এতোদুর যাবো আমি
বলবো আমি ওরে বড় স্বপ্ন জীবনে আমার জানে অন্তর্যামী।

প্রবন্ধ : একটি গাছ একটি প্রাণ - সর্বানী দাস

  প্রবন্ধ :   একটি গাছ একটি প্রাণ  - সর্বানী দাস  "পৃথিবী আমরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাইনি;  আমরা এটি আমাদের সন্তানদ...

জনপ্রিয় পোস্ট