রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

হায় রে নারী... (কবিতা) - সুবর্ণা দাশ

 
সুবর্ণা দাশ





তুমি নারী, 
প্রকৃতির মতো শান্ত। 
নির্লিপ্ত, প্রাণবন্ত, চঞ্চল, 
প্রবাহমান নদীর মতো স্রোতস্বিনী। 
তোমাতে বপন হয় এই পৃথিবী, 
তোমার ছোট্ট জঠরে ধারণ করো মানুষ। 
তুমি মা, জায়া, প্রেমিকা, ভগ্নী, 
তোমাতে প্রেরণার উৎস হে নারী। 
ধরণীর মতো সহ্য ক্ষমতা তোমার, 
অন্যায় অবিচারও হয় তোমার প্রতি, 
অথচ নারী তুমি না হলে, 
জন্ম হতো না, 
তুমি আমি সে কারো, কেউ না! 
তবুও তোমাকে বলতে হয়, 
সমান অধিকার চাই! 
কেন চাইতে হবে এই অধিকার? 
তাহলে কি মান-হুশ এর জন্ম দিতে পারোনি? 
হে দুর্ভাগা নারী! 
পথে ঘাটে চলতে ফিরতে 
কেন চাইতে হয় নিরাপত্তা! 
কেন এখনো কপালে পড়ে চিন্তার বলিরেখা? 
রাত হয়েছে, কি করে বাড়ি ফিরবে এই নারী? 
কোথায় স্বার্থকতা নারী জন্মের? 
সমাজের লোলুপ চক্ষে দলিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত নারী। 
নারীর রোদনে সিক্ত হয় না এই সমাজের কিছু মানুষের হৃদপিণ্ড! 
কেন কাঁপে এখনো নারীর দুরুদুরু বুক! 
ট্রেনে বাসে যাত্রা পথে! 
নির্যাতিতা নারীর জন্য কাঁদে এখনো মা-বাবা! 
এখনো ঘটে হাড় হিম করা ঘটনা! 
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয় পৃথিবী! 
এই কী নারীর ভাগ্য! 
নিরুত্তর ধরণী!
নারী! হায় রে নারী! 
তোমাদের নারী!

জীবন রঙ্গমঞ্চ... (কবিতা) ✑ মেফ্তাহুল জান্নাত

  

মেফ্তাহুল জান্নাত



একটা থিয়েটার মঞ্চ; আলোহীন। 
এবং ভীষণ পারদর্শী অগণিত তার সবকটি শিল্পী
তাদের স্ক্রিপ্ট ভুলে যাবার কোনও ভয় নেই,
কোনও ডিরেক্টর উচ্চবাচ্য করেনা এখানে।
সময়ের পালাক্রমে যায় আসে দর্শনধারী, 
কেউবা হয়ে ফেরে নির্বাক শ্রোতা 
বাকিরা তখন দক্ষ এবং সুক্ষ্ম অভিনেতা।
শোনো, এখানে মিথ্যের ঠাঁই নেই ঠিকই
চাঁদের হাট নয় বরং অন্ধের মতো এসব যাত্রা
অভিনয়টা ভীষণ সত্য,
আনন্দ এখানে মেকি।
অভিনয় চলে, বেলা গড়ায়, বেলা ফুরায়
নাম হয়না, হয়না কোনও সুখ্যাতি; 
হয় শুধু গল্প। 
হয় শুধু রঙ্গ।
এক গল্পের পরে আরেক গল্পের শুরু
নতুন বইয়ে নতুন অধ্যায়ের তাড়াহুড়ো 
সব লেখা থাকে, সব ঝড় বয়ে যায়
সময়ে সময়ে যার যার!
এ জীবন মঞ্চের উত্থানপতনে
কার এখানে কতটুকু হার
এ যুদ্ধের দুয়ারে সহস্র প্রহরী পাহারায়
মুখ হাসি হাসি, ভেতরে ছারখার 
তবু অভিনয়, তবু অভিনয়
দুরদর্শিতার অবক্ষয়
না যেন হয়, না যেন হয়....
এ জীবনের রঙ্গমঞ্চে ক্লান্ত পথিক জানো
ঘর হারায়, পথ হারায়; পথের যাত্রি মানো
জীবন ফুরোলে পরে শেষ হয় সব খেলা
ফুরোয় দর্শনধারী
জীবন রঙ্গমেলা।।

শব্দের চুম্বন... (কবিতা) - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা



শব্দ বিনে চোখের জলে 
ঢলে পড়ে ব্যথা,
মুখের বাক্য বন্ধ হলেই
কলম বলে কথা। 
 
রাতের ঘোরে পিদিম জ্বেলে 
আত্মার পিছু ছোটে,
খাতার পাতায় সারি সারি 
বিষাদ কাব্য ফোটে। 
 
অব্যক্ত সব গোপন আশা 
ডায়রির ভাঁজে লেখা, 
বিশ্বাসী এক সরল বন্ধু 
ব্যর্থ হৃদে দেখা।
 
কলমকে তাই সঙ্গী করে 
দুঃখের স্মৃতি আঁকে,
জীবন নদের ওঠানামা 
সুখের জীর্ণ বাঁকে। 
 
শব্দ দিয়েই কেনাবেচা
মনের সকল গ্লানি, 
শব্দে বোঝায় নীরব কষ্ট 
শব্দে ঝরে পানি।
 
শব্দ চুম্বন স্মৃতিকথা
অতীত বহন করে, 
উত্তরসূরীর কাছে তাহার 
গৌরব তুলে ধরে।

অনুচ্চারিত ফোঁসছকে প্রেম... (কবিতা) - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 


ক্যাফিন অম্ল ঠোঁটে 
তোমার অনুচ্চারিত  সমীকরণ 
প্রেম-ভালোবাসা-পিরিতি 
কেবলই সময়ের প্রান্তিক উপপাদ্য,
শরীরের ভেতর -
ক্ষণস্থায়ী রাসায়নিক বিক্রিয়া।
দ্রোহনদের নৈরাজ্যের পিরিতির স্রোতে 
আমি নিমজ্জিত একটি অনুঘটক,
রক্ত গোলাপের চুম্বনে 
পৃথিবীর মানচিত্রে জেগে ওঠা
অগ্নিময় ভূকম্পন আমি।
অক্ষরের মিছিল 
শব্দের ব্যারিকেটে 
দগ্ধ জীবাশ্ম আমার মন,
জোনাকির শুভ্র স্নিগ্ধ ক্ষুদ্র জ্যোতিতে 
তোমার ইশারায় 
আমি ছন্দের আলোড়ন তুলি।
তোমার বুকে ভাষার অনাথ ব্যাকরণে 
আমি অপ্রকাশিত ভাবনাতত্ত্বের  প্রত্নতত্ত্ব খুঁজি।
ধ্রুবতারার আলোক বিন্দুতে
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চলে। 
এই দহনপ্রান্তরের উপকূলে
কথার কাননে আমার অকাল বসন্ত।
নিজেকে খুঁড়তে খুঁড়তে
মিথ্যা শপথের প্রাগৈতিহাসিক-
শ্যাওলা ভনিতার বাহুল্যতায়।
অবান্তর তত্ত্ব সাজিয়ে 
পলাতক পুরোনো প্রেম ।
ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপে
আশ্রিত আমার ভগ্নহৃদয়।
স্মৃতির উচ্ছিষ্টভোগী ক্রীতদাসেরা
অস্থায়ী উপপাদ্যের নিরব উপাখ্যানে ।
প্রেমের স্থাপত্য ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপে 
সময়ের অন্তর্বর্তী নৈঃশব্দে
ছকভাঙ্গা ফোঁসের তীব্র চিৎকারে।
তোমাকে দেখেছি নিয়তির অন্ধকারে
অঙ্কপত্রে জেগে ওঠা নির্মম জ্যামিতিতে।
ভাঙা হৃদয়ের ব্যাকরণ লিখতে গিয়ে
দেখি আমি জন্মগত যাযাবর।
অস্থিরতার মানচিত্রে আমার নিবাস।
শঙ্খঅধরের নির্বাসনে 
বিলীন করেছি নগ্নসুখ।
অন্ধকারে হলাহল বাতাসে।
আমি নিকষ কালো 
অদেখা রাত্রির চিত্রপটে 
লিখি সত্যিকারের প্ৰেম।
ফোঁসছকের শীতল পরিসংখ্যান থেকে মুক্ত হয়ে 
জন্ম নিয়েছে দ্রোহপ্রেমের বুদবুদ।

বাংলা আমার প্রাণ...(কবিতা) - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ



বাংলা আমার মায়ের বদন
বাংলা আমার দেশ, 
বাংলায় হাসি বাংলায় কাঁদি
বাংলায় আছি বেশ। 

আমায় বুঝার সাধ হলে কবু 
বাংলা কবিতা পড়ো, 
জীবনানন্দ,জসিম উদ্দিন
যারা যারা আছে আরো। 

যদি তোমার ইচ্ছে জাগে
শুনতে আমার গল্প, 
শরৎচন্দ্র পড়ে নিও তুমি
জানতে পারবে অল্প। 

কখনো যদি তোমার প্রাণে
বাঁধো আমার প্রাণ, 
হৃদয়ে তোমার বপন করো
রবি ঠাকুরের গান। 

শান্ত আমি বিদ্রোহী হই
হলেই কোথাও ভুল, 
এরূপ আমার দেখতে পাবে
পড়লে কবি নজরুল। 

সারা বিশ্বের তীর্থ ভূমি
বাংলা আমার প্রাণ, 
প্রিয় বাংলার কোলে যেন হয় 
জীবনের অবসান।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

স্বাধীনতা! আমার স্বাধীনতা! ... (কবিতা) - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম



স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
দিয়েছ তুমি স্বাধীন ভূখণ্ড,
দিয়েছ স্বতন্ত্র ভাবে বাঁচার অধিকার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
উড়িয়েছ তুমি বিজয়ের কেতন,
ছিনিয়ে এনেছ সকল বাঙ্গালীর স্বাধীকার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
উজ্জিবীত করেছ দামাল ছেলেদের,
মুক্তিকামনায় হয়েছে তারা জাতির রাহাবার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
বঙ্গ ললনা হয়েছে বীরাঙ্গনা,
দেশের তরে বিলিয়েছে মান অকাতর।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
হয়েছে বলি লক্ষ প্রাণ,
আকাঙ্ক্ষা শুধুই উড়ানো পতাকা তোমার।

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
পরেছি তবুও পরাধীনতার শৃঙ্খল,
পেয়েছি আজো কি স্বাদ স্বাধীনতার!?

স্বাধীনতা!আমার স্বাধীনতা!
দূর হোক অকল্যাণ,যত পরাধীনতা।

হায় রে নারী... (কবিতা) - সুবর্ণা দাশ

  সুবর্ণা দাশ তুমি নারী,  প্রকৃতির মতো শান্ত।  নির্লিপ্ত, প্রাণবন্ত, চঞ্চল,  প্রবাহমান নদীর মতো স্রোতস্বিনী।  তোমাতে বপন হয় এই পৃথিবী,  তোম...

জনপ্রিয় পোস্ট